সাকিবুল ইসলাম আমাদের প্রেরণায় প্রতিদিন -মুহাম্মদ ইসমাঈল

ইসলামে শহীদের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে নবীদের পর। শাহাদাত মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ; তিনি তাঁর প্রিয় বান্দাদের এ মর্তবা দান করেন। ফুল বাগানের মালিক যেমন সুন্দর ও তরতাজা ফুল নিজের জন্য রাখেন ঠিক তেমনি যিনি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, তাকেই শহীদ হিসেবে কবুল করেন। শহীদেরা চিরঞ্জীব, তাঁরা মরেও অমর। নিজ জীবনের বিনিময়ে এমন এক জীবন গ্রহণ করেন যাতে মৃত্যুর কোনো যন্ত্রণা নেই। শহীদের মৃত্যু যন্ত্রণা শুধুমাত্র পিঁপড়ার কামড়ের মতো। তাইতো শহীদেরা বলেন, “হে প্রভু আমাকে আরও একবার দুনিয়াতে পাঠাও আমি যেন তোমার পথে লড়াই করে আর একবার শাহাদাত বরণ করতে পারি।” (বুখারি) কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা শহীদের যাবতীয় গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন এবং কোন হকের ব্যাপারে প্রশ্ন করবেন না, কিন্তু বান্দার হক ছাড়া বিনা হিসেবে জান্নাত দান করবেন। (মুসলিম) শহীদের লাশ হাজার বছর পরেও মাটিতে পচে যাবে না, কবরে তাদের কোন প্রকার আজাব হবে না। (তিরমিজি) শহীদেরা তাদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্য থেকে ৭০ জন গোনাহগারকে সুপারিশ করে জান্নাতবাসী করবেন। (আবু দাউদ)
এমন মর্যাদার অধিকারী একজন হলেন শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম। ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে ২৮ জানুয়ারি রাত ৩টায় শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম হলেন চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ বিভক্ত হওয়ার পর তৃতীয় শহীদ এবং লোহাগাড়ার ময়দানেও তৃতীয় শহীদ। শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম সবার প্রিয়মুখ। একজন উদীয়মান তরুণ। জীবনে তার অনেক আশা-আকাক্সক্ষা ছিল। কিন্তু সব আশা-আকাক্সক্ষা পায়ের নিচে দিয়ে আল্লাহর দ্বীনের জন্য শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম সদা-সর্বদা শাহাদাতের তামান্না পোষণ করতেন ।
তিনি মা, বোন আত্মীয়স্বজন ও আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের কাছে সব সময় বলতেন, “আমার বড় সাধ, আল্লাহর পথে শহীদ হই।” মাকে বলতেন “মা আমি যদি শহীদ হই, তুমি কেঁদো না, কেননা তুমি হবে শহীদের গর্বিত জননী।”
তার ডায়েরির বিভিন্্্œ লেখা পাওয়া যায়, ‘মরতেই হবে যখন, শহীদি মরণ দিও আমাকে।’ শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার পুটিবিলা ইউনিয়নের গোলাম মুহাম্মদ সিকদার পাড়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের দুই বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালে তার পিতা ইন্তেকাল করেন। পিতৃবিয়োগের পর সাতবোনের আদরের ছোট ভাই ও মায়ের সর্বশেষ এবং একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম নিজ গ্রামের পুটিবিলা হামেদিয়া ফাজিল মাদরাসায় ভর্তি হয়ে প্রথম শ্রেণী হতে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। তারপর দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসায় আউয়াল সাহেব হুজুরের কোর্সে ভর্তি হয়ে কোর্স সম্পন্ন করেন। তারপর গারাঙ্গীয়া আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। তারপর আধুনগর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ২০১১ সালে গোন্ডেন এ+ পেয়ে দাখিল পাস করেন। তারপর চট্টগ্রামে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসায় আলিমে ভর্তি হয়ে ২০১৩ সালে গোল্ডেন এ+ পেয়ে আলিম পাস করেন। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজনীতি বিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হন। ছাত্র হিসেবে খুবই মেধাবী ছিলেন, সাতবোন এক ভাইয়ের মধ্যে শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম ছিলেন সবার ছোট। তাঁর শিক্ষকদের ভাষ্যমতে শহীদ মুহাম্মদ সকিবুল ইসলাম ছিলেন ভালো ছাত্র, মেধাবী, চৌকস, চরিত্রবান অমায়িক ও আদর্শবান তরুণ। তার সহপাঠীদের সাথে ছিলেন অত্যন্ত হাসিখুশি সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদেরকে তোমরা মৃত বলো না, এসব লোক প্রকৃতপক্ষে জীবিত কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার না । কবির ভাষায়-
“জীবনের চেয়ে দৃপ্ত মৃত্যু তখনি জানি,
শহীদি রক্তে হেসে ওঠে যবে জিন্দেগানী।”
“সত্য মুক্তি স্বাধীন জীবন লক্ষ্য শুধু যাদের,
খোদার রাহে প্রাণ দিতে আজ ডাক পড়েছে তাদের।”
ছোটবেলা থেকেই যার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুরাগ ছিলো, যার চিন্তা চেতনায় ছিল আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস আর রাসূল (সা)-এর প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা। যার জীবনের পদক্ষেপগুলো ছিল জান্নাতি পথে। কাউকে খুন করে তার আদর্শ খুন করা যায় না। বরং শহীদের রক্ত লাল উর্বর মাটিতে শহীদের সাথীরা আরো সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন। তাইতো আমরা দেখি উহুদের ময়দানে হযরত হামজা (রা) এর কলিজা চিবিয়ে, মুতার অভিযানে হযরত জাফর (রা)-এর মস্তক ছিন্ন করেও ইসলমী আন্দোলনের দুর্বার অগ্রযাত্রাকে এক মিনিটের জন্যও থমকে দেয়া যায়নি। বাস্তবায়িত হয়নি কাফের মুশরিকদের পরিকল্পনা। বাংলাদেশের বুকেও ইসলামী আন্দোলনকে কেউ স্তব্ধ করতে পারবে না। ইতিহাস তাই তো সাক্ষ্য দেয়। কবির ভাষায়-
“আমাদের শহীদেরা সবচেয়ে বড় সম্পদ,
গড়ে গেছে সাহসের দ্বিধাহীন সোজা রাজপথ।”
শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আছে শুধু তার রেখে যাওয়া অসংখ্য স্মৃতি যা আমাদেরকে বারবার নাড়া দেয়। আমাদের প্রিয় ভাই মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম শহীদ হয়েছেন। আমরা হয়তো তার বিচার দুনিয়াতে পাবো না, কিšুÍ পরকালে অবশ্যই পাবো।

শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম ভাইয়ের স্মরণীয় কথা
আমাদের পায়ের নিচের মাটি থেকে মাথার উপরের আসমান পর্যন্ত ক্ষমতাসীন পদে আজ ইসলামবিরোধীরা অবস্থান করছে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই আসমানের ওপর যিনি আছেন তিনি আমাদের পক্ষে।

মায়ের প্রতিক্রিয়া
আজ আমার শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম যদি থাকত আমার বুকের সমস্ত শূন্যতা পূরণ হয়ে যেত। তোমরা বলো কী অপরাধ ছিল আমার সাকিবের? সে কি কোন মানুষের ক্ষতি করেছিল? কেন তারা আমার বুকের ধনকে নির্মমভাবে হত্যা করল?

বোনদের প্রতিক্রিয়া
আমাদের একমাত্র আদরের সাকিবকে হারিয়েছি আমরা। তাতে আমাদের কোন দুঃখ নেই। কাল কিয়ামতের দিন আমাদের শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলামের বোন হিসেবে জান্নাতের সিঁড়িতে দেখা হবে, এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

কী অপরাধ ছিলো শহীদ সাকিবের
শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম লোহাগাড়া থানার পুটিবিলা ইউনিয়নের গোলাম মুহাম্মদ সিকদার পাড়া মরহুম মাওলানা ওসমানুল হকের একমাত্র পুত্র। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল পরোপকারী এই যুবকটিকে এভাবে হত্যা করা হবে তা দেশবাসী কখনো কল্পনা করতে পারেনি। শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম আমাদের প্রেরণা। তার অপরাধ সে মানুষকে কুরআন শিক্ষা দিত, নামাজ শিক্ষা দিত এবং হাদিসের কথা বলত। বাংলাদেশকে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখত। আর এই অপরাধের কারণেই তাকে জীবন দিতে হলো।

