স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষ । মু. ত্ব-হা খান

স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষ । মু. ত্ব-হা খানপ্রিয় বন্ধুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষে আগত তোমাদের জানাই পৃথিবীতে ফুটন্ত সকল গোলাপের শুভেচ্ছা। শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ ১২টি বছর পেরিয়ে তোমরা আজ স্বপ্ন ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘ জীবনের লালিত স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। এই সময়ের প্রতিটা মুহূর্ত তোমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টি পার করা ততটা সহজ নয়। শত বাধা-বিপত্তি আর মরীচিকার হাতছানি প্রতিনিয়ত তোমার পিছু টেনে ধরবে। কিন্তু যাদের ইস্পাতকঠিন মনোবল তাদেরকে রুখার শক্তি কার আছে বলো? তাহলে চলো স্বপ্নকে বাস্তবায়নে প্রথমবর্ষ থেকেই কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবে সে বিষয়ে জেনে নিই।

হতাশা দূর করো
যে সকল বন্ধু পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের সাবজেক্টে ভর্তি হতে পেরেছো তাদের জন্য শুভকামনা। তবে বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সংখ্যাটা খুবই কম। কারণ মেধাবীদের তুলনায় আমাদের বিশ^বিদ্যালয়গুলোর সিটসংখ্যা অপর্যাপ্ত। তাই পছন্দের বিশ^বিদ্যালয় ও পছন্দের সাবজেক্টে ভর্তি না হতে পারার সংখ্যাটাই আমাদের মাঝে বেশি। এখানেই অনেক নবশিক্ষার্থী হতাশায় ভোগে। নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ়সঙ্কল্প থেকে ধীরে ধীরে পিছিয়ে যেতে থাকে। হতাশার সাগরে নিজেকে ডুবিয়ে দেয়। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। নিজের যোগ্যতাকে নিজেই ছোট করে দেখে। একটু দাঁড়াও ভাইয়া! এতো হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র তোমার অযোগ্যতার কারণেই যে তুমি তোমার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বা সাবজেক্টে ভর্তি হতে পারনি বিষয়টি তেমন নয়। তোমার অযোগ্যতা থেকেও বড় দায় আমাদের উচ্চশিক্ষার আসন অপ্রতুলতা। তা ছাড়া বর্তমানের বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়াই বিজয়ীদের মূলমন্ত্র। যা পাইনি তাকে নিয়ে না ভেবে যা আমি পেয়েছি তাকে নিয়েই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দুঃসাহসিক অভিযানে নেমে পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ। দেখবে বিজয় তোমার পানে ছুটে আসছে। হতাশার গ্লানি দূর করে মনে করো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমার পছন্দের সাবজেক্টেই তুমি পড়ছো, আর এটাই তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূল হাতিয়ার।

প্রথমবর্ষে যত সমস্যা
আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষই একজন শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে মূল ভূমিকা পালন করে। তাই প্রথমবর্ষকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ, নতুন জনের সাথে পরিচিতি, নতুন উদ্যম, নতুন বাস্তবতা এবং নতুন পৃথিবীর এক নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষ। এখানে যেমন রয়েছে হাজারো সম্ভাবনা তেমনি রয়েছে হাজারো সমস্যা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সাথে নিজকে মানিয়ে নেয়া। প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী নিম্নলিখিত সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে পারে:

ক) নৈতিকতার সমস্যা:বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্ত পরিবেশের নাম। এখানে হালছাড়া প্রাণীর মতো যে কেউ যে কোনো ভাবে ঘুরে বেড়াতে পারে। অবাধ স্বাধীনতা পাওয়ায় একজন নবীন শিক্ষার্থী অনেক সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে ওঠা, দুষ্টুমির ছলে ছোটখাটো নেশা গ্রহণ, সেখান থেকে ধীরে ধীরে নেশায় অভ্যস্ত হয়ে পড়া যেনো অনকেটাই স্বাভাবিক হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশার সুযোগ থাকায় অনেকেই প্রেমের নামে নোংরামিতে গা ভাসিয়ে দেয়। স্মার্ট হতে গিয়ে অনেকেই তার ধর্মীয় চেতনা ভুলে গিয়ে কথিত আধুনিকতায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। তা ছাড়া অবাধ ইন্টারনেটের ব্যবহার অনেককেই কুরে কুরে ধ্বংস করে দেয় ভেতরে ভেতরে। এই কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় তোমাকে বড় বড় ডিগ্রি দিবে কিন্তু নৈতিকতার শিক্ষা দিবে না।”
খ) আবাসন সমস্যা : আবাসনসঙ্কট একটি প্রকট সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ করে প্রথমবর্ষের জন্য। নতুন শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা অবশ্যই ফেস করতে হয়। থাকার জন্য তাদের ঠাঁই হয় গণরুম, মসজিদ বা হলের বারান্দায়। ছোটখাটো একটি রুমে ২০-২৫ আবার তার থেকে একটু বড় রুমে ১০০-১৫০ শিক্ষার্থী থাকার চিত্র আমাদের সামনে দৃশ্যমান। সরকারি হাসপাতালের ফ্লোরিং থেকেও এখানকার অবস্থা আরো খারাপ। ছারপোকা, মশা আর গরমে অতিষ্ঠ হয়ে নিদ্রাহীন রজনী-যাপন শিক্ষার্থীদের নিত্যসঙ্গী। যাদের ঠাঁই হয় বারান্দায় বৃষ্টির দিন তাদের দুঃখ যেনো আরো বেড়ে যায়। একরুমে অনেক শিক্ষার্থী থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয় অনেককে।

গ) গেস্টরুম ও প্রোগ্রামের নামে রাজনৈতিক দলগুলোর নিপীড়ন : যেমন- সোজা কথায় গেস্টরুম মানে হলো অভ্যর্থনা কক্ষ যেখানে অতিথিরা এসে বসেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলো গেস্টরুমকে তাদের মূল সাংগঠনিক তথা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করায় শিক্ষার্থীদের নিকট গেস্টরুম এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামের নামে জোরপূর্বক মিছিলে নিয়ে যাওয়ার অহরহ নজির রয়েছে।

ঘ) সিনিয়রদের মেইন্টেইন : সালাম দেয়ার অভ্যাস তোমার আগে না থাকলেও এখন কিন্তু প্রতিদিন সিনিয়রদের কয়েক শত সালাম তোমাকে দিতেই হবে। তাদের সাথে হাত মিলাতে হবে। মাঝে মাঝে তাদের বিভিন্ন কাজও করে দিতে হবে। খাবার ক্যান্টিনে কোন সিনিয়রদের সাথে বসা যাবে না। আর কখনো কখনো র‌্যাগ নামক এক ভয়ঙ্কর পরিবেশেও হয়তো তোমাকে পড়তে হতে পারে ।

ঙ) ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীল পরিবেশ : অনেক সময় হঠাৎই ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে। ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীল পরিবেশ শিক্ষার্থীর মনোবল দুর্বল করে দেয় এবং সামগ্রিক কার্যক্রমে সে পিছিয়ে পড়ে।

করণীয়:
সমস্যা যতই থাকুক তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের কিছু করণীয় অবশ্যই থাকতে হবে। যেমন-

ক্যাম্পাস সম্পর্কে ধারণা নেয়া : তোমার ক্যাম্পাসের আয়তন কত? কোন ফ্যাকাল্টির অবস্থান কোথায়? লাইব্রেরি কোথায়? খেলার মাঠ কোথায়? বিনোদনের স্থানগুলো কোথায়? টিচারদের আবাসন কোথায়? বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের অবস্থান কোথায়? ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকলে তুমি অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক নিয়ম-কানুন জানা ও মানা : বিশেষ করে ক্লাস অ্যাটেন্ডেন্স, কোর্সসমূহ, পরীক্ষাপদ্ধতি, অ্যাকাডেমিক বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন দিবস ইত্যাদি।

