আলোর পথের যাত্রী তুর্কি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে জান্তার ব্যর্থ অভ্যুত্থান -হারুন ইবনে শাহাদাত

আবারো প্রমাণিত হলো কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে, জেল-জুলুম, মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আদর্শের বিজয় দাবিয়ে রাখা যায় না। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামকে নির্বাসনে পাঠানোর সকল আয়োজন করেছিলেন তুর্কি জাতির পিতা মুস্তফা কামাল পাশা। সেই তুরস্কের বীর জনতাই তাদের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের বিরুদ্ধের সামরিক জান্তার অভ্যুত্থান ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে রুখে দিলো। যে তুরস্কে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের ৩ অক্টোবর থেকে প্রায় এক শতাব্দী আরবি অক্ষর ও শব্দ নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি আজান ও নামাজে আরবি শব্দ ব্যবহার করলে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেয়া হতো। আজানে আরবি আল্লাহু আকবারের বদলে বলা হতো ‘তানরি উলমুদ তানরি উলমুদ’ (তুর্কি ভাষায় যার অর্থ আল্লাহ মহান)। আরবি ভাষায় আজান দিয়ে নামাজ পড়ার অভিযোগে তুরস্কের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আদনান মেন্ডারিসকে (১৮৯৯-১৯৬১) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে এই তুরস্কেরই সামরিক জান্তারা। ইতিহাসের এসব অন্ধকার গলির মাঝেই গত ১৫ জুলাই বিশ্ববাসী দেখলো ইসলামের হঠাৎ আলোর ঝলকানি।
প্রতিরোধের সেই রাত
১৫ জুলাই রাতে তুরস্কের সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী অফিসার সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলো। ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থান ও স্থাপনা দখল করে নেয়। দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে। এরদোগান সরকারের পতন ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেশের ক্ষমতা গ্রহণের কথাও ঘোষণা দেয়া হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান অবকাশ যাপনের জন্য তখন রাজধানী থেকে বহুদূরে দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্যটন কেন্দ্র মারমারসির একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে হঠাৎ করেই তুরস্কবাসীর অবিসংবাদিত নেতা প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার মোবাইল ফোনের ভিডিও বার্তায় টিভি চ্যানেল সিএনএন তুর্ক এর মাধ্যমে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই মধ্যরাতে লাখ লাখ জনতা নেমে আসে রাস্তায়। ফজরের নামাজের সময় হওয়ার অনেক আগেই প্রায় মধ্যরাতে মসজিদের মাইক থেকে দেয়া হয় আজান। সাথে সাথে এরদোগানের পক্ষ থেকে জনগণকে রাস্তায় নামার যে ঘোষণা দেয়া হয় তা প্রচার করা হয়। মুহূর্তে রাস্তায় নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ।
তুরস্কের গাজী বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক হাফিজুর রহমান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেই রাতের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, ‘রাত তখন সাড়ে ১০টা। ক্যান্টিনে রাতের খাবার খেতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। হঠাৎই আঙ্কারার আকাশে যুদ্ধবিমানের প্রচুর শব্দ। ভাবলাম, কী হলো? যুদ্ধ-টুদ্ধ লাগলো নাকি? ক্যান্টিনের দিকে বের হলাম। পথিমধ্যে অন্যান্য লোকজনও দেখি বিষয়টা খেয়াল করছে। জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে? কেউই উত্তর দিতে পারলো না।’ স্ট্যাটাসে তিনি আরো লিখেছেন, ক্যান্টিনে টিভির ব্রেকিং নিউজ দেখলাম যে, ইস্তাম্বুলের এশিয়া-ইউরোপ সংযোগ ব্রিজ বন্ধ করে সেনাবাহিনী গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তখনো ভাবছিলাম, সম্ভবত সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে..! তাই সতর্কতা।
