স্বপ্নপূরণের হাতছানি -শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক

গত ৬ মে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। যারা এ প্লাস পেয়েছো এবং কৃতকার্য হয়েছো তাদের জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। যারা প্রত্যাশিত ফল করতে না পেরে বিষণœ মনে দিনাতিপাত করছো তাদের জন্য গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি রইলো। দোয়া করি এই সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারো। ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এবার পাসের হার কমেছে, পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে এ প্লাস উক্ত ফলাফল বিশেষণ করলে দেখা যায় এ বছর পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গতবারের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে। গতবার পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে এবার গতবারের চেয়ে জিপিএ-৫ বেড়েছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী। গতবার পেয়েছিল ১ লাখ চার হাজার ৭৬১ জন।
১০ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন।
এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন শুধু এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪০। গতবারের চেয়ে পাসের হার কিছুটা কম। গতবার এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে এসএসসিতে জিপিএ ৫ গতবারের চেয়ে বেড়েছে। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ২ হাজার ৮৪৫ জন। যা গতবারের চেয়ে চার হাজার ৮৮১ জন বেশি।
অন্যদিকে এবার পাসের হার মাদ্রাসায় ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং কারিগরিতে ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
২০১৮ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মূলত গত দুই বছর থেকে দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিম্নগামী হতে শুরু করে। তবে গত ৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে এবারের দাখিল পরীক্ষায়। এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭০.৮৯ শতাংশ, যা গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৭ সালে এই বোর্ড থেকে ৭৬ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এবার মাদ্রাসা বোর্ডে দুই লাখ ৮৬ হাজার ২০৬ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এবার বোর্ডে ৩ হাজার ৩৭১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে মাদ্রাসা বোর্র্র্র্র্ডের এই ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করা দরকার। এই বিপর্যয় কি মাদ্রাসা শিক্ষার মানের অবনতি নাকি এর পিছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে তা খুঁজে বের করা দরকার। বিশেষ করে ২০১৭ সাল থেকে দাখিল ও আলিমে ২০০ মার্কের বাংলা ইংরেজি চালু হওয়ার পর ঢাবিসহ বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান বৈষম্যমূলক শর্তসমূহ অকার্যকর হয়ে পড়ার পর এই ধরনের ধারাবাহিক ফলাফল বিপর্যয় মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরুদ্ধে নতুন কোন ষড়যন্ত্র কিনা তা খোঁজে দেখা দরকার বলে সচেতন মহল দাবি করছে।
প্রিয় বন্ধুরা তোমরা যারা জিপিএ-৫ পেয়েছো কিংবা মোটামুটি ভালো ফলাফল করেছ তারা নিশ্চয়ই এখন অনেক বেশি আনন্দঘন সময় অতিবাহিত করছ। পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে সংবর্ধিত হচ্ছো। দীর্ঘ ১০ বছরের অনেক সংগ্রাম ও সাধনার পর জীবনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই এসএসসি, দাখিল বা কারিগরি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আনন্দ উদযাপন করবে এবং করাই উচিত। তবে স্মরণ রাখবে এটি কিন্তু সফলতার সোপানের প্রথম সিঁড়ি মাত্র। সফলতার মঞ্জিলে পৌঁছার জন্য তোমাদেরকে আরো অনেকগুলো সিঁড়ি পাড়ি দিতে হবে যা অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিংও বটে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই টার্নিং পয়েন্টে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনের বিষয়ে ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বিষয় তোমাদের সাথে শেয়ার করা প্রয়োজন বলে অনুভব করছি।
Career এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে জীবনের পথে অগ্রগতি, জীবনায়ন, বিকাশক্রম, জীবিকা অর্জনের উপায় বা বৃত্তি। Cambridge International Dictionary of English এ ক্যারিয়ারের যে সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে সে অনুযায়ী ক্যারিয়ার হলো ‘শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে অর্জিত এমন কর্ম যেখানে সমগ্র কর্মজীবনে গুণগত ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত উত্তরোত্তর সমৃৃদ্ধি আসে, দায়িত্বের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায় এবং জীবন যাপনে পর্যাপ্ত অর্থের নিশ্চয়তা থাকে। জীবনের ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার নাম ক্যারিয়ার। সহজ ভাষায় ক্যারিয়ার হলো জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম।

ভালো ক্যারিয়ার কেন প্রয়োজন
-মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধনের জন্য। (To explore the potentiality given to you by the Creator)
-আল্লাহর খলিফা তথা প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য। (To accomplish the responsibility of khalifaor representative of the Almighty)
-সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে সমাজে বসবাস করার জন্য।
-সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার জন্য।
-আন্দোলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া এবং মুসলিম উম্মাহর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখার জন্য (To serve the movement and lead the Ummah to regain the glorious history )
-মানবতার সেবা করার জন্য। (To serve the humanity)

ক্যারিয়ারের বিভিন্ন প্রকারভেদ (Types of Career)
বিজ্ঞান : বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ফার্মাসিস্ট, ক্যামিস্ট/বায়োক্যামিস্ট, পরিসংখ্যানবিদ, কৃষিবিদ ইত্যাদি।
বাণিজ্য : ব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষক, শিক্ষক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইত্যাদি।
কলা : আইনবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, আলেম, জজ, অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, সমাজসেবা কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা ইত্যাদি।
সকল গ্রুপ : শিক্ষক, পুলিশ, প্রতিরক্ষা বাহিনী, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিদেশী চাকরি, মিডিয়া, ব্যবসা, ব্যাংকার, মানবাধিকারকর্মী ও কর্মকর্তা, এনজিওকর্মী ও কর্মকর্তা ইত্যাদি।

প্রত্যাশিত ক্যারিয়ার উপার্জনের ধাপসমূহ
১.লক্ষ্য নির্ধারণ : ক্যারিয়ার তৈরির জন্য প্রথমত জীবনের পেশাগত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য অবশ্যই বড় হওয়া উচিত। বলা হয়, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হয়। বিশ্ববিজয়ী স¤্রাট নেপোলিয়ান বলেছিলেন, পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষ বড় হতে পারে না কারণ তারা বড় স্বপ্ন দেখতে পারে না। আব্রাহম লিংকন কাঠুরিয়ার ঘরে জন্ম নিলেও তিনি স্বপ্ন দেখতেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন। তার এই স্বপ্ন শুনে কেউ কেউ হাসি-তামাশা করতো। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী তিনি শুধু আমেরিকার প্রেসিডেন্টই হননি বরং তিনি হয়েছিলেন বিখ্যাত প্রেসিডেন্টদের মধ্যে অন্যতম। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা: ছিলেন স্বপ্নচারী মানুষ। তিনি জন্মের ছয় মাস আগে বাবাকে হারান, জন্মের ছয় বছর পর মাকে হারান, আট বছর বয়সে পিতা-মাতার অবর্তমানে তাকে পরম মমতায় লালনপালনকারী দাদা আবদুল মোতালেবও পরলোকগমন করেন। এমন নিঃস্ব অবস্থায়ও তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সোনালি সমাজ বিনির্মাণের যেখানে মানবতা সকল ধরনের শোষণ, বঞ্চনা ও মানুষের গোলামি থেকে মুক্তি পাবে। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি তা উপহার দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আমাদেরও উচিত পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার দিকে না তাকিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা। একদিন বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার, সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী হবো এমন স্বপ্ন। এমন ইতিহাস গড়বো যেন মানুষ আমাদের ইতিহাস পড়বে।
২.ক্যারিয়ার পরিকল্পনা : ভালো ক্যারিয়ার গঠনে পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবনের শুরুতে যদি ক্যারিয়ারের সঠিক লক্ষ্য ও কৌশল নির্ধারণ করা না যায় তাহলে পরে আর ফিরে আসা সম্ভব হয় না। তাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আলোকে নবম শ্রেণীতে বিষয় নির্ধারণের জন্য এই কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন করা উচিত।
ক্যারিয়ার প্লানিং পদ্ধতি (System of Career Planning) : যদিও কঠিন কাজ তবুও নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে ৮০-৯০% সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়:
শিক্ষার্থীর ইচ্ছা ও ঝোঁক প্রবণতা : ক্যারিয়ারের টার্গেট নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও ঝোঁক প্রবণতার প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে খুব কমই তা করা হয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকের চাওয়াকে চাপিয়ে দেয়া হয়। যা সন্তানদের সুপ্ত সম্ভাবনাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেয়। শিক্ষার্থীর ইচ্ছা ও পিতা-মাতার চাওয়া মিলিয়ে যদি সিদ্ধান্ত নেয়া যায় তাহলে ভালো হয়।
আত্মপ্রকৃতি যাচাই (SWOT Analysis):
S= Strength, W= Weakness, O= Opportunity, T= Threat.
একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা যাক। একজন ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে তাকে গণিতে ভালো হতে হবে। গণিত ভালো জানলে সেটা তার Strength. গণিত কম বুঝলে সেটা Weakness. Strength I Weakness হলো ব্যক্তির নিজস্ব বিষয় কিন্তু Opportunity/Threat হলো বাহ্যিক বিষয়। সরকারি মেডিক্যালে আসনসংখ্যা কম থাকায় কেউ কেউ দুর্ভাগ্যবশত চান্স নাও পেতে পারে। পরিবারের অর্থনৈতিক সামর্থ্যরে কারণে প্রাইভেট মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ হলে সেটা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণে Opportunity. আর প্রাইভেট মেডিক্যালে পড়ানোর সামর্থ্য যার পরিবারের নেই ঐ ছাত্রের জন্য পরিবারের এই অক্ষমতা হলো Threat বা ঝুঁকি। তাই আমরা কী হতে চাই তা নির্ধারণের আগে SWOT Analysis করে নেয়া উচিত।
# বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ (Consultaing with Expart Personalities) : ক্যারিয়ারের লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ এটি জীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ভুল করে ফেললে সারা জীবন এর জন্য আফসোস করতে হবে। বিশেষজ্ঞ বলতে এমন ধরনের ব্যক্তিকে বুঝাচ্ছি যিনি ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিকের সুবিধা-অসুবিধা, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় জানেন এবং ব্যক্তির সামগ্রিক দিক ও বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন। যিনি যে সেক্টরে যেতে চান তাকে অন্তত সে সেক্টরে অধ্যয়ন করছেন বা করেছেন এমন ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া আবশ্যক।
# ইস্তেখারা (Meditation): ক্যারিয়ার প্ল্যানিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে একজন মুসলমানের ধ্যান বা ইস্তেখারা করা উচিত। সাধারণত জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভালো খারাপ কোনো কিছুই যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জানা নেই অথবা ৩/৪টি বিকল্পের মধ্যে কল্যাণকর বিষয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইস্তেখারা করা হয়। ইস্তেখারার নিয়ম হলো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য আল্লাহর কাছে সহযোগিতা চেয়ে নফল বা তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে ওযু অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়া। ঘুম থেকে উঠে মন যেদিকে সায় দেয় সেদিকে সিদ্ধান্ত নেয়া। এতে আল্লাহর রহমতে গৃহীত সিদ্ধান্ত অধিকতর সঠিক হয়।
জীবনে বড় হতে হলে আমাদেরকে জানতে হবে-
– আমরা কোথায় যেতে চাই ?
– সেখানে কিভাবে যেতে হয়?
– কী কী যোগ্যতা অর্জন করতে হয়?
২০১৮ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকারী প্রিয় কৃতী শিক্ষার্থী বন্ধুরা! প্রত্যাশিত ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে তোমাদের সামনে প্রথমত বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া এবং এইচএসসি বা আলিমে ভালো ফল অর্জন করা। পড়ালেখা নিজের কাছে, যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভালো রেজাল্ট করা যায়। এ কথাটি যেমন ঠিক তেমনি এ কথাটিও ঠিক যে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শুধু ভালো ফল অর্জনেই নয় বরং জীবনের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে নিজের অবস্থান বুঝা যায় এবং আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকা অবস্থায় বিসিএস পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার পর যখন দেখতাম আমাদের রুমের বা পাশের রুমের কেউ ফরেন ক্যাডার, কেউ ম্যাজিস্ট্রেট, কেউবা পুলিশের এএসআই এ নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে: তখন নিজেদের মাঝে আত্মবিশ্বাস জন্ম নিতো। চেষ্টা করলে আমরাও পারবো বিসিএস ক্যাডার হতে। একইভাবে নটর ডেম কলেজ বা তা’মিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার মতো ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যখন দেখবে উচ্চশিক্ষায় সিনিয়রদের কেউ বুয়েটে, কেউ মেডিক্যালে, কেউ ঢাবিতে বা অন্য কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে কিংবা স্কলারশিপ নিয়ে মদিনা, আল আজহার বা ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছে তখন তোমারও প্রবল ইচ্ছা জাগবে তাদের মতো হতে। তা ছাড়া ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারলে তোমাদের কানেক্টিভিটি বা নেটওয়ার্ক তৈরি হবে যা অন্যদের চেয়ে তোমাদেরকে এগিয়ে রাখবে।
দ্বিতীয়ত হচ্ছে ইন্টারমিডিয়েটে ভালো ফল করা। ইন্টারমিডিয়েট বা আলিম পর্যায়ে ভালো করা এসএসসি বা দাখিলের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তোমরা যারা ডাক্তার হতে চাও তাদের জানা উচিত সরকারি মেডিক্যালে আসন আছে ৩১২৮টি। মেডিক্যালে মোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। ২০০ নম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফল থেকে। এক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের ফলকে ১৫ দিয়ে আর এইচএসসি সমমানের ফলকে গুণ করা হবে ২৫ দিয়ে। অর্থাৎ তোমরা যারা এএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছ তারা মেডিক্যালে ভর্তির জন্য (৫ী১৫) ৭৫ পেয়ে গেছ অর এইচএসসিতে যদি জিপিএ-৫ পাও তাহলে পাবে (৫ী২৫) ১২৫। তাহলে বুঝতেই পারছো মেডিক্যালে ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রায় দ্বিগুণ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মেডিক্যালে নয়, বুয়েট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সকল ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রযোজ্য।
এ ছাড়া অনার্স পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হয় উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাস থেকে। তাই যে কোনভাবে ভালো ফল করলেই হবে না। সিলেবাসের ওপর ভালো দখল থাকতে হবে। নচেৎ দুইটা গোল্ডেন এ প্লাস থাকার পরও প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়াতো দূরের কথা পাসও করতে পারবে না। বিষয়টি শুনতে খারাপ লাগলেও তোমাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে ২০১৪ সালে ঢাবিতে গ (বাণিজ্য) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করেছে। প্রত্যেক বছর যে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ঢাবিতে পরীক্ষা দেয় তার মাত্র ১৫-১৭% পাস করে। যদিও পাস করা মানে ভর্তি হওয়া নয়।
যারা বুয়েটে ভর্তি হতে চাও তাদের জানা উচিত বুয়েটে আসনসংখ্যা মাত্র ১০৩০টি। বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার ফরম নিতে হলে অবশ্যয়ই SSC ও HSC সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৪ এর উপরে পেতে হবে। এর পাশাপাশি SSC ও HSC সমমানের পরীক্ষায় পদার্থ, রসায়ন ও গণিত বিষয়ের প্রত্যেকটিতে জিপিএ-৫ থাকতে হবে এবং বাংলা ও ইংরেজিতে জিপিএ-৪ এর উপরে থাকতে হবে। তবে এই সকল শর্তপূরণ হলেও যে তোমরা বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে তা কিন্তু নয়। ফরম কেনার পর কর্তৃপক্ষ বিশ্লেষণ করে যে সীমিত সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীকে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দিবে কেবল তারাই পরীক্ষা দিতে পারবে। এরপরে আসবে পাস করা এবং চান্স পাওয়ার প্রশ্ন।
যারা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাও তাদের জেনে রাখা দরকার বর্তমানে ঢাবিতে সকল ইউনিট মিলে সর্বমোট আসন সংখ্যা ৭১২৩টি। আর ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম হচ্ছে এখানে মোট ২০০ নম্বরে পরীক্ষার মধ্যে ৮০ নম্বর নেয়া হয় এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফল থেকে মেট্রিকের রেজাল্টকে ৬ দিয়ে গুণ হয় এবং ইন্টারের রেজাল্টকে ১০ দিয়ে গুণ হয়। আর অবশিষ্ট ১২০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। নৈর্ব্যক্তিক টাইপের প্রশ্ন হলেও এখানে অনুমানের ভিত্তিতে দাগানোর কোনো সুযোগ নেই কারণ প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য .২৫ করে কাটা হয়। আবার ঢাবিতে এখন দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
তবে এসব শর্ত ও প্রক্রিয়া জেনে ভয় পেয়ে যেও না। কারণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা ভর্তি হয় তারা তোমাদের মতোই মানুষ। ভিনগ্রহের কোনো এলিয়েন নয়। এমনকি মফস্বল থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরা এ সকল প্রতিষ্ঠানে বেশি ভর্তি হয়।
তাই নিজের স্বপ্ন পূরণে বুয়েট, মেডিক্যাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ যে কোন ভালো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য যে বিষয়ে এখন থেকেই বিশেষভাবে নজর দেয়া উচিত তা নম্নেরূপ :
১.এসএসসি বা দাখিলের ফল ও তোমার ভালো লাগা বা না লাগার ভিত্তিতে যদি মনে করো যে লক্ষ্য নিয়ে গ্রুপ (Science, Arts or Business) চয়েজ করেছিলে তা পূরণ হচ্ছে না তাহলে গ্রুপ পরিবর্তন করতে পারো। তবে সতর্কতা অবলম্বন ও ভালোভাবে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একান্ত বাধ্য না হলে পরিবর্তন না করা ভালো। কারণ ভর্তি পরীক্ষার সময় গ্রুপ পরিবর্তন করার সুযোগ পাবে। তখন করাটা যৌক্তিক হতে পারে।
২.যারা এখনো এইচএসসি বা আলিমের পড়াশোনা শুরু করোনি তাদের উচিত দ্রুত বই সংগ্রহ করে পড়াশুনা শুরু করা। ইন্টার পর্যায় দুই বছর হওয়ার কারণে First year is dam care মনে করে অনেকেই প্রথম বর্ষে পড়াশুনা করে না। কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষে এসে তারা চোখে সরিষা ফুল দেখে। তখন দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবে নাকি প্রথম বর্ষের পড়া শেষ করবে? আমার জীবন থেকে উদাহরণ দেই। সুদূর হাতিয়া থেকে এসে নোয়াখালী সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার পর দেখলাম আমি তখনও বই কিনে নাই অথচ আমাদের ক্লাসমেটদের মধ্যে শহরের সচেতন বন্ধুবান্ধবরা শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে প্রথম বর্ষের গণিত, রসায়ন ও পদার্থসহ অনেক বিষয় শেষ করে ফেলেছে। এখন আমার পক্ষে কি সম্ভব তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছানো? আমি তা পারিনি। আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হয়নি। যদিও ঢাবিতে চান্স পাওয়ার পর সেই না পাওয়ার বেদনা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। তাই আমি চাই তোমরা এখন থেকে সিরিয়াসলি পড়াশুনা শুরু করে তোমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করো।
