সময়ের রূপান্তরে -সালাহউদ্দিন আইউবী

পরিবর্তিত বিশ্বে অন্যরকম এক ঈদ পার করলাম। অন্যান্য ঈদের সময় গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, রাস্তায় তুলনামূলক গাড়ি ও জ্যাম বেশি থাকে। টিকিটের জন্য থাকে লম্বা লাইন। এবার সেরকম কিছুই চোখে পড়েনি। সরকারি বিধিনিষেধের কারণে নামাজ পড়া যায়নি ঈদের মাঠে। প্রায় সবাই মহল্লার মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন, অনেককেই আবার নিজ ঘরেই নামাজ আদায় করতে হয়েছে। নানা কারণে ছিলো না বাড়তি কোনো প্রস্তুতি। অনেকের পরনেই ছিলো না নতুন জামার বাহার। কারো মুখে দেখা যায়নি হাসি, খুঁজে পাওয়া যায়নি আনন্দ ভাগাভাগির দৃশ্য, করা যায়নি মুসাফাহা অথবা মোয়ানাকা (কোলাকুলি)। আনন্দের পরিবর্তে ঈদের দিনটি ছিল অনেকটা আতঙ্কের। সবার মুখে ফুটে উঠেছিলো হতাশার এক করুণ চিত্র। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা ঈদ পুনর্মিলনী সেই আনন্দঘন মুহূর্তের সুযোগ অনেকেই মিস করেছেন। যদিও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় কেউ কেউ তা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এবারের ঈদের মতো করোনা-পরবর্তী বিশ্ব পরিবর্তিত এক রূপ নিতে পারে বলে অনেকের ধারণা। বিশ্বময় এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ ‘করোনা’ নামক ভয়াবহ এক ভাইরাসের আক্রমণ।
প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনের সময় আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা তার নির্বাচনী প্রচারণা ব্যতিক্রমী এক স্লোগান দিয়ে শুরু করেছিলেন। তার স্লোগান ছিল ‘We Can Change’. বাস্তবিকপক্ষে নানাজন পরিবর্তনের স্লোগান দিলেও এই বিশ্বকে যুগে যুগে পরিবর্তন করেছেন এ মহাবিশ্বের স্রষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রক মহান আল্লাহ তায়ালা। তবে মহান আল্লাহ তায়ালার সেই সকল পরিবর্তনের পেছনে মানব সৃষ্ট একটি ইতিহাস বিদ্যমান। এমন সময় পৃথিবীতে করোনা নামক মহামারীর সংবাদ আমরা পেয়েছি, যখন বিশ্বময় চলছিল অমানবিক জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার। মানুষ ভুলতে বসেছিল মানবিকতা, নির্বিচারে অগ্রাহ্য করছিল মহান সৃষ্টিকর্তার বিধান। ফিলিস্তিন কাশ্মীর সিরিয়া লেবানন ইয়েমেন আফগানিস্তান আর আরাকানে নির্মম বর্বরতার শিকার হচ্ছিল মানবতা। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই যখনই এরকম মহাদুর্যোগ নেমে এসেছিল তার প্রত্যেকটিতেই মনুষ্য সৃষ্ট কোনো না কোনো কারণ ছিল।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছিল হজরত নূহ আলাইহিস সালামের সময় মহাপ্লাবনের মাধ্যমে। হযরত আদম (আ) পৃথিবীতে আগমনের প্রায় ১০৫৬ সন (হবুতি সন) পর হজরত নূহ আলাইহিস সালামের জন্ম। তিনি নয় শত বছরের অধিক সময় নিজ জাতির লোকদের মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক ব্যতীত তাদের কেউ ঈমান আনেনি। তাদের অবাধ্যতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে কুরআন বলেন, “সে বলল, ‘হে আমার রব! আমি তো আমার কওমকে রাত-দিন আহবান করেছি। অতঃপর আমার আহবান কেবল তাদের পলায়নই বাড়িয়ে দিয়েছে।’ ‘আর যখনই আমি তাদেরকে আহবান করেছি ‘যেন আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন’, তারা নিজেদের কানে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছে, নিজেদেরকে পোশাকে আবৃত করেছে, (অবাধ্যতায়) অনড় থেকেছে এবং দম্ভভরে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে।’ (সূরা নূহ : ৫-৭)
তাদের এই অবাধ্যতা রোধে হযরত নূহ (আ) আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন-
আর নূহ বলল, ‘হে আমার রব! যমিনের উপর কোন কাফিরকে অবশিষ্ট রাখবেন না।’ (সূরা নূহ : ২৬)
আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করলেন এবং তাঁর জাতির উপর মহাপ্লাবনের শাস্তি নেমে এলো,
