হিরোশিমা-নাগাসাকি দিবসের ভাবনা পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব চাই জালাল উদ্দিন ওমর

সময়ের পরিক্রমায় প্রতি বছর আগস্ট মাস এলেই মনে পড়ে হিরোশিমা-নাগাসাকির কথা। মনে পড়ে বর্বরতা এবং নৃশংসতায় অকালে মৃত্যুবরণকারী লাখো মানুষের কথা। হিরোসিমা-নাগাসাকি পৃথিবীর মানুষের কাছে নৃশংসতম বর্বরতার একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে বছরের পর বছর ধরে চিত্রিত হয়ে আসছে। হিরোশিমা-নাগাসাকির নাম শুনলেই ভয়ে আঁতঙ্কে ওঠে শান্তিপ্রিয় মানুষের মন। মনে পড়ে মানবজাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত সর্বকালের সর্বনিকৃষ্ট বর্বরতা ও নৃশংসতার কথা। চোখের সামনে ভেসে ওঠে মানবসমাজকে হত্যার জন্য পরিচালিত সীমাহীন বর্বরতা ও নৃশংসতার প্রতিচ্ছবি। যেই বর্বরতা ও নৃশংসতায় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেছিল জাপানোর হিরোসিমা ও নাগাসাকি শহরের লক্ষাধিক মানুষ। সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছিল আরো লক্ষাধিক মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছিল লক্ষাধিক পশুপাখি ও মৎস্যজগৎ। আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গিয়েছিল সবুজ বৃক্ষরাজি আর গাছপালা। ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল দুটি জনপদে প্রাণের স্পন্দন। এসব হচ্ছে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পারমাণবিক বোমা হামলার ভয়াবহ পরিণতি। হিরোশিমা এবং নাগাসাকির ওপর পারমাণবিক বোমা হামলার পঁচাত্তর বছর অতিক্রান্ত হলেও বিশ্ববাসী এখনো পারমাণবিক বোমা হামলার হুমকি এবং আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারেননি। এই অবস্থায় মানবজাতিকে যদি পারমাণবিক বোমার নৃশংসতা থেকে বাঁচাতে হয় তাহলে হিরোশিমা এবং নাগাসাকির পুনরাবৃত্তি যে কোন মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা একটি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব চাই।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র যে পারমাণবিক বোমা হামলা চালায় তার ধ্বংসলীলা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে সেখানকার মানুষ। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা নগরীতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলা চালায়। স্থানীয় সময় সকাল আটটা পনেরো মিনিটে ‘লিটল বয়’ নামের এই বোমাটি নিক্ষেপ করা হয় যার ধ্বংসক্ষমতা ৬.৫ কিলোটন টিএনটির সমান। এই বোমার আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে হিরোশিমা নগরী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। প্রাণ হারায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার মানুষ। প্রাণ হারায় লক্ষাধিক পশু। গাছপালা সব পুড়ে যায়। পারমাণবিক বোমা থেকে সৃষ্ট আগুনের লেলিহান শিখা হিরোশিমা নগরীকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়। এর ঠিক তিন দিন পর ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকি নগরীতে যুক্তরাষ্ট্র আবারো পারমাণবিক বোমা হামলা চালায়। স্থানীয় সময় বিকেল তিনটা সাতচল্লিশ মিনিটে ‘ফ্যাটম্যান’ নামের নিক্ষিপ্ত বোমাটির ধ্বংসক্ষমতা হচ্ছে ২২ কিলোটন টিএনটির সমান। এখানেও কয়েক মিনিটের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন সত্তর হাজার মানুষ। হিরোশিমার মতো নাগাসাকিও আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যায়। হিরোশিমা এবং নাগাসাকির ওপর যে দুটি পারমাণবিক বোমা হামলা হয় তার তেজস্ক্রিয়তায় যুগ যুগ ধরে সেখানকার মানুষ, জীবজন্তু নানা ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং কত মানুষ এবং প্রাণী যে বিকলাঙ্গ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তার বোঝা বহন করেছে সারা জীবন তা হিসাবের বাইরে। মানবজাতির ওপর এত বড় ধ্বংসাত্মক ঘটনা এবং বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা পৃথিবীর ইতিহাসে আর একটিও ঘটেনি।
সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজ শুরু করে। ১৯৪৫ সালের ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দেশ হিসাবে নিউ মেক্সিকো রাজ্যে পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালায় এবং এর কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাপানের ওপর হামলা চালায়। হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পারমাণবিক বোমা হামলায় শহর দুটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মুহূর্তেই মারা যায় দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ। এর কয়েক দিন পর ১৪ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়। পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়ার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ক্ষেত্রে