স্মৃতিতে শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক -হাফেজ দেলোয়ার হোসাইন

সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বের ইতিহাস পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে। শাশ্বত সত্য ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য আল্লাহর একান্ত প্রিয় নির্ভীক সিপাহসালারগণ যুগ যুগ ধরে সদা-সর্বদা প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। অপরদিকে মিথ্যার ধারক-বাহক বলে পরিচিত যারা, সত্য যাদের অন্তরে তীরের ন্যায় বিঁধে, তারা সবসময় এই শাশ্বত সত্যের টুঁটি চেপে ধরে রাখতে চেয়েছে। নিভিয়ে দিতে চেয়েছে আল্লাহর দ্বীনের উজ্জ্বল আলো বিচ্ছুরণ। সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় রাসূলের (সা.) যুগে ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস অনন্য। সেই ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় একদিকে যেমন উত্তাল সাগরের মতো প্রতিবন্ধকতার; অন্যদিকে নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং বঞ্চিত মানুষের পক্ষ থেকে অন্যায় প্রতিরোধের। এই ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল হযরত সুমাইয়া (রা)-এর শাহাদাতের মাধ্যমে। কালের সন্ধিক্ষণে যুগ থেকে যুগান্তরে মহান রাব্বুল আলামিনের অগণিত অকুতোভয় সৈনিক শাহাদাতের রক্তপিচ্ছিল পথ পাড়ি দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসের ধারাকে গৌরবোজ্জ্বল করে রেখেছেন।
শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ছিলেন পরম করুণাময়ের এমন এক অকুতোভয় সৈনিক, যিনি শাহাদাতের স্বর্ণসিঁড়ি বেয়ে জান্নাতের ফুল হয়ে মহান রাব্বুল আলামিনের বাগিচায় ফুটে রয়েছেন। বাগানের মালিক যেমন প্রয়োজনে বাগান থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ফুলটি তুলে নেন। মহান আল্লাহ্ও দুনিয়ার বাগান থেকে তাঁর পছন্দমতো শ্রেষ্ঠ ফুল হিসেবে শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ভাইকে উঠিয়ে নিয়েছেন।

অন্যায়ের প্রতিবাদ ও প্রতিবেশীর সেবায়
শহীদ খলিলুর রহমান
শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। এলাকার কোন মানুষকে কোন অন্যায় করতে দেখলে বলিষ্ঠকণ্ঠে প্রতিবাদ করতেন এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিতেন। চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে তিনি তার জীবন সাজিয়েছিলেন এক অনন্য আদর্শ হিসেবে। প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ছিলেন সর্বদা সচেতন। এজন্য প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা গরিব ছিল তাদেরকে সামর্থ্যানুযায়ী সাহায্য সহযোগিতা করতেন। রোগ-শোক, বিপদাপদে সব সময় খোঁজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করতেন এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কার্পণ্য করতেন না।
গ্রামের ছাত্রদেরকে ঢাকায় এনে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করে দিতেন। শুধু গ্রামের কথা বললে ভুল হবে ঢাকাতেও তিনি কিছু ছাত্রকে নিজের খরচে পড়াশোনা করাতেন। হাসান নামের একটি ছেলে আমার বাসার পাশেই থাকতেন। আমি তাকে খলিল ভাইয়ের শাহাদতের কথা বলতেই তিনি স্তব্ধ হয়ে গেলেন এবং বলতে লাগলেন ভাই খলিল ভাইয়ের উপকারের কথা আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না। আমি যখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি তখনই আমার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর একদিন খলিল ভাইয়ের সাথে পরিচয় হলো। খলিল ভাই আমার বই-খাতা-কলম সবকিছু কিনে দিলেন এবং স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। আর আমার জন্য একজন স্যার ঠিক করে দিলেন। আমি তার কাছে গিয়ে পড়ে আসতাম। সপ্তম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক ক্লাসের বই খাতা কলম টিচার সবকিছু ভাই আমাকে ম্যানেজ করে দিতেন। আমি সেদিন সত্যি অবাক হয়ে গেলাম যে একটি সাধারণ ছাত্র যে সংগঠনের এখনো কিছুই হয়নি। এমন একটি ছেলের জন্য ভাইটি বিগত চার বছর ধরে এত কষ্ট করে আসছেন। তিনি আসলে কোন সাধারণ মানুষ হতে পারেন না; এরপরে সেই হাসান ভাই কর্মী হলেন।

ইসলামী আদর্শের উজ্জ্বল প্রতীক
শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক
শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ইসলামী আদর্শের উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে তাঁর প্রাত্যহিক আচরণ, চালচলন, কথাবার্তায় ইসলামের সুমহান শান্তির অকপট দীপ্তিতে ভাস্বর ছিল। ছোটবেলা থেকেই তাঁর চোখে-মুখে ছিল ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার সোনালি স্বপ্ন। সে জন্য ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তিনি বক্তব্য রাখতেন। ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মী শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ইসলামের কাজ করে সব সময় মানসিক প্রশান্তি লাভ করতেন। সবসময় তাকে দেখতাম কোন প্রোগ্রাম শেষ করে সাথে সাথে তার জনশক্তিদের তথা আমাদের কাছে ফিরে আসতেন। তিনি আমাকে বলতেন প্রোগ্রাম শেষ করে সব সময় বাসায় যাওয়ার আগে জনশক্তিদের কাছে যাবার চেষ্টা করবেন দেখবেন আল্লাহর একটা রহমত বর্ষিত হবে। স্বাভাবিক চাহিদা হিসেবে যখন যা জুটতো তাতেই তিনি সন্তুষ্ট থাকেন। এ ক্ষেত্রে কখনো বাড়াবাড়ি করেননি। তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবন পছন্দ করতেন। উন্নত ও মননশীল রুচিবোধসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে জীবনকে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে চলাফেরা করার চেষ্টা করতেন। তিনি তাঁর কক্ষকে এবং পড়ার টেবিল সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতেন। বাড়িতে তিনি ফল-ফুলের গাছ লাগিয়ে বাড়ির সৌন্দর্য রক্ষার চেষ্টা করতেন। এ ব্যাপারে পাড়া-প্রতিবেশীকেও উদ্বুদ্ধ করতেন। আল্লাহর একান্ত বান্দা হিসেবে শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমেই তাঁর চরিত্রকে উন্নত ও মাধুর্যপূর্ণ করে তুলেছিলেন। পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও তাঁর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তিনি সবসময় সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ব্যবহার করতেন। আর তিনি সবসময় আমাকে বলতেন যে, সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির উপরে কোন স্টাইল নেই। বলা যায় যে, তাগুতি সমাজের ছোঁয়া তাকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। সে জন্য এলাকার সুধীজন ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছিলেন।

ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয়
সময়টি ছিল ২০১০ সাল! নভেম্বর মাসের কোন এক রাত্রে এশার নামাজের পর। শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ভাই আমাদের মাদরাসায় আসেন এবং সবার সাথে সাক্ষাৎ করেন আর নতুন যারা ভর্তি হয়েছে তাদের সাথে পরিচিত হন। আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম।
সংগঠনের পরিচিতি এবং প্রাথমিক কাজগুলো তার কাছ থেকেই আমার শেখা। আমি ছিলাম ভাইয়ের হাতে বৃদ্ধি করা একমাত্র সাথী; যে পরবর্তীতে ওই থানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছি। খলিল ভাই শাহাদতের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ছিলেন আমার ওয়ার্ড সভাপতি আর আমি ছিলাম তার ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক।

