হজ বৈষম্যমুক্তির অমোঘ চেতনা -ড. হাসান তাহজিব

ওয়া লিল্লাহি আলান্নাসি হিজ্জুল বাইতি মানিস তাতাআ ইলাইহি সাবিলা। অর্থাৎ সামর্থ্যবান মানুষের জন্য বাইতুল্লাহ জিয়ারত করা আবশ্যক। তার মানে আর্থিক-শারীরিক সক্ষমতা, পথের নিষ্কণ্টকতা এবং শরয়ি ও রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তার জন্য বাইতুল্লাহর জিয়ারত ও তাওয়াফসহ শরিয়ত নির্ধারিত কার্যাদি সম্পন্ন করা অবশ্য কর্তব্য। ( সূরা আলে ইমরান- ৯৭)
হজের সময় সমাসন্ন। হজের বিধি-বিধান চান্দ্র মাসের সাথে প্রযুক্ত। ইসলামের অধিকাংশ বিধান চান্দ্র মাসের সাথে যুক্ত। যেমন রোজা, দুই ঈদ, জাকাত, ফিতরা, হজ ইত্যাদি। তবে চাঁদের সাথে হজের সম্পর্ক বেশি ওতপ্রোত। কুরআনিক ভাষ্যে চাঁদের হিসাব যেন হজেরই জন্য। আল্লাহ বলেন- ইয়াস আলুনাকা আনিল আহিল্লাহ কুল হিয়া মাওয়াকিতুল্লিন্নাসি ওয়াল হাজ্জি। অর্থাৎ তারা তোমাকে চাঁদ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। তুমি তাদের বলে দাও এটি মানুষের দিনপঞ্জির হিসাবার্থে এবং হজের নিকাশার্থে। (সূরা আল বাকারা : ১৮৯)
আয়াতের শব্দ চয়ন হজের গুরুত্ব নির্দেশক। চন্দ্রসম্পৃক্ত অনেক ইবাদাতের মাঝে আয়াতে হজকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে এ বিশেষ ইবাদাতের মর্যাদা, মাহাত্ম্য, গুরুত্ব ও বিশেষায়নের প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
হজের স্থান নির্ধারিত, সময় সুনির্দিষ্ট। এক নির্দিষ্ট জায়গায় হজেচ্ছু সবাইকে জমায়েত হওয়ার বাধ্যকতা থাকায় এর সময় পরিধিও ব্যাপক। সাদাকাতুল ফিতর এর সময় পহেলা সাওয়াল, সিয়ামের বিধান পূর্ণ রমজান মাস, যাকাত বর্ষশেষে যাকাত আদায়ার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষণবিশেষ। কিন্তু হজের বিষয়টি আলাদা। আল্লাহ বলেন, আল হজ আশহুরু মায়ালুমাত। অর্থাৎ হজের সময় টানা কয়েক মাস। আয়াতের শাব্দিক অর্থের সাথে প্র্যাকটিক্যাল ইবাদাতের সমন্বিত নির্যাস এমন- হজ সংশ্লিষ্ট মৌলিক কাজ অল্প ক’দিনে সমাপ্ত হলেও এর সার্বিক প্রস্তুতি চলে কয়েক মাসব্যাপী। সে জন্যই কুরআনে হজের মাসসমূহ বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। পৃথিবীর সকল প্রান্ত হতে হজ পিপাসু জনমণ্ডলী মক্কায় একত্র হওয়া থেকে শুরু করে হজ শেষে পরিজনের কাছে পৌঁছা পর্যন্ত মাসাধিক সময়ের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। যোগাযোগ উৎকর্ষতার এ যুগেও এ প্রয়োজনীয়তা স্বীকার্য।