একক এবং শ্রেষ্ঠতম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। পারমাণবিক বোমার ধ্বংসক্ষমতা দেখে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ আতঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং নিজেরাও সামরিক ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্যে পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। শুরু হয়ে যায় পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জন এবং পারমাণবিক বোমা তৈরির তীব্র এক প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয় রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন), ব্রিটেন, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়া। ১৯৪৯ সালের ২৯ আগস্ট সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন তার প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এর মাধ্যমে পারমাণবিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে ব্রিটেন, ১৯৬০ সালে ফ্রান্স, ১৯৬৪ সালে চীন, ১৯৭৪ সালে ভারত, ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান এবং ২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এর মাধ্যমে পারমাণবিক বোমার অধিকারী দেশ হিসেবে নিজেদের ঘোষণা করে। এ ছাড়া ইসরাইল অঘোষিতভাবে পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়েছে এবং পরমাণূ বিশ্লেষকদের মতে ইসরাইল ১৯৭৯ সালেই অতি গোপনে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পারমাণবিক বোমার অধিকারী দেশসমূহ তাদের পারমাণবিক বোমার শক্তিমত্তা জাহির করার জন্য কিছুদিন পর পর পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এ ধারাবাহিকতায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ১০৫৪ বার, রাশিয়া ৭১৫ বার, ব্রিটেন ৪৫ বার, ফ্রান্স ২১০ বার, চীন ৪৫ বার, ভারত ৬ বার, পাকিস্তান ৬ বার এবং উত্তর কোরিয়া ৬ বার। এ তো গেল পারমাণবিক বোমার শক্তিমত্তা প্রমাণের জন্য ঘটানো বিস্ফোরণের সংখ্যা। এ ছাড়া মজুদের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। প্রাপ্ত হিসাব অনুসারে মজুদকৃত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮০০-৬১৮৫, রাশিয়ার ৬৩৭০-৬৪৯০, যুক্তরাজ্যের ২০০-২১৫, ফ্রান্সের ২৯০, চীনের ৩০০-৩২০, ভারতের ১৪০-১৫০, পাকিস্তানের ১৬০, উত্তর কোরিয়ার ৩০-৪০ এবং ইসরাইলের ৯০টি। এক একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে খরচ হয় বিলিয়ন ডলার। সুতরাং শক্তিমত্তা প্রকাশের জন্য বিস্ফোরণ ঘটানো পারমাণবিক বোমা সমূহের তৈরির পেছনে ব্যয় কত ট্রিলিয়ন ডলার তা একবার হিসাব করে দেখুন। আর মজুদকৃত পারমাণবিক বোমা/অস্ত্রসমূহ তৈরি, এর মজুদ এবং রক্ষণাবেক্ষণের পিছনে ব্যয় হচ্ছে কত ট্রিলিয়ন ডলার তার হিসাব তো ধারণক্ষমতার বাইরে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয় তাতে পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষেরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সংঘাত পৃথিবীকে বেশ কয়েকবার পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। এই অবস্থায় পৃথিবীকে পারমাণবিক অস্ত্রের সর্বনাশা ধ্বংস থেকে বাঁচানোর জন্য শান্তিকামী মানুষেরা আন্দোলন শুরু করে এবং সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্বাক্ষরিত হয় পারমাণবিক প্রতিযোগিতা বিস্তার রোধ চুক্তি এনটিপি ও সিটিবিটি। ১৯৬৮ সালের মার্চে সর্বপ্রথম স্বাক্ষরিত হয় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত চুক্তি এনটিপি। প্রাথমিকভাবে ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে ৪০টি দেশ স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি ১৯৭০ সালের ৫ মার্চ থেকে কার্যকর হয়। ২৫ বছর শেষে ১৯৯৫ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে এ সংক্রান্ত এক সম্মেলনে চুক্তিটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য নবায়ন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ বিশ্বের মোট ১৭৪টি দেশ এতে স্বাক্ষর করলেও ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল এবং কিউবা এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। অপর দিকে সর্বাত্মক পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা রোধ কল্পে ১৯৯৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে ১৫৮টি ভোটে সিটিবিটি চুক্তিটি গৃহীত হয়। এ পর্যন্ত ১৬৭টি দেশ এ চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে এবং মাত্র ৪১টি দেশ এটি অনুমোদন করেছে। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশসমূহের মধ্যে কেবলমাত্র ফ্রান্স এবং ব্রিটেন চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়া চুক্তিটি অনুমোদন করেনি। এ চুক্তিতে বলা হয়েছে চুক্তি স্বাক্ষরকারী কোন রাষ্ট্রই কোন ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা এবং বিস্ফোরণ চালাতে পারবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি অনুমোদন করেনি। আর যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু অনুমোদন করেনি সেহেতু রাশিয়া এবং চীন ও অনুমোদন করেনি। রাশিয়া এবং চীনের বক্তব্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন করলেই তারাও সিটিবিটি অনুমোদন করবে। ফলে এনটিপির মত সিটিবিটিও ব্যর্থ হয়েছে। এসব চুক্তি পৃথিবীকে পারমাণবিক হুমকি থেকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ এসব চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার রোধ করার কথা বলা হলেও বর্তমানে বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহের হাতে মজুদ থাকা পারমাণবিক অস্ত্রের কী হবে তার সুস্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই এবং এসব অস্ত্রের ধ্বংসের কোনো বিধান রাখা হয়নি। ফলে এ চুক্তির কারণে নতুন কোন দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হলেও বৃহৎ শক্তিসমূহ কিন্তু ঠিকই বিশাল পরিমাণ পারমাণবিক বোমার অধিকারী রয়ে যাবে। ফলে বিশ্ব পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হবে না। এই কারণে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিকে অনেক দেশ, তাদেরকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রের একক মালিক হওয়ার জন্য বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে এর মাধ্যমে নতুন কোন দেশ পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে না সত্য, কিন্তু বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহ যাদের কাছে মজুদ রয়েছে হাজারো পারমাণবিক অস্ত্র, তাদের সেই সব অস্ত্র ধ্বংসের ব্যবস্থা না করলে তারাতো সেই সব অস্ত্র দিয়ে অন্য দেশের ওপর ঠিকই মাতব্বরি করবে এবং পৃথিবীকে শাসন করবে। সুতরাং আইন যেহেতু সবার জন্য সমান, অতএব শান্তির পক্ষে সবাইকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। তা না হলে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেক দেশই পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য মরণপণ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে এবং হচ্ছেও। আজকের বিশ্বে ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংঘাতের সৃষ্টি কিন্তু এ কারণেই। কারণ সবাই চাচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তাকে সুসংহত করতে। তাদের মতে এটা তাদের ন্যায্য অধিকার।
বর্তমান বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। আমরা এর চির অবসান চাই। এ জন্য প্রয়োজন সকল দেশের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি। কেউ পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল মজুদ গড়ে তুলবে, পৃথিবীকে তটস্থ রাখবে আর কেউ এর অধিকারীও হতে পারবে না তা তো কোনো আইন হতে পারে না। তাই এই আইনের অবসান হতেই হবে। পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার ও সুবিধা থেকে এসব মানুষবঞ্চিত। অথচ মানবজাতিকে ধ্বংসের জন্য উন্নত দেশসমূহ মারণাস্ত্র তৈরির পিছনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এসব না করে উন্নত দেশের নেতৃবৃন্দ আজ যদি তাদের সময়, শ্রম এবং অর্থকে বিশ্বব্যাপী বিরাজমান দরিদ্রতা, অশিক্ষা, মারণব্যাধি এইডস এবং করোনা মহামারী নির্মূলের জন্য ব্যয় করত তাহলেই বরং বিশ্ববাসী উপকৃত হতো এবং শান্তি পেত। মারণাস্ত্র তৈরির জন্য যেই বাজেট ব্যয় হচ্ছে, সেই বাজেটের সিকি ভাগও যদি আজ মানবজাতির জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য ব্যয় হতো তাহলে পৃথিবী আজ ক্ষুধা এবং দরিদ্রতা মুক্ত হতো। আর এটাই হতো সত্যিকার অর্থে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র চর্চা। অথচ তা না করে ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবৃন্দ। আমরা চাই এর চূড়ান্ত অবসান। আমরা চাই পৃথিবীর মানুষেরা পারমাণবিক অস্ত্রের ভীতি এবং ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচুক। আর কোন দেশ এবং কোন জাতিকে যেন পারমাণবিক বোমার ভয়াবহ ধবংসলীলার মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্য চাই বিশ্ববাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ। তাই আর কোন হিরোশিমা-নাগাসাকি নয়। পারমাণবিক বোমার সর্বনাশা ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষার জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
লেখক : প্রকৌশলী এবং উন্নয়ন গবেষক

SHARE

Leave a Reply