সুন্দর স্বপ্ন, দীপ্ত শপথ আর সুদৃঢ় আকাঙ্ক্ষায় সাফল্যের হাতছানি -মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত

সাফল্য ব্যক্তিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। জীবন কতটা সুন্দর তা নির্ভর করে অর্জিত সাফল্যের ওপর। প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনেই সাফল্যের আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ছাত্রজীবনে ভালো রেজাল্ট করে কৃতিত্ব অর্জনের মধ্যে রয়েছে ছাত্রের সফলতা। তেমনিভাবে ব্যবসায়িক জীবনে ব্যবসায় সফল হওয়ার মধ্যেই রয়েছে ব্যবসায়ীর সফলতা- এভাবে চাকরি জীবন, রাজনৈতিক জীবন, সামাজিক জীবন, খেলোয়াড়ি জীবন থেকে শুরু করে উঁচু-নিচু প্রত্যেক স্তরের কর্মতৎপরতায় সাফল্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ব্যক্তির জীবনে ভূমিকা রাখে। এই যে সাফল্যের এত গুরুত্ব সেই সাফল্য হঠাৎ করে অর্জনের কোনো বিষয় নয়। সুন্দর সাফল্য অর্জনের জন্য একটি সুন্দর স্বপ্নও থাকা চাই। যেই সুন্দর স্বপ্নকে আবর্তন করে মানুষ কর্মতৎপর হয়ে সাফল্যের মঞ্জিলে পৌঁছাতে পারে।
বলা হয়ে থাকে যিনি যত বেশি সুন্দর স্বপ্ন দেখেন, যত বেশি সেই স্বপ্নকে লালন করেন তিনি তত সুন্দর সাফল্য অর্জন করেন। যার স্বপ্ন নেই সাফল্যও তার জন্য অধরাই থেকে যায়। যিনি স্বপ্ন দেখতে জানেন না, স্বপ্নের পেছনে ছুটতে জানেন না, সাফল্যও তার পেছনে ছুটে না। আর যিনি সুন্দর স্বপ্ন দেখে সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটে বেড়ান, এক সময় স্বপ্নই তার পেছনে ছুটে তাকে সাফল্যের কাক্সিক্ষত মঞ্জিলে পৌঁছে দেয়। এ জন্য সাফল্যের স্বপ্নচূড়ায় আরোহণের জন্য একটি সুন্দর স্বপ্ন লালন করা চাই। বিশ্বমানবতার অগ্রদূত জনাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা) কাফিরদের অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে নিজ জন্মভূমি মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে আল্লাহরই নির্দেশে মদিনায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু নিজ জন্মভূমিতে ফেরার একটা স্বপ্ন রাসূল (সা) লালন করতেন। রাসূল (সা) কাবা জিয়ারত করার বাসনা করতেন। একদিন রাসূল (সা) তমসাচ্ছন্ন অবস্থায় স্বপ্ন দেখলেন তিনি মক্কায় কাবাঘর জিয়ারত করছেন। ঘোরের মধ্যে দেখা স্বপ্নকে তিনি বাস্তবে রূপ দিতে চাইলেন। মক্কায় গিয়ে কাবাঘর জিয়ারতের স্বপ্ন লালন শুরু করলেন। ১৪০০ জন সাহাবী নিয়ে মক্কায় জিয়ারতের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। হুদাইবিয়া নামক স্থানে মক্কায় কোরাইশ কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হন। সঙ্কট সমাধানের জন্য হজরত ওসমান (রা)-কে পাঠালেন কোরাইশদের কাছে। কিন্তু সেখানে ওসমান (রা)-এর হত্যার রব ওঠে। সবাই ওসমান (রা)-এর হত্যার বদলা নেয়ার শপথ নেন। খবর পেয়ে কোরাইশরা হুদাইবিয়ায় সন্ধি স্থাপনে বাধ্য হয়। সন্ধির আলোকে রাসূল (সা) সে বছর ফিরে আসেন এবং পরবর্তী বছর হজ করেন। পরবর্তীতে দশম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে রাসূল (সা) তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন।
স্বপ্ন একটি পরীক্ষিত সত্য এবং বড় আশা জাগানিয়া শব্দ। স্বপ্ন শব্দটা খুব ছোট হলেও এর পরিধি যে কত বড় এবং কত ব্যাপক তা স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়া স্বপ্নবান ব্যক্তিদের উপলব্ধি না করলে বোঝা সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবে আমাদের সারাদিনের কাজকর্মের ব্যতিব্যস্ততার যে দৃশ্যপট, সেগুলো ব্রেনে লোড হিসেবে জমা হতে থাকে। এই লোডগুলোকে অফ লোড করার একটি জৈবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে স্বপ্ন, যা আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখতে পাই। কিন্তু বাস্তবিক স্বপ্ন কি সে সম্পর্কে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও খ্যাতিমান পরমাণু বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম বলেছিলেন ‘স্বপ্ন তা নয় যা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন হচ্ছে তা-ই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’ অর্থাৎ শয়নে, স্বপনে, জাগরণে যে লক্ষ্যের অনুরণন আপনাকে আমাকে কর্মব্যস্ত করে রাখে তা-ই হলো স্বপ্ন। এই স্বপ্ন দেখে যারা পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন, তারা তাদের স্বপ্নটাকে বিশাল করেছেন, সুন্দর করেছেন তাদের পরিশ্রমের মাধ্যমে, রক্তকে ঘামে পরিণত করার মাধ্যমে। আর এর ফলেই তাদের সুন্দর স্বপ্নগুলো অঙ্কুরিত হয়েছে সাফল্যের বীজে।