কিন্তু না..! কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে লাগলো। ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক এয়ারপোর্ট বন্ধ করে সেনা ট্যাঙ্ক এয়ারপোর্টের দখল নিলো। কিছুক্ষণ পর প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম মিডিয়াকে জানালেন, সেনাবাহিনীর একটি অংশ ক্যু করেছে। কিন্তু আমরা তাদেরকে ছাড় দেবো না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো ভরসা পেলাম না। সবকিছু সেনাবাহিনী দখল করে নিচ্ছে। একে পার্টির অফিস, প্রেসিডেন্ট অফিস, সরকারি নানা অফিস এমনকি রাষ্ট্রীয় টিভি। রাত ১২টার কিছু পর রাষ্ট্রীয় টিভি থেকে ঘোষণা এলো যে, ‘সেনা শাসন জারি করা হয়েছে। কেউ যেন রাস্তায় বের না হয়। এখন থেকে সেনাবাহিনী দেশ চালাবে।’
পুরো জাতি হতভম্ব। কী হবে..! আমাদের ডরমেটরির সবাই ক্যান্টিনে টিভির সামনে। পাশের রাস্তা দিয়ে সেনা ট্যাঙ্ক মুহূর্তে মুহূর্তে টহল দিচ্ছে। সবার মনে ভয় আর আফসোস! দেশটা শেষ! এদিকে প্রেসিডেন্ট মিডিয়াতে বক্তব্য দিতে পারছেন না। উনি ব্যক্তিগত সফরে অন্য শহরে ছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে একটি মিডিয়াতে স্কাইপিতে প্রেসিডেন্ট ৩-৪ মিনিটের একটি বক্তব্য দিতে সক্ষম হন। এতে তিনি সকলকে রাস্তায় নেমে আসার আহবান জানান এবং ইস্তাম্বুলের এয়ারপোর্টে আসতে বলেন। উনি স্পষ্ট বলেন যে, আমি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, কোনো বিপথগামী কাউকে সফল হতে দেবো না। আপনারা এয়ারপোর্টে আসেন, আমি আসছি। আপনাদের সাথে রাস্তায় নামবো। এরদোগানের এই ঘোষণার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই দেখলাম জনগণ রাস্তায় নামা শুরু করলো। ক্যান্টিন থেকেই নিজ চোখে দেখলাম কিভাবে সেনা ট্যাঙ্কের সামনে লোকজন শুয়ে পড়লো। ট্যাঙ্কের গতিরোধ করার চেষ্টা করলো। পুরো তুরস্কের কয়েক মিলিয়ন লোক রাস্তায়। সেনাবাহিনীর সাথে অনেকটা যুদ্ধ হচ্ছে। সেনাবাহিনী কয়েকটি জায়গায় ওপর থেকে বোমা বর্ষণ করছে।
সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের পক্ষ নিলো এবং ক্যুয়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানালো। তারপরও পরিস্থিতি পুরোই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে ইতোমধ্যে এরদোগানকে রিসিভ করতে কয়েক মিলিয়িন লোক ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টে অবস্থান নিয়ে সেনা ট্যাঙ্ক দখল করে নিলো। জনজোয়ারে সেনাবাহিনী এয়ারপোর্ট থেকে পিছু হটলো। রাত ৪টার দিকে প্রেসিডেন্ট যখন এয়ারপোর্টে পৌঁছলেন তখনো ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন জায়গায় গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। এরদোগান প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য দিলেন এবং জানালেন তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখনো যারা ব্যারাকের বাইরে আছে তাদেরকে ব্যারাকে ফিরে যেতে আহ্বান জানান। আর এ ঘটনা ফেতুল্লাহ গুলেনের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে বলে জানান। আমরা লাইভ দেখছিলাম। এরদোগানের মাথার ওপর আই মিন এয়ারপোর্টের ওপর বিদ্রোহী যুদ্ধবিমান তখনো ব্যাপক মহড়া দিচ্ছে। যাক, এর মধ্যে পুলিশ, সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ, নৌবাহিনী, স্পেশাল ফোর্স সরকারের পক্ষে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করলো। যদিও সেনাপ্রধান বিদ্রোহীদের হাতে বন্দী ছিলেন। সকাল হতে লাগলো। ভোর ৫টা-৬টার দিকে ইস্তাম্বুলের তাকসিম স্কয়ার, বসফরাস ব্রিজ, আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট প্যালেসসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১৫০০ বিদ্রোহী সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তবে