পরিচ্ছন্ন মানস গঠন, আল্লাহ মুখীনতা, আত্মত্যাগী মনোবৃত্তি, দ্বীনের প্রাধান্য, প্রবৃত্তি বিসর্জন, সব কিছুর ওপর পরকালীন জীবনের অগ্রাধিকার ইত্যাদির লক্ষ্যেই হজের প্রবর্তন। এটিই হজ দর্শনের মূল কথা। হজ দর্শনের প্রতিফলনের জন্য অবশ্যই তা হওয়া চাই আল্লাহর রাহে নিবেদিত। আল্লাহ বলেন, ওয়া আতিম্মুল হাজ্জা ওয়াল ওমরাতা লিল্লাহি। অর্থাৎ তোমাদের হজকে নিখাদ রূপে আল্লাহর রাহে নিবেদন করো। ( সূরা আল বাকারা ১৯৬)
মানবতার দিকদর্শন ইসলামী জীবনাদর্শের প্রতিপালন করা চাই প্রতিটি পদক্ষেপে। ইসলামী জীবনাদর্শের গোঁড়ার কথা বিরোধ ও বৈষম্যের চির অবসান। বিরোধ কিংবা বৈষম্যের কোনো স্থান ইসলামে নেই। ইসলামের প্রতিটি বিধি-বিধান প্রবর্তনে এ চেতনা ছিল প্রতিমূর্ত। হজের বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রেও এ বিবেচনা ছিল সদা জাগ্রত। ইসলামের বুনিয়াদি ইবাদাতসমূহ নিয়ে যদি একটু ভাবি
ক. আমরা যখন কালিমা তাইয়্যিবার স্বীকৃতি দিয়ে তাওহিদের একনিষ্ঠ অনুবর্তী হই- তখনই আমরা মুমিন বা মুসলমান হিসেবে অভিষিক্ত হই। এ পরিচিতি আমাদেরকে একটি গোষ্ঠী বা সমাজের অন্তর্ভুক্ত করে। আমাদের পরিচিতি হয় তখন মুমিন বান্দা হিসেবে। কুরআনের উদ্ধৃতি- ইন্নামাল মুমিনুনা ইখওয়াতুন অর্থাৎ নিশ্চয়ই সকল মুমিনই ভাই ভাই। (সূরা আল হুজুরাত : ১০)
হাদিসের বিবৃতি- আল মুসলিমু আখুল মুসলিমি- অর্থাৎ এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। এভাবেই কালিমার অমোঘ বাণী কালিমানুবর্তীদের একই কাতারে এনে চিরতরে বৈষম্যের মূলোৎপাটন করতে চায় ইসলামী অনুশাসন।
খ. সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণই সালাতের শরিয়তসিদ্ধতার মৌল কথা। সালাত সর্বাত্মকভাবে সমাজের অভ্যন্তরে ঘাপটি মরে থাকা যাবতীয় বৈষম্য দূর করতে চায়। সালাতের জামাতে একই ইমামের আনুগত্য, সালাত আদায়ের একই পদ্ধতি, বৈষম্যমুক্ত জামাতের লাইন ইত্যাদি আমাদেরকে সুখী, মসৃণ ও সমতল সমাজের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এটিই সালাতের আধ্যাত্মিকতা। সালাত সংশ্লিষ্ট সকল কাজই বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে প্রেরণার উৎস।
গ. সাওম বা সিয়াম সমাজের শ্রেণি চিন্তা বিরোধী অনবদ্য এক ইবাদাত। এই ইবাদাত ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে সকল মুমিনের মাঝে এই চেতনার প্রসার ঘটায়- আমরা এক আল্লাহর বান্দা ও গোলাম। সাওমের সদা ইঙ্গিত- মর্যাদার মানদণ্ড কখনো অর্থ নয় । মর্যাদার গোড়ার কথা তাকওয়া যার সার্বজনীন সবক দিয়ে থাকে রমজান ও সিয়াম। আল্লাহর ভাষ্যে- ইন্না আকরামাকুম ইন্দালাহি আতকাকুম। অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যে তাকওয়ার অনুবর্তী সেই আল্লাহর নিকটে মর্যাদাবান হিসেবে অগ্রগণ্য। (সূরা আল হুজুরাত : ১৩)
ঘ. সামাজিক বৈষম্য ও শ্রেণিভেদ অদৃশ্যকরণে যাকাতের ভূমিকা অতুলনীয়। সামাজিক দারিদ্র্যমুক্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় যাকাত সুপার অ্যান্টিবায়েটিক হিসেবে কাজ করে। সমাজে অর্থনৈতিক সমতা আনয়নে এর চেয়ে শ্রেয়তর ব্যবস্থাপত্র আর কিছু হতে পারে না। আল্লাহ বলেন- কাই লা ইয়াকুনা দাওলাতান বাইনাল আগনিয়াই মিনকুম। অর্থাৎ সম্পদ যাতে তোমাদের ধনীদের মাঝেই আবর্তিত হতে না পারে। (সূরা আল হাশর : ৭)
ঙ. এবার আসি হজ প্রসঙ্গে- হজ দর্শনের মূল কথাই হলো শ্রেণি বিরোধ বা শ্রেণি সংগ্রামের চির বিদায়। ধর্ম বৈষম্য শুধু সমাজ থেকে নয় বিশ্ব থেকে দূর করে ইসলাম সামাজিক বর্ণবৈষম্য রেখায় যে আঘাত করতে চায় তারই আন্তর্জাতিক রূপায়ণ হজ। অর্থাৎ ইসলামের নানাবিধ ইবাদাতের শেকড় প্রোথিত- অবৈষম্য ও অভেদ চেতনায়। আর এসব ইবাদাতের ব্যাপ্তি ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু হজের চেতনা ব্যাষ্টিক পরিমণ্ডলকে ছাপিয়ে আন্তর্জাতিকতাকে স্পর্শ করে। বৈষম্য নির্মূলে সকল ইবাদাতের মূল সুর এক হলেও হজের ক্ষেত্রে তার ব্যাপ্তি সুদূরপ্রসারী এবং এর মাত্রিকতা আকাশচুম্বী। মানাসিকে হজ বা হজের কর্মকাণ্ডে বৈষম্য তো নয়ই বৈষম্য চিন্তার লেশটুকু পাওয়া যায় না। যখন দেখি হজেচ্ছু সকলেই সেলাইবিহীন দু’খণ্ড কাপড়ে আবৃত হয়ে তাওয়াফ করে, সায়ী করে। সবাই তাওয়াফে সাত চক্করই দেয়। কমবেশি নয়। সায়ীতেও তাই। ইবাদাত পালনে নেই কোনো পার্থক্য।
হজ মৌসুমে হাজীরা সচরাচর জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। কী অভূতপূর্ব সে দৃশ্য! প্রতি ঘণ্টায় কয়েকটি বিমানের অবতরণ হয়। বিমানবন্দরের সুবিশাল উঠানে তখন শুভ্রতার ছড়াছড়ি। কী অপূর্ব মায়াময়! মোহময় সে দৃশ্য! চোখ না জুড়িয়ে পারে না। যেদিকে তাকাই শুধু সফেদ শুভ্রতা। অযুত সফেদের আনাগোনা। এই সৌন্দর্য অনবদ্য। এ দৃশ্য অনুপম। এ সৌন্দর্যের চেতনা চিরন্তন, চিরায়ত। এই সকল কিছুই যেন বৈষম্যমুক্ত মুক্তির মহিমা। আল্লাহর ঘোষণা- ইয়াতিনা মিন কুল্লি ফাজ্জিন আমিকিন অর্থাৎ তারা জগতের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সমাগত হয়। (সূরা আল হাজ্জ : ২৭)
মানাসিকে হজ বা হজের প্রতিটি কর্মসূচিই বৈষম্য মুক্তির মোড়কে আচ্ছাদিত। মিনায় অবস্থান, তাঁবু ঘরের মাঝে ছোট ছোট কুঠুরিতে জনাকীর্ণ বসবাস, বৈরী-বিরূপ, অনুকূল কিংবা প্রতিকূল যেকোনো আবহাওয়ায় আরাফার ময়দানে দিনব্যাপী সহনশীল অবস্থান, খোলা আকাশের নিচে মুজদালিফায় রাত্রি যাপন ইত্যাদি বিধান তো সবার জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। ব্যত্যয় বা ব্যতিক্রমের কোনো সুযোগ এখানে নেই। অর্থ বা বর্ণের কোনো তারতম্য এখানে নেই।
হাজীরা আল্লাহর মেহমান। রাসূলের হাদিস- যারা হজব্রত সূচারুরূপে পালন করে তারা যেন নিষ্পাপ শিশুতুল্য। বৈষম্যমুক্তির কী অপূর্ব স্বীকৃতি! সবাই শিশু, মানবসমাজের নবীনতম সদস্য। যারা গড়বে এই পৃথিবীকে সুন্দর করে। বৈষম্যহীন করে।
প্রকৃতপক্ষে ইসলাম একটি আদর্শের নাম, বিশ্বাসের নাম। পরিশীলিত অর্থে এটি একটি চেতনারও নাম। হজ মুসলমানদের মাঝে শুদ্ধতম চেতনা সঞ্চারপ্রয়াসী। একজন মুসলিমের হজ চিন্তার শুরু থেকে এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া, বাড়ি থেকে বের হওয়া, মক্কায় পৌঁছা সবই শুদ্ধতা ও পবিত্রতার সুরভিতে সুবাসিত। হজের প্রতি আগ্রহ প্রতিনিয়ত মানুষকে পবিত্র করতে থাকে। চিন্তাকে পরিশুদ্ধ ও বিশুদ্ধ করতে থাকে। মুসলিম মননে এর প্রভাব এতটাই যে, হজ গমনেচ্ছু সহসা অপরাধপ্রবণ হতে লজ্জাবোধ করে। হজকালীনও এর প্রভাব থাকে সমানতর। যদিও হজের কার্যাদি চলাকালীন অন্যায়, অপরাধ, অনাচার ইত্যাদির সামান্যতম সুযোগও নেই। ঐশী ঘোষণা- ফালা রাফাসা ওয়ালা ফূসুকা ওয়ালা জিদালা ফিল হাজ্জ। অর্থাৎ- হজকালীন ঝগড়া-বিবাদ-বিতণ্ডা, পাপাচার-অনাচার, অশ্লীলতা-কপটতা এসবের কোনো সুযোগ নেই। (সূরা আল বাকারা : ১৯৭)
তাই যদি কোনো মুসলিম হজকালীন সামান্যতম অপরাধেও শামিল হয় এ জন্য তাকে জরিমানা আদায় করতে হয় আর্থিক কিংবা শারীরিক। পরিশ্রমসাধ্য ও আর্থিক এ ইবাদতের সমূহ প্রভাব এঁকে যায় প্রতিটি মানসপটে। ফলত তারা হজ থেকে ফিরেও কোনো পাপ কাজে প্রবৃত্ত হয় না। যে কোনো পাপাচার একজন হাজীকে করে লজ্জিত, আড়ষ্ট। পাপবিমুখতার কারণেই হাজীরা সমাজে হোন সম্মানিত, আল্লাহ ভীরুতার জন্য প্রশংসিত। হজ থেকে বৈষম্যমুক্তির যে সবক তারা গ্রহণ করেন তদ্বারা সমাজকে আলোকিত ও আলোড়িত করতে থাকেন। সরব থাকেন এ চেতনা জাগ্রত করতে যে, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই, নেই কোনো বৈষম্য। আল কুরআনের অমিয় বাণী- ইয়া আইয়্যুহান্নাসু ইত্তাকু রাব্বাকুম আল্লাজি খালাকাকুম মিন নাফসিন ওয়াহিদাতিন ওয়া খালাকা মিনহা যাওজাহা ওয়া বাচ্ছা মিনহুমা রিজালান কাছিরান ওয়া নিসাআ। অর্থাৎ প্রিয় মানবমণ্ডলী ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র আত্মা থেকে আর তা হতে সৃষ্টি করেছেন তার সঙ্গিনী, তা হতে ছড়িয়ে দিয়েছেন অসংখ্য নর-নারী। (সূরা আন নিসা : ১)
সত্যিই এ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অতুলনীয় তত্ত্ব। এক বাবা-মায়ের ঔরসজাত ভ্রাতৃসম সকল মানব। অবকাঠামোগত কোনো পার্থক্য এখানে নেই। মানুষ সৃষ্টির আদি ও মূল চেতনা হলো- তারা একই ঔরসের সন্তান। ভেদ চিন্তার প্রয়াস এখানে অর্থহীন। এ কালজয়ী তত্ত্ব মহান আল্লাহর। তাই তার মনোনীত জীবনব্যবস্থা ইসলামের সকল শুচি ও আচারের মূল লক্ষ্যও তাই। ইসলাম প্রণীত সকল ইবাদতের মর্ম মূলেই রয়েছে বৈষম্যমুক্তির অনির্বাণ চেতনা। অবশ্য সালাত, সাওম, জাকাত ইত্যাদির বৈষম্যমুক্তির ধারণা অনেকটা ব্যষ্টিক ও সামাজিক পর্যায়ে, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত। কিন্তু হজের এ চেতনা বিশ্বব্যাপী তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিব্যাপ্ত। অর্থাৎ হজ যে অবৈষম্য চেতনার আবহ তৈরি করতে করে তা ব্যষ্টিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে আরো বৃহত্তর পরিসরকে একীভূত করে এবং তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলকে স্পর্শ করে অতি সহজেই। এখানেই হজের স্বতন্ত্রতা, বিশেষত্ব।
হজের এ আধ্যাত্মিক চেতনার নেপথ্যে কাজ করে থাকে আরো এক মহান উপলব্ধি। তা হলো- তাকওয়াল্লাহ বা খোদাভীতি। এ কথা বাহুল্য নয় যে, ইসলামের সকল ইবাদাতের মৌল লক্ষ্যই তাকওয়া। অর্থাৎ তাকওয়াশূন্য ইবাদাত মূূল্যহীন কর্ম প্রচেষ্টার নামান্তর। রবের ঘোষণা- ইয়া আইয়্যুহান্নাসু উবুদু রাব্বাকুম আল্লাজি খালাকাকুম লাআল্লাকুম তাত্তাকুন। অর্থাৎ হে জনমণ্ডলী! তোমরা তোমাদের রব এর ইবাদাত করো। যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। যেন তোমরা তাকওয়াবান হতে পারো। (সূরা আল বাকারা : ২১)
আমরা যদি তাকওয়ার প্রেষণায় উজ্জীবিত হয়ে, পরিচ্ছন্ন মানস নিয়ে, ভক্তি ও একনিষ্ঠতার সাথে হজের কার্যাদি যথাযথভাবে আদায় করতে পারি তবে নিশ্চয়ই আমাদের হজ ফলপ্রদ হবে, বিশ্বব্যাপী অবৈষম্য চিন্তার প্রসারে অগ্রণী হবে। ধর্ম-বর্ণ-অর্থ ভেদাভেদের যান্ত্রিক কলে নিপিষ্ট বিশ্বজনতা সাম্য-সুখের প্রবাহে প্লাবিত হবে। নিখিল বিশ্বে উচ্চকিত হবে সাম্যের জয়গান। শান্তির উল্লাসে উচ্ছ্বসিত হবে বিশ্বমানবতা। পৃথিবীতে প্রতিধ্বনিত হবে ইসলামের অবৈষম্য চিন্তার জয়-ডঙ্কা।
আল্লাহ আমাদের জন্য সালাত, সাওম, জাকাতের মতোই হজকেও সহজ করে দিন। সবাইকে বাইতুল্লাহর জিয়ারতের বারবার সুযোগ করে দিন। আল্লাহর কাছে সেই মিনতি করছি বিনম্রচিত্তে।

লেখক : অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

SHARE

Leave a Reply