যেভাবে শহীদ হলেন
আওয়ামী বাকশালী সরকার জোর করে গত ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি ক্ষমতার মসনদে বসে। বাংলাদেশ থেকে ইসলামী মূল্যবোধকে ধ্বংস করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নেতাদের অবৈধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানোর চেষ্টা করছে। আর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক তিনজন কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দী করে রাখে। যথারীতি ৫ জানুয়ারি ২০১৫ সাল সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয়। ৬ জানুয়ারি হতে হরতাল, অবরোধের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। ২০ জানুয়ারি আমাদের প্রিয় সাকিবুল ইসলাম ভাই অন্যান্য দিনে মত তার মেঝো আপার বাসা হতে রিকশায় করে তার প্রিয় ক্যাম্পাস বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসায় আসছিলেন। কদমতলী মোড়ে দুর্বৃত্তদের ছোড়া বোমার আঘাতে সাকিব ভাই রিকশা থেকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। তার পর পুলিশ এসে প্রিয় সাকিব ভাইকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় বন্দুক দিয়ে মাথায় আঘাত করে, পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমরা রাত ১২টায় থানায় যোগাযোগ করেছি। প্রশাসন বলেছে আমরাতো কাউকে গ্রেফতার করেনি। ২১ জানুয়ারি ভোর ৪টায় সাকিবের আম্মুর মোবাইলে ফোন আসে সাকিব আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আছে। সকালে আমরা গিয়ে দেখি সাকিবের ব্রেইনে প্রচন্ড আঘাত হয়েছে, রক্ত বমি করছে। সাথে সাথে প্রশাসনের কাছে আরজি করা হয় সাকিব ভাইকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। কিন্তু প্রশাসন সে সুযোগ দেয় নাই। তার পর ২৪ জানুয়ারি সাকিবের অবস্থা আরো অবনতি হলে প্রশাসনের হাতজোড় করে অনেক কাকুতি মিনতি করে বলেছি, তখন অনুমতি দিয়েছে জিইসি মেডিক্যাল সেন্টারে। যেখানে সিটি স্ক্যান করার মতো মেশিন নেই। যার দরুন সিটি স্ক্যান করাতে হয়েছে ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টায়। যে সিটি স্ক্যান করার কথা ছিল ২৪ জানুয়ারি রাত ১১টায়। সাকিব ভাইকে জিইসি মেডিক্যাল সেন্টারে আইসিউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে আরও অবনতি হয়ে যাচ্ছে। তখন প্রশাসনের কাছে ঢাকা নেয়ার অনুমতি চেয়েছি। চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণের আইনবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল হাসান লোদী ভাইকে নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সাথে অনেক দেন-দরবারের পরে ২৬ জানুয়ারি রাতে ঢাকায় নেয়ার অনুমতি মেলে। এরপর ২৭ জানুয়ারি ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছার পরও প্রশাসনের গড়িমসির কারণে সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করা যায়নি।
আওয়ামী পুলিশ প্রশাসন এভাবে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে হয়রানি করেছে। অবশেষে সাকিব ভাইকে ২৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ঢাকা এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যথারীতি চিকিৎসা শুরু হয়, আমি ডাক্তারকে বললাম, যত উন্নত চিকিৎসা দেয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। ডাক্তারও তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করার কথা আমাদেরকে আশ্বস্তও করেন। ভেবেছিলাম প্রিয় সাকিব ভাইকে সুস্থ করে তার মায়ের কাছে নিয়ে যেতে পারবো। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সবাইকে পেছনে ফেলে জান্নাতের পাখি হয়ে ২৮ জানুয়ারি রাত ৩টায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আল্লাহতায়ালা কবুল করেছেন সাকিবকে। ২৮ জানুয়ারি সকালবেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ্যাপোলো হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী ভাটারা থানায় খবর দিলে ঐ থানার এসআই হাসানের নেতৃত্বে সাত-আট জন পুলিশ এসে প্রিয় ভাই সাকিবকে দেখে গেলো এবং বললো কোর্ট থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে আসবে। সুরতহাল রিপোর্ট দিলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ময়নাতদন্ত করতে হবে। দুপুর ১২টা হয়ে গেল ম্যাজিস্ট্রেট আসছেন না দেখে ভাটারা থানায় গিয়ে দেখলাম পুলিশ কোর্টে যায়নি। আবার ভাটারা থানার পুলিশকে গাড়ি ভাড়া করে দিয়ে পাঠালাম কোর্টে। বিকাল ৪টায় ম্যাজিস্ট্রেট এলেন এবং সুরতহাল রিপোর্ট করলে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে ৫টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশে রওনা হলাম। পথে বেশ জ্যাম হওয়ায় রাত ৭টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছলাম। একজন ডাক্তার আমাদের জন্য বসেছিলেন, বেশি দেরি হওয়ায় ঐ ডাক্তার চলে যান। ২৮ জানুয়ারি রাতে আর ময়নাতদন্ত করা হলো না। ২৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে ময়নাতদন্ত এবং গোসল শেষ হলো। ঢাকায় যাওয়ার পর হতে যিনি আমাদের সাথে সবসময় ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ বিভাগের সদস্য নুরুল আমিন ভাই, ডাক্তার আব্দুল হক সজিব ও ডাক্তার নাহিদসহ আরো যারা ছিলেন, সবাইকে বিদায় দিয়ে সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিলাম। প্রিয় শহীদ সাকিবুল ইসলাম ভাইকে নিয়ে যখন বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামে সিটি গেট পার হলাম, হঠাৎ ৫০-৬০ জন পুলিশ আমাদেরকে আটকে দিল এবং নাম ঠিকানা নিয়ে কোতোয়ালি থানায় ফোন করে জানায়। সাথে সাথে আমার দু’টি মোবাইল নিয়ে নেয়। আমরা পুলিশ প্রহরায় পুটিবিলা হামেদিয়া ফাজিল মাদরাসার কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছাই তখন আমাদেরকে মোবাইল দুটি দিয়ে বলে, এবার চলে যান। যথারীতি রাত সাড়ে ৮টায় শহীদ সাকিবের বাড়ি পৌঁছে দেখি হাজার হাজার নারী-পুরুষ অপেক্ষা করছে শহীদ সাকিবুল ইসলামকে একনজর দেখার জন্য।

