অমায়িক ব্যবহার -মঞ্জুরুল ইসলাম

পৃথিবীতে মানুষের সহজাত স্বভাব হলো বিজয়ী হওয়া বা সকল কিছুর উপর জয়লাভ করা। ধর্ম অধর্মের উপর জয়ী হোক এটা সকল ধমের্র মানুষই চায়। এক মতবাদ আরেক মতবাদের উপরে জয়ী হোক এটাও সর্বক্ষেত্রে প্রতীয়মান হয়ে আসছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও একদম সহজ হিসাব- রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর একে অপরের উপর জয়ী হতে চায়। শত্রু তার শত্রুর উপর অর্জন করতে চায় সফলতা, নিয়ন্ত্রণ করতে চায় প্রতিপক্ষকে। অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুও তার বন্ধুর উপর জয়ী হতে চায়, আর এই জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। দুনিয়ার প্রতিযোগীরা সবাই জয়ী হতে চায় তার বিপরীত পক্ষের উপর।

জয়ের নেশায় মানুষ সৎ থেকে অসৎ, বন্ধু থেকে শত্রু, আপন থেকে পর বা দূরের মানুষে পরিণত হয়। আর তখনই ঘুমন্ত বা অজাগ্রত সংঘাত কঠিন রূপ নিয়ে জেগে ওঠে। মানুষ পরিণত হয় অমানুষে। এমন কোনো অন্যায় করতে দ্বিধা করে না। পৃথিবীতে একে অপরের প্রতি জয়ী হওয়ার জন্য মানুষ অনেক উপায় উপকরণ বা কৌশল ব্যবহার করলেও সঠিক কৌশল না জানার কারণে হয়তো লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয় বেশি।
ধর্মীয় পণ্ডিত ব্যক্তি, ধর্মের প্রচারক বা সাধারণ মানুষকেও জীবন যাপন করার ক্ষেত্রে নিজের ভাই, আত্মীয় স্বজন, অনুরাগী কিংবা শত্রু সকলের সাথে ওঠা-বসা করতে হয়। তাদের সাথে উত্তম আচরণই সমাজে চলাফেরার বড় উপায়। তাদের মন জয় করে জীবন পরিচালনা করলে পারস্পরিক বিজয় বা শ্রেষ্ঠত্ব লাভের চেয়ে সৌহার্দ্যবোধই প্রাধান্য পাবে। সকলের মন সহজে জয় করার যত উপায় উপকরণ বা কৌশল থাকুক না কেন অমায়িক ব্যবহার হলো সবার ঊর্ধ্বে। অমায়িক ব্যবহার জয় করতে পারে সকলের মন। শত্রু, মিত্র, বন্ধুবান্ধব, নিজের ভাই, দ্বীনি ভাই সকলের উপরে সহজে জয়ী হওয়া সহজ করে দেয় অমায়িক ব্যবহার।
অমায়িক ব্যবহার হলো রূঢ় ও কঠোর চিত্তের ব্যবহার পরিহার করে কোমল ও ন¤্র ব্যবহার করা, যার মাধ্যমে প্রাণের শত্রুও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

অমায়িক ব্যবহার বলতে বোঝায় সরল, অকপট, নিরহঙ্কার, ভদ্র, সদালাপী, স্নেহশীল, প্রীতিপূর্ণ ও মধুর স্বভাব প্রভৃতি (বাংলা একাডেমি)। মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী চারিত্রিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে ‘ইসলামী আন্দোলন সাফল্যের শর্তাবলী’ বইয়ে চরিত্রের অসাধারণ কিছু গুণের কথা বলেছেন, যেমন উদার হৃদয় ও বিপুল হিম্মতের অধিকারী হওয়া, সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতিশীল, মানবতার দরদি, ভদ্র কোমল স্বভাবসম্পন্ন, মিষ্টভাষী ও সদালাপী এসব গুণ অমায়িক ব্যবহারের নমুনা।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা.কে অমায়িক ব্যবহার করার জন্য বলেছেন- “আল্লাহর অনুগ্রহে আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয়ের হয়েছিলেন।” (সূরা আলে ইমরান : ১৫৯)

