আদর্শ উপশাখা ও পরিচালক -আবু জুবায়ের

কেন্দ্রীয় সংগঠনের শাখাসমূহের আওতায় সারা দেশের সংগঠনকে যে ছোট ছোট ক্ষুদ্রতম কর্মক্ষেত্রের আকারে বিভক্ত করা হয় তাই উপশাখা। প্রতি উপশাখায় একজন দায়িত্বশীলসহ তিনজন কর্মী থাকে যারা কতিপয় নির্ধারিত কর্ম নিয়মিত সম্পাদন করে।
উপশাখার পরিচয় : উপশাখা সংগঠন স্বীকৃত প্রাথমিক ইউনিট। উপশাখা হচ্ছে- Practical Field, Supply Center, Recruiting Center, Production Center, One kinds of industry. যেমন- রশি, জাল ও সীসা সংবলিত মাছ শিকারের একটি জালের মতো। রশি ও জাল যতই মজবুত হোক সীসা না থাকলে যেমন কাক্সিক্ষত মাছ শিকার করা যায় না, তেমনি আপাতদৃষ্টিতে সব ঠিক আছে মনে হলেও সীসাসম উপশাখায় যথাযথ কার্যক্রম না থাকলে সংগঠন দুর্বলই থেকে যায়। আদর্শ সংগঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মজবুত উপশাখা। উপশাখার product কে Purify ও Modify করে ঊর্ধ্বতন সংগঠন।
উপশাখার গুরুত্ব
– উপশাখাসমূহ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে।
– রিক্রুটিং সেন্টার হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
– নির্দিষ্টমান পর্যন্ত লোক তৈরি হয় উপশাখার মাধ্যমে।
– দাওয়াতি কাজের মূল ক্ষেত্র।
– নেতৃত্ব তৈরির প্রাথমিক স্তর।
– মজবুত উপশাখার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মজবুত সংগঠন।
– মৌলিক কাজের অনেকাংশ উপশাখা সম্পাদন করে থাকে।
– প্রচুর সংখ্যক সমর্থক উপশাখার সাথে জড়িত থাকে।
– উপশাখাকেদ্রিক এরিয়া বেইজ এরিয়া হিসেবে কাজ করে।
কেন্দ্রীয় সংগঠন একান্ত কোনো কাজ না করতে পারলে অসুবিধা নেই, যদি উপশাখার কাজগুলো সঠিকভাবে হয়। কিন্তু উপশাখায় কাজ না হলে এক পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি ভেঙে পড়বে। উপশাখা যে রকম জনশক্তি সংগ্রহ করবে সংগঠন সে রকম নেতৃত্ব পাবে। এছাড়া উপশাখার নির্ধারিত অফিস ছাড়াই প্রোগ্রামসমূহ বাস্তবায়ন করা যায়। মসজিদ, ক্লাস রুম, খেলার মাঠ বা খোলা মাঠে এমনকি রেস্টুরেন্ট ও গাড়ি বা নৌকায় উপশাখার প্রোগ্রামসমূহ বাস্তবায়ন করা যায়। উপশাখাসমূহ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে। এজন্য বলা হয় উপশাখা সংগঠনের প্রাণ।
আদর্শ উপশাখা
– উপশাখার কাজসমূহ নিয়মিত হওয়া।
– নিয়মিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও রিপোর্টিং।
– প্রত্যেক দফাভিত্তিক কাজ হবে।
– পরবর্তী দায়িত্বশীল থাকবে।
– উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীর ব্যাচ থাকবে।
– ঊর্ধ্বতন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
– নিয়মিত বৃদ্ধি পাবে (সাথী, কর্মী, সমর্থক, বন্ধু ও সুধী)।
– উল্লেখযোগ্য হারে বায়তুলমাল আদায় হবে।
– পাঠাগার সর্বদা সচল থাকবে।
আদর্শ উপশাখার মৌলিক বৈশিষ্ট্য
১. বৃদ্ধি সংক্রান্ত : প্রতিমাসে কমপক্ষে ২ জন কর্মী বৃদ্ধি, ৪ জন সমর্থক বৃদ্ধি, ৬ জন বন্ধু বৃদ্ধি ও ২ জন শুভাকাক্সক্ষী বৃদ্ধি করা।
প্রতিমাসে কমপক্ষে ৫টি কিশোরকণ্ঠ, ২টি ইয়ুথ ওয়েভ ও ৩টি ছাত্র সংবাদের গ্রাহক বৃদ্ধি করা।
২. প্রোগ্রাম সংক্রান্ত
– মাসের প্রথম দিকে ১টি প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম (কুরআন তালিম/ সামষ্টিক পাঠ) বাস্তবায়ন করা।
– মাসের মধ্য দিকে ১টি দাওয়াতমূলক প্রোগ্রাম (সাধারণ সভা, চা-চক্র, সাধারণ জ্ঞানের আসর, বনভোজন প্রভৃতি বাস্তবায়ন করা।
– মাসের শেষ দিকে ১টি কর্মী বৈঠক বাস্তবায়ন করা।
