স্বপ্নের বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি জনবহুল রাষ্ট্র। ভূ-রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব সীমান্তে ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মিয়ানমার ও দক্ষিণ উপকূলের দিকে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ভৌগোলিকভাবে একটি উর্বর বদ্বীপের অংশবিশেষ। পৃথিবীতে যে কয়টি রাষ্ট্র জাতিরাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পায় তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বাংলাদেশের বর্তমান সীমান্ত  তৈরি হয়েছিল ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনাবসানে, বঙ্গ (বেঙ্গল  প্রেসিডেন্সি) এবং ব্রিটিশ-ভারত বিভাজন করা হয়েছিল। ১৯৪৭-এর দেশ ভাগের পর বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চল তখন পূর্ব বাংলা নামে পরিচিত, যেটি নবগঠিত দেশ পাকিস্তানের পূর্ব অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় ঘটেছে দুর্ভিক্ষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ ছাড়াও প্রলম্বিত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও পুনঃপৌনিক সামরিক অভ্যুত্থান এ দেশের রাজনৈতিক সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বারবার ব্যাহত করেছে। গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে বলে আবারো দৃশ্যমান।

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের উর্বর অববাহিকায় অবস্থিত এই দেশটির ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় এ অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি জাতি পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা পছন্দ করে বেশি। তাই ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে পাওয়া যায় বাঙালির স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাস। এই সংগ্রাম কখনো অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে, কখনো সা¤্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, কখনো সনাতনী ধর্মের নামে প্রভুত্ববাদ প্রতিষ্ঠাকারীদের বিরুদ্ধে, কখনো ভিনদেশী দখলদারদের বিরুদ্ধে, আবার কখনোবা স্বার্থান্বেষী দেশীয় অপশাসন আর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, কখনো বাকশাল আর একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে, কখনো স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র আর মানুষের অধিকারপ্রতিষ্ঠায় এ সংগ্রাম চলেছে, চলছে অব্যাহতভাবে।

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে অর্জিত আমাদের জন্মভূমি। পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক দুর্যোগ ও বহিঃচক্রান্তের বহুবিধ বিপদ ঝঞ্ঝা মোকাবেলা করে এই বাংলাদেশের বয়স এখন ৪৪ বছর। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে বারবার আমরা থমকে দাঁড়িয়েছি। অপরাজনীতির কোপানলে সমগ্র জাতি পিষ্ট। যে যার মত ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এহেন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি। দেশী-বিদেশী সকল পক্ষকে নিজেদের বলয়ে করায়ত্ত করে শাসকমহলের একদলীয় শাসন কায়েমই ছিল সবচেয়ে লক্ষণীয়।

প্রতিনিয়ত মীরজাফর, ঘসেটি বেগম ও লেন্দুপ দর্জীর বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিকদের চলছে বিরামহীন লড়াই। এই যুদ্ধে দেশপ্রেমিককে জিততেই হবে।

নতুন উদ্যমে সকল শোষণবঞ্চনার নাগপাশ কাটিয়ে একটি প্রত্যাশিত ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ব- যেখানে সুশাসন, নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত, জননিরাপত্তা টেকসই হবে; যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য,  থাকবে না দলান্ধতা।

SHARE

Leave a Reply