৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ -শাহ মু. মাহফুজুল হক

৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার মিলিত প্রতিরোধে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়। সেদিনের জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের মিলিত সংগ্রাম আমাদেরকে জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার দুর্বার প্রেরণা জুগিয়েছিল।
৭ নভেম্বরের ঘটনা এক বিরল ও অনন্য সাধারণ ঘটনা। স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথে দৃপ্ত কোটি মানুষের মিছিলের দিন ৭ নভেম্বর। সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এদিন অভূতপূর্ব বিপ্লব সংঘটিত করতে না পারলে অপশক্তিকে পরাস্ত করা সম্ভব হতো না। ঐতিহাসিক বিপ্লব না হলে জাতি হিসেবে আমরা আবার পরাধীন হতাম। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জাতি গত ৪২ বছর ধরে এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করে আসছে। যদিও আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৭ সালে আকস্মিকভাবে ৭ নভেম্বরের সরকারি ছুটি বাতিল করে দেয়। ওই সময় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সেই প্রতিবাদ একদলীয় বাকশালী ভাবাদর্শের সরকার আমলে নেয়নি।
২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনায় সমুজ্জ্বল ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি পুনর্বহাল করে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের কালো থাবা বিস্তার করতেই থাকে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জরুরি আইনের নামে তাদের দোসরদের ক্ষমতায় বসানো হয়। দেশের সম্পদ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে শুরু হয় নতুন চক্রান্ত। ওই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন হয় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
বাম-তাত্ত্বিক মার্কিন বুদ্ধিজীবী লরেন্স লিপস্যুজ বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানকে একটা অসমাপ্ত বিপ্লব বলে অভিহিত করেছিলেন। অনন্যা কর্তৃক প্রকাশিত ‘মিশ্র কথন’ নামক বইয়ে মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক এ বিষয়ে অনেক দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক আলোচনা করেছেন।
১৯৭৫ সালের ঐদিনগুলো ছিল বাংলাদেশের জন্য এক কঠিন ক্রান্তিকাল ও ঘটনাবহুল দিন। শোষণ, বঞ্চনামুক্ত ও গণতান্ত্রিক শাসনের স্বপ্নে বিভোর জাতি স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, ইসলামবিরোধী কর্মকান্ড ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, হাজার হাজার মানুষ খাদ্যের অভাবে মারা যায়। পরিস্থিতি উন্নয়নে তৎকালীন সরকার কোনো কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের পরিবর্তে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সকল দল ও মত নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে। এমন এক দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যমসারির একদল সৈন্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং সপরিবারে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের পর তারা বঙ্গবন্ধুর অন্তরঙ্গ বন্ধু ও তার মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদকে রাষ্ট্রপতি বানায় এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা নিযুক্ত করে। নতুন মন্ত্রিসভায় শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্য যোগদান করেন। নয়া রাষ্ট্রপ্রধান খন্দকার মোশতাক জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান হিসেবে পদোন্নতি দেন।
বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক স¤পর্ক হোঁচট খায়। এরকম একটি পরিস্থিতিতে ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগের অনুসারী সৈন্যরা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা ক্যু করে খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারকে উৎখাত করে এবং সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দী করে। এই বন্দী করার ঘটনাটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অতি বৃহদাংশের সাধারণ সৈনিকদের কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল এবং এর কারণে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। সাধারণ সৈনিকরা বিক্ষুব্ধচিত্তে অপেক্ষা করছিলেন, কিভাবে খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহকে নস্যাৎ করা যায় এবং জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা যায়। কারণ স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাবাহিনীর মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।
অন্য দিকে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহের ও তার সঙ্গী জাসদ তথা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের তরুণ নেতৃবৃন্দ গোপনে একটা ছক তৈরি করেছিলেন যে, তারা জিয়ার ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করে পাল্টা ক্যু-এর মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করবে। সেনাবাহিনীকে কার্যত তাদের আজ্ঞাধীন ‘গণবাহিনী’-তে রূপান্তরিত করবে। জিয়াকে তাদের কথাই শুনে চলতে হবে। এভাবে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
এ পরিকল্পনার প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল জাসদ ও গোপন সৈনিক সংস্থা ৭ নভেম্বরের প্রথম মুহূর্তে বিপ্লব শুরু করবে সাধারণভাবে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে অবস্থিত কোনো না কোনো স্থাপনার ওপর আক্রমণ করে। দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত ছিল, যেখানে যেখানে সম্ভব সেখানে সেখানে অফিসারদের হত্যা করা। কারণ, অফিসাররা ব্যতিক্রমী কোনো বিপ্লবের পক্ষে নয়। জাসদ এবং গোপন সৈনিক সংস্থার এই সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য সেনানিবাসের অভ্যন্তরে বসবাসরত সৈনিক ও অন্যদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন ছিল। সেই জন্য ৬ তারিখ সারাদিন বিভিন্ন মাধ্যমে ও ছত্রছায়ায় সেনানিবাসের অভ্যন্তরে লিফলেট বিতরণ করা হয়। কিছু কিছু লিফলেটের শিরোনাম ছিল এই রকম : সিপাহি সিপাহি ভাই ভাই, অফিসারের রক্ত চাই।
আনুমানিক মধ্যরাত একটার দিকে সাধারণ সৈনিকরা এবং গোপন সৈনিক সংস্থার সদস্যরা জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে। তাদের সম্মিলিত উদ্দেশ্য জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা। গত চার দিন ধরে যেসব সৈনিক জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাড়িতে পাহারা দিচ্ছিলেন তারা কোনো শক্ত প্রতিরোধ উপস্থাপন করেননি। বিপ্লব শুরুর কাল থেকেই ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই জেনারেল জিয়াউর রহমান বাস্তবে মুক্ত হয়ে যান। অতঃপর দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। জাসদপন্থী সৈনিকরা চাচ্ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। অপর পক্ষে সাধারণ সৈনিকরা চাচ্ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান তাদের নিয়ন্ত্রণে থাক এবং সেনাবাহিনী ও দেশের নেতৃত্ব প্রদান করতে থাকুক। জেনারেল জিয়াউর রহমান অন্য শুভাকাক্সক্ষী জ্যেষ্ঠ অফিসারদের পরামর্শে এবং সৈনিকদের আগ্রহে, ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত দ্বিতীয় ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি (সংক্ষেপে সেকেন্ড ফিল্ড নামে পরিচিত)-এর অবস্থানে গিয়ে নিজের জন্য একটি অতি সাময়িক কমান্ড হেডকোয়ার্টার সৃষ্টি করেন। ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতের শেষাংশ তথা ৭ নভেম্বর সূর্যোদয়ের এক-দুই ঘণ্টা আগে জিয়াউর রহমানের প্রতি অনুগামী সৈনিকরা, গোপন সৈনিক সংস্থার সৈনিকদের পরাভূত করেন এবং সেনানিবাসে ও ঢাকা মহানগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। সাধারণ সৈনিকরা বঙ্গভবনের চতুর্পাশে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ এবং প্রকাশ্য চাপ প্রয়োগ করত বঙ্গভবনের ভেতরে অবস্থানকারী সবাইকে পরাভূত করেন। এরূপ পরাভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম এবং তার অনুসারীরা গোপনে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। ঐ অফিসারগণের মধ্যে তিনজন একযোগে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঢাকা থেকে মিরপুরগামী সড়ক অনুসরণ করেন। গোপনে খবর পান যে, মিরপুর ব্রিজের কাছে বাধা আছে, তাই তারা একপর্যায়ে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত রংপুর থেকে আগত খালেদ মোশাররফের অনুগত দশম বেঙ্গল রেজিমেন্টে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে এক রহস্যাবৃত পরিস্থিতিতে তিনজনই নিহত হন। এভাবেই ৩ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানটি ভারতপন্থী ছিল কি ছিল না সেটা নিয়ে মিশ্র অনুভূতি আছে। কিন্তু বেশির ভাগ অফিসার ও সৈনিকের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল যে, এটি ভারতপন্থী অভ্যুত্থান ছিল তথা ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট হারিয়ে যাওয়া বাকশালকে (বা অন্ততপক্ষে আওয়ামী লীগকে) পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা ছিল এই অভ্যুত্থান।
৭ নভেম্বর সূর্যোদয়ের পরপরই জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর ওপর তার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুরু করেন। অতিদ্রুত নিজের অনুগামী সৈনিকদের ওপরেও শৃঙ্খলা বলবৎ করেন। ঢাকা মহানগরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সারাদিন সৈনিকদের সঙ্গে মিলেমিশে মিছিল ও সমাবেশ করেন। মিছিল ও সমাবেশের অন্যতম দাবি ছিলÑ দেশ বাঁচাও, সেনাবাহিনী বাঁচাও, ভারতপন্থীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। চূড়ান্তপর্যায়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী হিসেবে আবির্ভূত হন জেনারেল জিয়াউর রহমান। আর এ দিকে কর্নেল তাহের ও জাসদের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে। কর্নেল তাহের তার অনুসারীসহ গ্রেফতার হন এবং সামরিক বিচারে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ৭ নভেম্বর এবং জেনারেল জিয়াউর রহমান অবিচ্ছেদ্য। এক প্রকারে বলতে গেলে ৭ নভেম্বর স্বাধীনতা রক্ষার পুনঃনিশ্চিতকরণ দিবস। তাই ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস বলা হয়।
৭ নভেম্বরের তাৎপর্য
৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব প্রকৃতপক্ষে ষড়যন্ত্রকারী ও আধিপত্যবাদের বিপক্ষে দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনী ও স্বাধীনচেতা জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনার ঐতিহাসিক দিন। দেশবাসীর মনে সার্বভৌমত্বের গর্ববোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। পঁচিশ বছর মেয়াদি মৈত্রী চুক্তির নামে গোলামি চুক্তি ও এই দেশীয় দালালদের নিয়ন্ত্রণ ছিন্ন করে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ও আত্মশক্তি বহিঃপ্রকাশের দিন। এভাবে জাতিরাষ্ট্রের আত্মমর্যাদাবোধ, স্বকীয়তা, স্বনির্ভরতা ও আত্মোন্নতির উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল ৭ নভেম্বর, যা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়। যদিও ২০০৭ সালের ১/১১-এর মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন গংয়ের তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঁধে ভর করে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় দিল্লির মদদপুষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আগমন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের নামে দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবাদবিরোধী ৫৬ জন চৌকস সেনা অফিসার হত্যা, বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের নামে পরিকল্পিতভাবে বিডিআরকে তছনছ করে দেয়া, যুদ্ধাপরাধ বিচারের নামে আধিপত্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা ও ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধিপত্যবাদী শক্তি আজ আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মানচিত্রকে খামচে ধরেছে। একের পর সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন সঙ্কট। দেশের মানুষ আজ বড় অসহায়। চারিদিকে শুধু হাহাকার। মুক্তিই কেবল সময়ের অনিবার্য দাবি ।
জাতির এই ক্রান্তিকালে ৭ নভেম্বরের সিপাহি বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এ দেশের আপামর জনতা যদি সর্বশক্তি দিয়ে দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে তবেই এ দেশের ১৭ কোটি মানুষ ও তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করতে পারবে। নচেৎ সেদিন হয়তোবা বেশি দূরে নয় যেদিন আমাদেরকেও হায়দারাবাদ, সিকিম কিংবা ইউক্রেনের ভাগ্য বরণ করতে হবে। তাই আসুন- ৭ নভেম্বরের বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিয়ে দল মত ও ব্যক্তিস্বার্থ নির্বিশেষে আবার ঐক্যবদ্ধ হই এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দীপ্ত শপথ গ্রহণ করি।
লেখক : সাহিত্যিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

SHARE

Leave a Reply