স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতিফলন । কাজী মো: বরকত আলী

স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতিফলনসুবিন্যস্ত সমাজ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে। আর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম মাত্র ৪৭ বছর আগে। সাড়ে চার হাজার বছরে অনেক ত্যাগের ইতিহাস। এই দীর্ঘতম ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অবশ্যই সবচেয়ে বড় অর্জন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতে বাঙালি মুসলমানদের অবদানই ছিল মুখ্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে বাঙালি জনগণের ওপর শুরু হয় শাসন-শোষণ ও নির্যাতন। এর ফলে বাঙালি জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসন শোষণের বিরুদ্ধে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর নির্বাচন, ১৯৬২ এর আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার পক্ষে রায় প্রদান করে। পাকিস্তানি শাসকগণ বাঙালি জনগণের এই রায়কে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানের পশুশক্তি বাংলাদেশে এক অশুভ ও অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। বাংলার মানুষ ৯ মাস ধরে তার যোগ্যতম প্রত্যুত্তর দিয়েছে কিন্তু মনে রাখা দরকার বিশ্বের অপরাপর দেশের মুক্তিযুদ্ধের গতি প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গতি প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভিন্ন ধরনের। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মহিমান্বিত ও গৌরবোজ্জ্বল। মুক্তিযুদ্ধ ছিল অন্যায় অত্যাচার নির্মমতা ও বর্বরতার বিরুদ্ধে এক বিদ্বেষপ্রসূত বিঘোষিত যুদ্ধ, শাসন- শোষণ ও প্রহসনের বিরুদ্ধে এক গণযুদ্ধ। তা ছাড়াও এটা ছিল এক সর্বাত্মক জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে এই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর পরিসমাপ্তি ঘটে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে মুখরিত হয় স্বাধীনতার জয়গানে। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশের জন্মকাহিনী এত সংক্ষিপ্ত নয়। বাংলাদেশের ইতিহাস অনুধাবন করতে হলে এবং স্পষ্ট ধারণা পেতে হলে আমাদের অনেকখানি পিছিয়ে যেতে হবে।
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানিতে যে ইতিহাস রচিত হয়েছিল, ভারতবর্ষের জনগণের ওপর তার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। কিন্তু বাঙালিদের জন্য তা ছিল আরও লাভ করে। এবং প্রায় পঞ্চাশ বছরের মধ্যে সমগ্র ভারতে ইংরেজ শক্তি হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। ভারতে ইংরেজদের শক্তি বিস্তারের ক্ষেত্রে মুসলমানদিগকে বিরাট প্রতিবন্ধকরূপে গণ্য করত। ফলে তাদের দাবিয়ে রাখার সকল প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। মুসলমানরা ইংরেজি ভাষা শিখতে ঘৃণা বোধ করত। নতুন সরকার নতুন শিক্ষা প্রবর্তন করল। ফলে মুসলমানগণ শিক্ষাক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ল মাত্র কয়েক বছরে। অপর দিকে হিন্দুরা ইংরেজি ভাষা শিখে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে লাগল। তাদের অনেকে লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারিতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠল এবং নতুন পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের ইংরেজ সরকারের সাথে সংযুক্ত করল।
মুসলমানগণ জাতি হিসেবে ইংরেজ অপেক্ষাও ছিল শ্রেষ্ঠতর, চিত্তের দৃঢ়তা ও বাহুবলে ছিল উন্নততর। তার স্বীকৃতি মিলে হান্টারের ‘ভারতীয় মুসলমান’ গ্রন্থের প্রতিটি ছত্রে। সেই জাতি ব্রিটিশ শাসনের স্বল্পকালের মধ্যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রেও পর্যুদস্ত হয়ে পড়ল। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের জন্য ইংরেজরা মুসলমানদের দায়ী করে এবং তাদের ওপর অমানবিক দমননীতি পরিচালনা করে। এভাবে ভারতের ইতিহাসে এক সংঘাতময় অধ্যায়ের সূচনা হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে পৃথিবীর সর্বত্র যেখানে সামন্তবাদ বিধ্বস্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছে, ভারতে সে ক্ষেত্রে নতুন করে সামন্তবাদের জন্ম হলো এবং দুর্ভাগ্যক্রমে ঐতিহাসিক ধারায় ভারতের সামন্ত প্রভুদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু। ইংরেজরা মুসলিমদের হাত থেকেই ভারত সাম্রাজ্য কবলিত করে, আর শাসনব্যবস্থার সুদৃঢ়ভাবে উপবিষ্ট থাকার জন্য বিভক্ত করে শাসন চালু রাখার নীতি অনুসরণ করতে লাগল।
আওরঙ্গজেবের রাজত্বকাল ছাড়া ভারতের অতীত ইতিহাসে সাম্প্রদায়িক সমস্যা তেমন গুরুতর আকার কোন দিনই ধারণ করেনি। কিন্তু ইংরেজ রাজত্বে তা বিরাট আকার ধারণ করে। দেখা যায় ১৮৮৫ সালে সর্বভারতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলে তা মুসলমানদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। প্রধানত কংগ্রেসের প্রভাবকে প্রতিহত করার জন্যই স্থাপিত হয় ১৯০৬ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের। ১৯১৬ সালে লক্ষৌচুক্তিতে মুসলিম লীগকে সর্বভারতীয় অন্যতম রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেস স্বীকৃতি দেয়। তারপর থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষের রাজনীতি লক্ষ্যের দিকে থেকে ছিল স্বরাজ বা স্বাধীনতার রাজনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে ছিল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনীতি এবং সাম্প্রদায়িক দিক হতে তা ছিল হিন্দু ও মুসলমানদের স্বার্থ আদায়ের রাজনীতি।
অবশ্যই এখানে একটি কথা স্মরণযোগ্য এবং তা হলো-
তখনকার রাজনীতিতে জনসাধারণের ভূমিকা ছিল নেহায়েত নগণ্য। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের সার্বজনীন ভোটাধিকার স্বাকৃত হয়নি। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯ জনের বেশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেনি। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে শতকরা ১১ জনের ভোটাধিকার ছিল। সামন্ত প্রভু, জমিদার, জায়গিরদার, বড় বড় ব্যবসায়ী ছিলেন তখনকার দিনের রাজনীতির নায়ক-নায়িকা (আজও আমাদের রাজনীতিতে তার প্রতিফলন দেখা যায়)। সুতরাং তাদের কার্যক্রমে এতটুকু গণমুখী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটেনি। ধর্মীয় নীতিকে কেন্দ্র করে এবং সাম্প্রদায়িক স্বার্থকে পুঁজি করে রাজনৈতিক নেতৃবর্গ নীতি ও কার্যক্রম স্থির করতেন। ভারতের কোন নেতা সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। যদিও দুই একজনকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা যায়, তথাপি তাদের রাজনৈতিক জীবন এত স্বল্পস্থায়ী ছিল যে, তারা ভারতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে কোন স্থায়ী অবদান রেখে যেতে পারেননি, যেমন বাংলার নেতা এ. কে. ফজলুল হক, চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাসচন্দ্র বসু প্রমুখ। ভবিষ্যতের নির্মম বিধানের মত ভারতের রাজনীতির ধারা প্রবাহিত হতে লাগল। বালগঙ্গাধর তিলক ও বল্লভ ভাই প্যাটেলের মত কংগ্রেস নেতা ইংরেজ শাসনের পরবর্তী পর্যায়ে ভারতে যেমন রামরাজ্য স্থাপনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, তেমনি আল্লামা ইকবাল, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মতো মুসলিম নেতা মুসলিমদের স্বতন্ত্র আবাস ভূমির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় ব্রতী ছিলেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার India Wins Freedom শীর্ষক বিখ্যাত গ্রন্থে তাই অভিযোগ করেছেন, “সাম্প্রদায়িকতার সংকীর্ণ চিন্তামুক্ত খুব কম নেতা ভারতে ছিলেন।” তাই ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। সুতরাং বলা যায় যে, পাকিস্তানের জন্মমূলে ছিল যেমন হিন্দু ও মুসলমানদের স্বতন্ত্র জীবনধারা ও সংস্কৃতি, তেমনি ছিল ব্রিটিশ রাজ্য বিভাগ করণের নীতি আর ছিল ভারতের শ্রেষ্ঠ নেতৃবর্গের সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণ মনোবৃত্তি। সময়ের বাস্তবতায় ও পাকিস্তানি শাসনের নির্মমতায় লাখো বাঙালির অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, সম্ভ্রম ও রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় হয় নতুন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। এই স্বাধীনতার জন্য লক্ষ জনতা যেমন প্রাণ দিয়েছেন তেমনি হাজার হাজার মা-বোন দিয়েছেন তাদের ইজ্জত। তাই বলা যায়, দেশের আপামর জনতা অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সেদিন মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, করেছিল দেশ স্বাধীন। সঙ্গত কারণেই স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, যেসব মহান লক্ষ্য দেশের জনতাকে মুক্তিসংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল পরবর্তীকালে তার অধিকাংশই ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। জনগণ আজও পায়নি প্রকৃত মুক্তির স্বাদ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ: আদর্শ বলতে সাধারণত কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বা দর্শনকে বুঝায়। এটি একটি আবেগের বিষয়। কোন বিশেষ আর্দশ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েই মানুষ তার পথ পরিচালনা করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে যেসব আবেগ ও উচ্ছ্বাস সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং সাহস জুগিয়েছে দুর্বার আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে, তা-ই সমষ্টিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এর রয়েছে সুদীর্ঘ পটভূমি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তা চরমরূপ ধারণ করে ১৯৭১ সালে। বীর বাঙালি দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও অত্যাচার থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সুদীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের ফলে পরাজিত হয় হাজার হাজার পাকহানাদার বাহিনী এবং বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে তা একটি আলোচনার বিষয়। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

রাজনোইতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আদর্শ বা লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাঙালিদের অধিক হারে অংশগ্রহণ। জিনড়বাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে পশ্চিম পাকিস্তানিদের কর্তৃত্বই ছিল সর্বাধিক। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানিরা বিপুলভাবে জয়লাভ করলেও তারা প্রকৃত ক্ষমতার স্বাদ কখনো পায়নি। আর এসব জাতীয় বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বাঙালি জনতা সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাঙালিরা অর্জন করে।

গণতন্ত্রের মুক্তি: আধুনিক বিশ্বের আদর্শ শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র ব্যাপকভাবে সমাদৃত। কেননা, গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন সম্ভব। পাকিস্তান শাসনামলে জনগণ প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ কখনই পায়নি। তাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিকাশ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার এত বছর পরও বাংলাদেশ আজও তার কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক শাসনের মুখ দেখতে পায়নি। গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে এখানে পরিদৃষ্ট হয়েছে একদলীয় ও স্বৈরাচারী শাসন। গণতন্ত্রের নীতি-আদর্শ হয়েছে ভূলুণ্ঠিত, পদদলিত। গণতন্ত্রের যে প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলার আপামর জনগণ যে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল তা আজ ডুকরে ডুকরে কেঁদে ফিরছে। ২০১৪ সালেও আমরা দেখেছি কিভাবে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে বিকাশমান নবজাতক গণতন্ত্রকে। আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মৌখিক গণতন্ত্র, বিতাড়িত হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র।

রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ রোধ: পাকিস্তানি রাজনীতির ললাটে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। ক্ষমতালিন্সু পাক সামরিক জান্তারা রাজনৈতিক অঙ্গনকে বারবার কলুষিত করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা ছিল রাজনীতি থেকে সামরিক বাহিনীর প্রভাব মুক্ত করা। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের অল্প কিছু দিনের মধ্যেই কতিপয় সেনাসদস্য কর্তৃক জাতির জনক শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা সে চেতনাকে ধূলিসাৎ করে দেয় অন্যদিকে জেনারেল জিয়া এবং এরশাদের ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়াও নিয়মতান্ত্রিক ছিল না। তা ছাড়াও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও সামরিক বাহিনী প্রায়ই কলকাঠি নাড়ে। ২০০৭ সালেও আমরা দেখেছি পর্দার অন্তরালে আবার কখনও প্রকাশ্যে সামরিক বাহিনীর নৃত্য। সুতরাং বলা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত হতে পারেনি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লাভ: বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পূর্বে এদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারত না। সংবাদপত্রেরও কোনো স্বাধীনতা ছিল না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জন তাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একটি আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার কিছু পরই আমরা দেখেছি অনেক সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। মতপ্রকাশ এদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার (সংবিধানের ধারা -৩৯) অন্যদিকে স্বাধীনতা-উত্তর সরকারগুলো দ্বারাও তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপ্রকাশের অবাধ স্বাধীনতার কথা বলা হলেও বাস্তবে বিদ্যমান অন্যটা।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকল্প: বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের একটি অন্যতম আদর্শ ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। কিন্তু ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সে সম্ভাবনাকে তিরোহিত করে। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্থলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের পথ প্রশস্ত করে। কেননা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করেন যা মূল মুক্তিসংগ্রামের চেতনা থেকে পৃথক। তবে দুঃখের বিষয় হলো স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও আমরা সমগ্র জাতিকে একটি চেতনায় আকৃষ্ট করতে পারিনি। আমরা এখনও কেউ ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের’ ধারক আবার কেউ ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীর’ ধারক যা একটি জাতির বিভক্তির জন্য কোন অংশে কম দায়ী নয়।

