সুন্দর সমাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ইসলামী নেতৃত্ব

মোবারক হোসাইন

andolonভূমিকা
Elder L. Tom Perry said, “We live in a world that is crying for righteous leadership based on trustworthy principles”
নৃবিজ্ঞান বলে মানুষ তার নিজ প্রয়োজনে এককভাবে জীবন  পরিচালনার পরিবর্তে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস এবং পরিচালনা শুরু করেছে সেই আদিম সময় থেকে। তখনই দেখা দিয়েছে ঐ সমাজ পরিচালনার জন্য একজন পরিচালকের বা নেতার প্রয়োজনীয়তা। সুতরাং সেই সমাজে ব্যক্তির বীরত্বই তাকে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করেছে। কারণ মাঝি ছাড়া যেমন নৌকা চলে না তেমনি নেতা বা নেতৃত্ব ছাড়া সমাজ, দেশ, জাতি চলতে পারে না।

নেতৃত্বের পরিচয়
নেতৃত্ব শব্দের অর্থ ব্যাপক। ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো খবধফবৎংযরঢ় যা ষবধফ শব্দ থেকে এসেছে। অর্থ

  1. পথ দেখানো (To guide)
  2.  চালিত করা (To conduct)
  3.   আদেশ করা (To direct) ইত্যাদি।

A leader is he, who knows the way, goes the way and shows the way.
নেতৃত্ব (Leadership) lead-to show the way by going first প্রথমে অগ্রসর হইয়া পথ দেখানো।
Guidance given by going first or infront. Leadership involve guiding or conducting a group of people.
সাধারণ অর্থে নেতৃত্ব হচ্ছে একজন ব্যক্তি মানুষের নানান গুণাবলির সমাবেশের মাধ্যমে একটি দলের বা গোষ্ঠীর কিংবা একটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত পরিচালনা।

নেতৃত্বের প্রামাণ্য সংজ্ঞা

  • Jorge and Gerry Gi g‡Z, Leadership is the activity of influencing people to strive willingly for group objectives.
  •  Keith davis :The leadership is the process of influencing group activities towards the accomplishment of the goal in a given situation.
  • রবার্ট গোলেমবিউস্কি বলেন, ‘কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে জনগণকে প্রভাবান্বিত করার যোগ্যতাই হচ্ছে নেতৃত্ব।’
  •  Chester I Barnard এর মতে, ‘নেতৃত্ব বলতে মানুষের কতগুলো আচরণিক গুণকে বুঝায় যা তাদের সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য চালিত করে।’
  •   রবার্ট ডাবিনের মতে, ‘নেতৃত্ব হচ্ছে সিদ্ধান্ত প্রণয়নের কর্তৃত্ব অর্জনের অধিকার ও অনুশীলন।’

নেতৃত্বের সমীকরণ
L=f(l. f. s) অর্থাৎ
L= Leadership (নেতৃত্ব)
f = function(কার্যাবলি)
l = Leader  (নেতা)
f = followers(অনুসারী)
s = situation (অবস্থা)
Principles of Leadership
1. Know yourself and seek self-improvement
2. Be technically proficient
3. Seek responsibility and take responsibility for your actions
4. Make sound and timely
5. Set the example
6. Know your people and look out for their well-being
7. Keep your workers informed
8. Develop a sense of responsibility in your worker
9. Ensure that tasks are understood, supervised, and accomplished –
10. Use the full capabilities of your organization leadership model follow USA Òbe, know, do” that means leader always awareness
Be prepared.
First things first.
Don’t avoid problems. :
Maintain focus on your purpose.