জনগণ এখনো রাস্তায়। তবে সেনবাহিনীর সাথে মোকাবেলা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে ১৭ পুলিশসহ ৬০ জনের মতো সাধারণ জনতা। অবশ্য এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আহত শত শত মানুষ। এ ক্যু সফল হলে তুরস্কে আরেক সিসির জন্ম নিতো, হয়ে যেতো মিসর। কিন্তু ক্যু সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারায় তুরস্কের ইসলাম ও গণতন্ত্র মজবুত হলো। অবিশ্বাস্যভাবে সকল জনতার মুখে তাকবির, আল্লাহু আকবারের মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো তুরস্ক। রাত ১টা থেকে টানা তুরস্কের মসজিদগুলো থেকে আজান প্রচারিত হচ্ছিলো। মসজিদ থেকে লোকজনকে রাস্তায় নামার জন্য আহবান ও সাহস দেয়া হচ্ছিলো। মানে একটা বিপ্লব। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাহসী নেতৃত্ব, সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা এবং জনতার আত্মত্যাগের এই বিরল দৃষ্টান্ত সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
এরদোগান কেন এত জনপ্রিয়
শুধু নিজের স্মার্টফোনে ধারণ করা একটা ভিডিও বার্তার মাধ্যমেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গত ১৫ জুলাই শুক্রবার রাতে বিদ্রোহী সেনাসদস্যদের অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। হিসাবটি এতটা সহজ নয়। এই জনপ্রিয়তা এমনি এমনি আসেনি। এর পেছনে রয়েছে এরদোগানের আদর্শিক চেতনার জাগরণ। সেই বিশ্লেষণের আগে দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষকদের একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো। গার্ডিয়ানের বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত জনপ্রিয় না হলে এভাবে জান্তার ট্যাঙ্ক থামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ওই ঘটনার পর থেকেই এরদোগানের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছেন অনেকে।
ইস্তাম্বুলের সিটি হলের সামনের সড়কে গত ১৯ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অন্যদের মতো এরসিল কোর্কমাজও (২৯) গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের সমর্থনে র‌্যালিতে অংশ নিতে। সরকারি চাকরিজীবী এ ব্যক্তির সঙ্গে ছিল তার ছোট ছোট দুই মেয়েও। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রেসিডেন্টকে খুবই ভালোবাসি। বিজেতা মেহমেতের পর তিনিই আমাদের সেরা নেতা।’ বিজেতা মেহমেত ছিলেন ১৪৫৩ সালে কনস্ট্যানটিনোপল জয় করা অটোমান সুলতান। এরদোগান ও তার রাজনৈতিক দল একে পার্টির জনপ্রিয়তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সমর্থকেরা প্রায়ই তিনটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।
প্রথমত, এরদোগান নিজেকে ‘জনগণের একজন’ বলে মনে করেন এবং তার কাজেকর্মেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। সমাজের নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা তুর্কি এই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় আসার আগে ছিল উপেক্ষিত। ইউরোপীয় কাউন্সিলের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিভাগে তুরস্কবিষয়ক বিশ্লেষক আসলি আয়দিনতাসবাস বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষমতা কুক্ষিগত করা উঁচু শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে একে পার্টি। আগে রাষ্ট্রযন্ত্রের সবগুলো অঙ্গের কার্যক্রমই ছিল জনগণবিমুখ। কিন্তু এখনকার প্রশাসন জনগণের প্রশাসন।’
এরদোগানের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ধর্মীয় ইস্যু। ১৯২০ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক আধুনিক তুরস্কের গোড়াপত্তন করার পর থেকেই দেশটির সমাজব্যবস্থায় ইসলাম ধর্ম গুরুত্ব হারাতে শুরু করে। কিন্তু একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর আবারো সমাজের মূলধারায় ফিরেছে ইসলাম। এ ব্যাপারে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা এরসিল কোর্কমাজ তুরস্কের পতাকা নাড়তে নাড়তে বলেন, ‘এরদোগানের আগে মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত আর পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছিল।’