প্রথম নামাজে জানাজা
২৯ জানুয়ারি যথারীতি বিকেল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম ঐতিহাসিক প্যারেড মাঠে শহীদ সাকিবুল ইসলামের প্রথম নামাজে জানাজা ঘোষণা দেয়া হয় কিন্তু দুঃখের বিষয় শুরু হলো প্রশাসনের কুখ্যাত দালালদের লাশ নিয়ে নাটকের আরেক পর্ব। ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে আসার সময় সিটি গেট এলাকা থেকে প্যারেড ময়দানে যেতে দেয় নাই। অবশেষে পূর্বনির্ধারিত বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরীর প্যারেড মাঠের চারদিকে পুলিশ বিজিবি ও র‌্যাব রায়টকার নিয়ে পুরো মাঠ ঘিরে রাখে। অবশেষে হাজার হাজার শোকাহত তৌহিদী জনতার উপস্থিতিতে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মহোদয়ের ইমামতিতে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় নামাজে জানাজা
পরদিন ৩০ জানুয়ারি জুমাবার সকাল সাড়ে দশটায় শহীদ সাকিবুল ইসলামের বাড়ির উত্তর পাশে মাঠে প্রায় দশ হাজার শোকাহত জনতা ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে শহীদ সাকিবুল ইসলামের একমাত্র মামা মাওলানা জাফর সাদেকের ইমামতিতে ২য় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলামের মা তার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে স্বাভাবিক হতে পারেননি। ভুলতে পারেননি এ অস্বাভাবিক মৃত্যুকে। তার মায়ের একটাই প্রশ্ন- কী দোষ ছিল আমার সন্তানের?
বড় বোনদের মধ্যে হাহাকার- কাকে তারা ভাই বলে ডাকবে? কাকে আদর করে ছোট ভাইয়ের আবদারগুলো পূরণ করবেন? যে মা তার একমাত্র পুত্রসন্তানকে হারিয়েছেন তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমাদের নেই। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তার মা, বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দান করেন এবং শহীদ মুহাম্মদ সাকিবুল ইসলাম ভাইকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন, আমিন। হ

SHARE

Leave a Reply