স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

আতিকুর রহমান

Duজীবনে বড় হওয়ার ইচ্ছা প্রতিটি মানুষের থাকে। এই বড় হওয়ার জন্য প্রয়োজন নিজের মেধা ও মননের যথার্থ পরিচর্যা এবং একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রয়াস। জীবনের বাঁকে বাঁকে ছোট ছোট সাফল্য মানুষের সেই অসীম গন্তব্যের পথে প্রেরণা জোগায়। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ করার পর প্রতিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে। দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হাওয়া। বিশেষ করে বুয়েট, মেডিক্যাল অথবা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এক দিকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর হাতছানি দেয় অন্য দিকে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র হওয়ার অসম প্রতিযোগিতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
নিজের মনন ও মেধা বিকাশের জন্য দেশ সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হওয়ার বিকল্প নেই। কেননা আমাদের সমাজে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের অধিকাংশই দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র ছিলেন। যারা সমাজের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষ করে সরকারি আমলা, পুলিশ অফিসার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি বা আধা সরকারি কর্মকাণ্ডেÑ তারা ছাত্রজীবনে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলেও আমাদের যে শিক্ষাব্যবস্থা সেই শিক্ষাব্যবস্থা তাদের সত্যিকার আদর্শিক নৈতিক চরিত্রবান ধার্মিক, সাংস্কৃতিক ও ইতিহাস ঐতিহ্যকে লালন করার মত করে গড়ে তোলেনি। ফলে তারা অনায়াসে অন্যায় করছে এবং অন্যায়কে সমর্থন করছে।
অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হওয়ার কথা ছিল জাতির কাণ্ডারি। তাদের কাছেই দেশ ও জাতি বেশি নিরাপদ থাকার কথা থাকলেও এখন হচ্ছে এর উল্টো। তাইতো ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরু বলেছিলেন ‘দেশ ভাল হয় যদি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভাল হয়।
তারপরও বড় হওয়ার স্বপ্ন থাকলে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়া চাই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অল্প খরচে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করে থাকে। সেগুলো একজন ছাত্রের মেধা বিকাশের জন্য মোটামুটি উপযোগী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যোগ্যতা ও মেধা থাকার পর মাদরাসা থেকে পাসকৃত শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আগেই সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের যোগ্যতা নির্ধারণের এ স্তরে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে মাদরাস শিক্ষা বোর্ড বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও তারা উচ্চমাধ্যমিক ফলাফলে অন্যান্য বোর্ডগুলো থেকে ভাল করেছে। যদিও দেশের বড় কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং দু-একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাদরাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন ইউনিটে বিগত কয়েক বছর যাবৎ মাদরাসা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েও প্রথম, দ্বিতীয় হলেও তাদের কাক্সিক্ষত বিষয়ে ভার্তি হতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যমূলক হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা মানছে না।
একদিকে বাংলাদেশের মত একটি জনবহুল দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কম, অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকার কারণে অধিকাংশ মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেকে দেশ সেরা গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়া। সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ক্ষেত্রে বিদ্যমান আসনসংখ্যার বিপরীতে যে বিশাল অস্বাভাবিক মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভিড় রীতিমত বিস্ময়কর।
একটি পরিসংখ্যানেই তা পরিষ্কার হবে বলে আশা করি। ২০১৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ১০টি শিক্ষা বোর্ডে পাসকৃত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আট লাখ ৮৫ হাজার ৭০ জন। যার মধ্যে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত সংখ্যা ৭০ হাজার ৬০২ জন। এই আট লাখ ৮৫ হাজার পাসকৃত ছাত্রছাত্রীর অধিকাংশের স্বপ্ন থাকবে দেশ সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়া। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দেয়া তথ্য মতে জতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটসহ অন্য ৩৩টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ ভর্তিতে আসন আছে প্রায় ৪০ হাজার। অন্য দিকে দেশে সরকারি মেডিক্যাল আছে ২২টি যার আসনসংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৮১১ জন এবং বেসরকারি মেডিক্যাল আছে ৫৩টি। বেসরকারি মেডিক্যালে পড়াশুনা ব্যয় বহুল। সাধারণ পরিবারের ছেলের জন্য এটির খরচ জোগান দেয়া সম্ভব নয়। এর আসন আছে ৮ হাজার ৪৯৯টি। এর বাইরে সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিট আছে ৯টি, আসনসংখ্যা ৫৬৭টি।