সময়মত ও নিয়মিত ক্লাস করা : অনেকেরই ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় মানে ঘুরে বেড়ানো জীবন। যারা এই ধারণা পোষণ করে তাদের রেজাল্টও আশার চেয়ে অনকে খারাপ হয়। সেমিস্টার পদ্ধতি হওয়ায় নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা না দিলে একজন শিক্ষার্থী কোনোভাবেই নিজেকে তার কাক্সিক্ষত মঞ্জিলে পৌঁছাতে পারবে না।

শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা এবং সাবজেক্ট নিয়ে আলোচনা করা : এটা ভালো ছাত্রদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোর্স টিচারদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখলে ভবিষ্যতে ভালো রেজাল্ট করা অনেক সহজ হয়।

পরিবেশ সচেতন হওয়া : তোমার ক্যাম্পাসে কখন কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। তা ছাড়া ক্যাম্পাস যখন অস্থিতিশীল হয় তখন তোমার সচেতনতাই পারবে তোমাকে মারাত্মক বিপদ থেকে রক্ষা করতে।

এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিসে নিজেকে দক্ষ করা : যেমন- লেখালেখি করা, বিতর্ক করা, খেলাধুলায় নিজেকে যোগ্য করে তোলা, কোনো গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে জড়ানো ইত্যাদি।

বিভিন্ন ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন বিশেষত ইংরেজি ও আরবি ভাষায়।
শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া : বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। একে শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করা জরুরি বিশেষ করে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য এটা কর্তব্যও বটে। আঞ্চলিকতা আমরা ব্যবহার করবো নিজ নিজ অঞ্চলে গিয়ে অথবা পরিবারের সদস্যদের সাথে। পাবলিক প্লেসে কথা বলার সময় শুদ্ধ বাংলায় কথা বলাটাই সুন্দর। শুদ্ধ উচ্চারণের ব্যবহার ভবিষ্যতের কর্মজীবনেও তোমাকে অনেক দূর এগিয়ে রাখবে।

নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি বিতর্ক করা : এর মাধ্যমে তোমার Communication skill develop হবে। কথায় জড়তা কমে যাবে। কথা বলার স্পিড বেড়ে যাবে।

নিয়মিত রুটিন ফলো করা : ‘A good plan is a half-done of a work’ তাই একটি পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত সেটি ফলো করা দরকার। শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় শিক্ষককে প্রশ্ন করা এবং প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে যাওয়া।

ক্লাসের আলোচনাগুলো নোট করা : এর জন্য প্রয়োজনে প্রতিটি কোর্সের জন্য আলাদা আলাদা খাতা ব্যবহার করা। ক্লাসে মনোযোগী হওয়া এবং স্যারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো টুকে নেয়া। পরীক্ষার সময় এই নোটগুলো তোমার অনেক কাজে লাগবে।

ভালো বন্ধু বানানো : ‘A good friend can show you right way’ যাকে-তাকে নয় জেনে শুনে কয়েকজন বন্ধু বানাবে। যাদের সাথে তোমার চিন্তা-চেতনার মিল থাকবে। ক্লাসের সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক থাকবে কিন্তু ভালো বন্ধু থাকবে গুটিকয়েক।

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য নিয়মনীতি অনুসরণ করে চলা : যেমন- প্রতিদিন ব্যায়াম করা, খেলাধুলা করা, সুযোগ থাকলে সাঁতার কাটা, খাবার-দাবারে সচেতন থাকা, বেশি করে পানি পান করা, মাঝে মাঝে কোথাও থেকে ঘুরে আসা ইত্যাদি।

সকালের ঘুম বর্জন করা : প্রয়োজন ছাড়া সকালে ঘুমানোটা খুবই বাজে অভ্যাস। এই অভ্যাস দূর করা উচিত।

প্রতিদিন কিছুৃ না কিছু অ্যাকাডেমিক পড়াশুনা করা : নিয়মিত পড়াশুনা তোমার পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। পরীক্ষার সময় এর ভালো ফল তুমি পাবে। নিয়মিত না পড়ে শুধু পরীক্ষার আগের রাতে পড়ে পরীক্ষা দেয়ার মাধ্যমে ভালো ফলাফল করা কঠিন।

বিভিন্ন ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সংগঠনের সাথে নিজেকে যুক্ত করা : যে ধরনের অ্যাক্টিভিটিস তোমার ভালো লাগে সে ধরনের কোন এক বা একাধিক সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়াতে পারো।

অন্যকে দোষারোপ করার মানসিকতা দূর করা : অন্যকে দোষারোপ নয় বরং নিজের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করা দরকার। অন্যের ব্যাপারে নেগেটিভ নয় বরং পজিটিভ চিন্তা তোমাকে অনেকদূর এগিয়ে রাখবে।

নিজের সমালোচনা শুনার মানসিকতা তৈরি করা : কোন মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তুমিও না। তোমার ভুলের বিষয়গুলো যদি তোমার বন্ধুরা ধরিয়ে দেয় তবে তাদের স্বাগত জানাও। আর নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করো।

ক্যাম্পাসে সিনিয়রদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা : সিনিয়রদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার মাধ্যমে তুমি তাদের কাছ থেকে অনকে কিছু শিখতে পারবে। সুসম্পর্কের মাধ্যমে বড় ভাইয়েরা তোমাকে অনেক ভাবেই সহযোগিতা করবে।

নিজেকে আপডেট রাখার জন্য নিয়মিত পত্রিকা (বাংলা ও ইংরেজি) পড়া। সুযোগ থাকলে নিজের খরচ নিজেকে চালানোর জন্য টিউশনি করা।

পছন্দের একজন শিক্ষককে নিজের গাইড হিসেবে ফলো করা : এ ক্ষেত্রে স্যারের সাথে এমন সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যেনো তুমি তোমার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তার সাথে শেয়ার করতে পারো।

ক্যারিয়ার প্ল্যান ঠিক করা:
আমি বিশ্বাস করি তোমার ক্যারিয়ার প্ল্যান আগের থেকেই ঠিক করা আছে। আর যদি এখনো ঠিক না করে থাকো তবে আজকেই বসে যাও তোমার ক্যারিয়ার প্ল্যান নিয়ে। প্ল্যান নেয়ার সময় নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করো- কী? কিভাবে? কোথায়? এবং কখন?

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার জন্য প্রথম সেমিস্টার থেকেই নিজের অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট সর্বোচ্চ অবস্থানে রাখা : মনে রাখবে এই স্বপ্ন কিন্তু তোমার মতো অন্যরাও লালন করছে। সেক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্টে তোমাকে বেস্ট হতে হবে এই চিন্তা নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করো।

নিজ ডিপার্টমেন্টের ভালোরেজাল্টধারীদের সাথে যোগাযোগ ও তাদের নোট সংগ্রহ করা : এতে তোমার ভালো রেজাল্ট করার পথ অনেকখানিই সুগম হবে। সিনিয়রদের নোট থেকে অনেক ধারণা নিতে পারবে যা তোমাকে তোমার এক্সক্লুসিভ নোট তৈরিতে সাহায্য করবে।

কম্পিউটার ও আইসিটিতে নিজেকে ধীরে ধীরে এক্সপার্ট করে তোলা : স্মার্ট হতে হলে বর্তমানে তোমাকে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেই হবে। এই বিষয়ে যে যত বেশি জ্ঞানী সামনের পথ চলা তার জন্য অনেক বেশি সহজ হবে।