“আর আমি অবশ্যই নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর অবস্থান করেছিল। অতঃপর মহা-প্লাবন তাদের গ্রাস করল, এমতাবস্থায় যে তারা ছিল যালিম।” (সূরা আনকাবুত : ১৪)
এই প্লাবন থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তায়ালা বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ নৌযান তৈরির কৌশল শিক্ষা দিলেন হজরত নূহ আলাইহিস সালামকে। আল কুরআনের বর্ণনা ফুটে উঠেছে তার চিত্র-
“আর তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার ওহি অনুসারে নৌকা তৈরি কর। আর যারা জুলুম করেছে, তাদের ব্যাপারে তুমি আমার কাছে কোন আবেদন করো না। নিশ্চয়ই তাদেরকে ডুবানো হবে।’ আর সে নৌকা তৈরি করতে লাগল এবং যখনই তার কওমের নেতৃস্থানীয় কোন ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যেত, তাকে নিয়ে উপহাস করত। সে বলল, ‘যদি তোমরা আমাদের নিয়ে উপহাস কর, তবে আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করব, যেমন তোমরা উপহাস করছ।’ অতএব, শিগগিরই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর সে আজাব আসবে যা তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং কার উপর আপতিত হবে স্থায়ী আজাব। অবশেষে যখন আমার আদেশ এলো এবং চুলা উথলে উঠল, আমি বললাম, ‘তুমি তাতে তুলে নাও প্রত্যেক শ্রেণী থেকে এক এক জোড়া এবং যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে তাদের ছাড়া তোমার পরিবারকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে। আর তার সাথে অল্পসংখ্যকই ঈমান এনেছিল।”
(সূরা হুদ : ৩৭-৪০)
মহাপ্লাবনে ধ্বংসপ্রাপ্ত এই পৃথিবীর পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচিয়ে রাখলেন মহান আল্লাহ তায়ালা। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলছেন-
“আর নিশ্চয় নূহ আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতইনা উত্তম সাড়াদানকারী! আর তাকে ও তার পরিজনকে আমি মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম। আর তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম।” (সূরা সফফাত : ৭৫)
নূহ আলাইহিস সালামের প্লাবনের মাধ্যমে বিশ্ব নৌযান নামক নতুন আবিষ্কারের মুখ দেখতে শুরু করলো। পরিবর্তন এলো যোগাযোগব্যবস্থায়।

আদ জাতি ধ্বংসের মাধ্যমে পরিবর্তন
আদ জাতি ছিল হজরত নূহ আলাইহি সালামের পুত্র সামের বংশধর। এদেরকে বলা হয় ‘সেমেটিক আরব’। আদ জাতির বাড়াবাড়ি অবাধ্যতা আর পাপকর্মের কারণে তাদের উপর প্রচণ্ড খরতাপ নেমে আসে। খরতাপ থেকে বাঁচার জন্য তারা বৃষ্টির আবেদন করলে আকাশে সাদা, কালো ও লাল- এ তিন রঙের মেঘ দেখা দেয়। আকাশ থেকে গায়েবি আওয়াজে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন মেঘ থেকে তারা বৃষ্টি চায়। উত্তরে তারা কালো রঙের মেঘ থেকে বৃষ্টি কামনা করে। অতঃপর একনাগাড়ে ৭ রাত ৮ দিন প্রবল ঝড় বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকে। এর ফলে তাদের দাপুটে জনপদ একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যেমনটা পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় পাওয়া যায়-
“আর আদ সম্প্রদায়, তারা যমিনে অযথা অহঙ্কার করত এবং বলত, ‘আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কে আছে?’ তবে কি তারা লক্ষ করেনি যে, নিশ্চয় আল্লাহ যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী? আর তারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করত।” (সূরা হামিম সিজদাহ : ১৫)
তাদের পরিণতির বিষয়ে বলা হয়েছে, “আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা। তিনি তাদের উপর তা সাত রাত ও আট দিন বিরামহীনভাবে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে যেন তারা সারশূন্য খেজুর গাছের মত।” (সূরা আল হাক্কাহ : ৬-৮)

সামুদ জাতির প্রতি ভয়াবহ শাস্তি