অমায়িক ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করেই পাশের সকলকে কাছে পাওয়া যায়। হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, ‘আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি তারা, তোমাদের মধ্যে যাদের চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। যারা অমায়িক (সহজ-সরল), তারা সম্প্রীতির বন্ধনে সহজে আবদ্ধ হয়। আর তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যক্তি তারা, যারা চোগলখোরি করে, বন্ধুত্বের মাঝে বিচ্ছিন্নতা ঘটায় এবং নির্দোষ লোকদের মাঝে দোষ খুঁজে বেড়ায়। (হাদিস সম্ভার-৩৫১০)

অমায়িক ব্যবহার হলো গর্ব না করা, অহংকার প্রকাশ না করা, খারাপ রূঢ় আচরণ না করা। যে আচরণ কষ্টের কারণ হয় বা অন্য যে কেউ কষ্ট পায় তা পরিহার করাই হলো অমায়িক ব্যবহার। ব্যবহারে রূঢ়, গর্ব ও অহংকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন না। ভালোবাসেন না যারা মানুষকে অবজ্ঞা করে। পবিত্র কুরআনে সূরা লুকমানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘অহংকারের বশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না। কারণ আল্লাহ তায়ালা কোনো উদ্ধত, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা লুকমান : ১৮)

পৃথিবীতে যারা সফল হতে চায় তাদের ব্যবহারকে আগে সুন্দর করা বাঞ্ছনীয়। অমায়িক ব্যবহারের মাধ্যমে যা সহজে অর্জন করা যায়, কঠোর বা খারাপ আচরণের দ্বারা তা অর্জন করা যায় না। সত্যিকারের সফল মানুষের তালিকা করলে দেখা যাবে, তাদের সফলতা বা বিজয়ের মুখ্য হাতিয়ার ছিলো উত্তম ব্যবহার। কোনো ব্যক্তি যদি সত্যিই সফল হতে চায় তাকে অবশ্যই অমায়িক ব্যবহারের মাধ্যমে সেটা অর্জন করতে হবে। নচেৎ যত যোগ্যতাই থাকুক না কেন সে নিশ্চিত ব্যর্থ হবে। কারণ অমায়িক ব্যবহার ব্যতীত তার নিকট থেকে কাছের মানুষও দূরে চলে যায়। ফলে ব্যক্তি সময়ের ব্যবধানে একাকী হয়ে তার নিজের সফলতাটুকু বিসর্জন দিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। নবী সা. বলেন ‘যে ব্যক্তি কোমল বা নরম স্বভাব হতে বঞ্চিত সে সব ধরনের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।’ (সুনানে আবু দাউদ-৪৭৩৪)

এটা সহজেই বলা যেতে পারে যখন ব্যক্তি অমায়িক ব্যবহার উপেক্ষা করে রূঢ় আচরণ করে তখন সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকে। কল্যাণ হতে বঞ্চিত কেউ সফল হতে পারে না। তাই সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে ব্যক্তির ব্যবহারের উপর। যারা দুনিয়াতে মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চায় অর্থাৎ মানবতার পেছনে নিবেদিত হয়ে সময় দেয়, অনুপ্রেরণা দেয়, সঠিক পথ দেখায়, এক কথায় যারা ধর্মীয় দাঈ বা প্রচারক তাদের সফলতার পেছনের গল্প হলো তারা ব্যবহারে অমায়িক।

