৩৫ বছরে পদার্পণ : ‘চাওয়া-পাওয়ার মাপকাঠিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’

রিদওয়ান বিন ওয়ালী উল্লাহ

Campus১৭৫৭ সালে বাংলার নওয়াব সিরাজউদৌল্লাহর পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার সোনালি সূর্য অস্তমিত হয়ে গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ হতে থাকে অন্তত ৬০০ বছর শাসন ক্ষমতায় থাকা মুসলমানেরা। মুসলমানরা সর্বকালের বিজয়ী জাতি। অন্যায়ের কাছে পরাজয় বরণ এদের স্বভাববিরোধী। তাই ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের পরিচালনায় ও অমুসলিম নেতৃত্বে হলেও যখন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয় তখন এরা আর বসে থাকতে পারেনি। তবে সমগ্র ভারতে ৪০ কোটি লোকের মধ্যে মাত্র ১০ কোটি মুসলমান হওয়ায় অমুসলিমদের নেতৃত্বে স্বাধীন হয়ে সেই পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকার সমূহ সম্ভাবনা দেখে তারা মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা আদায় করে ১৯৩৬ সালের নির্বাচনে অবিভক্ত বাংলাসহ ৪টি প্রদেশে আইন সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান নামে একটি রাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটে, যার ভিত্তিই ছিল মুসলিম বা ইসলামী জাতীয়তাবোধ।
ব্রিটিশভারতে মুসলমানরা ছিল চরমভাবে অবহেলিত। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতিই উন্নত হতে পারে না। অথচ মুসলমানরা শিক্ষগত দিক থেকে ছিল চরম অবহেলার শিকার। ১৭৮০ সালে কলকাতা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হলেও তা মুসলমানদের চাহিদা পূরণে ছিল অপ্রতুল। ১৯১২ সালে মুসলিম জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকায় একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় সরকার, যেখানে ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ থাকবে। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল তৈরিতে ইসলামিক স্টাডিজ নামে একটি মাত্র অনুষদ যথেষ্ট নয় তথাপি ইসলামপ্রিয় জনতা আশায় বুক বেঁধেছিল এ আশায় যে, অন্তত একটি অনুষদ তো হবে। কিন্তু সে আশা গুড়ে বালি। ১৯২০ সালে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ব্যক্তিগত উদ্যোগে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার দিয়াং পাহাড়ের পাদদেশে ৬০০ বিঘা জমি নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফান্ড গঠন করলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলো বটে কিন্তু নাথান কমিটির সুপারিশক্রমে ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ স্থান পেল কলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ নামে। ব্রিটিশ আমলে পাওনা এতটুকুই।
পাকিস্তান ভাগ হয়েছে মুসলিম জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে তাই পূর্ণাঙ্গ একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছিল মুসলমানদের প্রাণের দাবি এবং এটি খুব সহজেই সম্ভব ছিল। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীর গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খান বরিশালের কাসেমাবাদে তারপর সুনামগঞ্জে এবং ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামে এক সমাবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। কিন্তু এ ঘোষণা আর আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ইসলামিক স্টাডিজ নামে একটি অনুষদ করতেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ নামে দু’টি স্বতন্ত্র বিভাগ হয়েছে তবে তা কলা অনুষদের অধীনে। ইসলামী জাতীয়তার শ্লোগান দিয়ে দেশ (পাক-ভারত) ভাগ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্যতা লক্ষ্য করা গেল না।
পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর পাকিস্তানের নেতৃত্বে থাকা পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দ ক্ষমতার মোহে দেশ বিভক্তির মূল ভিত্তি তথা ইসলামী জাতীয়তার চাহিদা পূরণে কোন বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ও প্রথম গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত ‘আদর্শ প্রস্তাবের’ আলোকে যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতি তথা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা না করায় এবং ৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরেও বিজয়ী নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবহেলিত পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ দেশ বিভক্তিকেই একমাত্র সমাধান মনে করে। ফলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। দেশের ৯০ শতাংশ লোক মুসলিম হওয়ায় জাতির কাক্সিক্ষত উন্নতির স্বার্থে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ইসলামী চেতনার ভিত্তিতে পঠন-পাঠন হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, মাদরাসা ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ধ্বনিত হতে থাকে।
অবশেষে মুসলমানদের দু’শত বছরের আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ১৯৭৬ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। ১৯৭৭ সালের শুরুর দিকে মক্কায় অনুষ্ঠিত প্রথম মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান (যিনি পরবর্তীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হন) বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন এবং মুসলিম দেশসমূহে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পেশ করেন। একই বছর ৩১ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মক্কায় ঙওঈ এর উদ্যোগে মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। ওই বছরই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশে তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. এ. বারীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রস্তাবিত রিপোর্টের আলোকে আন্তর্জাতিক ইসলামী শিক্ষা সম্মেলনের সুপারিশক্রমে অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশেও একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৫ অগ্রহায়ণ ১৩৮৬ বাং ১ মহররম ১৪০০ হি: ২২ নভেম্বর ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়ার শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর সংসদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৮০ (৩৭) পাস হয়। প্রথম ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লক্ষ্মীপুর জেলার কৃতী সন্তান প্রফেসর ড. এ.এন.এম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী।
১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে আল-কুরআন ওয়া উলুমুল কুরআন ও উলুমুত তাওহিদ ওয়াদ্ দা‘ওয়াহ নামে দু’টি বিভাগ এবং মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দু’টি বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে একটি মহৎ লক্ষ্যপানে এগোতে থাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ৫টি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিভাগে ১১০৮৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, ৪৫৫ জন এমফিল গবেষক ও ২৬৮ জন পিএইচ ডি গবেষক গবেষণারত। মোট শিক্ষক সংখ্যা ৩৫৩ জন। অধ্যাপকের সংখ্যা ১২৯ জন। বর্তমান ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. আবদুল হাকীম সরকার।
যে সকল লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে তার অন্যতম হচ্ছে- ‘ধর্মতত্ত্ব, ইসলামী শিক্ষা, তুলনামূলক আইনশাস্ত্র এবং অন্যান্য শিক্ষণ শাখাসমূহে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষাচর্চার ব্যবস্থা করা। ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর পর্যায়ে জ্ঞান বিকাশ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।’
বিশ্ববিদ্যালয়টি ২২ নভেম্বর ২০১৩ সালে ৩৪ বছর শেষে ৩৫ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় জীবনে অনেক অবদান রয়েছে এর। অনেক সুনামও রয়েছে। তবে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। দেশী-বিদেশী, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য বিভিন্ন মুখী ষড়যন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়টিকে লক্ষ্যচ্যুত করতে প্রথম থেকেই সরব ছিল। কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে যেসব বাধার সম্মুখীন হয় তা নি¤œরূপ:
ক. প্রতিষ্ঠালগ্নেই এর স্থান নিয়ে রাজনীতিবিদদের টানাহেঁচড়া এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ। সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়ায়, তারপর ’৮২ সালে গাজীপুরে এবং ’৯০ সালে কুষ্টিয়া শহর থেকে ’৯২ সালে মূল ক্যাম্পাস শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে ফিরে আসে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি OIC এর পরিকল্পনা থেকে ছিটকে পড়ে। নচেৎ IIUM (International Islamic University Malaysia), পাকিস্তান কিংবা উগান্ডায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্বাবদ্যালয় গুলোর মতো এ বিশ্ববিদ্যালয়ও আন্তর্জাতিকভাবে সুখ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হতো
খ. আধুনিক শিক্ষার সাথে ইসলামী শিক্ষার সমন্বয়ের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও তা এখন নামেমাত্র একটি কোর্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় সে অর্থে এটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি এখন এই জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যে, এখানে মাত্র ৪টি স্বাতন্ত্র্যধর্মী বিভাগ রয়েছে। ৩টি ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের ও একটি আল-ফিকহ নামে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে।
গ. ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার মাধ্যম আরবি ও ইংলিশ । এটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবার অনন্য মাধ্যম। কিন্তু এর জন্য শিক্ষার্থী বাছাইয়ের মাধ্যম তথা ভর্তি পরীক্ষায় যে প্রশ্ন করা হয় তা যোগ্য শিক্ষার্থী বাছাইয়ে যথেষ্ট নয়। তাই একে আরো সমৃদ্ধ করা দরকার।
ঘ. শিক্ষার্থীদেরকে যোগ্য করে তুলতে Student Research Journal থাকা জরুরি। অথচ এখানে এর কোন গুরুত্ব নেই।
ঙ. সমাবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রেরণা পায়। অথচ এখানে রাজনৈতিক কোন্দলের ভিড়ে সমাবর্তন শব্দটিই যেন হারিয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০০২ সালের সমাবর্তনসহ ৩৪ বছরে সমাবর্তন হয়েছে মাত্র ৩টি।
চ. শিক্ষার্থীর তুলনায় হল অপ্রতুল। ১২০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে আবাসিক ব্যবস্থা আছে মাত্র ২১০০ জনের। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কুষ্টিয়া থেকে ২৪ কিলোমিটার এবং ঝিনাইদহ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন পরিবহন বাবদ যে ব্যয় হয় তা দিয়ে প্রত্যেক বছর পরিকল্পিতভাবে হল করা সম্ভব। তাতে যেমনি বার্ষিক ব্যয় কমতো তেমনি শিক্ষার্থীদের কষ্ট কমতো এবং তারা সুবিশাল লাইব্রেরিটি যথার্থ ব্যবহারের সুযোগ পেত। এ জন্য কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শাটল ট্রেনের দাবি অনেক আগে থেকেই ছিল। সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
ছ. অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস রুমের অপ্রতুলতা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে যেমনি সেশনজট বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে শিক্ষকগণ সেরাটা দিতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
জ. একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সেখানে পেরাসিটামল, নাপা কিংবা এন্টাসিড ছাড়া ঔষধ খুব কমই পাওয়া যায়। জানা গেছে, ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতারা এখান থেকে মেডিসিন নিয়ে বাইরে বিক্রি করার কারণে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়াও অসম্ভব হয়ে যায় কখনো কখনো। এখানে আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই।
ঞ. তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন হয়েছে বটে তবে শিক্ষার্থীরা খুব কমই উপকৃত হচ্ছে। এই খাতেও দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। আধুনিক সময়ে প্রজেক্টরে ক্লাস নেয়া অতীব জরুরি অথচ বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত প্রজেক্টরের ব্যবস্থা নেই।
ট. একটি ভাষা ইনস্টিটিউট থাকলেও তা এখন সার্টিফিকেটনির্ভর হয়ে গেছে।
ঠ. বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষার্থী আদান-প্রদানের কোন চুক্তি না থাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট না থাকা, আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজনে গুরুত্বহীনতা ইত্যাদি।

৩৫ বছর পদাপর্ণে একটিই প্রত্যাশা- বিশ্ববিদ্যালয়টি সকল ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হয়ে আপন লক্ষ্যে এগিয়ে যাক। জাতি পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে এর ভূমিকা হোক সবচেয়ে বেশি।

SHARE

Leave a Reply