২৮ অক্টোবর ও আমার প্রাণপ্রিয় আব্দুল্লাহ আল ফয়সল -সাইয়েদা হাসনা বানু

২৮ অক্টোবরের সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমি মা হয়ে কোন দিন ভুলতে পারব না। সেই দৃশ্য মনে পড়লে কষ্টে আমার প্রাণ ফেটে যায়। তবে এ জন্য গর্ববোধ করি এ মৃত্যু সাধারণ কোন মৃত্যু নয়। এ মৃত্যু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের, এ মৃত্যু আল্লাহর জমিনে অন্যায়কে দূর করে ন্যায় ও হক প্রতিষ্ঠার জন্য।
জীবনকে বিলিয়ে দেয়ার এ মৃত্যু সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, “তোমরা ওদেরকে মৃত বলো না বরং ওরা জীবিত কিন্তু তোমরা অনুধাবন করতে পার না।”
অ্যাকসিডেন্ট হয়েও অনেক মানুষ মারা যায়। অসুস্থ হয়েও মানুষ মারা যায় কিন্তু এভাবে যারা জীবন দেয় ন্যায়কে প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আল্লাহর সম্মানিত মেহমান। তাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এবং কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে- তারাই সফলকাম। আল্লাহর কাছে সফলতার সার্টিফিকেট পাওয়ার চেয়ে সৌভাগ্য আর কী হতে পারে? আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ করি আল্লাহ যেন আমাদের সন্তানগুলোকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং এই সন্তানদের উছিলায় আমরা মায়েরা যেন কঠিন হাশরের দিনে নাজাত পেতে পারি। আমার সন্তান আব্দুল্লাহ আল ফয়সল ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। কয়েক বছর আগে তার আব্বা ব্রেনস্ট্রোক করে মারা যান। ওর বাবা মারা যাওয়াতে আমি অনেক ভেঙে পড়ি। কোন অবস্থাতেই আমরা যেন ভুলে না যাই আল্লাহকে এবং আল্লাহর হুকুম আহকামকে। ইসলামী আন্দোলন করতে যেয়ে লাভবান হওয়া যাবে এটা যেন কারো উদ্দেশ্য না হয়। বরং আল্লাহর সন্তষ্টিই মুখ্য উদ্দেশ্য হতে হবে।
এ দুঃসময়ে যারা ইসলামী আন্দোলনের কাজ করে তাদেরকে আমি অসংখ্য মোবারকবাদ জানাই। এই কঠিন দিনে যারা জীবনকে বাজি রেখে যে সোনার ছেলেরা দ্বীনের এই গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি তাদের যেন আল্লাহ হায়াতে তাইয়্যেবা দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করেন। আল্লাহ যেন আমার দোয়া কবুল করেন, আমিন।
লেখক : শহীদ ফয়সলের মা

SHARE

Leave a Reply