স্বাধীনতার ৪৩ বছর

কে শোনাবে মুক্তির গান

৪৩ বছর আগে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। যদিও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস প্রায় হাজার বছর আগের। এ ইতিহাস অনেক ত্যাগের অনেক সংগ্রামের। কিন্তু‘ এত দীর্ঘ সংগ্রামের পরও কি বাঙালি জনগণের ওপর শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের ইতিহাস বদলেছে?
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় হয় নতুন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। এই স্বাধীনতার জন্য লক্ষ জনতা যেমন প্রাণ দিয়েছেন, তেমনি হাজার হাজার মা-বোন দিয়েছেন তাদের ইজ্জত। দেশের আপামর জনতা অনেক আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। সঙ্গত কারণেই স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু যে লক্ষ্যে এ দেশের জনতাকে মুক্তিসংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল, পরবর্তীকালে তার অধিকাংশই ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।
আধুনিক বিশ্বের আদর্শ শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র ব্যাপক সমাদৃত। কেননা, গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন সম্ভব। স্বাধীন বাংলাদেশে সেই গণতন্ত্রও আজ নির্বাসিত। স্বাধীনতার এত বছর পরও বাংলাদেশ আজো তার কাক্সিক্ষত গণতান্ত্রিক শাসনের মুখ দেখেনি। গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে এখানে পরিদৃষ্ট হয়েছে একদলীয় ও স্বৈরাচারী শাসন। ভোটারবিহীন একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন বর্তমান সরকার। গণতন্ত্রের যে প্রচন্ড আকাক্সক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের আপামর জনগণ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল তা আজ ডুকরে ডুকরে কেঁদে ফিরছে। ২০১৪ সালেও আমরা দেখেছি কিভাবে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে বিকাশমান নবজাতক গণতন্ত্রকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি জনগণ। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদেও ভোট দিতে না পারলে জনগণের চারটি ভোট হরণ করা হবে।
সরকার উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। যে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, সে দেশে মানুষের  কোনো অধিকার থাকে না। আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীন মতপ্রকাশকে দমন করে স্বৈরাচারিতা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। সরকারের দুঃশাসনে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রেও পর্যুদস্ত হয়ে পড়ছে দেশ।
এ থেকে উত্তরণের উপায় কী? কে শোনাবে মুক্তির গান? মানুষের অধিকার হরণের এই দীর্ঘ রজনীর গভীরতা আর কত দূর? এই জিজ্ঞাসায় চঞ্চল মুক্তিপাগল সাধারণ জনগণ।

শিশু নির্যাতন ও সামাজিক অবক্ষয়

সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শিশুহত্যার ঘটনা বেশ আলোচনা-সমালোচনাসহ বিশ্লেষণ চলছে। মা খুন করছেন নাড়িছেঁড়া তার সন্তানকে, সন্তান খুন করছে পিতা-মাতাকে, ভাই খুন করছে তারই আপন ভাইকে। তুচ্ছ ঘটনাকে  কেন্দ্র করে এই খুনের ঘটনা ঘটছে অহরহ।
কোমলমতি নিষ্পাপ শিশুরা কেন এভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছে, তার পর্যালোচনায় মূল্যবোধের সাংঘাতিক বিপর্যয়কে এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের সার্বিক চিত্র দেখলে মনে হয় আমরা যেন সেই আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে ফিরে গিয়েছি। যেই যুগে মূল্যবোধের  কোনো বালাই ছিল না। মূলনীতিই ছিল খুনের বদলা খুন, প্রতিহিংসা ছিল যেই যুগের মূলমন্ত্র। বর্তমানে সমাজের একটি অংশের মাঝে প্রতিহিংসা প্রবণতার এই মনোভাব  তৈরি হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রেরও দায় আছে। রাষ্ট্রই যদি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে প্রতিহিংসা শিখায় তবে এর রোধ হবে কিভাবে।
মূল্যবোধের ভয়ানক এ বিপর্যয় থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মিথ্যাচার, প্রতিহিংসা আর নির্যাতন নিপীড়নের পথ থেকে সরে এসে রাষ্ট্রকেই সবার আগে মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। বাড়াতে হবে সামাজিক ন্যায়বোধ। সামাজিক এই অবক্ষয় রোধে রাষ্ট্রের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি। হ

SHARE

Leave a Reply