স ম্পা দ কী য়

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলো কিছুদিন আগেই। ছাত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায় শেষে দুরন্ত তরুণদের নতুন আঙ্গিনায় পদচারণের কথা। কিন্তু স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে ঝুলছে তালা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর অবস্থা। উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত। এইচএসসি পরীক্ষা কত দিনে হবে না হবে সেই নিশ্চয়তা নিয়ে অভিভাবক মহলে রয়েছে উদ্বেগ। গোটা শিক্ষাকাঠামো যেন বিভক্ত হয়ে পড়েছে নানান ব্যবধানে। ধনী শ্রেণীর লোকজন তাদের বাচ্চাদেরকে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে অনলাইনে পড়ালেখা করানোর ব্যবস্থা করছেন। মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর লোকজন চাকরিচ্যুত হয়ে অথবা বকেয়া বেতনের অনিশ্চয়তা নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছেন হতাশার গণ্ডিতে। লেখাপড়ার ব্যয় তারা বহন করবে কী দিয়ে? গ্রামের প্রান্তিক শ্রেণীর অনেক মানুষ আবার অনলাইনের ব্যবহার সম্বন্ধে অজ্ঞ। অনেক স্থানে আবার বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে অনলাইনে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে অংশগ্রহণে রয়েছে বিপত্তি। সরাসরি ক্লাসে অভ্যস্ত ছাত্র- শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড কখনো অনলাইনের মাধ্যমে পূরণ হওয়ার নয়। শিক্ষার এই মাধ্যমভিত্তিক বিভাজন সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক বৈষম্যকে দারুণভাবে উসকে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই মুহূর্তে পরামর্শভিত্তিক সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে অবস্থা আরো ভয়াবহ হতে পারে।
করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মহা বিপর্যয় নেমে এসেছে সারা পৃথিবীতে। এর প্রতিটি সেক্টরে বইছে মন্দার বিশাল বিশাল ঢেউ। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নামার ফলে বিশ্বের সকল দেশের অর্থনীতিই ব্রেকডাউন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদরা তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করছে ইচ্ছামতো। আবার ত্রাণের মালপত্র দিয়ে স্বীয় উদর পূর্তি করে দেশে সৃষ্টি করে তুলেছে হাহাকার। এরই মধ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর প্রতিটি পণ্যের ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য খাতকে পঙ্গু করে দিয়ে মানবতার অবস্থা এখন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। এক দিকে আয়ের খাতগুলো বন্ধ; অন্যদিকে ব্যয়ের খাতকে বৃদ্ধি করা হয়েছে দ্বিগুণ। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চারিদিকে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের কবলে দেশ এখন ক্ষত-বিক্ষত। সবমিলে দেশ এখন এগিয়ে চলছে অজানা গন্তব্যে।

একটি দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির নানা কারণ থাকতে পারে। বর্তমান সময়ে এর অন্যতম কারণ হচ্ছে রাজনীতি। আজকাল রাজনীতিতে নামমাত্র ‘নীতি’ শব্দটির উল্লেখ থাকলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে উল্টোটাই দেখা যায়। সাধারণ মানুষ এ জন্য রাজনীতিকে ঘৃণার চোখে দেখে। অথচ রাজনীতি হতে পারতো পরিশীলিত, মার্জিত, জনগণের সার্বিক কল্যাণে নিবেদিত এবং সত্য ও সুন্দরের পথে ধাবিত হওয়ার মাধ্যম। ‘রাজনীতি’র ‘নীতি’ হচ্ছে সেই জিনিস যা মানার অনুভূতি-ই হচ্ছে নৈতিকতা। এই নৈতিকতা মানবীয় চরিত্রের এমন একটি গুণ যা মানুষকে সঠিক পথে চলতে উৎসাহিত করে। অনুপ্রাণিত করে সব কাজে আল্লাহকে খুশি করে চলার নিয়ম। এতে একজন মুসলমান বিশ^নবী (সা.)-এর অনুসৃত পদ্ধতিতে মানতে চাইবে পবিত্র কুরআনের বিধানাবলি। আর পবিত্র কুরআনের দাবি অনুযায়ী সমাজের সকল দিক ও বিভাগ থেকে আল্লাহ-বিরোধী শক্তি অপনোদন করে আল্লাহর কর্তৃত্ব ও রাসূল (সা.)-এর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই পথে শত বাধা-বিপত্তির নিত্যনৈমিত্তিক ভার্সন ডিঙ্গিয়ে হিম্মত বুকে নিয়ে এগিয়ে চলবে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে তারা শান্তির এক সোনালি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাবে নিরন্তর। এই কাজ অবহেলা বা অস্বীকার করার কোনো বিষয় নয়, এই অর্থে রাজনীতি করা প্রতিটি মুসলমানের ফরজ দায়িত্ব।

SHARE

Leave a Reply