দাঈ বা আদর্শিক আন্দোলনের প্রচারক বা সত্যিকারের ইসলামের ধারক-বাহকদের ব্যবহার হবে সর্বোত্তম। দুনিয়াতে যারা ব্যর্থ অকেজো মতবাদ প্রচার করে সাময়িকভাবে সফল হয়েছে তাদের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের আচরণ খুব যে খারাপ ছিলো এমনটা নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভালো থাকলেও সবক্ষেত্রে নয়। সেক্ষেত্রে ইসলামকে যারা সুন্দরতম পন্থায় মানবতার কল্যাণে পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টায় জীবনকে উৎসর্গ করেছেন তাদের সর্বপ্রথম ব্যবহারে নরম, সহজ, কোমল ও উত্তম হতে হবে। দাঈদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত ব্যবহারে অমায়িক। যারা দাঈ হিসেবে নিজেদেরকে ঘোষণা করে, এই ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো মন্দ আচরণের মাধ্যমে সে আঘাত পেতে শুরু করে। হৃদয়ে জড়ো হতে থাকে কষ্টের রাশি রাশি মেঘমালা। কোনো কোনো সময় প্রচণ্ড গতিতে বিধ্বংসী ঝড় বয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তাকে যেমন ধৈর্য ধারণ করতে হয়, তেমনি আচরণেও হতে হয় অত্যন্ত সতর্ক। যেন কেউ আচরণে কষ্ট না পায়। হাসি তামাশা ঠাট্টা বিদ্রƒপকে অমায়িক ব্যবহার দিয়ে জয় করে নিতে হয়। মন্দের জবাব দিতে হয় ভালো দিয়ে। “যারা রহমানের বান্দা তারা জমিনে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে। আর যখন জাহিল ব্যক্তিরা অশালীন ভাষায় সম্বোধন করে তখন তারা বলে সালাম।” (সূরা ফুরকান : ৬৩)।

দাঈদের এই গুণের ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার। মহান আল্লাহর স্বভাব হলো কোমল তিনি কোমলতাকে ভালোবাসেন। দ্বীনের দাঈদের কোমল স্বভাবের হওয়া একান্ত আবশ্যক। এই ব্যবহার হলো রাসূল সা.-এর শ্রেষ্ঠতম গুণ। আমাদের অফিস-আদালত কর্মস্থল বা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে কাজের সঙ্গী বা দ্বীনি আন্দোলনের সহযোগী সকলের সাথে সৎ ব্যবহার করার গুরুত্ব অনেক বেশি। সবসময় আমাদের কাছাকাছি থাকা কিছু মানুষের সাথে ব্যবহারের বিষয়ে পবিত্র কুরআনে সূরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার মধ্যে পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, ইয়াতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী সাথী, মুসাফির ও অধিকারভুক্ত দাস-দাসী। দাস-দাসীদের সাথে সৎ ব্যবহার করার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও এখন দাস-দাসী প্রথার প্রচলন নেই। তবে বর্তমানে অধীনস্থ কর্মচারী ও সহকর্মীদের সাথে চরম উদ্ধত আচরণের মাধ্যমে কাজ আদায় করার হীন মানসিকতা বিরাজমান। এই আচরণ পরিহার করে উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ আদায় করে নেয়া সফল ব্যবস্থাপকের কাজ। তারা মালিক বা ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের যেন শাসকশ্রেণী মনে না করে এজন্য সদা হাস্যোজ্জ্বল ও উত্তম ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজই শুধু নয় বরং সফল ও বিজয়ীর বৈশিষ্ট্যও। দ্বীনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি থেকে নিয়ে একদম সর্বকনিষ্ঠ বা অল্প পরিসরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরও তার অধীনে থাকা দ্বীনি ভাইদের সাথে উত্তম আচরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

রাসূল সা. ও সাহাবীদের অমায়িক ব্যবহার আমাদেরকে বিমোহিত করে। রাসূল সা. নিজে তো কখনো কাউকে কষ্ট দেননি বরং ইয়াহুদিরা তার মৃত্যু কামনা করলেও তিনি উত্তমভাবে তার জবাব দিয়েছেন। হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসূল সা. জিহাদ ছাড়া কখনো কাউকে স্বীয় হাত দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রহার করেননি এবং দাস-দাসী বা স্ত্রীদেরও প্রহার করেননি।’ (সহিহ মুসলিম-৬১৯৫)
রাসূল সা. তাঁর কাছে বেড়ে উঠা হযরত আনাস রা. দীর্ঘ ১০ বছরের খেদমতের এই সময়কালে বিরক্তিসূচক ‘উহ’ শব্দটিও করেননি। হযরত আবু মুসা রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন- ‘রাসূল সা. সাহাবীদের কোথাও কোনো কাজে পাঠালে তিনি বলতেন তোমরা সুসংবাদ দেবে এবং তাদের মাঝে ঘৃণার সঞ্চার করবে না। আর লোকদের সাথে নরম ব্যবহার করবে, কঠোর হবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ ৪৭৬০)

রাসূল সা. অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথেও ভালো ব্যবহারে করতে বলেছেন। রাসূল সা.-এর সাহাবীরা ভালো ব্যবহার করতেন ও শিক্ষা দিতেন। ‘এক বেদুইন মসজিদে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করল। উপস্থিত লোকজন তাকে পাকড়াও করতে উদ্যত হলে রাসূল সা. তাদের বললেন, তাকে ছেড়ে দাও তার প্রস্রাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। তোমাদের নরম ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে কঠোর ব্যবহারের জন্য নয়।’ (সহিহ বুখারি-২২০)
রাসূল সা. ব্যবহারের ক্ষেত্রে পৃথিবীতে শত্রু-মিত্র, ধনী-গরিব, কাছের-দূরের সকলের সাথে ছিলেন অমায়িক। তাইতো রাসূল সা.কে হত্যা করতে এসে ইসলাম গ্রহণ করার ঘটনাও ঘটেছে। আবার রাসূল সা.-এর ব্যবহারিক জীবন দেখে যায়েদ ইবনে হারিসা রা. পিতা ও চাচাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন রাসূল সা.-এর নিকট থেকে যাবেন না বলে।

আমরা যত জ্ঞান অর্জনই করি না কেন যত গুণের অধিকারীই হই না কেন! আমাদের উত্তম ব্যবহার বা অমায়িক ব্যবহারের মত মহৎ গুণ অর্জন করা সকল কাজের চেয়ে বেশি গুরুত্বের। কিছু মহৎগুণের মাধ্যমেই জয় করা যায় মানুষের মন। সেই মহৎ গুণ এমনিতেই অর্জন হয়ে যায় না, তার জন্য প্রচেষ্টা থাকতে হয়। ব্যক্তির উত্তম চরিত্রের গুণে গুণান্বিত হওয়া যেমন জরুরি ঠিক তেমনি তার সাথে মিষ্টভাষী, ধৈর্যশীল, সদালাপী, কোমল স্বভাবসম্পন্ন এবং সকল কাজের সহজ সমাধান দিতে পারার যোগ্যতাও খুবই প্রয়োজনীয়। আর অমায়িক ব্যবহারের মাঝে রয়েছে এই সকল গুণ। আমরা প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রস্তুত করছি সকলের কাছে আকর্ষণীয় করতে, কিন্তু বাস্তব জীবনে বা কর্মের ক্ষেত্রে হেরে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। ব্যবহার হয়ে উঠছে সকলের কাছে অপছন্দনীয়। আর এই কারণে তৈরি হচ্ছে গিবতের চর্চা বা ব্যক্তির সমালোচনা। এ সমস্যার সমাধানের পথ তালাশে আত্মসমালোচনার বিকল্প নেই। আবার আত্মসমালোচনায় হাজার ভুল ধরা পড়লেও একান্ত সূক্ষ্ম কিছু ভুল হয়তো নিজের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে। যাতে নষ্ট হচ্ছে কাক্সিক্ষত পরিবেশ। চারিত্রিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতায় আমরা হয়ে উঠতে পারি একেকজন পৃথিবীসেরা বিজয়ী। আর এই বিজয় অর্জনের একমাত্র হাতিয়ার হলো অমায়িক ব্যবহার।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, প্রেরণা

SHARE

Leave a Reply