– এছাড়াও মাসের যেকোনো সময় কমপক্ষে ১টি গ্রুপ দাওয়াতি কাজ করা এবং সোমবারকে দাওয়াতবার হিসেবে পালন করা।
৩. বায়তুলমাল সংক্রান্ত
– জনশক্তি (সাথী, কর্মী), সমর্থক ও প্রতিমাসে নতুন এয়ানত বৃদ্ধি করা।
– জনশক্তি (সাথী, কর্মী) ও শুভাকাক্সক্ষীদের ধার্যের ১০০% এবং সমর্থকদের ৬০% আদায় নিশ্চিত করা।
– টেবিল ব্যাংক, ১টি দোকান বক্স ও ১টি কলস বৃদ্ধি করা ও আদায় করা।
৪. পাঠাগার সংক্রান্ত
– পাঠাগার হতে প্রত্যেক জনশক্তি প্রতিমাসে কমপক্ষে ১টি কোরআন, ১টি হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য ইস্যু করে নেয়া ও পড়া।
– প্রতিমাসে কমপক্ষে ১টি কোরআন, ১টি হাদিস ও ২টি ইসলামী সাহিত্য বৃদ্ধি করা। উপশাখা সভাপতি সাথী হওয়া এবং সেক্রেটারি সাথীপ্রার্থী হওয়া আবশ্যক।
আদর্শ উপশাখা পরিচালনায় পরিচালকের গুণাবলি
– জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন।
– কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সবচাইতে আস্থাভাজন ব্যক্তি।
– সবচাইতে বেশি ধৈর্যশীল।
– সাহসিকতাপূর্ণ।
– জরুরি প্রয়োজনে ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী।
– ভ্রাতৃত্ব ও প্রেরণা সৃষ্টির যোগ্যতা ।
– ত্যাগের ক্ষেত্রে অগ্রগামী।
– কর্মীদের সাথে সমান ব্যবহার ও ইনসাফ কায়েম।
– সুবক্তা।
– নথিপত্র ও হিসাব সংরক্ষণে পারদর্শী।
উপশাখা পরিচালকের মৌলিক দায়িত্ব
– যোগ্যতার আলোকে কর্ম বণ্টন।
– তত্ত্বাবধান।
– প্রোগ্রাম পরিচালনা।
– সংবাদ আদান-প্রদান করা।
– রিপোর্টিং ও পর্যালোচনা।
আদর্শ উপশাখা দায়িত্বশীলের ভূমিকা কী
– উপশাখার এরিয়া সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান থাকা।
– পঞ্চম থেকে কলেজ/ ইউনিভার্সিটি পর্যায়ের সকল ছাত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ । এক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্র, স্থানীয় প্রভাবশালী ছাত্র, অমুসলিম ছাত্র ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাদের পৃথক পৃথক তালিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। ক্যাম্পাস সংগঠনের ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসের আলোকে এসব তালিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে।
– ঊর্ধ্বতন সংগঠনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ও গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে যথার্থ ভূমিকা পালন করা।
– সব জনশক্তি সক্রিয় রাখতে ও ক্রমান্বয়ে মানোন্নয়নের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা।
– সর্বস্তরে বৃদ্ধির দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।
– উপশাখার প্রোগ্রামসমূহ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো।
– বায়তুলমালের এয়ানত আদায় ও বৃদ্ধির ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন।
– সকল জনশক্তির পাঠ্যাভ্যাস বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করা, বইবিলি এবং নতুন বই সংগ্রহ করা।
– আসর থেকে মাগরিব পাড়ায় ও খেলার মাঠে ভূমিকা পালন করা। এক্ষেত্রে উপকরণসহ এক মসজিদে আসরের নামাজ এবং অন্য মসজিদে মাগরিবের আদায় করা। ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে টার্গেটকৃত ছাত্রের পাড়ার মসজিদে গিয়ে আসরের নামাজ করা।
– স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মোতাওয়াল্লির সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