যে কোন একটি বিষয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার চেষ্টা করা : তোমার যে কোন একটি শখের বিষয়ে তুমি তোমার নিজেকে এক্সপার্ট করে তুলতে পারো। এটা তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে। এক সময় হয়তো এটাই তোমাকে অনেক সম্মান আর মর্যাদা এনে দিবে।

তোমার ক্যারিয়ার ফিল্ডের একজনকে তোমার আইডল বানানো এবং তাকে ফলো করা : এই যুগে এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ। তুমি যে ফিল্ডে যেতে চাও সে ফিল্ডের সফল কাউকে খুঁজে বের করো। তাকে নিয়ে স্টাডি করো। সুযোগ থাকলে তার সাথে দেখা করো। তাকে তোমার স্বপ্নের কথা বলো। দেখবে সে তোমার সাথে এই বিষয়ে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করবে। সেখান থেকে তুমি তোমার করণীয় ঠিক করে নাও।

স্ব-স্ব ধর্ম যথাযথভাবে পালন করা : ধর্ম শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বিষয়ই নয়, প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্যও এর প্রয়োজন। তুমি যে ধর্মেরই হও না কেন সে ধর্ম যথাযথভাবে পালন করো। এতে তোমার মূল্যবোধ বৃদ্ধি পাবে।

কিছু বর্জনীয় দিক
বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন এক মুক্ত পৃথিবীর নাম। এখানে ভালো হওয়ার জন্য যত পথ আছে খারাপ হওয়ার জন্যও ততোধিক পথ আছে। তুমি ক্যাম্পাসে যা ইচ্ছা তাই করতে পারো। কেউ তোমাকে বাধা দিবে না। কিংবা ভালো পথে চলার উপদেশ খুব বেশি পাবে না। এখন সিদ্ধান্ত তোমার। কোন পথে তোমাকে চালাতে চাও? যদি ভালো পথটি বেছে নিতে চাও তবে কিছু বিষয় বর্জন কর:
⊃ ক্লাস মিস করা।
⊃ নেশাজাতীয় যে কোন বস্তু গ্রহণ করা।
⊃ কথিত প্রেম নামক অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়া।
⊃ হঠাৎ নেতা বনে যাওয়ার জন্য উগ্র রাজনীতি।
⊃ অযথা আড্ডা।
⊃ অন্যকে হেয় করার মানসিকতা।
⊃ অসৎ সঙ্গ তৈরি।
⊃ ছোটখাটো কোন সমস্যায় প্রতিশোধ নেয়ার মানসিকতা।
⊃ ক্লাসে অমনোযোগী থাকা।
⊃ ক্লাসে নোট না করা।
⊃ অ্যাসাইনমেন্ট জমা না দেয়ার মানসিকতা তৈরি করা।
⊃ ‘যাচ্ছে-তাই’ ভাবে জীবন চালিয়ে নেয়ার চিন্তা করা।
⊃ কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ করা।
⊃ শুধু শুধু রাত জাগা এবং দিনের বেলা ঘুমানো।
⊃ মোবাইল ও ইন্টারনেটে অধিক সময় ব্যয় করা।
⊃ নিজের আত্মপরিচয় ভুলে গিয়ে যে কোন পরিবেশে গা ভাসিয়ে দেয়া।

পরিশেষে বলবো জীবনটা তোমার, একে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার দায়িত্বও তোমার। আজ থেকে ৫ বছর পরে তুমি তোমার নিজেকে কোথায় দেখতে চাও, তার পরিকল্পনা এখনই তোমাকে করতে হবে। একটি স্বপ্ন বুকে ধারণ করতে হবে, আর সেই স্বপ্ন প্রতিদিন একটু একটু করে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে। কেননা মানুষ তার স্বপ্নের চাইতেও বড়। এমনি করেই তুমি তোমার স্বপ্নের কাঙ্ক্ষিত মঞ্জিলে পৌঁছাতে পারবে ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের স্বপ্ন পূরণে সহায় হোক। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply