স ম্পা দ কী য়

‘মহররম’ অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী। এর মধ্যে কারবালার ঘটনা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ এক ট্র্যাজেডি, যা আজীবন মুসলমানদের মনে বেদনা দিয়ে যায়। ইয়াজিদের নিষ্ঠুরতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ইমাম হোসাইন রা. তাঁর পরিবারসহ শাহাদতের স্মৃতিকে মুসলমানরা আন্তরিক দুঃখ ও বেদনার মাধ্যমে ব্যক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ সা.-এর প্রতি যা ঈমানের স্বাভাবিক প্রতিফলন। কেননা এটি শুধু হত্যাকাণ্ডই ছিল না, বরং ইসলামের ইতিহাস সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ভিন্ন দিকে মোড় নেয়ার এক ট্র্যাজেডি। বিষয়টি আরো বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে যখন দেখা যায় মুসলমানরা ইমামের শাহাদতের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে ভুলে গিয়ে অযথা কিছু আনুষ্ঠানিকতায় লিপ্ত হয়। ইমাম হোসাইন রা.-এর মূল চেতনা উপলব্ধি না করার ফলে মুসলমানরা আজও বিভ্রান্ত হচ্ছে। দিকে দিকে মুনাফিকরা ইসলামের কী পরিমাণ ক্ষতি করেছে তা নিয়ে আজও উদাসীন তারা। ইমাম হোসাইন রা. যে চেতনায় জাগ্রত হয়ে তৎকালীন স্বৈরশাসক ও জালিমের মোকাবেলায় দাঁড়িয়েছিলেন, সেই চেতনা মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে হবে। জানতে হবে কারবালার সঠিক ইতিহাস এবং সেই অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে কর্মপন্থা।

এখন স্যাটেলাইট চ্যানেল, ফেসবুক-ইন্টারনেটে যৌন সুড়সুড়িমূলক বিজ্ঞাপন, চিত্রকলা আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তরুণসমাজ দেশজ ঐতিহ্য ভুলে বিদেশী সংস্কৃতির ভয়াল ফাঁদে পা দিয়েছে। উৎসবের নামে থার্টিফার্স্ট নাইট, কুরুচিপূর্ণ নাচ-গান, রক-ব্যান্ড নিয়ে মাতামতি, সঙ্গীত-নৃত্যের নামে অশ্লীলতা, মাদকতায় যেভাবে ডুবে আছে তা জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত। প্রতিদিন পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালগুলোতে প্রেম, পরকীয়া, তালাকের কাহিনী, হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণসহ হাজারো অন্যায়ের সংবাদ শঙ্কিত করে আমাদের। জাতির ভবিষ্যৎ সন্তানদের নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য শিক্ষা দিতে শাসকশ্রেণীর কোনো তৎপরতা নেই বরং অশ্লীলতাকেই প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছে তারা। মানুষকে সুস্থ বিনোদন দেয়ার জন্য যারা আপ্রাণ চেষ্টা করে তাদের নানা অপবাদ ও অভিযোগের ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয়। যাতে কেউ সুন্দরের পথে আসতে না পারে। কিন্তু মানুষের জীবনোদ্দেশ্য, কর্ম, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে একটিবার ভাবলে মুক্তির ঠিকানা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর নয়। সুস্থ ও সুন্দরের পথে যারা ডেকে যান আমাদের পথচলা হোক তাঁদের সাথে।

কবি ‘মতিউর রহমান মল্লিক’। শুধু কবি নয়; একজন সব্যসাচী শিল্পী। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে যিনি কলুষমুক্ত করতে সংগ্রাম করে গেছেন আজীবন। ইসলামের মর্মবাণী মানবমনে উপলব্ধি করাতে যার প্রচেষ্টা ছিল অনবদ্য। হৃদয়ের মাধুরী মেশানো দরদভরা কণ্ঠ শুনে জনপদের মানুষ স্তব্ধ হয়ে যেত। দুনিয়া ও আখিরাতের এক অসাধারণ সমন্বয় ছিল তাঁর গানে। যে আহ্বানে আলোড়িত হয়ে উঠতো মুমিনহৃদয়। গানের পাখি মল্লিক ২০১০ সালের ১১ আগস্ট রোজ বুধবার রাতে চলে যান না ফেরার দেশে। তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও অসংখ্য সৃষ্টিকর্ম আমাদের জন্য রেখে গেছেন। তার হাতে তৈরি হওয়া শতশত গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী সুস্থ সংস্কৃতিকে চর্চা করে যাচ্ছেন এখনো। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

SHARE

Leave a Reply