জানা-অজানা

চালকই গাড়ির তেল নষ্টের হোতা!
সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন, তেল বা জ্বালানি নষ্টের জন্য গাড়ি নয় বরং দায়ী গাড়ির চালকই। তাই ভবিষ্যতে এমন গাড়ি তৈরি হবে যাতে গাড়ি পরিবর্তনের আর প্রয়োজন পড়বে না বরং গাড়িই তার চালকের মানসিকতা পরিবর্তন করিয়ে নেবে!
নতুন এ প্রযুক্তিতে গাড়ির কোনো পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়বে না। কেবল গাড়ির চালকদের মানসিকতা পরিবর্তন করাটাই যথেষ্ট হবে। এমনকি নতুন পদ্ধতির গাড়ি চালকের গাড়ি চালানোর কৌশল বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন উপদেশও দেবে।
গবেষকরা এ প্রকল্পে গাড়ির সঙ্গে আধুনিক বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ট্রান্সপোর্ট প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে চাইছেন।

হাঙর ছিলো স্বাদু পানির নিরীহ মাছ!
হালের সাগরের বিশালাকায় সব দাঁতাল হাঙরগুলো একসময় ছোট আকারের নিরীহ মাছ ছিলো বলেই গবেষকরা জানিয়েছেন। জার্মান গবেষকদের দাবি, ২০ কোটি বছর আগেও স্বাদু পানির জলাশয়গুলোতে ছোট প্রজাতির অনেক হাঙরের আবাস ছিলো। সেসময় ভয়াল কোনো দানবের পরিবর্তে তারা ছিলো স্রেফ নিরীহ মাছ। কিরঘিজস্তান থেকে ২৩ কোটি বছর আগের হাঙরের ডিমের ফসিল এবং ছোট দাঁত আবিষ্কারের মাধ্যমে এ তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে।
জার্মানির টিইউ বার্গাকাদেম ফ্রেইবার্গ-এর জিওলজিক ইনস্টিটিউট-এর গবেষকরা বলেছেন, ‘কিরগিজস্তানে ২০ কোটি বছর আগের ট্রাইসিক পরবর্তী যুগের অনেক ফসিল রয়েছে। এ এলাকাতেই হাঙরের ডিম এবং হাঙরের বাচ্চার অনেক ফসিল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
স্বাদুপানিতে হাঙর বেড়ে উঠে পরবর্তীতে বিবর্তনের ফলে বড়ো হয়ে সমুদ্রে চলে যায় বলেই গবেষকরা দাবি করেছেন।

মোবাইল ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করার পদ্ধতি উদ্ভাবন
নতুন পদ্ধতিতে স্মার্টফোন এবং ওয়াই-ফাই সুবিধার মোবাইল ডিভাইসগুলোর আয়ু ৫৪ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান-এর গবেষকরা নতুন এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। তারা এ পদ্ধতিটির নাম দিয়েছেন ‘সাবকনশাস মোড’ বা ‘অবচেতন কাল’।
স্মার্টফোন যখন পাওয়ার সেভিং মোডে থাকে তখনও অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে, কারণ এ সময় ‘আইডল লিসনিং’ মোডে মোবাইল চলতেই থাকে। সাবকনশাস মোড ‘আইডল লিসনিং’ প্রক্রিয়ার ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এ প্রক্রিয়ার নাম ‘ই-মিলি’।
ট্রাফিক নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে ডিভাইসগুলো পাওয়ার সেভিং মোডেও ‘আইডল লিসনিং’-এর সময় শতকরা ৬০ থেকে ৮০ ভাগ শক্তি ব্যয় করে। আর এই শক্তির পরিমাণ সারাদিনে যে পরিমাণ মেসেজ পাঠানো হয় তার সমান। ‘ই-মিলি’ প্রক্রিয়ার সাধারণ ফ্রিকোয়িন্স আদান-প্রদানের হার কমে যায় তবে যখন কোনো তথ্য আসার সঙ্কেত পায় তখনই ফোন পুরোশক্তিতে কাজ শুরু করে।
মানুষ যখন প্রায় ৯০ ভাগ ঘুমের পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন কেউ নাম ধরে ডাকলেও যেমন বুঝতে পারে না, তেমনি নতুন এ পদ্ধতিতে মোবাইল ঘুমিয়ে যাবে এবং কর্মক্ষম থাকবে। এতে ব্যাটারির আয়ু বেড়ে যাবে।

প্লুটোর গভীরেও মহাসাগর
ধারণা করা হচ্ছে যে আমাদের সৌরমণ্ডলের বামন গ্রহ প্লুটোর বরফে ঢাকা ভূপৃষ্ঠের নিচেও মহাসাগর থাকতে পারে এবং সেখানে জীবনধারণের অনুকূল পরিবেশও থাকা অসম্ভব কিছু নয়।
হিসেব করে দেখা গেছে প্লুটোর সাগর আছে এটা দুটো বিষয়েই প্রমাণ হয়। একটি হচ্ছে প্লুটোর পাথরে থাকা তেজস্ক্রিয় পটাশিয়াম এবং ঢেকে রাখা বরফের পুরুত্ব। ঘনত্ব বিবেচনা করে দেখা গেছে এ বামন গ্রহটির ৪০ ভাগ পূর্ণ করে রেখেছে পাথর। আর এ ঘনত্বের পাথরে যদি প্রতি বিলিয়নে ৭৫ ভাগ পটাশিয়াম থাকে তবে তেজস্ক্রিয় ক্ষয় এবং এ প্রক্রিয়ার উৎপন্ন তাপে বরফ গলবে এবং নাইট্রোজেন ও পানি তৈরি হবে।
যে পরিমাণ পটাশিয়াম থাকলে সাগর তৈরি হওয়া সম্ভব সে পরিমাণ পটাশিয়াম বা তারও বেশি প্লুটোতে রয়েছে।

কার্বন ছাড়াই তৈরি হলো কোষ
জৈব প্রাণের উৎস হচ্ছে কার্বন। প্রাণের গঠনে কার্বনই হচ্ছে মূল উপাদান। কার্বন ছাড়া জৈব প্রাণ গঠন সম্ভব নয়। কিন্তু কার্বন ছাড়াও প্রাণ তৈরি সম্ভব কিনা সে পরীক্ষাতেই নেমেছেন ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোর গবেষকরা। কার্বনমুক্ত, অজৈব প্রাণ তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছেন তারা।
গবেষকরা অজৈব রাসায়নিক কোষ তৈরি করছেন। এ কোষের নাম হবে ‘আইসেলস’। অন্যান্য জৈব কোষের মতোই এ কোষ কাজ করতে পারে। এ কোষ তৈরির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছেন প্রফেসর লি করনিন এবং তার গবেষকদল।
তাদের তৈরি অজৈব কোষটির মধ্যে কয়েকটি রাসায়ানিক প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়। এটি কয়েকটি মেমব্রেন বা পর্দার মাধ্যমে আলাদা করা যায় এবং উপাদানের প্যাসেজগুলোর মধ্যে শক্তি উৎপাদিত হয়। কোষটি বিদ্যুৎ ধরে রাখে এবং শক্তি উৎপাদন করতে পারে। এ কোষটি নিজেই নিজের রেপ্লিকা তৈরি করতে পারে এবং জৈব কোষের মতোই বিবর্তনশীল। প্রযুক্তির বিভিন্ন সেন্সর থেকে শুরু করে রাসায়নিক বিক্রিয়া নির্দিষ্ট করা পর্যন্ত এ কোষটিকে যেকোনো কাজেই ব্যবহার করা যাবে।

সৌরজগতে এতিম গ্রহ!
গবেষকরা বলছেন, সৌরজগতে মোট পাঁচটি গ্যাসীয় গ্রহ ছিলো। কিন্তু একটি গ্রহকে ‘এতিম’ করে দিয়েছে সৌর পরিবার। তথ্যটি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, আমাদের সৌরমণ্ডলে হয়তো গ্যাসীয় গ্রহের সংখ্যা ছিলো ৫টি। শনি, বৃহস্পতি, নেপচুন এবং ইউরেনাস ছাড়াও আরো একটি গ্যাসীয় গ্রহ ছিলো সৌর পরিবারে। কিন্তু সে গ্রহটিকে ত্যাজ্যই করেছে এ পরিবার।
কম্পিউটারে বিভিন্ন মডেল দাঁড় করিয়ে দেখানো হয়েছে, ৪ বিলিয়ন বছর আগে শনি, বৃহস্পতি, নেপচুন এবং ইউরেনাসের পাশাপাশি আরো একটি গ্যাসীয় গ্রহের অস্তিত্ব ছিলো। অবশ্য এসময় গ্রহগুলোর কক্ষপথ বর্তমান সময়ের মতো নির্দিষ্ট হয়নি।
এতিম এ  গ্রহটি অবশ্য বরফের গ্রহও হতে পারে যার ভর ইউরেনাস বা নেপচুনের সমান ছিলো। এটি বৃহস্পতির আকর্ষণ এড়াতে না পেরে হয়তো মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির ইন্টারস্টেলার এলাকায় সরে গেছে।

চাষি গাছ!
সম্প্রতি গবেষকরা এমন এক জাতের গাছের সন্ধান পেয়েছেন, যেটি নিজের বীজ নিজেই রোপণ করে। নতুন প্রজাতির ক্ষুদে এ গাছটির সন্ধান মিলেছে ব্রাজিলে। স্টেস ইউনিভার্সিটি অ্যাট ফ্রেইরা দা সান্তানা এবং ওয়েস্টার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা যৌথভাবে এ ক্ষুদে গাছটিকে নতুন প্রজাতি বলে নিশ্চিত করেছেন।
এ গাছটি মাত্র ১ ইঞ্চি লম্বা হয় এবং এতে গোলাপি-সাদা ফুল ফোটে। ফুল থেকে ফল হবার পরই গাছটির অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যটি চোখে পড়ে।
গাছটি ধীরে ধীরে  মাটির দিকে নুয়ে পড়তে শুরু করে এবং বীজটি মাটিতে যতœসহকারে পুঁতে দেয়। এ গাছটি শুকনো মৌসুমে মরে যায় আবার বর্ষার শুরুতে বীজ ফুটে মাতৃগাছের পুঁতে রাখা বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম ঘটে। এ পদ্ধতিকে বলে জিওকার্পি।
গবেষকরা নতুন এ প্রজাতির নাম ঠিক করেছেন স্পেজেলিয়া জেনুফ্লেক্সা (pigelia genuflexa)।

দেহের থার্মোস্ট্যাস্ট
অবাক করার মতোই তথ্য বটে, হাই তোলা শরীরে কেবল ক্লান্তি বা একঘেয়েমি প্রকাশ করে না বরং এটি মানুষের দেহে থার্মোস্ট্যাস্ট হিসেবে কাজ করে। কম্পিউটারের ফ্যান যেমন যন্ত্রাংশকে শীতল করে তেমনি হাই তোলার ফলে মানুষের মস্তিষ্কও শীতল হয়।
জানা গেছে, হাই তোলার বিষয়টি হচ্ছে মানুষের শরীরের প্রাকৃতিক থার্মোস্ট্যাট। মানুষের মস্তিষ্ক যখন শীতল থাকে তখন ভালো কাজ করে। কিন্তু মস্তিষ্কে চাপ বাড়লে তথ্য আহরণ প্রক্রিয়া কমে যায়। মস্তিষ্ক যখন গরম হতে শুরু করে তখনই হাই ওঠে। হাই ওঠার ফলে প্রাকৃতিকভাবে মস্তিষ্কে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবেশ করে এবং মস্তিষ্কের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। তবে গরম আবহাওয়াতে হাই তোলার ফলে খুব একটা লাভ হয় না। কারণ গরম বাতাস মস্তিষ্ক শীতল করতে ব্যর্থ হয়।
আরো জানা গেছে, ‘মস্তিষ্ক অতিরিক্ত গরম হলে পরে আমাদের তন্দ্রা আসে তাই যখনই ঘুম ঘুম ভাব লাগে তখন বেশি হাই ওঠে। যখনই শরীর বেশি গরম হয় তখনই ঘুম পেতে শুরু করে। সারাদিন শরীরে যে তাপমাত্রা থাকে রাতে বিছানায় যাবার পর শরীরের তাপমাত্রা তার চেয়ে বেশি হয়ে যায়; তাই রাতে ঘুম আসে।’

SHARE

Leave a Reply