১১ মার্চ : শহীদ দিবস শাহাদাতের অমিয় সুধায় ঈমানদীপ্ত কাফেলা – সালাহউদ্দিন আইউবী

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্রদের মাঝে ইসলামের আহ্বান পৌঁছিয়ে তাদেরকে সাথে নিয়ে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের পথে অটল অবিচলভাবে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল শুরু থেকেই। প্রত্যাশায় ছিল এবং আছে- এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। শুরু থেকেই আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পানে চেয়ে শিবিরের পথচলা ছিল দুর্দম, দুর্দান্ত ও অবিচল। ইসলামবিরোধী শক্তি ছাত্রশিবিরের আত্মপ্রকাশ ও এগিয়ে চলাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। যাত্রার শুরু থেকেই ছাত্রশিবিরকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য চক্রান্ত শুরু করে তারা। ছাত্রশিবিরের ওপর বাতিল শক্তি চালিয়েছে অত্যাচার, অবিচার, জেল, জুলুম, নির্যাতন, নিষ্পেষণ, অপপ্রচার ও হত্যাযজ্ঞ। কোনভাবেই তারা ছাত্রশিবিরকে এগোতে দিতে চায়নি। সকল ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে গাঢ় তমসার পথ চিরে চিরে আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ এক প্রত্যাশার নোঙরে এসে দাঁড়িয়েছে ছাত্রশিবির।
সকল বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে ছাত্রশিবির এগিয়ে যেতে থাকলে বিরোধীরা নবীন এ সংগঠনটিকে কুঁড়িতেই নিঃশেষ করার জন্য বৃহৎ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পরিকল্পনা করে ১৯৮২ সালের ১১ই মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই দিন ইসলামবিরোধী শক্তির হাতে প্রাণ হারান আমাদের প্রিয় ভাই শহীদ শাব্বির, হামিদ, আইউব ও জব্বার। সেদিন থেকেই বাংলাদেশের ইসলামপ্রিয় ছাত্রসমাজ এ দিনটিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
১৯৮২ সালের ১১ মার্চ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আহবান করে নবাগত ছাত্রসংবর্ধনা অনুষ্ঠান। চারদিক থেকে শত শত ছাত্রশিবিরকর্মী গগনবিদারী শ্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকে। পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরাও পাশের শহীদ মিনারে সমবেত হতে থাকে। তাদের হাতে ছিল হকিস্টিক, রামদা, বর্শা, ফালা, ছোরা, চাইনিজ কুড়াল ইত্যাদি ধারালো অস্ত্র। শিবিরের সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বারবার অনুষ্ঠান পণ্ড করার জন্য উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে। শিবির নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত ধৈর্যের সাথেই সংঘর্ষ এড়িয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাও শহীদ মিনারে সমবেত হতে থাকে। একপর্যায়ে নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চতুর্দিক থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিবিরকর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা আবারো সংগঠিত হয়ে হামলা চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় শহর থেকে ট্রাকভর্তি বহিরাগত অস্ত্রধারীরা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সন্ত্রাসীদের সাথে যোগ দেয়। শুরু হয় আরো ব্যাপক আক্রমণ। সন্ত্রাসীদের আক্রমণের প্রচণ্ডতায় নিরস্ত্র শিবিরকর্মীরা দিগি¦দিক ছোটাছুটি শুরু করে। আত্মরক্ষার জন্য শিবিরকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঘঈঈ ভবন ও কেন্দ্রীয় মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ করে। কিন্তু সেখানেও হায়েনাদের থাবা থেকে রেহাই পায়নি আমাদের ভাইয়েরা। সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা মসজিদ ও BNCC ভবনে আশ্রয় নেয়া নিরীহ শিবিরকর্মীদের ওপর পাশবিক কায়দার হত্যায় মেতে ওঠে। সন্ত্রাসীদের আঘাতে শহীদ শাব্বির আহম্মেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাঁর বুকের ওপর পা রেখে তাঁর মাথার মধ্যে লোহার রড ঢুকিয়ে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে সমস্ত শরীর। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শহীদ আব্দুল হামিদ ভাইকে চরম নির্যাতনের সময় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সন্ত্রাসীরা একটি ইট মাথার নিচে দিয়ে আর একটি ইট দিয়ে মাথায় আঘাতের পর আঘাত করে তার মাথা ও মুখমণ্ডল থেঁতলে দেয়; ফলে তার মাথার মগজ বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। রক্তাক্ত আব্দুল হামিদের মুখমণ্ডল দেখে চেনার কোনো উপায় ছিল না। ১২ মার্চ রাত ৯টায় তিনি শাহাদাতের অমিয় পেয়ালা পান করেন। শহীদ আইয়ুব ভাই শাহাদত বরণ করেন ১২ মার্চ রাত ১০টা ৪০ মিনিটে। দীর্ঘ কষ্ট ভোগের পর ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৪০ মিনিটে নিজ বাড়িতে চিরবিদায় গ্রহণ করেন শহীদ আব্দুল জব্বার ভাই। তাদের এ নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। শিবিরকর্মীদের আর্তচিৎকার আর আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠলেও কসাইদের পাষাণ হৃদয় এতটুকুও স্পর্শ করতে পারেনি। এ নরপশুরা দীর্ঘ সময় ধরে মৃত্যুর বিভীষিকা সৃষ্টি করলেও মাত্র অল্প দূরত্বে অবস্থানরত পুলিশবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরের কথা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতেও এগিয়ে আসেনি। এমনকি আহত রক্তাক্ত মৃত্যুপথযাত্রী শিবিরকর্মীদের উদ্ধার করতেও কোনো ভূমিকা পালন করেনি।
নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামবিরোধী বাম সংগঠনগুলো ছাত্রশিবিরকে চিরতরে বাংলার জমিন থেকে মুছে দিতে চেয়েছিলো। যুগে যুগে কোন তৌহিদবাদীকে অত্যাচার-জুলুম করে থামানো যায়নি, নিঃশেষ করা যায়নি। ছাত্রশিবিরকেও দমাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। কারণ ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ইসলামের জন্য সর্বদা জীবন দিতে প্রস্তুত। তারা জানে জীবনের চেয়ে শাহাদাতের মর্যাদা অনেক বেশি। তারা শহীদ সুমাইয়া, আমীর হামযা আর মুসআব (রা) এর পথে চলার জন্যই এগিয়ে চলে। শাহাদাত কতোইনা মর্যাদার।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, উহুদ যুদ্ধের দিন এক সাহাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আপনি বলুন! আমি যদি (কাফেরদের হাতে) মারা যাই, তাহলে আমি কোথায় যাব? তিনি বললেন, জান্নাতে। এ কথা শোনামাত্র তিনি তাঁর হাতের খেজুরগুলো ছুড়ে ফেলে দিলেন। তারপর (কাফেরদের সাথে) যুদ্ধ করতে করতে শাহাদত বরণ করলেন। (বুখারি ৪০৪৬, মুসলিম ১৮৯৯, নাসায়ি ৩১৫৪, আহমদ ১৩৯০২, মুওয়াত্তা মালেক ১০১৪)
মিকদাব ইবনু মা’দিকারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শহীদের জন্য আল্লাহ তা’আলার নিকট ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে। তাঁর প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সাথে সাথে তাঁকে ক্ষমা করা হয়, তাঁকে তাঁর জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়, কবরের আযাব হতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়, সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে, তাঁর মাথায় মর্মর পাথরখচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তাঁর মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। তার সাথে টানা টানা আয়তলোচনা বাহাত্তর জন জান্নাতি হুরকে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁর সত্তরজন নিকটাত্মীয়ের জন্য তাঁর সুপারিশ কবুল করা হবে।” (জামে আত তিরমিজি, অধ্যায় : জিহাদের ফযিলত, হাদিস নং ১৬৬৩)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন- “শহীদদের রূহ সবুজ রঙের পাখির পেটের ভিতরে বিশেষ সম্মানিত অবয়বে অনন্য জীবন লাভ করে। আর তাদের জন্য আরশে প্রদীপসমূহ লটকানো হয়। তারা জান্নাতে যেখানে খুশি বিচরণ করেন।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৭)
এ শহীদগণ দুনিয়ার দিক দিয়ে মৃত্যুবরণ করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা কবরে বা আলমে বরযখে বিশেষ সম্মানিত হায়াতের সাথে জীবিত থাকেন এবং তারা মহান আল্লাহর তরফ থেকে বিশেষ রিযিক প্রাপ্ত হন। এ শহীদগণের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, অবশ্যই তাদেরকে মৃত ধারণা করো না। বরং তারা তাদের পালনকর্তার নিকট জীবিত। তারা জীবিকাপ্রাপ্ত হয়। আল্লাহ তাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তা পেয়ে তারা উৎফুল্ল। আর যারা এখনও তাদের পিছনে তাদের কাছে এসে পৌঁছেনি তারা তাদের সম্পর্কে সুসংবাদ গ্রহণ করে যে, তাদের উপর কোন ভয়-ভীতি নেই এবং তারা কোন চিন্তা-পেরেশানি করেনা। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহের ব্যাপারে সুসংবাদ গ্রহণ করে এবং তা এভাবে যে, আল্লাহ ঈমানদারদের কর্মফল বিনষ্ট করেন না।” (সূরাহ আলে ইমরান, আয়াত নং ১৬৯-১৭১)
বস্তুত শহীদগণ মরেও অমর হন। তারা দুনিয়ার মৃত্যুর পর কবরের জিন্দেগি বা আলমে বরযখে অনন্য হায়াতে জীবিত থাকেন। উক্ত আয়াতে সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে একে আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- “আল্লাহর পথে যারা নিহত হয়, তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না।”
(সূরাহ বাকারা, আয়াত : ১৫৪)
শহীদগণ সেই অনন্য জীবনে জীবিত মানুষের অনেক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হন। সে সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- “যারা আল্লাহর পথে নিহত (শহীদ) হয়েছে, তোমরা তাদেরকে মৃত জ্ঞান করো না। বরং তারা জীবিত; তাদের রব-প্রতিপালকের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়।”
(সূরাহ আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৯)
শাহাদাতের মর্যাদা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সতত টানে। এ পথে চলার প্রতিটি মুহূর্তে তারা স্বপ্ন দেখে শহীদ হওয়ার। যেমনটি আমরা পাই আমাদের শহীদ ভাইদের কাছ থেকে। বগুড়ার শহীদ আবু রুহানি ভাই তার ডায়েরিতে নিজের স্বপ্নের কথা লিখেছিলেন; “মাগো মনে ইচ্ছে জাগে মালেক হবার” সিলেটের রাহাত খান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, “আজ সারা বাংলাদেশে শহীদ হওয়ার প্রতিযোগিতা…., হে আল্লাহ আমায় তুমি কবুল করো।” এর ২১ ঘণ্টা পর পুলিশের গুলিতে শহীদি মরণের স্বপ্নে বিভোর যুবক ৯ দিন মৃত্যুশয্যায় থাকার পর তার প্রভুর কাঙ্ক্ষিত পথে পা বাড়ান। আর প্রিয় দায়িত্বশীল শহীদ কামারুজ্জামান স্বাভাবিকভাবে হেঁটে ফাঁসির মঞ্চে যান সেখানে তিনি ছিলেন ধীর, স্থির এবং নির্ভীক। কারাগার সূত্র জানিয়েছে, রাতে গোসল শেষে এশার নামাজ আদায়ের পর নফল নামাজ পড়েন কামারুজ্জামান। ফাঁসির মঞ্চে নেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জায়নামাজে কোরআন তেলাওয়াতে রত ছিলেন। এরপর তাওবা পাঠের পর্ব আসে। কামারুজ্জামান বলেন, আমি নিজের তাওবা নিজে পড়বো। রাত ১০টা ২০ মিনিটে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কামারুজ্জামান তখন বলেন, আমি নির্দোষ। আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। এরপর তিনি দোয়া এবং কোরআনের আয়াত পড়তে থাকেন। দীপ্তকণ্ঠে তেলাওয়াত করেন কোরআনের বাণী ‘বল! আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সব সে পরম প্রভু আল্লাহর জন্য।’
ফেরাউন-নমরুদের উত্তরসূরিরা আজো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। একটু সুযোগ পেলেই তারা ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দিতে চায়। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ হলো তারা অস্ত্র দিয়ে মুসলমানদের দুনিয়া থেকে বিদায় করার পাশাপাশি শুরু করেছে কলমযুদ্ধ। তারা খুব ভালো করেই জানে আগামীর বিশ্বশক্তি নিঃসন্দেহে ইসলাম। Global Trends 2030: Alternative Worlds: National Intelligence Council: December 2012তে স্পষ্ট দেখানো হয়েছে- আল-কায়েদা বা অন্য কোন জাতির সাথে পাশ্চাত্যের কোনো বিরোধ থাকবে না। মূল বিরোধ হবে ভয়াবহ, যা হবে উদারপন্থী (ব্রাদারহুড, জামায়াত) ইসলামিস্টদের সাথে।
আবার ড. রামেল তার বই (Democide and mortacracy)তে উল্লেখ করেন যে, ‘সরকারি হত্যার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে প্রতিবাদী যুবকেরা।’ এখানে তিনি ইসলামপন্থী যুবকদেরই উদ্দেশ্য করেছেন। এবং ব্রিটিশ কলাম লেখক গোয়াই ডাইয়ার এক বাক্যে এর স্পষ্ট চিত্র এঁকেছেন। “When a government announces that it is going to launch an anti terror operation that generally means that it has decided to kill some people.”
দীর্ঘ পথপরিক্রমায় শত বাধাকে উপেক্ষা করে ছাত্রশিবির এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। এ পথ চলায় ছাত্রশিবিরের শহীদ সংখ্যা ২৩৪ জন। শহীদের সংখ্যা যত বাড়ছে আমাদের বিজয়ের সম্ভাবনা ততোই হাতছানি দিচ্ছে। ডক্টর তারিক রামাদান বলেছিলেন- পাশ্চাত্যসহ সকল সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেড়ে চলেছে ইসলাম নিয়ে অধ্যয়ন আর নওমুসলিমদের সংখ্যা। বেড়ে চলেছে ও বিজয়ী শক্তিতে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে ইসলামপন্থী তরুণ- যুবকরা। ইমাম হাফিজ ইবনুল কায়্যিম (রহ:) বলেছিলেন, হে যুবকেরা! তোমরা জান্নাতি ও সত্যিকারের মহব্বতেরই বান্দা। কারণ তোমরা শাহাদাতকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছো। বিজয় তোমাদের সন্নিকটে। আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ!

লেখক : সম্পাদক, প্রেরণা

SHARE

Leave a Reply