সিয়াম সাধনায় মুক্তির আরাধনা -ইয়াসিন মাহমুদ

যদি না তোমার অন্তর হয় সাদা
যদি না-ই ভাঙে বদ্ধ দিলের খিল
মিছে অনাহার উপবাস দিনমান
নেই কল্যাণ তাতে মোটে একতিল।
-কবি গোলাম মোহাম্মদ

মাহে রমজান ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি অন্যতম স্তম্ভ। অন্য ইবাদতের চেয়ে রমজান একটু ভিন্ন। নিছক কোন প্রদর্শনী কিংবা মহড়ার আয়োজন এতে নেই। বরং মহান প্রভুর অতি নিকটতম প্রিয়তম বান্দা হবার সুবর্ণ সুযোগ। খুলুসিয়াতের চূড়ান্ত সোপান নিহিত থাকে এই সংযম ও সাধনার সমীপে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। তোমাদের পূর্ববর্তী বান্দাদের উপরও ফরজ করা হয়েছিলো সম্ভবত তোমরা মুত্তাকি হতে পারবে। (সূরা আল বাকারা : ১৮৩)
প্রতি বছর মাহে রমজান আসে আবার বিদায় নেয়। রমজান উপলক্ষে সেমিনার, ইফতার মাহফিল, পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয় অজ¯্র প্রবন্ধ-নিবন্ধসহ বিভিন্ন বিষয়াদি। এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের নিশ্চয় একটা উদ্দেশ্য থাকে। আর তা হলোÑ সর্বশ্রেণির মাঝে রমজানের তাৎপর্য মাহাত্ম্য তুলে ধরা। সকলের মাঝে রমজানের প্রকৃত হাকিকত প্রতিষ্ঠা করা। সবার হৃদয়ে স্থান হোক তাকওয়ার। রমজান মাসে তারাবিহ, সেহেরি, ইফতার ও সিয়াম সাধনায় প্রত্যেকের ভেতর একটা পেরেশানি দেখা যায়। আমার বোধ হয় সবার ভেতর একটা বিষয় কাজ করেÑ রমজান মাসে খোদাভীতি থাকলে রোজা কবুল হয়। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায়। অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে মানুষের মানসিক একটা পরিবর্তন আমরা দেখতে পাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো- তাকওয়া কি শুধু রমজানের জন্য? রমজান মাসে দিনের বেলায় ভুলক্রমে কোনো খাদ্যদ্রব্যে হাত দেয়ার পর মনে হয়Ñ আমি রোজাদার। তৎক্ষণাৎ পানাহার থেকে নিজেকে বিরত রাখি। তাকওয়ার মানদণ্ডে নিজেকে একনিষ্ঠ বান্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। কিন্তু রমজান পরবর্তী মাসগুলোতে আমাদের ভেতর সেই চেতনাবোধ লক্ষ্য করা যায় না। আমাদের তাকওয়া কি শুধু রমজান সংশ্লিষ্ট? নাকি গোটা জীবনের জন্য সে প্রশ্নটা সহসা থেকেই যায়। রমজান মাসে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যে আনুগত্য প্রদর্শন করি; ব্যক্তিজীবনে নিজেকে আল্লাহর খালেস বান্দা হওয়া ও তাঁর দ্বীনের খাদেম হওয়ার প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই- রমজান-পরবর্তী জীবনে তাঁর কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এর একমাত্র কারণ আমরা ‘দ্বীন হচ্ছে জীবন উদ্দেশ্য’ এই শ্লোগানের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারে নাই। রমজানের রোজা আমাকে যে তাকওয়া শিক্ষার কথা বলেছেÑ সেটা হলো গোটা জীবনের সকল ক্ষেত্রে পালিত হওয়ার আঞ্জাম ও অনুশীলনের তাগিদ দেয়। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা একেকজন একেক পেশায় কর্মরত। চাকরি করি, ব্যবসা করি- আর্থিক সচ্ছলতা আনয়ন করে জীবনোপকরণসমূহ সংগ্রহ করার জন্য। স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন ধারণ করার জন্য। হাঁটি, গাড়িতে চড়িÑ নির্দিষ্ট একটি গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য। রান্না করিÑ খাবার জন্য। প্রতিটি কাজের যেমন একটা লক্ষ্যমাত্রা থাকে। উদ্দেশ্য ও বিধেয় থাকে। মাহে রমজানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর বান্দাকে একজন খাঁটি ঈমানদার, মর্দে মুমিন মুজাহিদ হিসেবে দেখার প্রত্যাশায় তিনি কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সুতরাং তারই বিধান মোতাবেক নিজেকে পরিচালিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
রমজান মাসে সবার মাঝে একটি পরিবর্তনের যে ধারা প্রবহমান দেখি সেটার একটা কারণ আছে- সবাই এই মাসটিকে আলাদা মর্যাদায় প্রতিপালন করে থাকেন। মহান আল্লাহই তো এ মাসকে গুরুত্ব দিয়ে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। এ মাসের ইবাদত অন্য মাসের চেয়ে সওয়াবের দিক থেকে অগ্রগণ্য। সাধারণত আমরা সওয়াব হাসিলের জন্যেও অনেকে এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকি। আর সে কারণে সবার ভেতরে খোদাভীতি ও খুলুসিয়াতের আবহ লক্ষ করা যায়। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: যারা ঈমানদার তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় প্রভুর প্রতি ভরসা পোষণ করে। (সূরা আনফাল : আয়াত ২)
রহমত, বরকত, মাগফিরাত আর নাজাতের মাস মাহে রমজান। এ মাসের প্রতিটি কর্মের জন্য মহান আল্লাহ বিশেষ জাযা নির্ধারণ করেছেন। কারণ হলো উম্মতে মুহাম্মাদী অন্য নবীর উম্মতের চেয়ে কম হায়াতের অধিকারী। মাহে রমজান মূলত একজন বান্দার জন্য একটি তারবিয়াতের মাস। এ মাসের প্রতিটি কাজ-কর্মের আদলেই তাঁর আগামীর দিনগুলো পরিচালিত হবে সেটাই মহান রবের চাওয়া। একটু লক্ষ করুন- যেকোনো দেশের সৈনিকদেরকে জীবনে একবারই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বাকি জীবন সেই প্রশিক্ষণকে সামনে রেখে পথ চলতে হয়। রমজানের ইবাদতে অনেক সওয়াব সেটা যেমন সত্য; তেমনি এ মাসও যে আমাদের পরবর্তী জীবন পরিচালনার একটি গাইডলাইন মূলক ওয়ার্কশপ সে বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। শুধু মাত্র সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্য যদি হয় আমার রমজান মাসের কর্মসূচি হয় তাহলে সে কর্মসূচি জীবন পরিবর্তনে তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। বরং মাহে রমজান থেকে জীবনকে সুন্দরভাবে সাজানোর পরিকল্পনা ও অনুশীলনটা হয়ে যেতেই পারে।
এবার একটা বিষয় আরো স্পষ্ট করতে চাই- রমজান মাসে আমাদের সবার ভেতরে খোদাভীতি ও তাকওয়ার উপস্থিতি দেখা যায়। অন্য মাসে তেমনটি কেন দেখা যায় না- এমন প্রশ্ন সবার মধ্যে উঁকিঝুঁকি মারে। এবার উত্তরটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।
আমাদের দেহরাষ্ট্র দুটি সত্তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থাকে। একটি হচ্ছে রূহ। আরেকটি হচ্ছে নফস। যখন রূহ শক্তিশালী হয় তখন মানুষ ভালো কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। আর নফস শক্তিশালী হলে মানুষ বিপথগামী হয়ে থাকে। রূহের খাবার কী? নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ অন্যান্য ভালো কাজ। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য। আর নফস সবসময় মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়। খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে। রমজান মাসে আমরা সার্বক্ষণিক আল্লাহর বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকায় রূহ শক্তিশালী থাকে। এবং সবার ভেতরে পরহেজগারিতা পরিলক্ষিত হয়। রূহ ও নফস শক্তিশালী হওয়ার কার্যক্রম সম্পর্কে একটি ঘটনার আলোকপাত করছি।
মালেক ইবনে দিনার ছিলেন তৎকালীন ইরাকের বিখ্যাত আলেম। তার জনসভায় উপস্থিতি দেখে মাঝে মাঝে ভয় পেয়ে যেতেন বাগদাদের বিলাসী এবং অত্যাচারী তথাকথিত খলিফারা। একবার লোকে লোকারণ্যে এক মাহফিলে বক্তৃতা দেয়ার জন্য দাঁড়াতেই এক শ্রোতা দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আপনার বক্তৃতার আগে আমার একটি প্রশ্নের জবাব দিন।’
‘কী প্রশ্ন আপনার?’ জানতে চাইলেন মালিক বিন দিনার। বয়স্ক শ্রোতা ভদ্র লোক বললেন, ‘প্রায় দশ বছর আগে বাগদাদের এক শুরিখানায় এক ব্যক্তিকে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি, আপনি তো সেই ব্যক্তি। আমাকে বলুন কিভাবে আপনি শুরিখানা থেকে এখানে এলেন?
মালিক বিন দিনার মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর বললেন, ‘হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি সেই ব্যক্তি। শুরিখানা থেকে এখানে আসার কাহিনীটা-ই আজ আপনাদের শুনাবো। আপনারা তো সবাই শুনলেন আমি আকণ্ঠ মদে মাতাল এক ব্যক্তি ছিলাম। এক কদরের রাতে মদের দোকান বন্ধ ছিলো। আমি দোকানদারকে অনেক অনুরোধ করে এক বোতল মদ কিনলাম বাড়িতে বসে খাবো এই শর্তে। মুসল্লিরা যাতে না দেখে বোতলটি লুকিয়ে নিয়ে আমি বাড়িতে ঢুকলাম। ঢুকতেই দেখি আমার স্ত্রী লাইলাতুল কদরের নামাজ পড়ছে। আমি পাশ কেটে আমার ঘরে চলে গেলাম। বোতলটা বের করে টেবিলের ওপর রাখলাম। এমন সময় আমার তিন বছরের মেয়েটি দৌড়ে এলো আমার কাছে। টেবিলের সাথে ধাক্কা খেলো আর সাথে সাথে মদের বোতলটি মেঝেতে পড়ে ভেঙে গেলো। মেজাজটা অসম্ভব খারাপ হলেও করার কিছু থাকলো না। অবুঝ মেয়েটি খিল খিল করে হাসতে লাগলো। ভাঙা বোতল জানালা দিয়ে ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সে রাতে আর মদ খাওয়া হলো না আমার। আবার যথারীতি বছর গেলো। লাইলাতুল কদর এলো। আমি এক বোতল মদ নিয়ে বাড়ি এলাম। কারণ এই রাতে মদের দোকান বন্ধ থাকে। আজও দেখলাম আমার স্ত্রী নামাজ পড়ছে। সেজদায় গিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আমি আল্লাহর বান্দীকে কান্নার সুযোগ দিয়ে আমার ঘরে চলে এলাম। বোতলটা টেবিলের উপর রেখে কাপড় চোপড় বদল করলাম। মদের বোতলের দিকে তাকাতেই আমার তোলপাড় করে কান্না এলো। তিন মাস হলো আমার শিশুকন্যাটি মারা গেছে। হ্যাঁ, যার ধাক্কায় গত বছর মদের বোতলটি ভেঙে গিয়েছিলো। বোতলটা ধরে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্ন দেখছি বিরাট একটা সাপ আমাকে তাড়া করছে। আমি ভয়ে দৌড়াচ্ছি। সাপও দৌড়াচ্ছে। পেছনে একবার তাকিয়ে তো বেহুঁশ হওয়ার উপক্রম। এতো বড় আর এতো মোটা সাপ আমি জীবনে দেখেনি। এমন সময় পাশেই এক বৃদ্ধকে দেখলাম। বৃদ্ধ ম্লান হেসে বলল, ‘বাবা আমি খুব দুর্বল এবং ক্ষুধার্ত আর এই সাপ অসম্ভব শক্তিশালী। আমি এ সাপের সাথে পারবো না। তুমি এই পাহাড়ের উপরে উঠে ডান দিকে যাও বলে একটি পাহাড় দেখিয়ে দিলো। আমি অনেক কষ্টে পাহাড়ে উঠেই দেখি পাহাড়ের ওপাশে দাউ দাউ করে জাহান্নামের আগুন জ¦লছে। আর পেছনেই হাঁ করে এগিয়ে আসছে বিরাট আজদাহা। বৃদ্ধের কথা মতো ডান দিকে ছুটলাম। দেখছি খুব সুন্দর একটি বাগান। ছোট ছোট বাচ্চারা খেলছে। গেটে দারোয়ান। দারোয়ান চিৎকার করে উঠল, ‘এই বাচ্চারা দেখতো এই লোকটি কে? সাপটাতো একে খেয়ে ফেলবে নয়তো জাহান্নামে ফেলে দেবে।’ দারোয়ানের কথা শুনে বাচ্চারা দৌড়ে এলো। তার মধ্যে আমার মেয়েটাও আছে। আমার মেয়েটা ডান হাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে বাম হাতে সাপের মুখের

উপর থাপ্পড় মারলো। সাপটা আগুনের মধ্যে নেমে গেলো। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘মা তুমি ছোট্ট একটা মেয়ে আর অত বড় সাপ তোমাকে ভয় পায়।’ মেয়েটি বলল, আমরা জান্নাতি মেয়ে তো। জাহান্নামের সাপ আমাদের ভয় পায়। বাবা ঐ সাপটাকে তুমি চিনতে পেরেছো?
বললাম, ‘নাÑ মা। ওতো তোমার নফস। নফসকে এতো বেশি বেশি খাবার দিয়েছো যে সে অত বড় আর শক্তিশালী হয়েছে। সে তোমাকে জাহান্নাম পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে এসেছে।’ বললাম, রাস্তায় এক দুর্বল বৃদ্ধের সাথে দেখা হয়েছিলো। সে তোমার এখানে আসার রাস্তা বাতলে দিয়েছে। সে কে? মেয়েটি বলল, ‘তাকেও চিনতে পারোনি? সে তো তোমার রূহ। তাকে তো কোনদিন খেতে দাওনি। না খেয়ে খেয়ে দুর্বল হয়ে কোন রকম বেঁচে আছে।’
মনে হলো তাইতো। বৃদ্ধ বলছিলো, আমি খুবই দুর্বল আর ক্ষুধার্ত এই শক্তিশালী সাপের সাথে আমি পারি না। ঘুম ভেঙে গেলো। একটু চুপ করে থেকে মালেক বিন দিনার আবার বলতে লাগলেন। সেই দিন থেকে আমার রূহকে আমি খাদ্য দিয়ে যাচ্ছি আর নফসের খোরাক একদম বন্ধ করে দিয়েছি। আমি আজও চোখ বন্ধ করলেই আমার নফসের ভয়াল রূপ দেখতে পাই আর দেখতে পাই আমার রূহকে আহা! কতো দুর্বল, হাঁটতে পারে না। ঝর ঝর করে কেঁদে ফেললেন মালেক বিন দিনার।
এবার আমরা একটু আত্মসমালোচনা করে দেখি তো আমার রূহ শক্তিশালী নাকি আমার নফস?
জি, আমরা আমাদের রূহকে শক্তিশালী দেখতে চাই। রমজান মাসে যে রূহ আমাকে আল্লাহর ভয়ে পানাহারসহ নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলে। সেই রূহ আপনাকে আমাকে রমজান পরবর্তী মাসে অন্যায় অনাচার থেকে বিরত রাখবে যদি আমাদের রূহ শক্তিশালী থাকে। আর যদি আমরা আগের মতোই অহরহ মন্দ কাজের প্রতি আসক্ত হই তাহলে বুঝতে হবে আবারো আমার রূহটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
মাহে রমজান আমাদের জন্য যে কল্যাণের সওগাত নিয়ে হাজির হয়েছে আমরা সেই সওগাত গ্রহণের সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হই। আমাদের রোজা যেন শুধু উপবাসে পরিণত না হয়। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে এসেছেÑ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে লোক মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করতে পারলো না তার খাদ্য ও পানীয় পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” হাদিস শরীফে আরো বর্ণিত হয়েছে- “আর রোজা হলো ঢালস্বরূপ। তোমাদের একজন যখন রোজা রাখে তখন সে যেন বেহুদা ও অশ্লীল কথা না বলে এবং চিৎকার ও হট্টগোল না করে। অন্য কেউ যদি তাকে গালাগাল করে কিংবা তার সাথে ঝগড়া বিবাদ করতে আসে, তখন সে যেন বলে আমি রোজাদার।” (সহীহ বুখারী)
অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে সওয়াবের পরিসংখ্যান থাকলেও রোজার পুরস্কার ও প্রতিদানের বিষয়টা একেবারেই আলাদা। মহান আল্লাহ রোজার পুরস্কার নিজ হাতেই বণ্টন করবেন। আল্লাহ রাব্বুল যেন আমাদের রোজাকে কবুল করেন এবং সৌভাগ্যবান বান্দাদের কাতারে শামিল করেন। পরিশেষে ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দের সুরে সুরে আমরা মহান প্রভুর দরবারে প্রার্থনা যাচি-
সিয়ামের রঙ দিয়ে
আমার দেহ মন দাও ভরিয়ে
দুনিয়ার কোন লোভে
না পাওয়ার কোন ক্ষোভে
কোন রিপু জমা হলে মনের দুয়ার থেকে দাও সরিয়ে (প্রভু)

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply