সরকার প্রভাবিত কর্মকর্তা কর্মচারী দিয়ে নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না – বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সর্বত্র কথা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সরকারি দল  এবং বিরোধী দল বিপরীতমুখী অবস্থানে। তাছাড়া সেই সাথে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী আচরণবিধিসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বিতর্ক এখন তুঙ্গে। বাংলাদেশে আদৌ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি না, হলেও কোন্ পদ্ধতিতে হবে, তাতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে কি না, দেশে-বিদেশে সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না, তেমনটি হলে কী হবে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, এসব বিষয় নিয়ে জল্পনা-কল্পনার ডালপালা ততই বিস্তার লাভ করছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বাংলাদেশের বর্তমান সংঘাতময় অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রতি ছাপা হয় রেডিও তেহরানে। ছাত্র সংবাদের পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে সারা দেশজুড়ে চলছে আলোচনা, বিতর্ক এবং বিশ্লেষণ। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এবং প্রধানমন্ত্রী যদি দলের প্রধান থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি ও তার মন্ত্রী মনোনীত ২০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে  নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়ায় এমন বিধান রেখেছে। তো নির্বাচন কমিশনের এ আচরণবিধিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ : দেখুন,  নির্বাচন কমিশনের এসব আচরণবিধি-টিধি দিয়ে তো আসলে কিচ্ছু হবে না। প্রশ্ন হচ্ছেÑ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনো জনবল নেই। নির্বাচন কমিশন সবসময় সরকারের কাছ থেকে জনবল ধার করে নেয়। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ওপর বিগত চল্লিশ বছর ওএসডি কালচারসহ যে ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের আদেশ নম্বর ৯/১৯৭২-তে ওএসডির জন্য আইন করা হয়। তারপর থেকে যত্রতত্র এর ব্যবহার করা হয়েছে। এমন কোনো সরকারি কর্মকর্তা নেই যাদের ওপর সরকারের প্রভাব পড়েনি। সবাই পলিটিক্যালি সারচার্জড। আর এইসব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাধ্যমে নির্বাচন করলে সেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না। কারণ হচ্ছে বিএনপির আমলে যাদেরকে ওএসডি করা হয়েছিল বা যারা চাকরি হারিয়েছিল আওয়ামী লীগ আসার পর তাদেরকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তাদের পদোন্নতি দিয়েছে বর্তমান সরকার। শুধু তাই নয়, নতুন করে চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বহু কর্মকর্তা কর্মচারীকে। ফলে এখন তাদেরকে তো আর বলার কোনো প্রয়োজন পড়বে না যে, যারা পাওয়ারে আছে তার পক্ষে কাজ করো। তারা নিজেদের স্বার্থে এবং পেটের দায়েই সরকারের পক্ষে কাজ করবে এবং অত্যন্ত নগ্নভাবে নির্বাচনে কারচুপির ব্যবস্থা করবে। কারণ তারা জানে যে যারা পাওয়ারে আছে তারা ছাড়া অন্য কেউ পাওয়ারে আসলে তার চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে। আর এই প্রেক্ষাপটে যতরকম আচরণবিধি করুন না কেন তাতে কোনো কাজ হবে না।
আচরণবিধি শুধু বিধি হয়েই থাকবে তার কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। এটা হবে লোক দেখানো। সুতরাং নির্বাচনকে যদি সুষ্ঠু করতে হয় এবং নির্বাচন ছাড়া বিকল্প যেহেতু কোনো কিছু নেই সেক্ষেত্রে নির্বাচনে একটা আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা আর সম্ভবপর হবে না। কাজেই সেটাকে পরিবর্তন করে ভোটারদের মাধ্যমেই স্থানীয় পর্যায়ে ভোট পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে বিরোধী দল নানা প্রশ্ন তুলছে। কমিশনকে সরকারের আজ্ঞাবহ বলে তারা অভিযোগ করছে। এই অভিযোগকে আপনি কতখানি যুক্তিযুক্ত মনে করছেন?