‘মানুষ বড় হয় তার স্বপ্নের সমান’। ‘সফল মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার আগে অধিকাংশ বিষয়ই তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সময় তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যায় লক্ষ্য অর্জনের পথে।’ সত্যিকারার্থে সাফল্য অর্জন করতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে, বড় স্বপ্ন, সুন্দর স্বপ্ন। আপনি কতটুকু ছোট তার হিসাব না করে আপনি কত বড়, কত সুন্দর স্বপ্ন দেখতে পারেন তার হিসাব করুন। বিশ্বের সব বিখ্যাত মানুষ সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায়নি। এসব সফল মানুষের অনেকেরই জন্ম হয়েছে দরিদ্র পরিবারে। লড়তে হয়েছে অভাবের সঙ্গে, নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে। এদের অনেকেই কাজ করেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কাঠুরিয়া, মুচি কিংবা মুদি দোকানদার হিসেবে। দিনযাপন করেছেন ফুটপাথে। কিন্তু শুরুটা যে কর্মেই হোক না কেন, তাদের ছিল লক্ষ্য আর দু’চোখে ছিল বড় হওয়ার সুন্দর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও স্বপ্নের পথে অবিচল থাকার কারণেই তাদের সাফল্যের উচ্চশিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
এক কাঠুরিয়ার ছেলে স্বপ্ন দেখেছিল সে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবে। কিন্তু লোকজন তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেও কাঠুরিয়ার ছেলের সেই স্বপ্ন সত্যিই পূরণ হয়েছিল। তিনি আর কেউ নন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আবরাহাম লিংকন। স্বপ্ন লালন করে এগিয়ে যাওয়ার ফলেই তিনি সাফল্য পেয়েছিলেন। কাঠুরিয়ার ছেলে হয়েও দমে যাননি তিনি। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ ব্যক্তি জর্জ বার্নার্ড শ মাত্র ৫ বছর স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। দরিদ্রতার কারণে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাকে কেরানির কাজ করে অর্থ জোগাড় করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখতেন যে তিনি একদিন বড় লেখক হবেন। তাই তিনি কাজের ফাঁকে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে ১০ পৃষ্ঠা পড়তেন। কোনো কারণে পড়তে না পারলে পরের দিনের সাথে মিলিয়ে মোট ২০ পৃষ্ঠা পড়তেন। একদিন তার স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল। আর তিনি সেই সাহিত্যেই পেয়েছিলেন নোবেল পুরস্কার।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা তীব্র দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। ম্যান্ডেলার বাবা যখন মারা যান, তখন তিনি ছিলেন নয় বছরের শিশু। এরপর মা ম্যান্ডেলাকে নিয়ে কুনু গ্রামে চলে আসেন। ক্ষুদ্র একটি কুটিরে বসবাস করতেন। কোনোরকমে শাকসবজি খেয়ে জীবনধারণ করতেন। তখন কে ভেবেছিল, এই ছোট্ট ছেলেটিই একদিন বিশ্বব্যাপী কিংবদন্তি হয়ে উঠবে। নেলসন ম্যান্ডেলা ২৯ বছর কারাবন্দী ছিলেন। এমন প্রকোষ্ঠে তাকে রাখা হলো যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছাতো না। মুক্তির পর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি সেখানে কী করেছেন? তিনি উত্তর দিয়েছেন, ‘স্বপ্ন দেখেছি’। মুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন দেখেছি। সত্যিই তিনি তার স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ) ছিলেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ইমাম আবু হানিফার দাদা ছিলেন একজন ইরানি ক্রীতদাস। তার পিতা একজন সামান্য কাপড়ের ব্যবসায়ী থেকে একজন সওদাগরে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। তিনি তার পুত্র আবু হানিফার মেধাকে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাই তাকে ব্যবসায়ে না লাগিয়ে উচ্চশিক্ষা দানে মনোযোগী হন। কারণ তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন আবু হানিফা বড় জ্ঞানী হবে, মুসলিম উম্মাহর জন্য অবিসংবাদিত ব্যক্তি হবে। সেই থেকেই আবু হানিফার পথচলা। মাত্র অল্প বয়সেই ইমাম আবু হানিফা কুরআনে হাফেজ হন। আরবি ভাষাসাহিত্যে অর্জন করেন অসামান্য দখল। তিনি জ্ঞানের তুলনায় ধনসম্পদ বা পদবিকে কোনোই গুরুত্ব দিতেন না। তাই তার সুনাম শুনে কুফা নগরীর স্বেচ্ছাচারী গভর্নর ইবনে হুরায়রা তাকে কুফার কাজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণের অনুরোধ করেন। কিন্তু জ্ঞানের পাগল আবু হানিফা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। ইমাম আবু হানিফা মুসলিম জুরিসপ্রুডেন্স বা ফিকাহশাস্ত্র তৈরি করেন। মশহুর জার্মান পন্ডিত ভনক্রেমার বলেছেন, এটি ইসলামের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও বুদ্ধির ধারণাতীত ফল।
বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত মানবতার মহান শিক্ষক জনাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জন্মের ৬ মাস আগেই পিতা আবদুল্লাহকে হারিয়েছেন। ছয় বছর পর হারিয়েছেন মা আমেনাকে। লালিত পালিত হয়েছেন দুধমাতা হজরত হালিমা সাদিয়া (রা)-এর কোলে। ৮ বছর পর হারিয়েছেন দাদা আবদুল মোত্তালিবকে। ইসলামের দাওয়াত প্রচারের কারণে তায়েফে কাফেরদের পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন। হত্যার জন্য কোরাইশরা বহুবার চেষ্টা করেছে। নিজ জন্মভূমি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে তাঁকে। মদিনায় আক্রমণের শিকার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ওহুদের ময়দানে তাঁর দান্দান মোবারক শহীদ হয়েছে। এত কিছুর পরও রাসূল (সা) সফল ব্যক্তি। তিনি দ্বীনের পূর্ণতা তথা বিজয়ের স্বপ্ন থেকে একচুল পরিমাণ পিছপা হননি। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তিনি গোটা দুনিয়ায় ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। তাইতো মহাগ্রন্থ আল কুরআনে রাসূল (সা)-এর জীবনাদর্শকেই অনুকরণীয় সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ বলা হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।’ (সূরা আহজাব : আয়াত-২১)
সুন্দর স্বপ্ন লালন করে সাফল্যের পেছনে ছুটে চলার ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রয়োজন হলো দীপ্তশপথ আর সুদৃঢ় আকাক্সক্ষা। দীপ্তশপথ হচ্ছে কাজের সফলতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া আর সুদৃঢ় আকাক্সক্ষা হচ্ছে শপথের চালিকাশক্তি। যে আকাক্সক্ষার ওপর ভর করে দীপ্তশপথে বলীয়ান হয়ে সাফল্যের পেছনে পূর্ণোদ্যমে ছুটে চলা যায়। সুদৃঢ় আকাক্সক্ষাকে প্রতিশ্রুতি বা শপথ রক্ষার ইচ্ছাও বলা চলে। শপথহীন কাজে খাদ থেকে যায়। এর ভবিষ্যৎ হয় অনিশ্চিত। অনেকে মনে করেন শপথবদ্ধ হওয়া মানে নিজেকে অঙ্গীকারের জালে জড়িয়ে ফেলা, নিজের স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেয়া, নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলা। আসলে বাস্তবিক হচ্ছে এটা তারাই ভাবেন যারা সাফল্য অর্জনে সুদৃঢ় আকাক্সক্ষা পোষণ করেন না এবং দীপ্তশপথেও বলীয়ান হোন না। যদি দীপ্তশপথে বলীয়ান হয়ে সুদৃঢ় আকাক্সক্ষা লালন করে কাজ শুরু করা যায় তাহলে সাফল্য ছিনিয়ে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা সুদৃঢ়প্রত্যয়ী তারাই সফলকাম।’
আমাদের সাফল্য দীপ্তশপথ আর সুদৃঢ় আকাক্সক্ষা পোষণের সাথে গভীরভাবে জড়িত। দীপ্তশপথ আর সুদৃঢ় আকাক্সক্ষা অঙ্গীকারবদ্ধতা কাজের ক্ষেত্রে শক্তি জোগায়। যখন কোন ব্যক্তি সুদৃঢ় আকাক্সক্ষা নিয়ে দীপ্তশপথে বলীয়ান হয় তার মনে এ ধারণাই জন্মে, যাই ঘটুক না কেন, যে যাই বলুক না কেন, সাফল্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত থেমে থাকার নয়। যিনি দীপ্তশপথ নিয়ে সাফল্য অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে পারেন সাফল্য তার পদ চুম্বন করবেই। যিনি শপথবদ্ধ হন তিনি অনেক কিছুই ত্যাগের জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। তার ত্যাগের এই মানসিকতাই তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। সুদৃঢ় আকাক্সক্ষা লালন করা ব্যক্তি কাজের ক্ষেত্রে যখন সমস্যা আসে তার সূচনাতেই পালিয়ে যায় না, হতাশ হয় না বরং দৃঢ় আকাক্সক্ষা তাকে সকল প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়েও বিজয়ী করে।
লেখক : এমফিল গবেষক

SHARE

Leave a Reply