আদ জাতির ধ্বংসের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় সামুদ জাতিকে। তাদের আবাসভূমির কেন্দ্রবিন্দু ছিল হিজর। যা মদিনার উত্তর-পশ্চিমে শহরের আল উলা কয়েক মাইল দূরে, মদিনা ও তাবুকের মাঝখানে অবস্থিত। আরবের প্রায় তিন-চার শ’ মাইল দীর্ঘ ও এক শত মাইল প্রস্থ এলাকাজুড়ে তাদের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। আদ জাতি ধ্বংসের প্রায় ৫০০ বছর পর হযরত সালেহ (আ)কে নবী হিসেবে সামুদ জাতির হেদায়েতের জন্য প্রেরণ করা হয়। সামুদ জাতি সালেহ (আ) এর অবাধ্য হলো। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“আর সামুদের নিকট (প্রেরণ করেছি) তাদের ভাই সালিহকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। নিশ্চয় তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। এটি আল্লাহর উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। সুতরাং তোমরা তাকে ছেড়ে দাও, সে আল্লাহর যমিনে আহার করুক। আর তোমরা তাকে মন্দ দ্বারা স্পর্শ করো না। তাহলে তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব পাকড়াও করবে।” (সূরা আরাফ : ৭৩)
শাস্তির বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, “অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে যবেহ করল এবং তাদের রবের আদেশ অমান্য করল। আর তারা বলল, ‘হে সালিহ, তুমি আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো, যদি তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাক।’ ফলে তাদেরকে ভূমিকম্প পাকড়াও করল, তাই সকালে তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল।” (সূরা আরাফ : ৭৮)

হযরত লুত (আ)-এর জাতির অপরাধ ও পরিণতি
হযরত লুত (আ)কে মৃত সাগরের কাছাকাছি জর্ডান ও বায়তুল মুকাদ্দাসের মধ্যবর্তী সাদুম নামক অঞ্চলে দ্বীনের দাওয়াত দিতে প্রেরণ করা হয়। আল্লাহর নবীর নির্দেশ অমান্য করে বিবেকবিবর্জিত অসভ্যতাপূর্ণ নোংরা সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ার কারণে হযরত লূত (আ)-এর সম্প্রদায়কে আজাব দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের ভাষ্য- “অতঃপর যখন আমার আদেশ এসে গেল, তখন আমি জনপদের উপরকে নিচে উল্টে দিলাম এবং ক্রমাগত পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম।” (সূরা হুদ : ৮২)
ঘৃণ্য অপরাধের কারণে মহান আল্লাহ তাআলা লূত (আ)-এর জাতিকে সম্পূর্ণরূপে উল্টিয়ে দিলেন যা এখন সমুদ্রে পরিণত হয়েছে, সকলের নিকট এই জনপদ অভিশপ্ত মৃতসাগর হিসেবে পরিচিত।
মহান আল্লাহ তায়ালা ফেরাউন, নমরুদ, শাদ্দাদ, কারুন ও আসহাবুল ফিলসহ অনেক জাতিকে তাদের কৃতকর্মের কারণে ধ্বংস করে দিয়ে পৃথিবী পরিবর্তনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দেয়ার অংশ হিসেবে মহান আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে এ ধরনের মহামারীর মাধ্যমে আমাদেরকে সতর্ক করেছেন, মানব মস্তিষ্কের সকল চিন্তা ক্ষমতার বাইরে গিয়ে বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিয়েছেন।
খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০ সনে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। মৃত্যুবরণ করে হাজার হাজার গ্রিক সৈন্য।
৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা)-এর খেলাফতকালে ফিলিস্তিনের আমওয়াস নামক গ্রাম থেকে প্লেগের বিস্তার ঘটে। তাতে সিরিয়া মিশরসহ বেশ কিছু এলাকায় হাজার হাজার লোক মারা যায়।
৭৩৫-৭৩৭ সালে মহামারী আকারে ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তাতে জাপানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
১৩৩৪ সালে দ্য গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন নামে যে মহামারী হয় তাতে গোটা ইউরোপে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ মারা যায়।
১৩৪৬ সালে কৃষ্ণসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় দেখা দেয় ব্ল্যাক ডেথ নামক প্লেগ। ঐতিহাসিকদের মতে সেসময় সারা বিশ্বের জনসংখ্যা ৪৫ কোটি থেকে ৩৭ কোটিতে নেমে এসেছিল।
১৫১৯ সালে শুরু হয় স্মল পক্স নামক বসন্ত রোগের। তাতে মারা গিয়েছিল প্রায় ৮০ লক্ষ লোক।
১৬৩৩ সালে আমেরিকা ও ইউরোপে নতুন করে দেখা দেয় স্মলপক্স। তাতে মৃত্যুবরণ করে প্রায় দুই কোটি মানুষ।
১৮৬০ সালে দ্য থার্ড প্লেগ নামক মহামারী শুরু হয়। এটির সূত্রপাত চীনের ইউয়ান নামক গ্রাম থেকে। তাতে ভারত চীন আফ্রিকা ইকুয়েডর ও আমেরিকার প্রায় সোয়া কোটি থেকে দেড় কোটি মানুষ মারা যায়।
১৯১৮ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক নামে যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে তাতে মারা যায় প্রায় ১০ কোটি মানুষ।
১৯৮৪ সালের এইচআইভি ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়। এ পর্যন্ত এইডসে মারা গেছে প্রায় ৩ কোটি মানুষ।
২০১৯ শুরু হওয়া কোভিড-১৯ নামক মহামারী এখনো চলমান। ইতোমধ্যে প্রায় ৬২ লক্ষ লোক আক্রান্ত হয়েছেন।
হাজার হাজার বছর ধরে ঘটে যাওয়া এসব দুর্যোগ মহামারীর সবগুলোই ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে লাগামহীন ছুটে চলা এই পৃথিবীকে টেনে ধরার এক অলঙ্ঘনীয় বিধান। জীবনের স্বাভাবিক গতি আজ স্তব্ধ।
পরিবর্তিত এই বিশ্বে যুগে যুগে তারাই টিকে ছিল যারা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে ধৈর্যের সাথে তওবা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল। যারা টিকে ছিল তাদের প্রত্যেকেই নিজেদেরকে সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সামর্থ্যবান হয়েছিল। কোথায় আছে ংঁsurvival of the fittest. যারা উপযুক্ত তারাই টিকে থাকে। দানবীয় দেহের অধিকারী ডাইনোসর টিকে থাকতে পারেনি, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেনি। হাজার বছর ধরে টিকে আছে তেলাপোকা, তার বেঁচে থাকার শক্তির উৎস হলো সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনের চমৎকার বৈশিষ্ট্য।আমরা যারা বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে চাই, ঘুণেধরা এই সমাজব্যবস্থাকে আলোর দিশা দিতে চাই, তাদেরকে এ বিশ্ব পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে নিজেদের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। সময় উপযোগী কৌশল অবলম্বন করে পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের চিন্তার জগতে, দাওয়াতি কাজে, নিত্যদিনের সংগঠন পরিচালনায়। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামত হিসেবে পাওয়া অনলাইনকে পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সামষ্টিক কর্মপ্রচেষ্টার পরিবর্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগ, কাজ ও যোগাযোগ প্রাধান্য দিতে হবে সর্বক্ষেত্রে। অবসর এই সময়ে বিশ্বকে জানতে হবে ঘরে বসে বইয়ের পাতা থেকে। ঘাম ঝরানো কষ্ট, নিরলস ছুটে চলা, আর অক্লান্ত পরিশ্রমের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যথাযথ চিন্তার মাধ্যমে প্রত্যেক জনশক্তিকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফলতার বিষয়ে। গভীর মনোযোগের সাথে নিজেকে আত্মস্থ করতে হবে। জানতে হবে নিজের সব ক্ষমতার সর্বোচ্চ পরিধি, বুঝতে হবে আমি পৃথিবীর সম্পদের কত ভাগ। সক্রেটিস বলেছিলেন-
know theyself
এজন্যই বলা হয়ে থাকে
Knowing others is intelligence,
Knowing yourself is true wisdom.
Mastering others is strength,
Mastering yourself is true power.
তাই এখন সময় এসেছে প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে দায়িত্ববোধের সবটুকু ঢেলে দিয়ে প্রিয় সংগঠনের সকল কাজ আঞ্জাম দেয়ার। হয়তোবা আরও সুদীর্ঘ সময় পরস্পরের সাথে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ হবে না। তবুও আমার উপর অর্পিত দায়িত্বের কোন অংশ যেন অবাস্তবায়িত না থাকে সে ব্যাপারে সকলে ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহিতার অনুভূতি লালন করতে হবে।
লেখক : সম্পাদক, ছাত্র সংবাদ

SHARE

Leave a Reply