শহীদ খলিল ভাইয়ের সাথে সর্বশেষ সাক্ষাৎ
শাহাদতের আগের রাত্রে আমার বাসায় এসেছিলেন আমার সাথে দেখা করতে। আমি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম। তার দুই দিন আগে ঈদের দিন সকালে দেখা করে গেছেন, আবার শাহাদতের আগের দিন রাত্রে এসে বলছেন যে ভাই আপনাদের কথা খুব মনে পড়ছে তাই দেখতে চলে এলাম। ভাই যখন আমার বাসায় এলেন তার চেহারার মধ্যে কেমন যেন একটা নূরের আলো জ্বলছে মনটা অনেক খুশি মনে হচ্ছে। আমার সাথে দেখা করলেন খোঁজ-খবর নিলেন আমার বাবার সাথেও দেখা করে কথা বলেছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই বাড়িতে গেলেন না। উত্তরে ভাই আমাকে বললেন, ভাই- আমার ভাতিজা আব্দুল আউয়াল, আমি তাকে গ্রাম থেকে নিয়ে আসছি এখন আমার বাসা থেকে গ্রেফতার হয়েছে ওই সময় তো আমি বাসায় ছিলাম না সে জন্য আমাকে নিতে পারে নাই কিন্তু গ্রামের মানুষ কেউ কেউ বলছে আমি শিবিরের অনেক বড় ক্যাডার নিজে সতর্ক থাকি আর ওদের খেয়াল রাখি নাই। এই জন্য নিয়ত করছি ওরে সাথে করে নিয়েই বাড়িতে যাবো। এর আগে আর বাড়িতে যাবো না। এর পর আমার বাসা থেকে চলে গেলেন আর বললেন যে আগামীকাল সকাল ৭টায় মিছিল আছে দোয়া করবেন।
শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ভাইয়ের জনশক্তিদের প্রতি এত ভালোবাসা যা শাহাদতের এতদিন পরও আমরা ভুলতে পারি নাই। একজন নিষ্ক্রিয় কর্মীও যদি অসুস্থ হতেন ভাই তাকে দেখতে চলে যেতেন।

শাহাদাতের প্রেক্ষাপট
দিনটি ছিল ১৪ই আগস্ট ২০১৩। সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বাতিল করার প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ দেশব্যাপী ১৩ এবং ১৪ আগস্ট হরতাল কর্মসূচি আহ্বান করে। সেই কর্মসূচি সফল করতে ১৪ই আগস্ট সকাল ৭টায় যথারীতি মিছিল শুরু হলো। দুই সেকেন্ডের মধ্যেই অঝোর ধারায় বিকট আওয়াজ দিয়ে শুরু হলো অনবরত গুলিবর্ষণ। অন্যান্য মিছিলগুলোতে দেখেছি পুলিশ আগে ফাঁকা গুলি করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে, তারপর গ্রেফতার অতঃপর গুলি। কিন্তু এই মিছিলে ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। পুলিশ গাড়িতে থেকেই শটগান তাক করে অনবরত গুলি ছুড়েছে…..। কয়েকজন ভাই খুব বেশি আহত অবস্থায় কোনমতে স্থান ত্যাগ করেছেন, কিন্তু পুলিশের অনবরত গুলির নল হতে ফিরে আসতে পারেননি জান্নাতের পাখি শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ভাই! আল্লাহ যাকে পছন্দ করেছেন সেতো ফিরে আসবে না, এটাই স্বাভাবিক। পুলিশের পিস্তলের নলটি শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ভাইয়ের ঠিক মাথার মধ্যে গিয়ে ঠেকল, মুহূর্তেই একটি বুলেট শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ভাইয়ের মাথার একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বের হয়ে গেল। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন দ্বীনের এই বীর সেনানী। শহীদ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া রিপোর্ট করতে এলো। পুলিশের নিকট মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে পুলিশ চরম হিং¯্রতার পরিচয় দিলো এবং সঠিক ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে অপমৃত্যু বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করল। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কিছু স্বার্থান্বেষী আওয়ামী মিডিয়া শাহাদাতের কফিনকে সামনে রেখেও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করেনি।

বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া
১৪ই আগস্ট সরকারের পুলিশ বাহিনীর গুলিতে ঝরে গেল একটি ফুটন্ত ফুল। ১৫ই আগস্ট তারিখের পত্রিকায় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং বুদ্ধিজীবী মহল বিবৃতি দিলেন। কিছু পত্রিকায় সম্পাদকীয় লেখা হলো এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে। পত্রিকার পাতায়, মিছিলে, প্রতিবাদ সভায় সর্বত্র হত্যাকাণ্ডের জন্য বিশেষভাবে পুলিশকেই দায়ী করা হলো। সারা বিশ্ব থেকে পরিচিত-অপরিচিত সকলেই যেন একসাথে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করল। তখন আমার কাছে একটি কথাই শুধু মনে পড়তো। শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ভাই একদিন আমাকে বলছিলেন যে দেখবেন এমন জীবন গঠন করবো আমি যখন মরবো সারা দেশের মানুষ জানবে যে আমি মারা গেছি! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা শুধু দেশের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন নাই। সারা পৃথিবীর মানুষকে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি তাঁর প্রিয় গোলাপটাকে বাগান থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ যে শহীদদেরকে সম্মানিত করেন খলিলুর রহমান মল্লিক ভাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

সন্তানহারা পিতা-মাতার বর্তমান অবস্থা
শাহাদাতের পূর্বে তাঁর পিতা-মাতা দু’জনেই সুুস্থভাবে, সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করছিলেন। পুত্রশোককে ভুলে গিয়ে শহীদের পিতা হওয়ার গৌরব নিয়েই জীবন যাপন করছেন শহীদের শ্রদ্ধেয় পিতা জনাব মো: আব্দুল বাতেন মল্লিক। আর জনমদুঃখী মাতা জামেলা বেগম সন্তানহারা ব্যথা নিয়ে এখনো দুঃসহ জীবন যাপন করছেন।

আজও স্বপ্ন দেখেন শহীদের স্বজনরা
শহীদের স্বজনদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা বলেন তার সাথে তো আমাদের প্রায়ই কথা হয়! একদিন শহীদের বাবা স্বপ্নে দেখেন- শহীদের বাবা তাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করল খলিল তুমি কোথায়? খলিল ভাই বললেন আমি মুরাদপুর মাদরাসায় আছি। বাবা জিজ্ঞেস করলেন খাওয়া দাওয়া করেছ? উত্তরে খলিল ভাই বললেন কাজ করছি কিছুক্ষণ পরে খাবো।
শহীদের চাচাতো ভাই বলেন- কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন মিলে খলিল ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখি তার কবরের পাশে একটা টিউবওয়েল বসানো এবং তার ওপরে একটা ছাউনি দেয়া আমরা সেখানে দাঁড়ালাম এবং পানি পান করলাম আর হতবাক হয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম যে এই ব্যবস্থা কে করল? তিনি উত্তরে বললেন, খলিল ভাই সবার জন্য এই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যাতে মানুষ চলার পথে এই টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতে পারেন এবং এখানে বিশ্রাম নিতে পারেন।
চাচি বলেছেন- কিছুদিন আগে তাদের বাজারে একটি মিছিল হয়েছে। মিছিলের সামনের কাতারে তিনি খলিল ভাইকে দেখেছেন, মিছিলের পর জিজ্ঞেস করলেন খলিল বাড়িতে যাবে না? সে বললো চাচি এখন না পরে যাবো।
আমাদের প্রিয় ভাই আমাদের উপর বিশাল দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে আমাদের কঠিন বিপদের সমুদ্রে ফেলে রেখে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেলেন। হে আল্লাহ শহীদ খলিলুর রহমান মল্লিক ভাইকে শহীদ হিসেবে কবুল করে হযরত খুবাইব, খাব্বাব, আমীর হামজাহ, সাঈদ কুতুব শহীদ, হাসানুল বান্না, আব্দুল কাদের মোল্লা, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দলে শামিল করে নাও। আর আমাদেরকেও তার মতো তোমার রাস্তায় শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।
লেখক : সভাপতি বিআইসিএস, পোস্তগোলা থানা,
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ

SHARE

Leave a Reply