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ : বাংলাদেশের বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে যে প্রশ্ন তুলছে এবং সরকারের আজ্ঞাবহ বলে যে অভিযোগ করছে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অবস্থা বা বাস্তবতা আসলে তাই। কারণ নির্বাচন কমিশনের নখও নেই দাঁতও নেই। ফলে তাকে যত যাই কিছু দেয়া হোক না কেন তাতে কোনো কাজ হবে না। আমার মতে দুটো জায়গায় হাত দিতে হবে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে। প্রথমত নির্বাচনের স্বরূপ পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচনের যে জায়গাটা দুর্নীতির  ডিপো হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটি হচ্ছে ‘নমিনেশন’ পদ্ধতি। আর নমিনেশন পদ্ধতি হচ্ছে আসলে নির্বাচনী বাণিজ্য। একজন দশ কোটি টাকা নির্বাচনের আগে খরচ করে এবং ঠিক করে রাখে যে নির্বাচনে জিতলে একশ কোটি টাকা লাভ করব। এই পদ্ধতি যদি ভাঙা না যায় তাহলে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার কোনো প্রক্রিয়ায় আনা যাবে না। আর আমার পরামর্শ হচ্ছে নমিনেশন পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি পার্টিকে ভোট দেয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে (propotion representation)। আর পার্টির কাঁধে চাপাতে হবে যে তোমাদের নিজেদের মধ্যে পার্টির নির্বাচনের মাধ্যমে পার্লামেন্টের যতোটা মেম্বার থাকবে ততোটা  প্রায়োরিটি বেসিসে লিস্ট তৈরি করে নির্বাচনে কমিশনে জমা দিতে হবে। তারা যদি ভোট পায় ধরুন ছয় কোটি যদি ভোট হয় এবং পার্লামেন্টে যদি ৩০০ সদস্য থাকে তাহলে প্রতিজনে ২ লক্ষ করে পড়ে। যারা ২ লক্ষ করে ভোট পেয়েছে তারা একজন করে সদস্য পার্লামেন্টে পাঠাতে পারবে।
এই পদ্ধতিতে আনলে নির্বাচনে শতকরা ৮০ ভাগ দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি ‘নমিনেশন’ পদ্ধতি তুলে দিলে ৮০ ভাগ দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। আর অবশিষ্ট যে ২০ ভাগ দুর্নীতি সেটা একটু কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বন্ধ হয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি আনা না যায় তাহলে আমার মনে হয় বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি যে দিকে গেছে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। কারণ রাজনীতিবিদদের কারো প্রতি কারো শ্রদ্ধাবোধ নেই বা আস্থা নেই। ভোটাররাও কারো প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের এবং পাশ্চাত্যের যত উদাহরণ দিক না কেন বা যতো কথাই বলা হোক না কেন সেটা কার্যকরী হবে বলে আমি মনে করি না।
নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়টি নিয়ে কিন্তু তীব্র সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে আপনার মূল্যায়ন কী?
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ : দেখুন bureaucratic attitude shall not help us এখানে political attitude-এর দরকার রয়েছে। এখানে যে আইনগুলো করা হয়েছে ওমুককে দেবে না, তমুককে দেবে না- Who is he ? He is bureaucrate. সেতো সারা জীবন যদি চল্লিশ বছর চাকরি করে থাকে তাহলে সেই চল্লিশ বছর ধরে  কর্তা বুঝে কর্ম করার কাজ শিখে এসেছে। নির্বাচন কমিশনে আজ দরকার রয়েছে তাদের যারা কর্ম বুঝে কর্ম করতে পারে। কাজেই সেই প্রক্রিয়াতো আমাদের নির্বাচন কমিশনের নেই। কোন্প্রার্থী বিদ্রোহ করল না করল সেটা নিয়ে কথা বলার– Who are you? It is to be decided by the party themselves. নির্বাচন কমিশন কেন এখানে রাজনীতির মধ্যে নিজেকে জড়াবে! পার্টি যদি তার বিদ্রোহী প্রার্থীকে ম্যানেজ করতে না পারে সেটা পার্টির ব্যাপার। সেটি কোনো অবস্থাতে নির্বাচন কমিশনের মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে না। প্রশ্নটা আসলে এখানে।
আগামী দশম জাতীয় নির্বাচন কোন্ সরকারের অধীনে হবে, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসার তাগিদ দিয়েছেন সিইসি কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ। এদিকে প্রধানমন্ত্রী যেমন বলছেন, দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে, তেমনি বিরোধীদলীয় নেত্রীও বলছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। তো আসলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন্দিকে যাচ্ছে?
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ : দেখুন, যারা যখন ক্ষমতায় থাকে তখন তারা মনে করে– ‘absolute power’. এরশাদকে যখন ক্ষমতা থেকে সরানো হলো তখন তিনি একদিক দিয়ে সরে যাবে বলে তৈরি হচ্ছেন অন্যদিকে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলছেন এক মিনিট আগেও আমরা পদত্যাগ করব না। কিন্তু তাদেরকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এরকম অনেকেই গায়ের জোরে কথা বলে কিন্তু আজ পর্যন্ত যত উদাহরণ রয়েছে তাতে দেখা গেছে এমনটি হয়নি। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে সাপ জীবিত থাকতে সোজা হয় না। ফলে এসব গায়ের  জোরের বিষয় নয়। রাজনীতির বিষয় রাজনীতি দিয়ে সমাধান করতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে পলিটিক্যালি আপনি কতোটা honest কতোটা dishonest তার পরিস্ফুটন ঘটাতে হবে। অতীতের Fuction’s-এ দেখা যাচ্ছে যারা ক্ষমতায় থাকে বা ছিল তাদের ওপর কোনো ভরসা রাখা যাচ্ছে না। আবার তারাও কারও ওপরে ভরসা রাখছে না। আমি ১৯৭৩ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে পরপর যতগুলো নির্বাচন হতে দেখেছি তার মধ্যে দু’একটা ছাড়া বাকিগুলোতে একই রকম ঘটনা ঘটেছে।
২০০৮ সালের নির্বাচনেও অনেকটা তাই হয়েছে কারণ সেটাও আওয়ামী লীগের একটা রাজনৈতিক চালের ফসলে পরিণত হয়েছিল। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে সিভিল এবং মিলিটারি ব্যুরোক্রেটরা যেসব অন্যায় করেছিল আওয়ামী লীগ সেসব অন্যায় শুধরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাদেরকে। আর সেজন্য তারা মরিয়া হয়ে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছে এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে জিতিয়েছিল তাদের নিজেদের শরীরের চামড়াকে বাঁচানোর জন্য। এই প্রক্রিয়ায় তো আর নির্বাচন হবে না। নির্বাচনে সাধারণ মানুষের আস্থা থাকতে হবে। শুধুমাত্র লোক দেখানে নির্বাচন দিয়ে এদেশে কিচ্ছু হবে না।
এই যে আপনি পলিটিক্যাল সল্যুশানের কথা বললেন, তো আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার বিষয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ : সমঝোতার কথা যে বলা হচ্ছে  আসলে ‘negotiation’ কে কার সঙ্গে করবে বলুন! এখানে rules of the game কেউ মানছে না। আর  rules of the game যদি কেউ না মানে তখনই ফাউল গেম হয়। আর ফাউল গেমের ফলে যে যেভাবে যার ঠ্যাং ভাঙতে পারে। এভাবে একসময় একটি পক্ষ পরাজিত হয়। আমরা সেই সংস্কৃতিই দেখছি। নির্বাচনের জন্য যেসব কথা বলা হচ্ছে, কখনও ইউরোপ দেখানো হচ্ছে বা আমেরিকার কথা বলা হচ্ছে ওখানকার রাজনৈতিক সভ্যতার যে বিকাশ রয়েছে সেটা কি আমাদের এখানে আছে? সেটা তো আমাদের এখানে নেই। তাহলে সে উদাহরণ এখানে দিয়ে লাভ কী?
যদি সমঝোতা না হয় তাহলে বিরোধীদলবিহীন নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন কি গ্রহণযোগ্য হবে, এবং তখন দেশের পরিস্থিতি কোন্ দিকে যাবে?
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ : দেশের পরিস্থিতি এমনিতেই তো খারাপ। উত্তরোত্তর আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। সবাই ঘরে বসে বসে স্বপ্ন দেখছে আর ভাবছে সবকিছু করে ফেলেছে। অর্থনৈতিকভাবে আমরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি। দেশে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অভাব মারাত্মকভাবে দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের কোনো জায়গায় শৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে না। প্রত্যেকেই নিজেদের ভাবছে সে একজন রাজা। অবশ্য এমনটি ভাবার একটি কারণও আছে। আমাদের সংবিধানে রিপাবলিক লাগানোর কোনো জাস্টিফিকেশন ছিল না। শুধু গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বললেই হতো। রিপাবলিক কনসেপ্ট হচ্ছে গ্রিক কনসেপ্ট। সেই গ্রিকের ফিলোসফার কিং-এর কনসেপ্ট কিংশিপ এই রিপাবলিকানের মধ্যে রয়েছে। আর সেই রিপাবলিকানের বাংলা করা হয়েছে প্রজাতন্ত্র। আর প্রজাতন্ত্র যখনই এসেছে তখনই রাজতন্ত্রের বীজ তার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। আর সেটাই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশের টপ টু বটম প্রত্যেকেই নিজ নিজ অঞ্চলে নিজকে রাজা বলে মনে করে। ইভেন ফিল্ড লেভেলের যারা রাজনৈতিক কর্মী রয়েছে তারাও বলে আমার অঞ্চলে দোকানদারি করবা আর আমাকে পয়সা দেবে না! তো এই যে বীজ রোপন করা হয়েছিল সেই বীজ আজকে মহীরুহ আকার ধারণ করেছে এবং তার এফেক্টটা আমরা পুরোপুরি অনুধাবন করছি। কাজেই এসব কথাকে ভালোভাবে চিন্তা করে দেখতে হবে।
বাংলাদেশ সংগ্রামের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য এদেশের মানুষ নিজেদের বুকের রক্ত দিয়েছে। সুতরাং এখানে গণতন্ত্রই হচ্ছে মূল ভীত। ফলে আমরা বাংলাদেশকে রিপাবলিক-টিক না বলে সরাসরি বলতে পারতাম ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ that is more than sufficient. কিন্তু দুর্ভাগ্য আমরা সেগুলো করিনি। এখন তার যে ভাইরাসগুলো কাজ করছে সেগুলোকে কিভাবে শুধরানো যায় তা চিন্তা করতে হবে কিন্তু কোনো পলিটিক্যাল পার্টি সে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে না। না করার ফলে ধুমায়িত ক্ষোভ বহিঃপ্রকাশের সময় এসেছে এবং বহিঃপ্রকাশ চলতে থাকবে। কাজেই কেউ গায়ের জোর খাটিয়ে যদি কিছু করতে চায় আমার মনে হয় না যে এমনটি কেউ করতে পারবে।
আপনার দৃষ্টিতে দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের উপায় আসলে কী?
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ : দেখুন, আসলে এর কোনো অল্টারনেটিভ নেই একমাত্র পথ হচ্ছে পলিটিক্যাল লিডারগণ সবাই একসাথে বসে এর সমাধান করা। তারা যদি সেটা না করে এবং পরস্পরের মুখ দেখতে না চায় তাহলে কিভাবে সেটা সম্ভব!

SHARE

Leave a Reply