দেশে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রথম বর্ষে ভর্ত আসনের বিপরীতে শুধু এ বছরই জিপিএ ৫  ধারী শিক্ষার্থী আছে ৭০ হাজার। এদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যাল বা অন্যান্য নামকরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বঞ্চিত হবে। এ ছাড়াও গত বছরের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার জিপিএ ৫ ধারী ছাত্রছাত্রী এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে।
এত প্রতিযোগী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও যারা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে চায় তাদের অনেকগুলো বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। সাফল্য যেহেতু বিরামহীন প্রক্রিয়া সুতরাং মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ বা গোল্ডেন পেলেই স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায় না। কারণ মেধাবীদের জন্য ভাল ফলাফল করার যেক্ষেত্রে কোনো আসন নির্দিষ্ট নেই। সেই মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও কোনো আসন নির্দিষ্ট নেই। কিন্তু সেই মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে রয়েছে আসন সীমাবদ্ধতা। আবার অনেক ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ ৫ পাওয়ার কারণে অহঙ্কারবশত বা ইচ্ছে করেই মনে করে আমি তো চান্স পেয়ে যাচ্ছিÑ এ ভেবে ঠিকমত পড়াশুনা করে না। ফলে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হয়। আবার অনেক ছাত্রছাত্রী যাদের রেজাল্ট তুলনামূলকভাবে কম + গ্রেড বা এ- তারাও অনেক সময় কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে স্বপ্নের কাক্সিক্ষত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপদ্ধতি বিভিন্ন রকম। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত পরীক্ষা নেয় তবে অধিকাংশ এমসিকিউ পরীক্ষা কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ বিষয় বাদ দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট হিসাব করে নম্বর বণ্টন করে কতগুলো ৪র্থ বিষয়সহ।
যাইহোক প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ থাকে। সুতরাং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাপদ্ধতি ও প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাপদ্ধতির সাথে দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাপদ্ধতির সাদৃশ্য আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়ে থাকে ক, খ, গ, ঘ ও ঙ এই ৫টি ইউনিট এর মধ্যে।
কÑ ইউনিট বিজ্ঞান বিভাগে যে সকল শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ (৪র্থ বিষয় বাদে) প্রাপ্ত জিপিএদ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০ আছে তারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ইউনিট ২৭টি বিভাগে মোট আসনসংখ্যা ১৬৪০। গত বছর এই ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছিল ৭০ হাজার ৯৫৭ জন। প্রতি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ৪৪ জন। আবার শুধু চান্স পেলে হবে না, ভাল বিভাগ পেতে হলে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পেতে হবে। যেমন যদি কেউ কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চায় তাকে ভর্তি পরীক্ষা অবশ্যই পদার্থে ৩০ এ মধ্যে ১৮ এবং গণিতে ১৮ পেতে হবে।
খÑ ইউনিট মানবিক শাখা : যে সকল শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায মানবিক বিভাগ থেকে (৪র্থ বিষয় বাদে) প্রাপ্ত জিপিএদ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.০ হয় তবে তারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ইউনিেেট ৩৭টি বিষয়ে সর্বমোট আসন আছে ২২৯৬টি। গত বছর এই ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছিল ৩৬,৮৩৪ জন। সুতরাং এই ইউনিটে চান্স পেতে চাইল প্রায় ৩৪ হাজার ছাত্রকে পেছনে ফেলে উত্তীর্ণ হতে হবে। অন্য দিকে ভালো বিষয়ে পড়তে চাইলে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হবে। যেমন কেহ ইংরেজি বিষয়ে পড়তে চাইলে তাকে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ২০ নম্বর পেতে হবে। অথবা আইন পড়তে চাইলে বাংলায় ১৪ এবং ইংরেজিতে ভর্তি পরীক্ষায় ১৮ পেতে হবে।