ইসলামী নেতৃত্বের সংজ্ঞা
Islam is the guide to eradicate all problems in  social life. Allah (Swt) has addressed the believers asUmmah, which implies the necessity of leadership in Islam.Allah says to his Prophet Mohammad (Sm) “…I have perfected your religion for you, completed My favor upon you, and have chosen for you Islam as your religion” (Surah Al-Maidah). Hadith the prophet said : When three persons go on a journey, let them put one of their number in command.” (Abu Da’ud on the authority of Abu Sa’id)
ইসলামী নেতৃত্ব তিনটি শব্দের সমার্থের ধারক বাহক।

  • খলিফা
  • ইমাম
  • আমীর

খলিফা : খলিফা অর্থ প্রতিনিধি। মানুষ মাত্রই আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা। এরপর নেতাকে খলিফা বলা হয় কারণ খোলাফায়ে রাশেদীনের বাস্তব কাজের সাথে মিলিয়ে একে বিচার করলে দেখা যায় তারা তিন অর্থে খলিফা ছিলেন-
১.    খলিফাতুল্লাহ বা আল্লাহর খলিফা
২.    লিফাতুর রাসূল বা (সা) বা রাসূলের খলিফা
৩.    খলিফাতুল মুসলেমিন বা মুসলমানদের প্রতিনিধি।
ইমাম : যে সামনে চলে তাকেই ইমাম বলা হয়। নামাজের ইমামতি যিনি করেন তিনি সামনে থাকেন। শুধু সামনে থাকেন তাই নয় তিনি তার পেছনের লোকদেও যে নির্দেশ দেন সে নির্দেশ তিনি সবার আগে পালন করেন।
আমীর : আমীর আদেশদাতাকে বলা হয়। আমর যার পক্ষ থেকে আসে সেই আমীর বা উলিল আমর
সুতরাং ইসলামী নেতৃত্ব বলতে বুঝি কুরআন, সুন্নাহর আলোকে একজন ব্যক্তির ঐ সকল আচরণিক গুণাবলি  বোঝায় যা একটি সংগঠন তথা ইসলামী আন্দোলনকে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য জনশক্তিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে।
Islamic Leadership Principles are primarily derived from the following key sources:
· The Holy Quran.
· The Holy Prophet.
· The Wise Caliphs.
· Pious Followers

নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য

  •     নেতা দায়িত্বের ওপর আয়েশকে স্থান দেবেন না।
  •    নেতা রাগ বা বিদ্বেষভাবে, স্বজনপ্রীতি বা স্বেচ্ছাপ্রীতিতে কাজ করবেন না।
  •    নেতা হবেন কাজ ও সম্মানের পথ প্রদর্শক।
  •    নেতা অবশ্যই হবেন মিতব্যয়ী, দুর্নীতিমুক্ত। তার মধ্যে তার নিজস্ব পেশার ও কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে।
  •     নেতা হবেন গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
  •    নেতা তার অধস্তন নেতাদের সাথে তিনভাবে যোগাযোগ করবেন –        ক) তার দেয়া নির্দেশের মাধ্যমে    খ) তার পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে     গ) তার পরিদর্শনের মাধ্যমে।
  • গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক তথ্যের জন্য-
  •     নেতা কখনও কখনও ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করবেন।
  •    সত্যিকার নেতা তার কৃত কর্মের দায়কে সর্বদাই কাঁধে নিতে প্রস্তুত থাকবেন।
  •     নেতা অবশ্যই জানবেন কখন, কিভাবে, কী করতে হবে।
  •    মহান নেতা হচ্ছেন মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
  •     ধৈর্য ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা।
  •    সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা।
  •     পরিবেশ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা।
  •    জ্ঞানের রাজ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন।
  •     দলীয় কারণে প্রচণ্ড আবেগ।
  •     শৃঙ্খলা বিধানের যোগ্যতা।
  •    পরিস্থিতি বিশ্লেষণ।
  •     ক্ষমা করা।
  •   প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মী বাহিনী গঠন।
  •   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার।
  •    বক্তৃতায় পারদর্শিতা অর্জন।
  •    দূরদর্শিতা ও মনোবল।
  •  অন্যকে বোঝার কৌশল।