– সমাজের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করে শুভাকাক্সক্ষী বানানোর চেষ্টা করা।
– গরিব, অসহায় ছাত্রদের পড়ানো, শিক্ষা উপকরণ প্রদান ও আর্থিক সহযোগিতার প্রচেষ্টা চালানো।
– স্মরণীয় ও জাতীয় দিবসে বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা।
– মাসিক দায়িত্বশীল বৈঠকে প্রয়োজনীয় রিপোর্টসহ যথাসময়ে উপস্থিত থাকা।
– জাতীয়, ইসলামী ও সাংগঠনিক দিবসসমূহ পালন করা ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা।
– সকল পর্যায়ে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করা।
– সিদ্ধান্ত পালনে আপসহীন হওয়া ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করা।
মৌলিক প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালকের পরিকল্পনা :
– একটি উপশাখার মৌলিক ৪টি প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালকের পরিকল্পনা হবে-
– মাসের প্রথম সপ্তাহে ১টি প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম (কুরআন তালিম) বাস্তবায়ন করা।
– মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ১টি দাওয়াতমূলক প্রোগ্রাম (সাধারণ সভা, চা-চক্র, সাধারণ জ্ঞানের আসর, বনভোজন, খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি বাস্তবায়ন করা।
– মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ১টি প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম (সামষ্টিক পাঠ, কিশোরকণ্ঠ পাঠ, হাদিস পাঠ, সিরাত পাঠ, মনীষীদের জীবনী পাঠ ও একাডেমিক ক্লাস প্রভৃতি) বাস্তবায়ন করা।
– মাসের চতুর্থ সপ্তাহে ১টি কর্মী বৈঠক বাস্তবায়ন করা।
একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালক কিভাবে এয়ানত তুলবেন
একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালক মাসের শেষ দিকে একটি কর্মী বৈঠকের আয়োজন করবেন। কর্মী বৈঠকে কর্মী ভাইদের এয়ানত আদায় করবেন। উপশাখা সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকসহ বাছাইকৃত কর্মী ভাইদের মাঝে সমর্থক ভাইদেরকে ভাগ/বণ্টন করে দিবেন, উপরোক্ত ভাইয়েরা নিজের অংশের সমর্থক ভাইদের এয়ানত তুলে বায়তুলমালে জমা দিবেন। উপশাখা সভাপতি শুভাকাক্সক্ষীদের এয়ানত আদায় নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের ১০০% এয়ানত আদায় এবং সমর্থক ভাইদের ৬০% এয়ানত আদায় নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন প্রয়োজনে এককালীন এয়ানত আদায় করতে হবে।
দাওয়াতি কাজে একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালকের ভাবনা
দাওয়াতি কাজের মূল ক্ষেত্র হলো উপশাখা। উপশাখার দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে নতুন ছাত্রসংগঠনের দাওয়াতপ্রাপ্ত হয়। আমরা প্রতিদিনই দাওয়াতি কাজ করে থাকি। কিন্তু একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালক নি¤েœাক্ত দাওয়াতি কাজগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন-
দাওয়াতবার (সোমবার) : দাওয়াতি কাজ হবে প্রতিদিন। কিন্তু দাওয়াতবার হলো বিশেষ দিন, এই দিনকে সাপ্তাহিক দাওয়াতি কাজের উৎসবের দিন মনে করতে হবে। এই দিন উৎসবমুখর পরিবেশ, মন ও মানসিকতা নিয়ে একটি উপশাখার সকল জনশক্তি একসাথে বিভিন্ন দিকে দাওয়াতি কাজে ছড়িয়ে পড়বেন। দাওয়াত বারে আমরা একেইবারে নতুন ছাত্রদের কাছে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে থাকি। এই দাওয়াতবারে বৃদ্ধিকৃত সমর্থক ও বন্ধুদের মাঝে সারা সাপ্তাহ/মাস দাওয়াতি কাজ করে কর্মী বৃদ্ধি করে থাকি। এজন্য সোমবারকে একটি আদর্শ উপশাখা ও তার পরিচালক বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মনে রাখতে হবে, দাওয়াতবারে একেবারেই নতুন ছাত্রদের কাছে দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে এবং দাওয়াতবার সাপ্তাহিক দাওয়াতি কাজের উৎসবের দিন। এখন মনে করেন, কোন উৎসবের দিন কেউ কি উৎসব থেকে বঞ্চিত থাকে। এজন্য দাওয়াতবারে কোনো জনশক্তি দাওয়াতি কাজ করা থেকে বঞ্চিত হবে না বা বঞ্চিত হতে দিবেন না। একটি উদাহরণ এমন হয় যে- কোরবানির ঈদের মত, যেমনি কোরবানির গোশত পৌঁছে না এমন একটি ঘর থাকে না ঠিক তেমনি ঈদের উৎসব পালন করা থেকে একটি ঘরও বঞ্চিত হয় না। অর্থাৎ যেমন দাওয়াত পৌঁছাবে না এমন একটি ঘর থাকবে না, তেমনি দাওয়াতি কাজে অংশগ্রহণ করবেন না এমন একজন জনশক্তিও থাকবেন না। এজন্য দাওয়াতবারে জনশক্তিদের দাওয়াতি কাজে অংশগ্রহণটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মসজিদভিত্তিক দাওয়াতি কাজ : দাওয়াতি কাজের একটি সহজ মাধ্যম হলো মসজিদভিত্তিক দাওয়াতি কাজ। ক্যাম্পাস মসজিদ/ পাড়ার মসজিদগুলোকে দাওয়াতি কাজের প্রধান টার্গেট করে থাকেন একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালক। মসজিদে নামাজ আদায় করে এমন সব ছাত্রদের মাঝে ক্রমধারা অবলম্বন করে প্রতিনিয়ত দাওয়াতি কাজ করতে হবে। অন্যান্য সাধারণ ছাত্রদের থেকে মসজিদভিত্তিক এ সকল ছাত্রদেরকে সহজে মানোন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়। এজন্য একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালক তার উপশাখার অন্তর্ভুক্ত মসজিদগুলোকে তালিকা করে সে সকল মসজিদে ব্যাপক দাওয়াতি করে থাকেন। ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে, ক্যাম্পাসের মসজিদ ও টার্গেটকৃত ছাত্রের বাসার নিকটস্থ মসজিদে বিভিন্ন সময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে টার্গেটকৃত ছাত্রের মাঝে কাজ পরিচালনা করতে হবে।
গ্রুপ দাওয়াতি কাজ : আমরা ব্যক্তিগত দাওয়াতি কাজ নিয়মিত করে থাকি। কিন্তু গ্রুপ দাওয়াতি কাজ একটি আদর্শ উপশাখার জন্য অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। একটি গ্রুপ যখন এক বা একাধিক ছাত্রের নিকট দাওয়াত নিয়ে যায় তখন ছাত্ররা সহজে দাওয়াত গ্রহণ করে। ছাত্রদের নিকট থেকে সাড়াটা তুলনামূলক বেশি হয়। তাছাড়া গ্রুপ দাওয়াতি কাজ জনশক্তিকে দাওয়াতি কাজে পারদর্শী করে তুলে। নতুন জনশক্তিরা অনেক সময় দাওয়াতি কাজে পারদর্শী থাকেন না। যখন একজন ভাই একজন দাওয়াতি গ্রুপ পরিচালকের অধীনে দাওয়াতি কাজে অংশগ্রহণ করেন তখন নতুন ভাইয়েরা ঐ পরিচালক ভাইকে অনুসরণ করে থাকেন। এভাবে ব্যক্তিগত দাওয়াতি কাজে উদ্বুদ্ধ হন। গ্রুপ দাওয়াতি কাজের জন্য একটি আদর্শ উপশাখা ও তার পরিচালক দাওয়াতবারকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
এছাড়া কর্মপদ্ধতির দাওয়াত দফার আলোকে একটি আদর্শ উপশাখা সকল প্রকার দাওয়াতি কাজ করে থাকে। বিশেষ করে কেন্দ্রঘোষিত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ^বিদ্যালয় ও সাধারণ দাওয়াতি সপ্তাহ /দশক /পক্ষ বাস্তবায়নে আদর্শ উপশাখা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
আদর্শ উপশাখার মাসিক পরিকল্পনা : একটি আদর্শ উপশাখা প্রতি মাসের শুরুতে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালক তার উপশাখার অন্যান্য দায়িত্বশীল ভাইদের সাথে পরামর্শ করে মাসের শুরুতে বা পূর্বে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। একটি উপশাখা মৌলিক ৫টি বিষয়ের উপর পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে।
মানোন্নয়ন পরিকল্পনা : একটি আদর্শ উপশাখা মাসের শুরুতে এ মাসে যে সকল ভাইকে সাথী, সাথীপ্রার্থী ও কর্মী বৃদ্ধি করবেন ঐ সকল ভাইদের সংক্ষিপ্ত বায়োডাটাসহ পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। যেমন- নাম শ্রেণি প্রতিষ্ঠান বর্তমান ঠিকানা নিয়োজিত দায়িত্বশীল মোঃ আব্দুল্লাহ একাদশ ঝএঈ টিলাগড় রহিম ভাই
দাওয়াত পরিকল্পনা : একটি আদর্শ উপশাখা এ মাসে যে সকল ভাইকে সমর্থক, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষী বৃদ্ধি করবেন, তার সংখ্যা ও সংক্ষিপ্ত বায়োডাটাসহ (উপরের আলোকে) পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। এছাড়াও, দাওয়াতবার পালন, দাওয়াতি গ্রুপ সংখ্যা ও পরিচালক নির্ধারণ এবং দাওয়াতি প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
প্রোগ্রাম পরিকল্পনা : একটি আদর্শ উপশাখা প্রতি মাসের শুরুতে এ মাসের মৌলিক প্রোগ্রামসহ অন্যান্য প্রোগ্রামসমূহের নাম, সংখ্যা ও তারিখসহ পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। যেমন-প্রোগ্রামের নাম সংখ্যা বাস্তবায়নের তারিখ কর্মী বৈঠক ০১ ১১-০৫-২১
পাঠাগার পরিকল্পনা : প্রতি মাসে উপশাখার পাঠাগারে কতটি বই বৃদ্ধি হবে তার পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। এছাড়া নতুন পাঠাগার বৃদ্ধি, ইস্যুকৃত বই ও পঠিত বইয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
বায়তুলমাল পরিকল্পনা : প্রত্যেক মাসের শুরুতে বায়তুলমালে নতুন করে কিছু এয়ানত ও শুভাকাক্সক্ষী বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য কেন্দ্র প্রেরিত একটি ফরম্যাট প্রকাশনা বিভাগে পাওয়া যায়। এটা সংগ্রহ করে এর আলোকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।
আদর্শ উপশাখার আদর্শ রিপোর্ট : একটি আদর্শ উপশাখা একটি মাস সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে মাস শেষে ঐ মাসের মাসিক রিপোর্ট তৈরি করবে। রিপোর্ট হলো আয়না বা প্রতিচ্ছবি। একটি মাস একটি উপশাখা কী কী কাজ করেছে তা প্রতিচ্ছবির মতো রিপোর্টে ফুটে উঠবে। এমন হবে যে, রিপোর্ট পড়লে মনে হবে সব কাজগুলো যেন চোখে ভাসছে। এজন্য, আদর্শ উপশাখা পরিচালক তার ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলের নিকট থেকে কেন্দ্র প্রেরিত ফরম্যাটের রিপোর্টকে ভালোভাবে বুঝে নিবেন। যে বিষয়ে বুঝতে সমস্যা থাকে হীনম্মন্যতায় না ভুগে সে বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করে বা একাধিক দায়িত্বশীলের নিকট থেকে বুঝে নিবেন। রিপোর্ট তৈরি করার সময়ে উপশাখা সেক্রেটারি ভাইকে সাথে রাখবেন এবং শিখাবেন। রিপোর্ট তৈরি করে এক কপি উপশাখার ফাইলে সংরক্ষণ করবেন এবং এক কপি দায়িত্বশীল বৈঠকে ঊর্ধ্বতন সংগঠনকে প্রদান করবেন।
আল্লাহ আমাদের সকল উপশাখাকে আদর্শ উপশাখা হিসেবে কবুল করুন। আমাদের সকল কর্মতৎপরতাকে তার দ্বীনের জন্য কবুল করুন। (আমিন)
লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply