সরকার রাজা ফার্দিনান্ড ও রানী ইসাবেলার পথেই এগিয়ে যাচ্ছে

CS-Mayব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়েই চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচন শেষ হচ্ছে। খুন, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জালভোটের মহোৎসবের মধ্য দিয়ে আগের তিন দফা নির্বাচনকে ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচনে সহিংসতা হয়নি এমন উপজেলা হয়তো একটিও পাওয়া যাবে না। এতে মারা গেছে চার জন। আহত হয়েছে অন্তত চার শতাধিক। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী জোট সরকারের অধীনে উপজেলা নির্বাচনে এ অবস্থা হবে তা বুঝতে কারো বাকি ছিল না। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে মোটামুটি কম সহিংসতা হয়েছিল। এতে বিরোধীদলীয় সমর্থকরা বেশির ভাগ উপজেলায় বিজয়ী হন। এরপর আওয়ামী অপশক্তি পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে বিজয়ী হতে মরিয়া হয়ে ওঠে। চতুর্থ দফা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে এ নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের তল্পিবাহক ও অন্ধ অনুসারী তর্জনগর্জনসর্বস্ব একটি মেরুদণ্ডহীন ব্যর্থ সংস্থা। একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য নির্বাচন কমিশন বহু আগেই হারিয়ে ফেলেছে। এখন আমরা আশা করব নির্বাচন কমিশন সহিংস নির্বাচনের দায় মাথায় নিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিদায় নেবে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা এই অপশক্তি এ দেশ থেকে ইসলামের তাহজিব তমদ্দুন মুছে ফেলে নাস্তিক্যবাদকে প্রতিষ্ঠার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করে আজীবন ক্ষমতার মসনদে বসে শোষণের পথ বেছে নেয়ার পরিণতি শুভ হবে না। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে নিরপরাধ ছাত্রদের বহিষ্কার এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী তাদের ছাত্রসংগঠনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকে দেয়া সবই এক সুতোয় গাঁথা। বহিষ্কৃত নিরপরাধ ছাত্রদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে এবং শিক্ষাঙ্গন থেকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

৫২১ বছর আগে রাজা ফার্দিনান্ড ও রানী ইসাবেলার যৌথ খ্রিষ্টান বাহিনী মুসলিমদের শেষ রাজধানী স্পেনের গ্রানাডা শহর দখল করে। তারা শুধু মুসলমানদের নাগরিক ও ধর্মীয় সুবিধা হরণ করেনি বরং লাখ লাখ মুসলিমকে আগুনে পুড়িয়ে এবং জাহাজ ডুবিয়ে হত্যা করে। অসংখ্য মসজিদ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়। ১৪৯৩ সালে গ্রানাডায় তারা ঘোষণা দেয় মসজিদে আশ্রয় নেয়া মুসলিমদের হত্যা করা হবে না। সরলপ্রাণ লাখ লাখ মুসলিম যখন মসজিদে আশ্রয় নেন তখন তারা মসজিদে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে মুসলিমদের হত্যা করে।

বর্তমান সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়েও অভিন্ন সাযুজ্য খুঁজে পাওয়া যায়। এ সরকার রাজা ফার্দিনান্ড ও রানী ইসাবেলার পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। কৌশলে তথ্যসন্ত্রাস চালাচ্ছে। সরকারকে এ সকল ঘৃণিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। সহিংসতার পথ পরিহার করে সরকারকে নির্বাচন-অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সকলের অংশগ্রহণে দ্রæত একটি জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করাই সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে। তরুণ ছাত্রসমাজ অতীতের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ এবং সচেতন। আশা করি সরকারের বোধোদয় হবে।

SHARE

Leave a Reply