ইসলামী সংগঠনে নেতৃত্বের কাঠামো
ইসলামী সংগঠনে একটি বিশেষ নেতৃত্ব কাঠামো আছে। আল্লাহর রাসূল (সা) এর বাণী এবং আসহাবে রাসূলের অনুশীলন আমাদেরকে ইসলামী সংগঠনের নেতৃত্ব কাঠামো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়।
রাসূল (সা) এর জীবনের শেষ ভাগে সাহাবাগণ মুসলিম উম্মাহ্র পরবর্তী নেতৃত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করেন। তারপর কে নেতা হবেন এটাই ছিল তাদের জিজ্ঞাসা। মূলত কোন ব্যক্তি নেতা হলে ভালো হবে রাসূল (সা) এর কাছে এটাই জানতে চেয়েছিলেন। রাসূল (সা) বলেছেন, “তোমরা যদি আবু বকরকে নেতা বানাও তাহলে তাকে পাবে আমানতদার, দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ এবং আখেরাতের প্রতি আকৃষ্ট। তোমরা যদি ওমরকে নেতা বানাও তাহলে তাকে পাবে শক্তিধর, আমানতদার এবং সে আল্লাহর ব্যাপারে কোনো প্রকার দুর্নামকারীর পরোয়া করে না। আর যদি আলীকে নেতা বানাও তাহলে তাকে পাবে পথপ্রদর্শনকারী হিসেবে, সে তোমাদের সঠিক পথে চালাবে। (মুসনাদে আহমদ)

ইসলামী নেতৃত্বের গুণাবলি

  • বুদ্ধিভিত্তিক ও মানসিক শক্তি
  •     সমকালীন রাজনীতি ও বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা
  •     যোগাযোগের দক্ষতা।
  •    উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী।
  •     দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞাবান হওয়া
  •     দৃঢ় সঙ্কল্প ও সাহসিকতা
  •     নেতা হবেন রহমদিল ক্ষমাশীল
  •     নেতা হবেন অল্পে তুষ্ট এবং ত্যাগী
  •     বৈরী শক্তির মোকাবেলায় বিজ্ঞানসম্মত পন্থা উদ্ভাবন।
  •     সময়ানুবর্তিতা
  •     অগ্রাধিকার জ্ঞান
  •    সঙ্কট মোকাবেলায় সামর্থব্যান মুত্তাকি এবং ত্যাগ- কোরবানিতে অগ্রগামী কথা ও কাজের সামঞ্জস্য:

মানুষ তাদের নেতাকে যেমনটি দেখতে চায় :

  •     উন্নত নৈতিকতা ও নির্মল চরিত্রের অধিকারী
  •    জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন
  •     দৃঢ়চিত্ত ও সাহসী
  •     অসাধারণ সততা ও যোগ্যতার অধিকারী
  •     চিন্তাশীল ও উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী
  •    নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও সুমধুর ব্যবহারের অধিকারী
  •     পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সঙ্কট ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী
  •     ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক
  •    অধ্যবসায়ী, সাধক ও পরিশ্রমী
  •     সহনশীল, উদার ও পরিপক্ব
  •     নির্লোভ ও নির্মোহ
  •     সংগঠন পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা বিধানে পারদর্শী
  •     আস্থাভাজন ও অসহায়ের আশ্রয়দানকারী
  •     উদ্যোগী ও সক্রিয়
  •     আকর্ষণীয় ও শৈল্পিক মনোবৃত্তির অধিকারী

নেতৃত্বের অভ্যাসগত বৈশিষ্ট্য :
১. সময় কিভাবে ব্যয় হচ্ছে।
২. ফলাফলের ওপর গুরুত্ব প্রদান।
৩. দুর্বলতা দূর করার দিকে নজর দিতে হবে।
৪. কতিপয় প্রধান ব্যাপারে পরিশ্রম ও সাধনা কেন্দ্রীভূত করা উচিত যা ভাল ফল দেবে।
৫. আল্লার ওপর নির্ভরশীলতা

নেতৃত্ব ও অর্পিত দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে :
ইসলাম একজন নেতাকে যে অধিকার ও কর্তৃত্ব দান করে তা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহ মহান অহির বাণীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব ও অধিকার অর্পণূ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“এরা সেই লোক, যাদের দুনিয়ায় নেতৃত্ব ও ক্ষমতা দান করলে তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত চালু করবে, নেকির হুকুম দেবে এবং মন্দের নিষেধ করবে। সব ব্যাপারে চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর হাতে।” (সূরা হজ : ২২:৪১)
সুতরাং বোঝা যাচ্ছে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব বা অর্পিত দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, কারণ আল্লাহ যাকে নেতৃত্ব প্রদান করবেন তার কোন না কোন গুণের বা বৈশিষ্ট্যের কারণে তাকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

শূরা পদ্ধতি ইসলামী নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো :
মজলিসে শূরা ইসলামী নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। আল্লাহ তাআলা নেতাকে নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছেন। নেতার নির্দেশ পালন করা তার অনুসারীদের জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। কিন্তু সেই সাথে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নেতাকে দেয়া হয়নি বরং পরামর্শ গ্রহণ করাকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন, “যারা নিজেদের খোদার হুকুম মানে, নামাজ কায়েম করে, নিজেদের যাবতীয় ব্যাপার পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন্ করে, আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে খরচ করে।” (সূরা আশ শূয়ারা : ৩৮)

ইসলামের নেতৃত্ব হবে জনপ্রতিনিধিমূলক
জনগণের সমর্থন বা রায় নিয়ে নেতা নির্বাচিত হবেন। অথবা তার নেতা হওয়ার পেছনে জনগণের অনুমোদন থাকবে। আম্বিয়া কেরামকে আল্লাহ তায়ালা সরাসরি নেতার মর্যাদা দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। কিন্তু নবুওতের দরজা বন্ধ হওয়ার পর নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব মুসলিম উম্মাহ বা জনগণের ওপর। স্বঘোষিত নেতা হওয়ার সুযোগ ইসলামে নেই। নেতৃত্বেও লোভ করা বা দাবি করাটা ইসলামের দৃষ্টিতে নেতা হওয়ার একটা বড় অযোগ্যতা। যে, কোন পদ চায় বা তার জন্য আকাক্সক্ষা করে নবী (সা) তাকে সে পদে নিয়োগ করতেন না। (বুখারী)
সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা না করার পরিণাম :
যেহেতু পৃথিবীর বুক হতে সকল অশান্তি ও বিপর্যয় নির্মূল করে পাপ ও অন্যায়ের মূলোৎপাটন করতে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সেহেতু সেখানে আল্লাহর দ্বীন মেনে চলতে হবে। আর যদি পৃথিবীতে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা না হয় তা হলে এই পৃথিবীতে জুলুম, নিপীড়ন, পাপ, অন্যায়, অবিচার থেকেই যাবে। সৎ মানুষ হবে বঞ্চিত আর অসৎ মানুষ হবে সমাজ ও দেশের পরিচালক। তারা নিজেদের মনগড়া মতবাদ দিয়ে মানুষকে সৎ পথ থেকে খারাপ পথে নিয়ে যাবে। অসৎ নেতৃত্বের ফলে পৃথিবী অশান্ত হয়ে উঠবে। সৎ নেতৃত্ব না থাকায় মানুষ আল্লাহকে যেমন ভুলবে তেমনি তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। মানুষে মানুষে বাড়বে হিংসা বিদ্বেষ।

ইসলামী নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি :

  •    আল্লাহ্ ও রাসূল (সা) এর প্রতি আনুগত্য।
  •    খোদাভীতি।
  •    আদর্শের সঠিক জ্ঞানের পরিসর।
  •     সাংগঠনিক প্রজ্ঞা। শৃঙ্খলা বিধানের যোগ্যতা।
  •     মানসিক ভারসাম্য।
  •     উদ্ভাবনী ও বিশ্লেষণী শক্তি।
  •     কর্মের দৃঢ়তা।
  •    অনড় মনোবল।
  •    আমানতদারিতা এবং
  •     পদের প্রতি লোভহীনতা।

