স ম্পা দ কী য়

বাংলাদেশ বারবার ঘুরে দাঁড়াতে জানে। পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট্ট এই ভূখণ্ড প্রাচীন আমল থেকেই শোষিত, বঞ্চিত ও শাসিত হয়ে আসছে। পর্তুগিজ, মারাঠি, বর্গী সেনাদের লুণ্ঠন থেকে ব্রিটিশদের গোলামি এরপর পাকিস্তানের দুঃশাসন থেকে মুক্তিযুদ্ধ দেশটিকে ক্ষত-বিক্ষত জর্জরিত করে দিলেও কালের পরিক্রমায় ঘুরে দাঁড়ানো এই দেশ প্রমাণ করে শত কষ্ট বরণ করে নিতে প্রস্তুত এদেশের জনগণ। কিন্তু একটি বিষয় অত্যন্ত আশ্চর্যের। ব্রিটিশ শাসনামলের আগে এই দেশে ইসলাম শিক্ষার যে রাজকীয় পরিবেশ ছিল তা কালের পরিক্রমায় ভুলতে বসেছি আমরা। সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মুসলিম জমিদারদের সোনালি সমাজ একে একে ধ্বংস করে হিন্দু জমিদারদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় লর্ডদের ইতিহাসও স্মরণ করে না এদেশের অধিকাংশ মানুষ। এজন্য বারবার লাঞ্ছিত, পরাজিত ও শোষিত হয়েও আমরা দাসত্বের বেড়াজাল ছিঁড়ে মালিক হতে পারিনি কখনো। আজও আমরা ভারতের দালাল নয়তো পাকিস্তানের দালাল তকমা আদান-প্রদানের মাঝে দোলাচল খেয়েই বেঁচে আছি কোনোমতে। এর অন্যতম কারণ শিক্ষাব্যবস্থায় বিষাক্ত ভাইরাস থেকে বের হতে না পারা। শহীদ আবদুল মালেকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ জাতির অধিকাংশ মানুষের পিছুটানই শুধু নয় রীতিমতো বাধার পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে এ দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী-মহল।

দীর্ঘদিন করোনা মহামারীর অজুহাতে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মাঝে হঠাৎ ছাত্রদের জেগে ওঠার গুঞ্জন শুরু হয়। সম্ভবত এই ভয় জেঁকে বসে স্বৈরাচার সরকারের মনে। এজন্য যেকোনো উপায়ে জনতাকে দমিয়ে রাখার ছুতো খুঁজতে থাকে সরকার। পরিস্থিতি বুঝে করোনা ও লকডাউনকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। করোনা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় এটি সারাবিশ্বের সমস্যা। কিন্তু বাংলাদেশের মতো মধ্যবিত্তদের দেশে যে পরিমাণ লকডাউন ও শাটডাউনের রাজনীতি চলছে তা রীতিমতো অমানবিক। লকডাউন যদি খুবই দরকার হয় তাহলে জনগণের খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদাগুলোর জোগান নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ তো দেখা যায়নি বরং হয়রানি ও দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র প্রত্যক্ষ করেছে মানুষ। সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো অস্থায়ী আর্থিক সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক কর্মহীন পরিবারকে মাসিক দুই হাজার করে টাকা নগদ সহায়তা দিতে। এ ব্যাপারে সরকারের ব্যাপক উদাসীনতা প্রকাশ পেয়েছে। সামান্য কিছু টিসিবি বরাদ্দ দিলেও তা হকদার লোকদের ভাগ্যে থাকছে না। বরং সুবিধাভোগীরাই লুফে নিচ্ছে এই সুবিধা। সুতরাং লকডাউন বা শাটডাউনের মতো পরিস্থিতি এদেশের মানুষের জন্য অমানবিক বিবেচনা করে সরকারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও চিকিৎসার মান বাড়ানোর দিকে জোর দেয়া বেশি প্রয়োজন।

বর্তমান সময়ে যুবসমাজের নৈতিক পতন অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যা রীতিমতো হতাশার। তাদেরকে অপমৃত্যুর অন্ধকূপ থেকে রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। যুবক-যুবতীদের তারুণ্যের চেতনায় বিশ্বাসী অগ্রযাত্রায় ইসলামী আদর্শের প্রলেপ দিতে না পারলে সমাজের চিত্রটা হয়ে যাবে অন্যরকম। যুবকদের উন্নত আদর্শ কোন কারখানায় তৈরি হবে? দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদরাসা থেকে গতানুগতিক ধারায় তেমন কোনো নৈতিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার পরেও জাতি কাক্সিক্ষত উন্নত হতে পারছে না। এক্ষেত্রে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা বরং যা ছিল তাও হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে। এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সবাইকে। আদর্শ ও নৈতিক উন্নতির মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে হবে সবকিছু।

SHARE

Leave a Reply