গ. ইউনিট : বাণিজ্য বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইঅ অনুচ্ছেদর এই অনুষদে পড়তে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে (৪র্থ বিষয় বাদে) প্রাপ্ত জিপিএদ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ থাকলে তারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ইউনিটে আসন আছে ১১৭০টি। গত বছর এই ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছিল ৪৫,৮৮৩ জন। তুলনামূলকভাবে এই বিভাগে প্রতিযোগিতা বেশি হয়।
ঘ- ইউনিট বদলি বা ঞৎধহংভবৎ ঁহরঃ : এই ইউনিটে ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ থাকে নিজ বিভাগ পরিবর্তন করে অন্য বিভাগের ছাত্র হওয়ার। এখানে মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য সকল বিভাগের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে যৌথভাবে মানবিকে ৭.০, বিজ্ঞান, ৮.০ ও বাণিজ্যে ৭.৫ থাকলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে। এতে কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি বা এইচএসসিতে কোনো বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৩.০ এর নিচে হলে আবেদনের যোগ্য হবে না। এই ইউনিটে আসনসংখ্যা ১৩৬৫টি এর বিপরীতে গত বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৭৬,০৫২ জনপ্রতি আসনে প্রায় ৬৩ জন গড় পরীক্ষার্থী।
এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় (চ) ইউনিটে। এটা চারুকলা অনুষদ। এই বিভাগে পরীক্ষা দিতে হলে ভর্তি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় কোনো বিভাগের ছাত্রকে যৌথভাবে ৬.৫ থাকতে হবে। এই ইউনিটে ৮টি বিষয়ে মোট ১৩৫টি আসন আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সব ইউনিটে ভুল উত্তরের জন্য নেগেটিভ নম্বর আছে। প্রতি ১টি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে।
প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা হয় সাধারণত নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাসে কিন্তু এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে। সুতরাং  বোঝাই যাচ্ছে সময় খুবই কম। এক দিকে সময় খুবই কম, অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার অসম প্রতিযোগিতা বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাওয়া স্বপ্নসাধ্য বিষয় নয়। যেহেতু দেশের সকল মেধাবী এখানে ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয় তাই সবাইকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়। যেহেতু লড়াইটা শক্ত তাই প্রয়োজন প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করার কৌশল জানা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা মাত্র ১ ঘণ্টা কিন্তু যে ধরনের প্রশ্ন হয় স্বাভাবিক পন্থায় ১ ঘণ্টায় তার উত্তর দেয়া সম্ভব হয়। অনেক ভাল ছাত্র শুধু সময়ের দৌড়ের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে পরাজিত হয়। সুতরাং যত  দ্রুত এবং কৌশলী পন্থায় কঠিন প্রশ্নের উত্তর কম সময়ে সহজে দিতে পারে এখানে সেটাই বিচার্য বিষয়।
যেহেতু কম সময়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর করতে হবে তাই প্রস্তুতিটাও সেভাবেই নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি আসনসংখ্যা যেহেতু সীমিত তাই একজন শিক্ষার্থীকে কঠোর পরিশ্রম দ্বারা সেই স্বপ্নের আসন দখল করত হবে। বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন বলেছিলেন, আমার যত অর্জনে তার পেছনে মেধার অবদান ১% আর পরিশ্রম ৯৯%। যারা এইচএসসি পরববর্তী সময়ের সদ্ব্যবহার করে বিগত বছরগুলোর প্রশ্নের আলোকে বিষয়বস্তু আয়ত্ত করতে পারবে এবং ভর্তি পরীক্ষায় আগে এই মূল্যবান সময়ে ভাল পড়াশোনা করবে এই তীব্র প্রতিযোগিতায় তারাই জয়ী হবে। এর সাথে প্রয়োজন কৌশলী ও আত্মবিশ্বাসী হওয়া, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা মাফিক পড়াশোনা, উপযুক্ত ও সঠিক এবং বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা। এর পাশাপাশি হতে হবে স্বপ্নবাজ মানুষ কেননা স্বাপ্নিকেরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ঠিকই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
তাই স্বপ্ন যত সুদৃঢ় হবে সাধনাও তত অটল হবে। তাইতো পরমাণু বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম বলেছিলেন, ‘মানুষ ঘুমিয়ে যা দেখে তা স্বপ্ন নয়, যে ইচ্ছা তার ঘুম হারাম করে দেয় তাই স্বপ্ন। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার এই প্রস্তুতির সাথে অবশ্যই বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে যাতে করে স্বপ্নের কাক্সিক্ষত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়া যায়।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply