আদর্শিক পরিপূর্ণতায় মুহাম্মদ সা. -এর জীবন মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় আদর্শ ও চরিত্রের সঙ্কট সবচেয়ে প্রকট। আদর্শ ও চরিত্রের সঙ্কটকে মানবসভ্যতার প্রধানতম সঙ্কট হিসেবে চিহ্নিত না করে গৌণ সমস্যাগুলো মোটাদাগে সামনে আনার কারণে এ সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক দুনিয়ায় উন্নয়ন বলতে প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা আর স্থাপত্যকলার উন্নয়নকেই সামনে এনে দাঁড় করানো হয়। প্রযুক্তির চাকচিক্যময় আর চোখধাঁধানো উন্নয়নকে উন্নত জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে মনে করা হয়। সভ্যতার উন্নতির সূচকগুলোর পরিমাপ করা হয় বস্তুবাদ দিয়ে। প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকতার উন্নতি ও অগ্রগতি বিকাশ লাভ করেছে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে। নিকট অতীতে প্রযুক্তির চোখধাঁধানো উন্নয়ন আমাদের ভাবনাকে বিস্মিত করে। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সভ্যতার বিকাশ সমানতালে হয়নি। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশকে সভ্যতার উন্নয়ন বললে তা নিতান্তই এক ভুল চিন্তা। সভ্যতার আদর্শিক ও দার্শনিক ভিত্তি নিয়েও নানা মিথ ও মত চালু রয়েছে। মানবসভ্যতা ও জীবনবোধের প্রয়োজনে কোন দর্শনটি মানুষকে মূলত প্রকৃত সত্যের সন্ধান দিবে তা নিয়েও সমাজ সভ্যতা রাষ্ট্রে ও জনপদে নানান বিভক্তি বিরাজমান। জীবনের প্রকৃত উন্নয়ন এবং মনের সুখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বিলাস-ব্যসন আর পুঁজিবাদের নিগড়ে জন্ম নেয়া ভোগবাদকে। ভোগবাদের কোলে নিজেকে সঁপে দেয়ার জন্য মানুষ তাই নিজের জীবনকে বলি দেয়ার আগে একবারও ভাবে না, সে কোথায় ছুটছে। উন্নত জীবনের নেশায় তাই উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয় বনি আদম। জীবন ও জীবনবোধের প্রকৃত মূল্যায়নে মানুষের চিন্তার বিভ্রান্তি এর অন্যতম কারণ। চিন্তার দৈন্যতার মূলীভূত কারণ তার কাছে প্রকৃত সত্য কোনটি তা চিহ্নিত না হওয়া। জীবনদর্শন রচনায় ভুল চিন্তা, দ্বান্দ্বিক মানসিকতা, আদর্শিক সঙ্কট এবং চারিত্রিক শূন্যতা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার প্রধানতম সমস্যা।

বর্তমান দুনিয়ায় নানান মত ও মতবাদের অনুসারীদের আমরা দেখতে পাই। ঈসায়ী ধর্মের নামে খ্রিষ্টবাদ, নবী মূসা এবং ওজায়ের (আ)-এর অনুসরণের দাবিদারদের ইহুদিবাদ, ইবরাহিম (আ)-এর অনুসারী দাবিদারদের মান্দাই ধর্ম, জরথ্রুস্টের মতবাদ, বাহাইজম, বুদ্ধের অনুসরণে বৌদ্ধ ধর্ম, দ্রুজ ইজম, রাস্তাফিরি, হিন্দুইজম, জৈন, শিখ, আর্য, কনফুসীয় মতবাদ ইত্যাদি। এ সকল ধর্মীয় দর্শনের বাইরে অর্থনৈতিক মুক্তির দাবিদার কমিউনিজম এবং দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বিগত শতকে একে অপরের শত্রু থাকলেও তারা এখন মিলেমিশে একাকার হয়ে ভোগবাদে রূপ নিয়েছে। এ সকল ধর্ম ও দর্শনের প্রবক্তাদের উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম পরিচয় আমাদের জানা থাকলেও তাদের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো কিছুই আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। ঈসা (আ) আল্লাহর প্রেরিত একজন পয়গাম্বর। তিনি মানুষের মাঝে আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদের বাণী প্রচার করে গেছেন। বর্তমান দুনিয়ায় বিরাট সংখ্যক মানুষ যে খ্রিষ্টবাদের অনুসারী তার সাথে ঈসা (আ)-এর জীবনদর্শন এবং আদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই। মূসা আলাইহিস সালামও আল্লাহর প্রেরিত নবী, তার দীনও ছিল ইসলাম। বর্তমান দুনিয়ার ইহুদিবাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ইবরাহিম (আ) মুসলিম জাতির পিতা, তিনি আল্লাহর প্রেরিত একজন নবী, মান্দাই ধর্মের সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিলো না। জরথ্রুস্ট ইরানের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি, তিনি নবী ছিলেন কি-না, তাও আমাদের জানা নেই। জরথ্রুস্ট যে ধর্ম প্রচার করেছেন তাও অবিকৃত অবস্থায় আছে কি না, তা জানার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। দ্রুজ এবং বাহাই ধর্মমতও জরথ্রুস্টবাদের মতো একই অবস্থা। মহামতি বৌদ্ধের নামে কিছু অহিংস বাণীর প্রচার ব্যতীত আমরা তার সম্পর্কে আর কিছইু জানতে পারি না। জৈন, শিখ, আর্য ধর্মমতগুলো কিছু ধর্মীয় আচার ব্যতীত অন্য কিছু আমাদের সামনে উপস্থাপন করে না। কনফুসীয় মতবাদের জন্মভূমি চীনের অধিকাংশ লোক কোনো ধর্মমতের অনুসারী নয়।

আর্থিক মতবাদ সমাজতন্ত্র মানুষকে শান্তি দেয়ার কথা বললেও গোটা দুনিয়ায় লাখ লাখ লোকের জীবন কেড়ে নিয়ে তারা নিজভূমিতেই আত্মহত্যা করেছে। পুঁজিবাদ বর্তমান দুনিয়ায় জুলুম এবং শোষণের একমাত্র হাতিয়ার। দখল করো, শাসন করো এবং ভোগ করো এই সা¤্রাজ্যবাদী চিন্তা পুঁজিবাদের জঠরেই জন্মলাভ করেছে। কার্ল মার্ক্স কমিউনিজমের ¯্রষ্টা, কিন্তু তিনি সে আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে পারেননি। লেনিন বাস্তবায়ন করেছেন কিন্তু মানবতাকে কল্যাণ দান করতে পারেননি। অ্যারিস্টটল ও সক্রেটিস দার্শনিক তত্ত্ব দিয়েছেন, গোর্কি মানবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, লিও টলস্টয় সুন্দর সাম্যের সমাজের কল্পনা করেছেন, আবরাহাম লিংকন মানুষের মতের প্রাধান্য দিতে বলেছেন, কিন্তু কেউই মানবতাকে মুক্ত বিহঙ্গের ঠিকানা দিতে পারেননি। বিশ্বাস, আদর্শ এবং কর্মের সামঞ্জস্য না থাকলে কখনো মানুষের জীবনে মুক্তি আসতে পারে না। মানবসভ্যতার ইতিহাসে আমরা যে সকল প্রথিতযশা ব্যক্তিদের নাম শুনতে পাই তারা কেউ যোদ্ধা, কেউ দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসক, কেউ দার্শনিক, কেউ কবি, কেউ দানশীল, কেউ পরোপকারী কিন্তু মানবসভ্যতার বিনির্মাণে কেউই পূর্ণাঙ্গতা লাভ করতে পারেননি। নবীদের কর্মকাণ্ড ব্যতীত অন্য কারো দ্বারা মানবসমাজকে আমূল পরিবর্তন করে সত্য-সুন্দরের ভিত্তিতে শান্তি-সুখের সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভবপর হয়নি। কারণ নবীগণ ¯্রষ্টা কর্তৃক প্রেরিত এবং পরিচালিত হয়েছেন।

উপর্যুক্ত এ সকল মত ও মতবাদগুলো মানুষকে অনুসরণীয় কোনো স্থায়ী দর্শন এবং আদর্শ উপহার দিতে পারেনি। আদর্শ চরিত্র হতে হবে অবশ্যই সার্বজনীন। যা স্থান, কাল, ভূমির সীমানা পেরিয়ে সকলের কাছে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। আদর্শ ও চরিত্র মানুষের জীবনকে সহজ ও সাবলীল করবে, হৃদয়ের প্রশান্তি দান করবে, মনের গহিনের সকল প্রশ্নের জবাব দিবে এবং জীবনের সকল সমস্যার সমাধান দিবে। কোনো আদর্শ এবং দর্শন সার্বজনীন না হলে তাকে মানবজীবনের জন্য গ্রহণযোগ্য আদর্শ বলা যায় না। কোনো আদর্শ, বিশ্বাস, ধর্ম, মতবাদ কিংবা জীবনদর্শন অনুসরণ করার পূর্বে সেই আদর্শ ও মতবাদের উপস্থাপক বা প্রবর্তনকারীর চরিত্র ও কর্ম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করে তাঁর প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় সৃষ্টি হলে মানুষ তাকে গ্রহণ করে। জীবনদর্শন উপস্থাপনকারীর ব্যক্তিত্ব তার কর্মতৎপরতার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আদর্শ প্রচারকারীর চরিত্র ও কর্ম গ্রহণযোগ্য না হলে তাকে বা তার আদর্শকে মানুষ গ্রহণ করে না। কোনো বহুতল ভবন নির্মাণের পূর্বে যে স্থানে ভবন নির্মাণ করা হবে সেই মাটিকে আগে পরীক্ষা করা হয়। ভবনটি স্থায়ী হবে কি না, এটি নিশ্চিত না হয়ে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণের কাজ শুরু করে না। জীবনদর্শন এক বিশাল অট্টালিকার চেয়ে অতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সমাজ সভ্যতার ইমারত আদর্শ, চরিত্র, বিশ্বাস এবং দর্শনের ওপর নির্মিত হয়। জীবনদর্শন উপস্থাপনকারীর চরিত্র ও কর্ম সম্পর্কে নিঃসংশয় না হয়ে তার অনুসরণ করলে সে সমাজ ও সভ্যতার ভীত অত্যন্ত দুর্বল হবে। বিশ্ব ইতিহাসে বহু মহামানবের আগমনের বিষয়ে আমরা জানি। যারা মানবসভ্যতাকে উন্নতি অগ্রগতির কথা বলে গিয়েছেন। তাদের কারো জীবনপ্রণালী আমাদের সামনে সুস্পষ্ট নয়। সকল মহৎপ্রাণ ব্যক্তিই মানুষকে সত্য ও সুন্দরের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। জীবনদর্শনের তাত্ত্বিক দিকগুলোর সাথে বাস্তব অনুসরণের পথ ও পন্থা আলোক উদ্ভাসিত না হলে তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে হবে। গোটা দুনিয়ায় ইসলাম ব্যতীত যত ধর্ম ও জীবনদর্শন আছে সকল ধর্মমত ও জীবনদর্শনের আজ তাই এই একই অবস্থা। তাত্ত্বিক দিকের সাথে এর সাথে প্রায়োগিক দিকগুলো নেই। আবার কিছু বিষয় থাকলেও মানবজীবনের সকল প্রশ্নের জবাব সুস্পষ্ট নয়।

শুধুমাত্র নবীরাই মানুষের সার্বিক জীবনে আমূল পরিবর্তন সাধনের জন্য প্রকৃত জীবনদর্শন পেশ করতে পেরেছিলেন। কেননা নবীদের কথা ও কাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিলো না। তাই তাদের দ্বারা সম্ভব হয়েছিল শান্তি সুখের সমাজ বিনির্মাণের। অবশ্য সকল নবী তাদের নিজেদের সমাজে প্রচারিত আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে পারেননি, কিন্তু এ জন্য কোনো নবীর মিশনই ব্যর্থ হয়নি। সকল নবীই মানুষকে তাদের ¯্রষ্টার দাসত্ব করার আহ্বান জানিয়েছেন। যেই জনপদের মানুষেরা তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন তারা সফল হয়েছেন, যারা সাড়া দেয়নি তাদের জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। নবীগণ যেহেতু তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন, এ জন্য তাদের জীবনে কোনো ব্যর্থতা নাই। নবীদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন মুহাম্মদ মুস্তফা সা.। যিনি নিজের কল্যাণ চান এবং মানবতার কল্যাণ চান তার জন্য মুহাম্মদ সা. এর জীবনাদর্শ ব্যতীত বিকল্প কোনো আদর্শ নেই। মুহাম্মদ সা.-এর নিকট ঐশীবাণী প্রেরিত হওয়ার সাথে সাথে অতীতের সকল মত, মতবাদ ও পন্থা বাতিল ঘোষিত হয়েছে। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ঘোষণা
“তিনি (আল্লাহ) সেই মহান সত্তা যিনি তার রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সকল দীনের উপর ইসলামকে বিজয়ী বেশে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।”১
এ ঘোষণায় স্পষ্ট প্রতীয়ান হয়, মানুষের জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য অনুকরণীয় আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মদ সা.-এর জীবন চরিত। এমনকি অতীতের সকল নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়েছে, তাদেরকে অনুসরণ করতে বলা হয়নি। হযরত আদম (আ) থেকে নবুওয়্যাতের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে মুহাম্মদ সা.-এর মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি ও পূর্ণাঙ্গতা লাভ করেছে। যারা অন্য কোনো নবীর অনুসারী দাবি করে তারা মূলত ভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত আছে। সকল নবীর দীন ছিল আল ইসলাম। মুহাম্মদ সা. হচ্ছেন সকল নবীর অসমাপ্ত কাজের পূর্ণতাদানকারী। তাইতো আমরা তার চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যে দেখতে পাই সকল গুণাবলির পূর্ণাঙ্গ সমন্বয়। তার জীবন ও চরিত্রে রয়েছে হযরত নুহ (আ)-এর গুণাবলি, কুফরির বিরুদ্ধে ক্রোধের দুরন্ত প্রকাশ। ইবরাহিমের জীবন চরিত.. দেবমূর্তির বিরুদ্ধে অটল-অনড় অবস্থান। হযরত মূসা (আ)-এর অত্যাচারিত শাসকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও শাসন, শোষণ, শৃঙ্খলা ভাঙার দৃষ্টান্ত। হযরত ঈসা (আ)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, কোমলতা, উদারতা, ক্ষমা, ভালোবাসা ও পরোপকার। হযরত সুলায়মান (আ)-এর জীবন…. রাজকীয় হিম্মত, দৃঢ়তা, পরাক্রম ও শক্তিমত্তার প্রতিমূর্তি। হযরত আইউবের জীবন ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। হযরত ইউসুফের জীবন … জেল জুলুম নির্যাতনের মধ্যে দাওয়াত ও সত্য প্রচারের অফুরন্ত শিক্ষা।২ নবী মুহাম্মাদ সা. ছিলেন তার দিকে সকলকে আকৃষ্টকারী এক অনুপম চরিত্রের মানুষ। তার তুলনা তিনি নিজেই। যার সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন “আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ যে আপনি নরম কোমল হৃদয়ের অধীকারী। আপনি যদি কঠিন হৃদয়ের অধিকারী হতেন তবে লোকেরা আপনার কাছে আসতো না”।৩ নবী সা. তার নিজের সম্পর্কে বলেছেন, “আমি ও আমার পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত হলো এই, যে এক ব্যক্তি একটি প্রাসাদ নির্মাণ করলো এবং সুন্দর শোভনীয় করে সজ্জিত করলো। কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের স্থান ফাঁকা ছিল। প্রাসাদটি চতুর্দিকে মানুষ ঘুরে ঘুরে তার সৌন্দর্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলবে, এ স্থানে একটি ইট রাখা হয়নি কেন? তিনি বললেন : আমিই সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী। অর্থাৎ আমার আগমনের পর নবুয়্যাতের ইমারত পূর্ণতা লাভ করেছে। এখন এর মধ্যে আর কোনো শূন্যস্থান নেই”।৪

হযরত মুহাম্মদ সা.-এর চরিত্র, কর্ম ও আদর্শে ছিলো মানুষকে আকৃষ্টকারী এক অনুপম সুষমা। শুধুমাত্র সত্যকে অস্বীকারকারী ব্যতীত সকলেই তাকে একবাক্যে গ্রহণ করার মতো সর্বোৎকৃষ্ট চরিত্র নিয়ে তিনি পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। মরুভূমির একজন অক্ষরজ্ঞানহীন নারীর বর্ণনায় আমরা শুনবো মুহাম্মদ সা.-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য- যিনি সামান্য সময়ের জন্য তাকে দেখতে পেয়ে তার সম্পর্কে বিমোহিত হয়ে পড়েছিলেন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিতো না দেখেই শুধু বর্ণনা শুনে তার প্রেমে নিজের জীবন সমর্পণ করলেন। অক্ষরজ্ঞানহীন নারীর নাম উম্মে মা’বাদ। রাসূল সা. মক্কা হতে মদীনায় হিজরতের প্রাক্কালে এ বৃদ্ধার কুটিরে সামান্য সময়ের জন্য আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি এবং তার সফরসঙ্গীরাও ছিলেন ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত। তারা বৃদ্ধার কাছে খাবার চাইলে গৃহে কোনো খাবার না থাকার কারণে অপারগতা প্রকাশ করলেন। এরপর ঘরের এক কোণে একটি রোগাক্রান্ত বকরি দেখে রাসূল সা. বকরিটির দিকে তাকানোর পর বকরিটির বাঁট দুধে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। নবী সা. ও তাঁর সাথীরা পেট পুরে খাওয়ার পর আরো খানিকটা দুধ অবশিষ্ট রইল। উম্মে মা’বাদের স্বামী বাড়ি ফিরে দুধ দেখে অবাক হয়ে গেল। সে জিজ্ঞাসা করলো, এ দুধ কোত্থেকে এলো। উম্মে মা’বাদ সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। তখন তার স্বামী বললো, এই কুরাইশ যুবকের আকৃতির বর্ণনা দাও, তিনি সেই বহুল প্রত্যাশিত ব্যক্তি কিনা মিলিয়ে দেখি। তখন উম্মে মা’বাদ চমৎকার ভাষায় তার একটি বিবরণ দিলেন। উম্মে মা’বাদ তখন রাসূল সা.-কে চিনতেন না, তার প্রতি হিংসা বিদ্বেষও পোষণ করতেন না। তিনি যা দেখেছেন, হুবহু তা বর্ণনা করেছেন।

‘‘পবিত্র ও প্রশস্ত মুখমণ্ডল, প্রিয় স্বভাব, পেট উঁচু নয়, মাথায় টাক নেই, সুদর্শন, সুন্দর, কালো ও ডাগর ডাগর চোখ, লম্বা ঘন চুল, গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর। উঁচু ঘাড়, সুরমা যুক্ত চোখ, চিকন ও জোড়া ভ্রমর কালো কোঁকড়ানো চুল। নীরব গাম্ভীর্য, আন্তরিক ডাক, দূর থেকে দেখলে সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক। নিকট থেকে দেখলে অত্যন্ত মিষ্ট ও সুন্দর। মধ্যম ধরনের লম্বা, ফলে কেউ তাকে ঘৃণাও করে না, তাচ্ছিল্যও করে না। সুদর্শন, তরুণ, সর্বক্ষণ সাহচর্য দানকারীদের প্রিয়জন। যখন তিনি কিছু বলেন সবাই নীরবে শোনে, যখন তিনি কোন নির্দেশ দেন, তৎক্ষণাৎ সবাই তা পালন করতে ছুটে যায়। সকলের আনুগত্য লাভকারী, স্বল্পভাষীও নয়; অমিতভাষীও নয়।’’৫
কালের বিবর্তনে সময়ের ঘূর্ণিপাকে অসংখ্য মতবাদের আগমন ও উত্থান পতন হলেও মুহাম্মদ সা.-এর জীবন এবং তার উপস্থাপিত জীবনদর্শন দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট। তাইতো অন্য সকল জীবনদর্শন ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে বেড়ালেও মুহাম্মদ সা.-এর জীবনদর্শন ও আদর্শ আল ইসলাম মানবসভ্যতার সকল সঙ্কট মোকাবিলায় মানুষকে আদর্শের বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। মুহাম্মদ সা. যে জীবনব্যবস্থা নিয়ে মানবতার সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন তার নাম “ইসলাম”। ইসলামের এ মহান বাণী বাহকের সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঘোষণা-
“তোমাদের জন্য মুহাম্মদ সা.- এর জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ’’।৬
“হে মুহাম্মদ সা. আমি আপনাকে অতি উত্তম চরিত্রে সৃষ্টি করেছি”।৭
“আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি”।৮
“আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সতর্ককারী ভয়প্রদর্শনকারী এবং সুসংবাদ দাতারূপে”।৯
“হে নবী! তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে এবং আল্লাহর আদেশে তাঁর দিকে আহবানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। তুমি বিশ্ববাসীদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহর নিকট মহা অনুগ্রহ রয়েছে। এবং তুমি অবিশ্বাসী ও কপটাচারীদের কথা শুনো না; ওদের নির্যাতন উপেক্ষা করো এবং আল্লাহর ওপর নির্ভর কর”।১০
মুহাম্মদ সা.-এর আদর্শিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ ছিলো না। তিনি তার স্ত্রীদের বলে দিয়েছিলেন আমি তোমাদের সাথে ঘরের মধ্যে কেমন আচরণ করি, তাও লোকদেরকে বলে দিবে। জীবনের পরিপূর্ণতা বিধানে কোনো বিভাজ্যতা তিনি রাখেননি। আল্লাহর পক্ষ হতে প্রত্যাদিষ্ট যে কালেমার আহ্বান তিনি পৃথিবীবাসীর কাছে উপস্থাপন করে গেছেন তা মানবজীবনের সকল স্তরে বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। তাওহিদের অনুসারী ব্যক্তিদের গৃহাভ্যন্তর হতে বিচারালয় এবং পার্লামেন্ট কেমন হবে। ‘¯্রষ্টার নির্দেশের বাইরে থাকবে না মানুষের জীবনের কোনো একটি বিভাগ, একইভাবে রাষ্ট্র হবে এর পাহারাদার’।১১ জীবনের বিভিন্ন বিভাগের জন্য বিভিন্ন বিধান এমন বৈসাদৃশ্য মুহাম্মদ সা.-এর জীবনে ছিলো না। কালেমা তাওহিদ ছিলো বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু আর সে বিশ্বাসের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজের সকল নিয়ম ও নীতি।

পৃথিবীর পরতে পরতে আজ অশান্তির দাবানল। যুদ্ধ, বিগ্রহ, দখল, সা¤্রাজ্যবাদিতা, আধিপত্যবাদিতা জাতিরাষ্ট্রসমূহের ক্ষুদ্র সম্প্রদায়গুলোকে সব সময় ভয় ও আতঙ্কের দিন যাপনে বাধ্য করে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, জুলুম-নির্যাতন, দুর্নীতি, অসততা অন্যায়, অনাচার নৈতিক ও আদর্শিক দেউলিয়াত্ব জনপদগুলোকে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ করে রেখেছে। ভঙ্গুর পারিবারিক ও সামজিক ব্যবস্থাপনা, যুবক ও তরুণ সম্প্রদায়ের অনৈতিক জীবনাচার তাদেরকে হতাশারা চোরাবালিতে নিক্ষেপ করছে। ক্ষমতার মসনদে বসে নীতিবাক্য দানকারীরা যা বলেন, তা তারা নিজেদের জীবনে পালন করতে আদৌ চেষ্টা কসরত করেন না। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সকল স্তরে ভাঙনের তীব্র স্রােত বিশ্বব্যবস্থায় চরম অশান্তির মূল উপজীব্য। সমাজ, রাষ্ট্র, মানবজীবনে কেন এ ভাঙনের খেলা সে সম্পর্কে বিশ্ব পরিচালক মোড়লরা, রাষ্ট্রের অধিকর্তা রাজনীতিবিদগণ এবং ব্যক্তিগণ তাদের নিজেদের ব্যাপারে ওয়াকিফহাল নন। তারা জানার এবং বোঝার চেষ্টা করেন না, এই ভাঙন ও বিপর্যয়ের মূলীভূত কারণ কী? সমস্যা সমাধানে তারা এমন সব পথ ও পন্থা অবলম্বন করেন, যা সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে। তারা মানুষের দায়িত্ব কর্তব্য পরিচয় তার মর্যাদা এবং পৃথিবীতে আগমনের কারণ বিশ্লেষণ করে ভুল পদ্ধতিতে। ‘কোনো সমস্যা শুরু হলে তার সমাধানের জন্য অতীত অভিজ্ঞতাকে সামনে না রেখে সম্পূর্ণ নতুন করে গবেষণা শুরু করে’।১২ মানুষের ইতিহাস বলে দেবে পৃথিবীর নানা বিবর্তনে মানুষের জীবনের উত্থান-পতনে, ভাঙা-গড়ায় মূল কারণগুলো কি ছিল? একটি জাতি কেন সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করার পর আবার তারা পৃথিবী হতে বিলুপ্ত হয়েছে। গহিন আঁধারে বসবাসকারী এক একটি জাতিকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলতে কারা প্রতিবার নতুনভাবে জাতিগুলোকে আলোর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন? এর সহজ উত্তর, একটাই যে, নবী রাসূলগণ মানুষকে বারবার আলোকের পথে আহ্বান জানিয়েছেন। নবীদের এই কাজের পরিপূর্ণতা বিধান করেছেন মুহাম্মদ সা.।

নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ যেই সময় এবং যেই সমাজের মানুষের কাছে আবির্ভূত হয়েছিলেন, সেই সমাজে অনুসরণীয় কোনো আদর্শ এবং অনুকরণযোগ্য কোনো চারিত্রিক মাপকাঠি ছিলো না। শক্তি, ক্ষমতা এবং বল প্রয়োগই ছিলো সমাজ পরিচালনার হাতিয়ার। আজ বিশ্বব্যবস্থায় কে কত বড়ো সুপারপাওয়ার তার হিসেব করেই পৃথিবীর মানচিত্র বদল হচ্ছে, সমাজ সভ্যতার অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও বিপর্যয়ের স্রােত এক দেশ হতে অপর দেশে প্রবাহিত হচ্ছে। একটি ছোট সমস্যাকে সমাধানের জন্য আর একটি বড়ো সমস্যা সামনে এনে দাঁড় করানো হচ্ছে। বল প্রয়োগ, সহিংসতা, নিত্য নতুন কালাকানুন প্রয়োগ করে বিপর্যয় রোধের চেষ্টা করা হয়, এতে সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাওয়া বৈ কমে না। মানবতার মুক্তিদূত রাসূলে আকরাম সা. তার জীবদ্দশায় একটি সামগ্রিক বিপ্লব সংঘটিত করেছিলেন। যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিলো ব্যক্তি চরিত্রের আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে। প্রথমে ব্যক্তিকে ক্লেদ, কালিমা এবং কলুষমুক্ত করে তার চরিত্রের সাথে সকল ভালো গুণের সম্মিলন ঘটিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন একদল অতি উচ্চমানের লোক তৈরির পর তাদের পরশে সমাজ বদলে দিয়েছেন। সামাজিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর খোল-নলচে পাল্টে বিশ্বসভ্যতায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব উপহার দিয়েছেন। ‘তিনি যে বিপ্লব সাধন করেছিলেন, তাতে কোনো বল প্রয়োগ, হিং¯্রতা, শক্তি প্রদর্শনের বাড়াবাড়ি ছিলো না। উদারতা, ক্ষমা, ভালোবাসা, দয়ার্দ্রতা, ছিলো তার চরিত্রের ভূষণ’।১৩ মানবীয় চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেই তিনি মানবতাকে মুক্তির জয়গান শুনিয়েছেন। মুহাম্মদ সা. নিজে এবং তিনি তার সাথীদের ব্যক্তিচরিত্রে এমনসব গুণের সমাবেশ ঘটিয়েছেন যার তুলনা তিনি এবং তার সাথীগণ ব্যতীত আর কোনো বিকল্প হতে পারে না। তাইতো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুহাম্মদ সা.-এর সাথীদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘তারা আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট, আল্লাহও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট’।১৪
মানুষের জীবনকে উন্নত নৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে তিনি নিজের সকল প্রচেষ্টাকে নিয়োজিত করেছেন। মানুষের সামগ্রিক জীবনকে পরিশুদ্ধ করেছেন আল্লাহর পক্ষ হতে নাজিলকৃত ওহির জ্ঞানের আলোকে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, “যে ব্যক্তি আত্মাকে পবিত্র পরিশুদ্ধ করলো সে সফলকাম হলো, আর যে আত্মাকে কলুষিত করলো সে ব্যর্থ হলো”।১৫ মানুষের জীবনের সফলতা ব্যর্থতার মাপকাঠি কি তা এই দুটি আয়াতে খুব সংক্ষিপ্ত কয়েকটি বাক্যে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন। মানুষের এই পরিশুদ্ধি সামগ্রিক জীবনব্যাপী-ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সকল কিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। নবী সা.-এর কাজ সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা : “আল্লাহ নিরক্ষরদের মধ্য হতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে তাঁর আয়াত পড়ে শোনায় এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করে’’।১৬ তিনি সা. ব্যক্তিচরিত্রকে উন্নত নৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যে ব্যক্তি খারাপ আচরণ করলো তার সাথেও ভালো আচরণ করার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন। তিনি সা. বলেছেন, “আমানত ফিরিয়ে দাও। কোনো ব্যক্তি তোমার সাথে খিয়ানত করলে তার সাথে খিয়ানত করো না”।১৭ সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের অধিকারের ব্যাপারে তিনি সোচ্চার ছিলেন। আশরাফ আতরাফ ভেদাভেদই শুধু দূর করেননি। অবহেলিত মানুষগুলোর ব্যাপারে বিশেষ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, রাসূল সা. বলেন, “আমি দু’রকম লোকের অধিকারকে পবিত্র বলে ঘোষণা করলাম। তাদের একজন ইয়াতিম, অপরজন নারী”।১৮ অসংখ্য দিগি¦জয়ী বীরের কথা ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে, বহু শাসক, বিজেতা, শাসক সেনাপতির জীবন সম্পর্কে আমরা জানি- শাসনকার্য পরিচালনা, দেশ জয় কিংবা রাজ্য দখল অথবা ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ইতিহাস তাদের সুখকর নয়। পৃথিবীর সকল শাসক, দিগি¦জয়ী বীরের জীবন মুহাম্মদ সা. এর জীবনেতিহাসের সামনে উপস্থাপনের কোনো যোগ্যতা রাখে না। প্রিয় মাতৃভূমিতে শত জুলুম নির্যাতন আর নিগ্রহের মাধ্যমে যাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল, সেই মক্কা বিজয়ের পর তিনি ঘোষণা দিলেন, “তোমাদের বিরুদ্ধে আজ কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা যেতে পারো”।১৯ স্বাভাবিক বিচারে নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড যাদের প্রাপ্য, তাদের জন্য এমন ঘোষণা আর কারো জীবন থেকে কি আমরা চয়ন করতে পারি? চারিত্রিক ও আদর্শিক পরিপূর্ণতায় মুহাম্মদ সা.-এর তুলনা তিনি নিজেই। আদর্শ, মত, মতবাদের গোলকধাঁধায় পৃথিবী আজ যে ঘূর্ণিপাকে ঘুরপাক খাচ্ছে তাতে কেবল অশান্তির দাবানলই জ্বলছে। কোনো ব্যক্তিকে আদর্শের মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ চূড়ায় স্থান দিতে হলে মুহাম্মদ সা.-এর জীবনাদর্শের কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবী নামক এ গ্রহে মানবসভ্যতার স্থিতি, স্থায়িত্ব, মানবতা ও মানবিকতার বিকাশ একমাত্র মুহাম্মদ সা.-এর জীবন অনুসরণের মাধ্যমেই সম্ভব। আর কারো জীবন এমন পরিপূর্ণতায় সমাদৃত নয়।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

তথ্যসূত্র
১. সূরা তাওবা : ৩৩
২. পয়গামে মুহাম্মদী-সাইয়েদ সুলায়মান নদভী
৩. সূরা আলে ইমরান : ১৫৯
৪. সহিহুল বুখারী ও মুসলিম
৫. যাদুল মায়াদ : ১ম খণ্ড
৬. সূরা আহযাব : ২১
৭. সূরা আল কলাম : ০৪
৮. সূরা আম্বিয়া : ১০৭
৯. সূরা শামস : ১০-১১
১০. সূরা আহযাব : ৪৫-৪৭
১১. মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ সা.- নঈম সিদ্দিকী
১২. মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ সা.- নঈম সিদ্দিকী
১৩. মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ সা.- নঈম সিদ্দিকী
১৪. সূরা বাইয়্যেনাহ : ০৮
১৫. সূরা আশ শামস : ১০-১১
১৬. সূরা জুমুয়া : ০২
১৭. জামে আত তিরমিজি
১৮. সুনানে আন নাসায়ী
১৯. সিরাতে ইবনে হিশাম

SHARE

Leave a Reply