ইসলামে নেতৃত্বের মডেল ও মর্যাদা  
যুগে যুগে আম্বিয়া কেরামের যে দলটি দুনিয়ায় এসেছেন এবং মানবজাতিকে হেদায়াত ও মুক্তির পথ প্রদর্শন করেছেন তারাই হচ্ছেন মানবজাতির সামনে নেতৃত্বের নমুনা। মানবজাতির সত্যিকারের কল্যাণের পথ তারাই নির্মাণ করে গেছেন। শেষ নবী খাতামুন নাবিয়্যিন হজরত মুহাম্মদ (সা) হচ্ছেন মানবজাতির সামনে সর্বশেষ মডেল। মহাবিপ্লবের মহানায়ক হিসেবে নেতৃত্বের এক অসাধারণ নজির তিনি স্থাপন করে গেছেন। বিশ্ব ইতিহাসকে তিনি যতটা প্রভাবিত করে গেছেন আর কারও পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। বিশ্ব সভ্যতায় তার যে অবদান অন্যদের তার সাথে তুলনাও চলে না।
ইসলামে নেতা হচ্ছেন খাদিম
‘সাইয়্যেদুল কওমে খাদমুহুম’ জাতির নেতাগণ হচ্ছেন তাদের খাদেম/সেবক জনগণের ওপর কর্তৃত্ব করার জন্য নয় বরং জনগণ ও সমাজের সেবা করে তাদের সুখে দুঃখে পাশে থেকে তাদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা পালন করে। তাদের আস্থা অর্জন করেই একজন নেতা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। যারা জনগণের দ্বারে গিয়ে তাদের হৃদয় জয় করতে পারবেন জনগণ তাদেরকেই হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করবে এবং তাদের ডাকে চূড়ান্ত ত্যাগ ও কোরবানি স্বীকারে প্রস্তুত থাকবে।

নেতা ও অনুসরণযোগ্য আদর্শ হিসেবে রাসূল (সা) :
“হে নবী তুমি বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমার অনুসরণ কর তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন …। আরো বল তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও (জেনে) রেখ) আল্লাহ কাফেরদের পছন্দ করেন না। (সূরা ইমরান : ৩১, ৩২) “তোমাদের জন্য আল্লাহ্র রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। আল্লাহ্ ও শেষ দিন সম্পর্কে আশাবাদী এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই এই আদর্শ। (সূরা আহ্যাব : ২১)
এই থেকে স্পষ্ট আল্লাহ নিজেই রাসূলকে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেন এবং তার আনুগত্যের নির্দেশ দেন। তার জীবনকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন রাসূলের আনুগত্য না করলে কোনো কল্যাণ সাধিত হবে না।

ইসলামী নেতৃত্বের জবাবদিহিতা :
Mohammad (Sm) says “Every one of you is a shepherd and every one of you is responsible for what he is shepherd of” (Sahih Al Bukhari)
তোমাদের প্রত্যেকেই তত্ত্বাবধায়ক এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার তত্ত্বাবধান- (দায়িত্ব) সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। নেতা একজন তত্ত্বাধায়ক এবং এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারী, মুসলিম) আর যে লোক নিজের খোদার সম্মুখে দাঁড়ানোর ভয় করেছিল এবং প্রবৃত্তিকে খারাপ কামনা-বাসনা হতে বিরত রেখেছিল। জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।  (সূরা নাজিয়াত ৪০-৪১)

নেতৃত্ব থেকে মুসলমানদের বিচ্যুতির কারণ :

  •    মুসলমানরা কুরআন হতে দূরে সরে আসা।
  •    আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে অবদান না রাখা।
  • বিলাসপ্রিয় হওয়া।
  •    অন্যের সভ্যতা গ্রহণ করা।
  •     জ্ঞান চর্চা না করা।
  •     ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা না হওয়া।
  •     ইসলাম থেকে রাজনীতি আলাদা করা।
  •     ইসলামের ইতিহাস না পড়া।
  •     আল্লাহ্র ওপর ভরসা না থাকা।

নেতার ১০টি দোষ :

  •    আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কথা না ভেবে লোক দেখানো কাজ করা।
  •     অলস, কর্মবিমুখ ও দায়িত্বহীন মনোভাব।
  •    আত্মকে নিয়ন্ত্রণ ও আত্মদাম্ভিকতা।
  •    কর্মীদের প্রতি কঠোর মনোভাব।
  •    কুরআন-হাদিসের জ্ঞানের অভাব।
  •    কর্মীদের মধ্যে শ্রেণীবিভাগ।
  •     দায়িত্বকে ক্ষমতা মনে করা।
  •     কর্মীদের সঠিকভাবে পরিচালনা না করা।
  •     কথা ও কাজের মধ্যে মিল না থাকা।
  •     নিজের দোষ সহজে স্বীকার না করা।

ইসলামী নেতৃত্বের কালজয়ী দৃষ্টান্ত
খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে নেতৃত্ব  : “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আল্লাহ্ পৃথিবীতে তাদের খলিফা বানাবেন যেমন তাদের পূর্ববর্তীদের বানিয়েছেন, যে দ্বীনকে তাদের জন্য মনোনীত করেছেন তাকে দৃঢ়তা দান করেছেন এবং তাদের ভীতিকে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করবেন।” (সুরা আন নূর : ৫৫)
ইসলামের ইতিহাসে খোলাফায়ে রাশেদার যুগকে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই নেতৃত্ব দিয়েছেন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা), হজরত ওমর ফারুক (রা), হজরত উসমান (রা) এবং হজরত আলী মুর্তজা (রা)। ইসলামের ইতিহাসে নেতৃত্বের এই স্বর্ণযুগ আজ স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। এ চারজন খলিফা বিশ্বাসের জগতে যেমন ছিলেন দৃঢ় ঈমানের অধিকারী, তেমনি বাস্তব জীবনে ছিলেন আপাদমস্তক পরিচ্ছন্ন আমলের তথা সততার মূর্ত প্রতীক।
হযরত ওমর বিন আবদুল আজিজ (রা) : চার খলিফা দায়িত্ব পালন করার পর আরব দেশে খিলাফত উঠে গেয়ে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সেই রাজতন্ত্রে কুঠার আঘাত করেন হজরত ওমর বিন আবদুল আজিজ (র)। তিনি রাজ পরিবার কর্তৃক মনোনীত হলেও জনগণকে তাদের খলিফা নির্বাচন করার স্বাধীনতা দেন। তাঁর মধ্যে যথেষ্ট গুণাবলি থাকার কারণে জনগণ তাকেই খলিফা নির্বাচিত করেন।
আয়াতুল্লাহ আল খোমেনি : বর্তমানে একমাত্র ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ইসলামী বিপ্লব সাধন করেন মহান নেতা আয়াতুল্লাহ আল খোমেনি। যে সব গুণাবলির কারণে তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে ইসলামী বিপ্লব সাধনে সক্ষম হন
ইমাম ইবনে তাইমিয়া : ৬৬১ হিজরি ১০ রবিউল আউয়ালে হিরান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাতাতীদের আক্রমণে বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে তিনি জন্ম নেন। তৎকালীন সময়ে তিনি ছিলেন মশাল স্বরূপ। তিনি ৭২৮ হিজরির ২২ জিলক্বদ ৬৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ) : তিনি ১১১৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শাহ আবদুর রহিম (র)। ১১৪৩ হিজরিতে তিনি পড়াশোনা করতে মক্কা যান। ১১৭৬ হিজরিতে এ মহান মনীষী মৃত্যুবরণ করেন।
সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ) : মাওলানা মওদূদী ১৩২১ হিজরি ৩ রজব (১৯০৩ ইং) সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সাইয়্যেদ আহমেদ হাসান মওদূদী (রহ)। আবুল আ’লা সারা বিশ্বে ইসলামী আন্দোলনকে স্ব স্ব স্থান থেকে একশ বছর এগিয়ে নেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা এ মহান ব্যক্তিত্ব ১৯৭৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন।
সতরাং আমরা বলতে পারি ইতিহাসের সব যুগেই এক শ্রেণীর লোকের সন্ধান পাওয়া যায় যারা দেশ, সমাজ জাতিকে পরিচালনা করে। সমাজের দায়িত্ব পালন করেন। আজ সমাজ পরির্বতনে প্রয়োজন সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব। এ নেতৃত্বের মডেল মুহাম্মদ (সা)। আল্লাহ তায়ালা মানুষের মধ্যে যাদের প্রাধান্য দিয়েছেন বা বিশেষ মর্যাদা ও দায়িত্ব দিয়ে থাকেন তারা অন্যদের নিকট থেকে কাজ আদায় করে অন্যদের পরিচালনা করে থাকেন।
লেখক : কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply