স ম্পা দ কী য়

মনের মুকুরে ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধের মুক্ত মিছিল মিলিয়ে গেছে তেপান্তরে। স্বাধীনতার সমুন্নত বাতাসের খোঁজে দৃপ্ত পদে নিয়ত এগোয় স্বপ্ন সৈনিকেরা। আজ থেকে অর্ধশত বছর আগের এক লাল সূর্য এখনও গৌরবময় স্বকীয় সতেজ সার্বভৌম স্বাধীনতার আলো দিয়ে আসছে বাংলার জমিনে। তাজা খুনের টগবগে স্রােতধারায় তরুণ মন উদ্বেলিত হয় এখনো। স্বপ্নের বীজ বুনে সবুজ জমিনের বুকে। যদিও ১৭৫৭ সালে মীর জাফরদের জন্য পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয় এই সূর্য। দীর্ঘ ২০০ বছর ব্রিটিশদের গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ বাংলায় উৎপীড়িত নিপীড়িত নিষ্পেষিত জনতা তা সয়ে গেছে বিজয়ের লক্ষ্যে। করুণ ও মর্মান্তিক কিছু আর্তচিৎকারের ঘটনা যেমন নির্মম তেমনই নির্মম ছিল পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার। সেই অত্যাচার-শৃঙ্খল ভেঙেছিলো বীর সেনানীরা; তবে ভাঙতে পারেনি স্বৈরাচারের শৃঙ্খল। আজ অর্ধশত বছর পরে এদেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য মানুষকে কাঁদায়। স্বৈরাচার সরকারের প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে মাফিয়া চক্র। দলীয় গুণ্ডাবাহিনীর দাপটে মানুষ মুখ ফুটে কথা বলতে পারে না। লক্ষ কোটি যুবক কর্মসংস্থানের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের অব্যক্ত বেদনাগুলো নোনাজল হয়ে মিশে যায় বাতাসে। শ্রেণী-বিদ্বেষ, দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কবলে চাকরি নামের সোনার হরিণ। আজগুবি ও গায়েবি মামলার ভয়ে তটস্থ সত্যপন্থী মানুষ। দেশের চাকা কি এভাবেই ঘুরবে? সিদ্ধান্ত নিতে হবে নবীনদের। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। দেশের প্রয়োজনে আমাদেরকে হতে হবে সাহসী, সংগ্রামী ও প্রতিবাদী।

চলমান করোনাভাইরাস প্রকোপ অনেকটাই কমে গেছে। জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে সমাজে। মানুষ সচেতনতাকে সহজ করে নিয়েছে। এমতাবস্থায় কলকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বা জনসম্পৃক্ত সকল প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক নিয়মে চললেও আজো বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফ্যাসিবাদী সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষাব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, তবে ক্লাসের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। অনলাইনে ক্লাস নেয়ার বিষয়টি লোকদেখানো বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেধার মূল্যায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত একধরনের প্রহসন হলেও ছাত্ররা জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে ফেলতে চাচ্ছে না। তারা পরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্তে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে। হল খোলার দাবি তুলেছে। রাষ্ট্র কতটা অথর্ব হলে শিক্ষার্থীদের এরকম একটি জীবনঘনিষ্ঠ দাবির বিপরীতে পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করতে পারে, এ সম্পর্কে সচেতন ছাত্রসমাজের পাশাপাশি অভিভাবকদের সোচ্চার হওয়া নৈতিক দায়িত্ব। দেশে প্রাথমিকভাবে করোনার টিকা সিনিয়র সিটিজেনদের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাপ্তির অধিকার বিবেচনা আজ সময়ের দাবি। কারণ ছাত্রসমাজ বাঁচলে দেশ বাঁচবে, বাঁচবে স্বাধীনতা।

SHARE

Leave a Reply