৩.ভর্তি পরীক্ষার প্রায় ৭৫%-৮০% প্রশ্ন হয় ইন্টার বা আলিমের বই থেকে। এর পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষায় ব্যতিক্রম বিষয়গুলো বেশি আসে। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয় শিক্ষার্থীদের বাদ দেয়ার জন্য। কারণ ভর্তি ইচ্ছুকের চেয়ে আসন কম। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে ইন্টার বা আলিমে সাজেশন করে কিছু চ্যাপ্টার বা প্রশ্ন না পড়ে বরং প্রতিটি চ্যাপ্টার পড়া উচিত। অধিকন্তু শুধুমাত্র একজন লেখকের বই না পড়ে বিভিন্ন লেখকের বই পড়া উচিত। কারণ প্রশ্নকর্তা কোন লেখকের বই থেকে প্রশ্ন করবেন এবং কোন চ্যাপ্টার থেকে প্রশ্ন করবেন তা কেউ জানে না।

পাঠ্যপুস্তক সংক্রান্ত এই প্রস্তুতিগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয়ে নজর দেয়া উচিত।
১.বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো দরকার। ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য TOFEL বইয়ের English Grammar Ask IGRE বইতে প্রদত্ত ৫০০০ vocabulary শিখতে পারলে উপকার পাওয়া যাবে। এ ছাড়া নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করা দরকার।
২.সাধারণ জ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয়ে জানার জন্য কাজী বরকত আলী স্যারের লেখা ক্যারিয়ার এইড (সাধারণ জ্ঞান গাইড) এবং নিয়মিত কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, কারেন্ট ওয়ার্ল্ড ও দৈনিক পত্রিকা পড়া উচিত।
৩.ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম ও প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে জানার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি গাইড সংগ্রহ করে পূর্ববর্তী কয়েক বছরের প্রশ্নগুলো দেখা উচিত। তাহলে পড়ার সময় কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে তা সহজেই বুঝতে পারবে।
৪.বর্তমান দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কম্পিউটার ও IT-তে দক্ষতা অর্জন করা দরকার।
৫.ক্যারিয়ার, উচ্চশিক্ষা ও জীবনে সফলতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানার জন্য ক্যারিয়ার বিকশিত জীবনের ধার, রোড টু হায়ার স্টাডি, জীবন বদলে যাবে, মুসলিম যুবসমাজের ক্যারিয়ার গঠন ও দক্ষতা উন্নয়নসহ ক্যারিয়ার সংক্রান্ত বইগুলো বেশি বেশি পড়া দরকার।
৬.উৎসাহ ও প্রেরণা পাওয়ার জন্য মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী পড়া ও ইউটিউবে বিভিন্ন মটিভেশনাল বক্তাদের বক্তব্য শুনা যেতে পারে।

Stephen R. Covey তার বিখ্যাত Theeight habits of highly effective people বইতে সফল মানুষদের ৮টি গুণাবলির কথা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম ২টি হলো-
১.Be proactive-take the initiative. শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের খারাপ অবস্থার জন্য অন্যকে দোষারোপ না করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্যোগ নিতে হবে। পরিশ্রম ও সাধনা করতে হবে। কারণ হাদিসে এসেছে তাকদির নির্ধারিত তবে প্রচেষ্টা ও দোয়ার মাধ্যমে তা পরিবর্তিত হয়।
২.They focus on their goals- Begins with the ends inminds অর্থাৎ তারা সবসময় তাদের লক্ষ্যপানে অটল অবিচল ছুটতে থাকে। তারা বারবার লক্ষ্য পরিবর্তন করে না বরং লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজেকে বা নিজের চলার পথকে পরিবর্তন করে। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হয় কিন্তু তা হতে হলে পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও লেগে থাকার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রতিদিন নিজেদেরকে একটা চ্যালেঞ্জ দাও, লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন কিছু শিখবো। দিনশেষে দশ মিনিট সময় নিয়ে আত্মপর্যালোচনা করা উচিত, আমি কি আজ নতুন কিছু শিখেছি?