ধর্মনিরপেক্ষতা পরিহার: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সকল ধর্মের লোক একাত্ম হয়ে অংশগ্রহণ করেছিল। পাকিস্তানের সংবিধান ইসলাম ধর্মের স্বীকৃতি ছিল বিশেষভাবেই। ফলে সংখ্যালঘু শ্রেণী সর্বদাই একটি হীনম্মন্যতায় ভুগত। স্বাধীনতাযুদ্ধ ও বিজয় লাভ এরূপ অবস্থা পরিবর্তনের একটা আবহ তৈরি করেছিল। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং জেনারেল এরশাদের বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া ধর্মরিপেক্ষতার নীতিকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে। বিশেষ করে জেনারেল এরশাদ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছেন। অন্য দিকে বর্তমান সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির কথা বললেও সংবিধানে এখনও ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বহাল রেখেছেন। আবার এটাও বিবেচনায় আনার দরকার যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের প্রতিফলন হওয়া।

স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর রয়েছে সম্মানজনক অবস্থান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আদর্শ ছিল স্বকীয় মর্যাদাভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ। স্বাধীনতা-উত্তর সকল সরকার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে এ মৌল আদর্শই অনুসরণ করে আসছে। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হতে পেরেছে- “সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয়।” তবে বর্তমানে আমরা তার প্রতিফলন পুরোপুরি দেখতে পাই না। কখনও কখনও আমরা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দ্বারা আক্রান্ত।

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম আদর্শ ছিল প্রশাসনের সকল পর্যায় থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা। পাকিস্তানি প্রশাসনব্যবস্থা ছিল আগাগোড়াই দুর্নীতিতে আকীর্ণ। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সময় পরও বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন কায়েম করতে পারেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে তা শাখা-প্রশাখাসহ এক মহীরুহ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বে বহুবার প্রম স্থানাধিকারী দেশ। আর সব ধরনের দুর্নীতির সূতিকাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বাংলাদেশের নিম্নমানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যা মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে করেছে ম্লান।

সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন: স্বাধীনতার পূর্বে অর্থনৈতিক অঙ্গনে পূর্ব পাকিস্তান ছিল চরম বৈষম্যের শিকার। পূর্ব পাকিস্তান পরিণত হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশ ও শিল্পকারখানার প্রধান কাঁচামাল জোগানদাতা। ফলে অর্থনৈতিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্য ছিল পর্বতময়। মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলেই ছিল অর্থনৈতিক শোষণমুক্তি ও উন্নতি। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও আমরা দেখি পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক শোষণপ্রক্রিয়া বন্ধ হেেয়ছে সত্য, কিন্তু সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে গেছে সুদূর পরাহত। সমাজে উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনও আকাশপাতাল।

বৈষম্যমুক্ত সামাজিক কাঠামো: পাকিস্তান শাসনামলে সামাজিক কাঠামো ছিল চরম বৈষম্যমূলক। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর হতেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক চক্র বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি প্রভৃতির ওপর পরিকল্পিতভাবে আঘাত হানতে থাকে। পাকিস্তানের অধিকাংশ লোকের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে সমগ্র পাকিস্তানে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাছাড়াও বাঙালিদের সকল ক্ষেত্রে হেয় করার একটা নগ্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল এসবের তীব্র প্রতিবাদ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সমাজকাঠামোর বৈষম্য এখনও লক্ষণীয়। ক্ষমতা আর অর্থের বৈভবে সামাজিক কাঠামো এখনও স্তরায়িত। শ্রেণীব্যবধান বেড়েই চলেছে লাগামহীনভাবে।

ইসলামে স্বাধীনতার তাৎপর্য
স্বদেশ ভাবনায় একজন বাংলাদেশি বাঙালির শ্রেষ্ঠ অনুভুতি স্বাধীনতা প্রিয় সুর “আমার সোনার বাংলা..” Best combination লালসবুজ। পদ্মা মেঘনা যমুনা বিধৌত ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের সোনাছোঁয়া মেঠো প্রান্তর তার ভালোবাসার ঠিকানা। কবির ভাষায়“পুেষ্প পুষ্পে ভরা শাখী, কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখী/গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে-/তারা ফুলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।/ভাইয়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ/..এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/ সকল দেশের রাণী সে যে- আমার জন্মভূমি।” (ডি. এল. রায়) ঐতিহাসিক কাল পরিক্রমায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণ তথা গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ ও জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রকাশ করে- “আর তোমাদের কী হলো যে, দুর্বল পুরুষ-নারী ও শিশুদের পক্ষে- যারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের অত্যাচারীদের এই জনপদ থেকে উদ্ধার কর। তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অভিভাবক পাঠাও এবং তোমার পক্ষ থেকে অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠাও।” (সূরা নিসা: ৭৫)। আমাদের ২৬৩ দিনের সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের চরম পর্যায় ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করি স্বাধীনতা। এ কথা প্রণিধানযোগ্য যে কোন অত্যাচারী শাসক চিরস্থায়ী হয় না ক্ষমতার মসনদ ভেঙে পড়বেই আমাদের ধৈর্য কম হওয়ায় আমরা বারবার বিচলিত হয়। ধৈর্য ধারণকারীরা সর্বদায় সফল হয় কারণ আল্লাহ ধৈর্যধারণকারীকে পছন্দ করেন। আরবি ‘হুররিয়্যাতুন’ অথবা ‘হুরারুন’ অর্থ স্বাধীনতা, মুক্ত, বীরত্ব, স্বাধীন ইত্যাদি। যার সমার্থক Freedom, Independence মহান আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনসত্তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনের বাণী-“পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তার সবই তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন।” (সূরা হজ: ৬৫) নিপীড়নের শৃঙ্খলে বন্দিত্ব মানবমর্যাদার পরিপন্থী। মহান আল্লাহ বলেন, “আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি এবং তাকে জলে-স্থলে বিচরণের সামর্থ্য দিয়েছি।” (সূরা বনি ইসরাইল: ৭০) রক্তসাগরপাড়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ মৃত্যুঞ্জয়ী ত্রিশ লাখ বনি আদমের হাসির ঝিলিক আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। ৫২, ৫৪, ৬২, ৬৬, ৭০, ৭১ এর কালপরিক্রমায় আসে আমাদের স্বাধীনতা এবং পূর্বদিগন্ত উজ্জ্বল করে ওড়ে লাল-সবুজের বিজয় নিশান। ১১ সেক্টর কমান্ডার, ৭ বীর শ্রেষ্ঠ, ৬৮ বীর উত্তম, ১৭৫ বীর বিক্রম, ৪২৬ বীরপ্রতীক সবার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ‘রক্ত ঋণে কেনা’ আমাদের স্বাধীনতা হলো মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। (Independence is a precious gift of Allah) মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণোৎসর্গ করেছেন তারা ‘মৃত্যুহীন প্রাণ’। আমরা তাদের স্মরণ করি বিনম্রচিত্তে, জাতি স্মরিবে তাদের আবহমান কাল।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দীর্ঘ পথপরিক্রমার ফলস্বরূপ। এর বীজ নিহিত সুদূর অতীতে। দীর্ঘ শাসন- বৈষম্য-অবিচারকে বাঙালি জাতি কখনই সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামও ছিল সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবাদ। অর্থনৈতিক, সামজিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি বৈষম্য ও অন্যায়ের প্রতিবাদস্বরূপ এক মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি ছিনিয়ে আনে এদেশের স্বাধীনতা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতা দীর্ঘ সময় পরও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শাবলি রয়ে গেছে চরম অবহেলায়। স্বাধীনতার এত বছর পরও যখন আমরা দেখি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বিশ্বে দুর্নীতিতে বারবার চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে তখন সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার মূল্য ভূলুণ্ঠিত হয়। নিশ্চয়ই দেশমাতৃকার ডাকে সেদিন যেসব তাজা প্রাণ শহীদ হয়েছিল তাদের আত্মা আজ আর্তচিৎকারে ফেটে পড়ছে। তাই দেশের সরকার ও বিরোধীদলসহ সকলের প্রচেষ্টা হওয়া উচিত দেশের সর্বক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শগুলোর বাস্তবায়ন করা, তবেই সার্থক হবে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান। আমি বিশ্বাস করি এ দেশের সকল মানুষ অসাম্প্রদায়িকতায় চরমভাবে বিশ্বাসী এবং তারা কাজে বিশ্বাসী।
সুতরাং কাজ-পাগল এ দেশের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি আনয়ন করতে হলে আমাদের ভুলে যেতে হবে রাজনৈতিক ভেদাভেদ, রাজনৈতিক সহিংসতা, ক্ষমতার লিপ্সা, প্রতিষ্ঠা করতে হবে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, সততা ও নৈতিকতাসম্পন্ন রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সর্বোপরি সমাজের সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে হবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় মূল্যবোধ।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply