২৮ অক্টোবর পৃথিবীর ইতিহাসে অসভ্যতা ও বর্বরতার এক কালো অধ্যায়

মুহাম্মদ কামাল হোসাইন

যখন অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ আসে তখনই আমি যেন নির্বাক হয়ে যাই। ২৮ অক্টোবর ২০০৬। রোজ শনিবার, সভ্য পৃথিবীর ইতিহাসে অসভ্যতা ও বর্বরতার এক কালো অধ্যায়। মানুষরূপী আওয়ামী বাকশালী সন্ত্রাসীদের পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা ও লাশের ওপর  পৈশাচিক নৃত্য তা কোনো মানবতাবাদী ও বিবেকবান মানুষ ভুলবে না। জাতি যুগ যুগ ধরে তাদের পশুসুলভ হিংস্র চরিত্র স্মরণ রাখবে। স্মৃতিতে সব কিছু যেন বদর, ওহুদ প্রান্তের ইতিহাস। এ যেন হিরোশিমা নাগাসাকির ইতিহাসের ধ্বংসলীলাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। জীবন্ত মানুষকে পিটিয়ে হত্যা? তাও সবার সামনে? কী ভয়াবহতা? কী পাশবিকতা? লাশের ওপর বুট জুতা দিয়ে লাথি, আহা! নৃত্য!! এ কোন সভ্যতা? কোন গণতন্ত্র? কোন রাজনীতি? ধিক! তাদের ধিক! আমার হৃদয়ে এখনো রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমার চোখ ফেটে এখনো পানি বের হচ্ছে। আমার কথা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কথা বলতে পারব না। আমি ২০০৬ সালের শনিবারের সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত (দুইবার আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি) যে চিৎকার করে বলেছি আমার শিপন, মুজাহিদ ও মাসুমকে বাঁচাও। এরা কোনো অন্যায় করেনি। এখন সেই পল্টনের মোড় থেকেই বলব এই মুজাহিদ, শিপন, মাসুম ও জসিমদের রক্ত একদিন কথা বলবে। তাদের রক্ত যুগের পর যুগ এ দেশে বিবেকবান মানুষদের আন্দোলিত করবে। শহীদের রক্তমাখা পিচঢালা রাজপথ দিয়ে একদিন দ্বীনের বিজয় মিছিল এগিয়ে যাবে এবং মুজাহিদ, মাসুম ও শিপনের মায়েরা হয়তো ততদিন বেঁচে থাকবেন না। তবে শহীদের আত্মত্যাগ চিরদিন এ আন্দোলনে অনুপ্রেরণার উৎসাহ হিসেবে থাকবে। যে গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছে, সে দেশেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে। যার পথ ধরে ১/১১ সৃষ্টি এবং তিন উদ্দীনের আঁতাতের মাধ্যমে এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের বস্তাভর্তি টাকার সাহায্যে বর্তমান ধর্ম নিরপেক্ষবাদীরা ক্ষমতাসীন।
আমি পল্টন ট্র্যাজেডির আহতদের একজন হিসেবে বলতে চাই, ২৮ অক্টোবরের মামলা প্রত্যাহার করে লাভ নেই। ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই। আমরা ঐ দিন শুধু সামান্য রক্ত দিয়েছি কিন্তু জীবন দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।
এই সরকারে নিকট খুনের বিচার চেয়ে লাভ নেই। কারণ সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রী (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) গণতন্ত্রের মানসকন্যা (?) শেখ হাসিনার নির্দেশেই ঐ দিন সারাদেশ থেকে হাজার হাজার আওয়ামী হায়েনা ভাড়া করা মাস্তানেরা লগি, বৈঠা ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আমাদের ৬ জন ভাইকে শহীদ করেছে, যা কালের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। তাই এই হত্যার নায়কদের উপযুক্ত বিচার, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বর্তমান দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপ্রিয় সকলকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আমার অনুভূতি  ইসলামী আন্দোলন করে আহত ও শহীদ হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এক্ষেত্রে কষ্টের কিছুই নেই। কিন্তু যখন দেখি হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার না করে বরং রাষ্ট্র সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জামায়াতের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে খুনিদের পুরস্কৃত করে, তখন খুবই ব্যথা লাগে। আমি শুধু আহত হয়েছি, শহীদ হতে পারিনি দুঃখ এখানেই।

লেখক : সাবেক সভাপতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
ঢাকা মহানগরী পূর্ব

SHARE

Leave a Reply