বুয়েটের একজন বিখ্যাত শিক্ষক মনির হোসেন স্যার বলেছিলেন, সফল হতে হলে জীবনে ৩টি জিনিসকে গুরুত্ব দিতে হবে।
Creative Thinking-সৃজনশীল চিন্তা করতে হবে। পৃথিবীতে খুব কম মানুষই নতুন কিছু তৈরি করতে পারে। অধিকাংশ মানুষ অন্যদের অনুকরণ করে চলে। তবে যে কয়জন মানুষ নতুন কিছু তৈরি করতে পেরেছে তারাই ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। শহীদ হাসানুল বান্না, মাওলানা মওদূদী, মার্টিন লুথার কিং, আলী বাবা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকমার জীবনী পড়লে দেখবো তারা সবাই অন্যের অনুকরণ না করে নিজেরা নতুন পথ সৃষ্টি করেছেন। এ জন্য তারা সর্বত্র স্মরণীয় ও বরণীয়।

Problem Solving: জীবনে চলার পথে পথে বাধা আসবে। তা মোকাবেলা করেই আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। মাথা নত করা যাবে না। বিশেষ করে তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যই হলো হার না মানা। বাধাকে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের প্রিয় নবী সা:-এর জীবনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই তিনি আরবের আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সমাজকে পরিবর্তন করে সাম্য ও ন্যায়ের যে সোনালি সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাকে তায়েফে রক্তাক্ত হতে হয়েছে, শিহাবে আবু তালেবে তিন বছর বন্দি থাকতে হয়েছে, প্রাণনাশের হুমকি মোকাবেলায় হিজরত করতে হয়েছে। মোকাবেলা করতে হয়েছে বদর, ওহুদ, খন্দকসহ অসংখ্য ঘাত-প্রতিঘাত। কিন্তু তিনি কিছুতেই দমে যাননি। সব কিছু মোকাবেলা করে কাক্সিক্ষত সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
৩. পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খেয়ে নেয়া (Adaptation with the change): পৃথিবী সততই পরিবর্তনশীল। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে There is only one constant thing in the world that is change. So keep yourself update জীবনে সফলতার জন্য ২টি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে There is no substitute to hard work. There is no shortcut way to success.

প্রিয় বন্ধুরা, পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই। আসলে মানুষের দুনিয়ার জীবনই একমাত্র জীবন নয়। তার আরেকটি জীবন রয়েছে। আর তা হচ্ছে পরকাল তথা আখেরাত। আর দুনিয়ার জীবনটা আখেরাতের জীবনের তুলনায় একেবারে নগণ্য। দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কার্মকাণ্ডের হিসাব আখেরাতে দিতে হবে। বিচার দিবসে যাদের নেকির পাল্লা ভারী হবে তারা জান্নাতে যাবে, এটাই চূড়ান্ত সফলতা। আর যাদের নেকির পাল্লা হালকা হবে তারা জাহান্নামি- এটাই চূড়ান্ত ব্যর্থতা। তাই আমাদেরকে সবসময় দুনিয়ার সফলতার পাশাপাশি আখেরাতের চূড়ান্ত সফলতার জন্য চেষ্টা চালাতে হবে। দুনিয়ার পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার পর যেভাবে তোমাদেরকে সবাই সংবর্ধনা দিচ্ছে একইভাবে আখেরাতে যারা জান্নাতে যাবে তাদেরকেও সংবর্ধনা দেয়া হবে। এই সংবর্ধনা দিবেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মহান রাব্বুল আলামিন কর্তৃক প্রদত্ত সেই সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করার জন্য আল্লাহ ও তার রাসূল (সা)-এর প্রত্যেকটি আদেশ নিষেধ মেনে চলতে হবে। আল্লাহর কাছে তোমাদের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা কামনা করে শেষ করছি।
আল্লাহ হাফেজ।

SHARE

Leave a Reply