স্মৃতির পাতায় পরিবারের কথা

মায়ের দোয়া
মাহমুদা মানসুরী মুন্নী

কর্ণ আমার অষ্ট প্রহর প্রতীক্ষাতে থাকে
মুজাহিদ এসে মাগো বলে একটু যদি ডাকে।
ঘুমের আগে খোদার কাছে একটি দোয়াই করি
স্বপ্নের মাঝে সেই হাসি মুখ দেখতে যেন পারি।
ডিম ভাজি আর পান্তা ভাত দেখলে হত খুশি
হয়নি বলা ‘জাদু’ তোকে কতো ভালোবাসি।
তোর কারণে আজকে আমার অনেক ছেলে
সম্মান ও ভালোবাসা দিচ্ছে ওরা ঢেলে।
দু’চোখ আমার ছলছল অনেক দিন পরে
দোয়া করি মুজাহিদরা আসুক ঘরে ঘরে।

কবি : মুজাহিদের মা

শিপন আমার গর্ব
মোছা: মাহফুজা বেগম

শহীদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন চাঁদপুর জেলার মতলব থানায় ১৪ আগস্ট রোববার জন্মগ্রহণ করে। ছোটবেলা থেকে খুব বেশি চঞ্চল কিংবা খুব বেশি চুপচাপ- এ দুয়ের মাঝামাঝি সে ছিল। সে কোনো বিষয়ে আমাদেরকে ঝামেলা কিংবা পাওয়ার জন্য জোরাজুরি করতো না।
পড়াশোনার প্রতি ছিল তার যথেষ্ট আগ্রহ। তার এই আগ্রহ দেখে আমি এবং তার বাবা সিদ্ধান্ত নিই তাকে হাফেজ বানাবো। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত গোড়ান নাজমুল হক সিনিয়র মাদরাসা থেকে পড়ার পর হেফজখানায় আমরা তাকে ভর্তি করিয়ে দিই। হেফজ শেষ করে তামিরুল মিল্লাত মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। এখান থেকে দাখিলে ১১তম স্থান অধিকার করে। মানুষের সাথে সে খুব সহজেই মিশে যেত। হাসি এবং গল্পের মাধ্যমে যে কোন আসরকে প্রাণবন্ত করতে শিপনের জুড়ি ছিল না। মানুষের যে কোন বিপদ কিংবা সমস্যা সমাধানে সে দ্রুত সাড়া দিতো। যেমন- এক ছেলে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা উঠলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির পর দেখা গেল তার ওষুধের টাকা নেই। সে তার নিজের পকেটের টাকা দিয়ে ঐ ছেলের ওষুধ কিনে দেয় এবং সারারাত তার বিছানার পাশে থেকে সেবা-শুশ্রুষা প্রদান করে ভোরে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরে। এলাকার এক বৃদ্ধ লোকের কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিলে ঐ লোকটিকে ৩০ টাকা রিকশাভাড়া প্রদান করে তার নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেয়। এলাকায় সে এতই ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল যে, চার বছর ধরে মসজিদে তারাবি পড়িয়েছে। সরকারি বিজ্ঞান কলেজে অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তার আচরণে মুগ্ধ হয়ে হিন্দু ছেলেরা পর্যন্ত বায়তুলমালে অর্থ প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করত। শহীদ হওয়ার আগের বছর ২০০৫ সালে গোড়ানের এক বাড়িতে তারাবির ইমামতি করে।
শিপন এলাকার অনেক ছেলেকে কুরআন শরিফ পড়তে শিখিয়েছে। এলাকার এক ছেলের মা একদিন আফসোস করে বলছিলেন, আমার ছেলেকে কুরআন শেখাবে। সেও রাজি হয়েছিল কিন্তু তাকে এখনও কুরআন শেখাতে পারিনি। যে গরিব ছেলেদের বাবা টাকা দিতে পারত না তাদেরকে সে টাকা ছাড়াই পড়াতো। এলাকার ছেলেরা খারাপ হয়ে যাচ্ছে তাদেরকে ভালো করতে হবে- এই চিন্তায় সে সারাক্ষণ ব্যস্ত ছিল। সে সবাইকে মসজিদে নামাজ এবং কুরআনের আলোকে জীবন গড়ার তাগিদ দিতে ব্যতিক্রম আয়োজনের মাধ্যমে তাদেরকে দাওয়াত পৌঁছাতো। যেমন ব্যায়াম, ফুটবল, ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন। ফজরের নামাজের সময় ছেলেদেরকে নামাজের জন্য ডাকতো ভোরে যেন কেউ না ঘুমায় সে জন্য শহীদ মাসুম তাদেরকে সাথে নিয়ে মাঠে খেলতে যেতো।
বাসায় ওর কারণে কেউই মুখ ভার করে রাখতে পারত না। সে থাকা অবস্থা তাকে অবশ্যই কথা বলতে হবে বা হাসতে হবে। কারণ তার একটি অভ্যাস ছিল কৌতুকের মাধ্যমে সবাইকে আনন্দ দেয়া। এই জিনিসটা আমার কাছে খুব ভালো লাগত। সে আমাকে কাছে ডেকে বসে বলতো, আমার কথা এখন শুনেন না, এমনও দিন আসবে কেউ আপনাকে ডাকবে না।
এলাকায় ছাত্রদের মাঝে দাওয়াতি কাজের কারণে এলাকার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি তার প্রচন্ড বিরোধিতা করে এবং তাকে হুমকি প্রদান করলেও সে তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। তারা দাওয়াতে সাড়া না দেয়ার খোঁজ নিয়েছে কেন তারা এলো না। এভাবে আল্লাহ তাকে সবার মাঝে একটি সুন্দর মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করে নিষ্পাপ হিসেবে তার দরবারে নিয়েছেন।
শহীদ হওয়ার কয়েকদিন আগে এক গরিব ছেলেকে ঈদের পাঞ্জাবি এবং তার বাড়িতে সেমাই-চিনি পাঠায় সে। এক অসুস্থ রোগীকে রক্ত দিয়ে সে অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে, তারপরও আমি বললাম, তুমি রক্ত দিলে কিন্তু তোমার শরীর তো দুর্বল। সে বলল, আপনি যেমন আমার মা, আমার জন্য আপনার যেমন কষ্ট লাগে, তারও তো এরকম কষ্ট লাগে।
রক্তের কারণে যদি সে বেঁচে যায় তবুও তো ভালো। নিজে রক্ত দেয়ার পাশাপাশি অন্যকেও উৎসাহী করত রক্ত দেয়ার ক্ষেত্রে।
আজ আমার একটাই প্রত্যাশা-শিপন যে রকম কৌশলে দ্বীনের দাওয়াত দিত, সবাই যেন সে রকম কৌশলে এবং মানুষের উপকারের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত সবার কাছে পৌঁছায়। আর আমার শিপনকে যেরকম নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে শহীদ করা হয়েছে, আমার ছেলে কুরআনে হাফেজকে তারা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তার দাঁত পর্যন্ত শহীদ করেছে। তাই আমি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয় এবং কোনো সন্তানকে যেন এভাবে না মারা হয়।
লেখিকা : শিপনের মা

আমি এক গর্বিত মা
মোছা: রোকেয়া বেগম

আমার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় মো: রফিকুল ইসলাম। আমার বড় বোনের কোনো সন্তান না থাকায় আমাদের পরিবারে তাকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকত। এমনকি রফিকুলের বয়স যখন ২ বছরের একটু বেশি, তখনও সে মায়ের দুধ ছাড়েনি, সে বয়সেই তার নানা ও তার খালা তাকে নিয়ে যান এবং আদর যত্নে নিজেদের কাছে রেখে দেন। এরপর আমার কোলজুড়ে আসে দ্বিতীয় ছেলে ওহাব। এভাবেই সময়ের ব্যবধানে খালার কোলেই বড় হতে থাকে রফিকুল। স্বামী ও সন্তানহীনা তার খালা তাকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। আর রফিকুল তার নানা-নানী এবং খালার আদরে থাকতেই পছন্দ করত। কিন্তু এ আদর বেশি দিন তার কপালে টেকেনি। মাত্র ৫ বছর বয়সে তার নানী ও ৭ বছর বয়সে নানা ইন্তেকাল করেন। এরপর খালার বাসাতে থেকেই তার স্কুলজীবন শুরু হয়। তারপর সে মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে থাকত আর চলে যেত। রফিকুল যখন দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন থেকেই আমরা জানতে পারি সে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত হয়েছে। শিবির করার পর থেকেই তার মাঝে আমরা অনেক পরির্বতন দেখতে পাই। কিছু দিনের জন্য বাড়িতে এলেই আমাকে সে সময় দিত, নামাজ পড়তে বলত, গ্রামের মানুষ ঝগড়া করলে সে আমাদের সেখান থেকে দূরে থাকতে বলত। অভাবের সংসারে তার ছোট ভাই ওহাবকে তখন আমরা ঢাকায় সোয়েটার কোম্পানিতে পাঠিয়ে দিই। এদিকে আমার বড় বোন রফিকুলকে পড়াশোনা করাতে থাকেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। ঈদের ছুটিতে আমার বোন ও দুই ছেলেকে কাছে পেয়ে খুবই খুশিতে ছিলাম। আমরা জানতাম না যে, সেই দিন কুড়িগ্রাম শহরে মিছিল আছে। আমরা সবাই সেদিন বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করছিলাম। কিন্তু এর মধ্যে রফিকের মাঝে একটু তাড়াহুড়া লক্ষ্য করলাম। সে বাড়িতে এসে বলল, আমাকে এক্ষুনি খালার বাড়িতে যেতে হবে আমাকে ভাত দাও। আমরা জানতাম না সে কিসের জন্য এত তাড়াহুড়া করছে? আমি তাকে ভাত খেতে দিলাম তার ধরে আনা মাছ, পছন্দের হাঁসের গোশত ও ডাল দিয়ে। আমি আর তার খালা দু’জনে পাশে বসে তাকে খেতে দিলাম। সে সেদিন অনেক ভাত খেয়েছিল। সে খেতে খেতে তার খালাকে বলল, দেখছো আম্মা কত সুন্দর করে মাছ ভাজতে পারেন? আর ডালও কত সুন্দর? কে জানতো, সেটাই তার জীবনের শেষ খাবার? খাওয়া শেষ করে রফিকুল যখন চলে যাচ্ছে, তখন ওর খালা ও আমি বাড়ি থেকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এলাম। আমরা হয়তো আরো যেতাম কিন্তু তার বাধায় আর যাইনি। কিন্তু যতক্ষণ সে চোখের আড়াল হয়নি ততক্ষণ আমরা দুই বোন তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আর দেখলাম সে কিছু দূর যাচ্ছে আর পেছনে ফিরে আমাদের দেখছে। কে জানত যে, সেটাই তার শেষ দেখা? কে জানত যে সেটাই তার শেষ বিদায় মুহূর্ত। আমি জানি না কেন তাকে বিদায় দেয়ার পর থেকে আমার আর ভালো লাগছিলো না। আর জানতাম না কেনই বা একটা কাক গাছের ডালে বসে শুধু চিৎকার করছিলো। আর যখন বুঝতে পারলাম আমার কলিজার টুকরা রফিকুল আর নেই, তার পরের স্মৃতিগুলো প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার নেই। কিভাবেই বা তা প্রকাশ করা সম্ভব? আমার ছেলেকে হারানোর দু-একদিন পর এক রাতে ঘুমের মাঝে আমার ছেলে আমার সাথে দেখা করতে এলো। আমি তার সাথে কথা বললাম। আমি বললাম ‘ত্ইু না মরে গেছিস?’ সে বলল, ‘আম্মা এ কথা আর কক্ষনো তুমি বলবে না। আমি মরে যাইনি, আমি শহীদ হয়েছি।’ হ্যাঁ সে ইসলামের জন্যই শহীদ হয়েছে, আর আমি তার গর্বিত মা। রফিকুলের শাহাদাতের প্রায় এক মাস পর এক রাতে আমি এশার নামাজ না পড়েই ঘুমিয়ে যাই। হঠাৎ দেখি রফিকুল একটা লাঠি হাতে বাড়িতে এসেছে। আর আমাকে বলছে, আম্মা তুমি নামাজ পড়েছো? আমি বললাম, না। তখন সে চলে গেল। তাকে আর খুঁজে পেলাম না। এভাবে আমার সন্তান আল্লাহর কাছে চলে যেয়েও আমার নামাজের খোঁজ নিয়েছিলো। রফিকুলের শাহাদাতের পর শিবিরের ছেলেরা এসে হয়তো আম্মা  বলে ডাকবে। তাই শিবিরের ছেলেদের মাঝেই খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করি আমার রফিকুলকে। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ আমার ছেলে যেন শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করে। আমার ছেলের কোনো অপরাধ ছিল না। সে এলাকার ছেলেদের কুরআন শেখাতো, নামাজ পড়াতো। এতো সুন্দর সোনার টুকরো ছেলেকে যে আওয়ামী হায়েনারা আঘাতের পর আঘাতে আমার বুক খালি করেছে আমি তাদের বিচারের অপেক্ষায় আছি। যদি দুনিয়ায় দেখে যেতে না-ও পারি তবে অবশ্যই সবচেয়ে বড় ন্যায়বিচারক মহান আল্লাহর দরবারে বিচার দেখবো ইনশাআল্লাহ। আমিন।
কথা : রফিকের মা

 

আমার প্রাণপ্রিয়
আব্দুল্লাহ আল ফয়সল
সাইয়েদা হাসনা বানু

২৮ অক্টোবরের সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমি মা হয়ে কোন দিন ভুলতে পারব না। সেই দৃশ্য মনে পড়লে কষ্টে আমার প্রাণ ফেটে যায়। তবে এ জন্য গর্ববোধ করি এ মৃত্যু সাধারণ কোনো মৃত্যু নয়। এ মৃত্যু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের, এ মৃত্যু আল্লাহর জমিনে অন্যায়কে দূর করে ন্যায় ও হক প্রতিষ্ঠার জন্য।
জীবনকে বিলিয়ে দেয়ার এ মৃত্যু সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, “তোমরা ওদেরকে মৃত বলো না বরং ওরা জীবিত কিন্তু তোমরা অনুধাবন করতে পার না।”
অ্যাকসিডেন্ট হয়েও অনেক মানুষ মারা যায়। অসুস্থ হয়েও মানুষ মারা যায় কিন্তু এভাবে যারা জীবন দেয় ন্যায়কে প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আল্লাহর সম্মানিত মেহমান। তাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এবং কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে- তারাই সফলকাম। আল্লাহর কাছে সফলতার সার্টিফিকেট পাওয়ার চেয়ে সৌভাগ্য আর কী হতে পারে? আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ করি আল্লাহ যেন আমাদের সন্তানগুলোকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং এই সন্তানদের উছিলায় আমরা মায়েরা যেন কঠিন হাশরের দিনে নাজাত পেতে পারি। আমার সন্তান আব্দুল্লাহ আল ফয়সল ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিল। কয়েক বছর আগে তার আব্বা ব্রেনস্ট্রোক করে মারা যান। ওর বাবা মারা যাওয়াতে আমি অনেক ভেঙে পড়ি। কোনো অবস্থাতেই আমরা যেন ভুলে না যাই আল্লাহকে এবং আল্লাহর হুকুম আহকামকে। ইসলামী আন্দোলন করতে যেয়ে লাভবান হওয়া যাবে এটা যেন কারো উদ্দেশ্য না হয়। বরং আল্লাহর সন্তষ্টিই মুখ্য উদ্দেশ্য হতে হবে।
এ দুঃসময়ে যারা ইসলামী আন্দোলনের কাজ করে তাদেরকে আমি অসংখ্য মোবারকবাদ জানাই। এই কঠিন দিনে যারা জীবনকে বাজি রেখে যে সোনার ছেলেরা দ্বীনের এই গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি তাদের যেন আল্লাহ হায়াতে তাইয়্যেবা দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করেন। আল্লাহ যেন আমার দোয়া কবুল করেন, আমিন।

লেখক : ফয়সলের মা

SHARE