এরদোগানের সমর্থকদের মতে, তার জনপ্রিয়তার তৃতীয় কারণ অর্থনীতি। ২০০৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর এরদোগানের সরকার দেশের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। এর মধ্যে অনেক সেতু নির্মাণ, সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ এবং মেট্রোরেল উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতেও উন্নতি সাধন করেছে এই সরকার। আঙ্কায়া নামে এক ব্যক্তি সরকারি হাসপাতালে কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত তার মায়ের চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাওয়ায় এরদোগানকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের সমর্থনে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এরদোগানের নির্বাচনের আগে আমার মায়ের চিকিৎসাই করাতে পারছিলাম না। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে সংস্কার করার পর সরকারি হাসপাতালে সপ্তাহে তিনবার করে বিনামূল্যে মায়ের ডায়ালাইসিস করাতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এরদোগান দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থায় উন্নতি সাধন, বয়স্ক ভাতার প্রচলন ঘটিয়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি ঠেকিয়ে জনগণকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাবার সুযোগ করে দিয়েছেন।’
আলোর পথের যাত্রী
এরদোগানের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হিসেবে দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে ধর্মীয় ইস্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কামাল পাশা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তুরস্ককে ইসলামমুক্ত করার যে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছিলেন, সেই অন্ধকার থেকে তুরস্ককে আলোর পথে আনার জন্য সুকৌশলে দৃঢ়তার সাথে সামনে এগিয়ে চলছেন আলোর পথের যাত্রী রজব তায়েব এরদোগান। এ প্রসঙ্গে আলোচনার আগে একটু পেছন ফিরে দেখা দরকার। ১৯২০ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক আধুনিক তুরস্কের গোড়াপত্তনের আগে তুর্কি খেলাফত ছিলো মুসলিম দুনিয়ার ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। উসমানীয় খেলাফত বা অটোমান সা¤্রাজ্যের ইতিহাস আজও রূপকথার মতো লোকের মুখে মুখে ফিরে। এই সা¤্রাজ্যের পতনের পর কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কে ১৯২৮ সালের ১০ এপ্রিল সংবিধান থেকে ধর্ম সংক্রান্ত সব কথাই বাদ দেয়ার মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম থেকে বাতিল করা হয়। তারপর সেখানে যে পরিবর্তনগুলো দেখা যায় তা ছিলো রীতিমতো উদ্বেগের। অবশ্য ইসলাম নির্মূলের কিছু উদ্যোগ রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের আগে থেকেই শুরু করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে একে একে : ১) ১৯২৫ সালে বিদ্যালয় থেকে কুরআন ও ধর্মশিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। ২) ধর্ম মন্ত্রণালয়, মাদরাসা-মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং হজ-ওমরা নিষিদ্ধ করা হয়। ৩) বড় বড় মসজিদগুলোতে নামাজ বন্ধ করে দিয়ে সেগুলোকে জাদুঘর হিসেবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তুরস্কের সর্ববৃহৎ মসজিদ ‘আয়া ছুফিয়া’কে রূপান্তরিত করেছিলেন সরকারি জাদুঘরে। ৪) নারীদের জন্য হিজাব পরিধান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশে তুর্কি পুলিশ রাস্তায় বের হওয়া মুসলিম মহিলাদের ওড়না কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলত। ৫) ১৯২৮ সালের ৩ অক্টোবর আরবি অক্ষর নিষিদ্ধ করে ল্যাটিন বর্ণমালা চালু করা হয়। আরবিতে কুরআন পড়া, নামাজ পড়া ও আজান দেওয়া নিষিদ্ধ হয়। ৬) তুর্কি ভাষা আরবি হরফে না লিখে ল্যাটিন হরফে লেখার বিধান করা হয়। ৭) সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবারের পরিবর্তে রোববার নির্ধারণ করা হয়। ৮) তুরস্কবাসীকে ভিন্ন ধরনের পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়। ৮) মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ বর্জনে সরকারিভাবে উৎসাহিত করা হয়। ৯) তুরস্কের অধীন আজারবাইজানকে রাশিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ১০) বক্তৃতা এবং বিবৃতিতে নিয়মিত ইসলাম ও ইসলামী পরিভাষাসমূহ নিয়ে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনা করে সেগুলো বর্জনের প্রতি সবাইকে আদেশ-নিষেধ করা হয়। ১১) সরকারি চাকরিজীবীদের জামায়াতে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করা হয়। ১২) ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী সালাম দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরিবর্তে সুপ্রভাত (Good Morning) বিদায় (Good Bye) ও হ্যান্ডশেক রেওয়াজ প্রবর্তিত হয়। ১৩) ১৯২৫ সালের ২৫ নভেম্বর ফেজ ও পাগড়ির জাতীয় পোশাকের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে হ্যাটসহ ইউরোপীয় পোশাক পরিধান বাধ্যতামূলক করে সংসদে আইন পাস করা হয়। ১৪) ১৯২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর হিজরি সনের পরিবর্তে ইংরেজদের তৈরি করা ক্যালেন্ডার (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার) চালু করে। এর ফলে মুসলিম জগতের সাথে তুরস্কের দৃঢ়বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। ১৫) ১৯২৬ সালের ৩ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে কামাল পাশার মর্মর পাথরের তৈরি মূর্তি স্থাপন করা হয়। ১৯২৬ সালের ৪ নভেম্বর আঙ্কারার জাদুঘরের সম্মুখে আরও একটি মূর্তি স্থাপিত হয়। এভাবে তুরস্কের সর্বত্র তার মূর্তি স্থাপন করা হয়। ভাস্কর্যবিদ্যার নামে পাঠ্যসূচিতে মূর্তি তৈরির কলাকৌশল শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। ১৬) ১৯৩৪ সালের ২৬ নভেম্বর একটি আইনের মাধ্যমে সব তুর্কি নাগরিককে আহমদ, মুস্তফা প্রভৃতি আরবি নাম রাখা নিষিদ্ধ করা হয়। ১৭) আলেমদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইসলাম শিক্ষা, চর্চা ও ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা পালনকারী সকল প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা হয়। আলেমদেরকে প্রজাতন্ত্রের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কোন আলেম তার বিরুদ্ধাচরণ করলে তাকে সাথে সাথে হত্যা করা হতো। ১৮) ১৯২৪ সালে ওয়াকফ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেমদের অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়।
এই সকল কিছু রক্ষার দায়িত্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে না রেখে সাংবিধানিকভাবে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। কোন নির্বাচিত সরকার এসব নিয়মের পরিবর্তনের চিন্তা করলেই তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হতো।
এমন একটি দেশে ইসলামের আলোর ঝলকানি দিয়ে জনগণকে জাগিয়ে তোলা সহজ নয়। কামাল পাশার ইসলাম নির্মূল কর্মসূচির বিপরীতে ইসলামী চিন্তাবিদ বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী তাঁর লেখা তাফসির ‘রিসালায়ে নূর’ হাতে নিয়ে ঘুরেছেন তুরস্কের গ্রাম থেকে গ্রামে, পাহাড় থেকে পাহাড়ে। তুরস্কবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন ইসলামের আলো, জাগ্রত করেছেন ইসলামী চেতনা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও তুলনামূলক রাজনীতিতে পিএইচডি গবেষক নাজমুস সাকিব নির্ঝর এ বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন এইভাবে, ‘এরদোগানরা ক্ষমতায় এসে প্রথম বছরগুলোতে কিছু ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলায় গভীর মনোযোগ দিয়েছিলেন। তাদের আগের জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকা কেমালিস্ট দলটির অদ্ভুত অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে তুর্কি অর্থনীতি নিজেকে মোটেই মেলে ধরতে পারছিল না। এরদোগানদের সাথে যারা একে পার্টি গড়ে তোলায় এগিয়ে এসেছিলেন এদের অনেকেই এসেছিলেন মূলত অর্থনৈতিক দর্শনে মিল থাকার কারণে, ধর্মীয় রক্ষণশীলতার কারণে নয়। এরদোগানের পার্টি যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি হাজির করেছিল সেটা ছিল উদারনৈতিক পুঁজিতান্ত্রিক বিকাশের জন্য খুবই উপযোগী। এ ছাড়া একটা ব্যবসায়ী প্রজন্ম এরদোগানের কমরেড হয়েছেন যাদের বলা হয়ে থাকে আনাতোলিয়ান টাইগার্স। এরা খুব ঝানু ব্যবসায়ী আর ব্যক্তিগতভাবে পরহেজগার। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সবসময় আইনের শাসনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ কে পার্টি প্রশাসনযন্ত্রের উঁচু স্তরে অন্তত একটা গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিলেন যাতে ব্যবসায়ীদের মনে এই আশ্বাস জন্মেছিল যে, এখানে ব্যবসা করলে চাঁদাবাজি আর লাল ফিতার দৌরাত্ম্য সহ্য করতে হবে না। মাত্র ৫-৮ বছরের ব্যবধানে তুর্কি অর্থনীতি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, অবকাঠামো নির্মাণ, রফতানি বহুগুণ বৃদ্ধির এমন সব শক্তিশালী চমক হাজির করা শুরু করে, যেগুলো ছিল যেকোনো অর্থনীতিবিদের জন্য ঈর্ষণীয় একটা সাফল্যেও কৌশলগত পদ্ধতি। জিডিপি গেল অনেক বেড়ে। বিশ্বব্যাংকের ডাটা বলছে, ২০০৫ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ৬ হাজার ডলারের একটু বেশি আর ২০১৩ সালে এটা গিয়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ডলারের ওপরে। মূলত অর্থনৈতিক শক্তিই হচ্ছে এরদোগানদের পায়ের নিচের সেই মাটি যার ওপরে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে এরদোগান তাঁর অন্য এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তুর্কি ইসলামপন্থীদের একটা বড় অংশ হচ্ছে ১৯৬০-৯০ এর দশকে গ্রাম থেকে শহরে আসা ইমিগ্রেন্ট জনশক্তি। বলাই বাহুল্য, রাজার নীতি নিয়ন্ত্রণ করে শহর। শহুরে মডার্নিটির ইট পাথরে এই জনগোষ্ঠী গরহাজির থাকতেন আর ব্যাগে করে নিয়ে এসেছিলেন আনাতোলিয়ান ইসলামের সুগন্ধ। রাজনীতি বা সংস্কৃতি, শিক্ষা বা ব্যবসা এসব কিছুতেই তারা খুঁজেছেন একই ফ্লেভারের কোনো গ্রুপ। এই গ্রুপ একদিকে যেমন ইসলামপন্থীদেরকে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক কর্মকান্ডে ওয়াকফ ও দান করার আনাতোলিয়ান সংস্কৃতিকে পুরোপুরি জারি রেখেছে। এর ফলে সামাজিক সেবার এক বিরাট নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। এসব নেটওয়ার্কের অনেকগুলোই বিভিন্ন সুফি খানকা দ্বারা উদ্বুদ্ধ বা জড়িত। কিন্তু হাল আমলের কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এসব সামাজিক সেবার নেটওয়ার্ক সবসময় ইসলামপন্থী আন্দোলনের সহায়ক শক্তি হিসেবেই কাজ করে গেছে। অন্তত জনগণের চোখে ইসলামপন্থী আন্দোলন আর এসব সামাজিক কর্মসূচি, যা আসলে একটা সমান্তরাল রাষ্ট্রের মতই, সকল বিপদে-আপদে মানুষের কাজে এসেছে, এদের মধ্যে কোনো ফারাক চোখে পড়েনি। এসব নেটওয়ার্কের রয়েছে হাজারো স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং, এনজিও, রাইটার্স গিল্ড, বহু পত্রিকা, বেশ কিছু টিভি চ্যানেল আর প্রকাশনা সংস্থা। এই পুরো কর্ম ও যন্ত্রই ইসলামীকরণের ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করেছে। সমাজের ইসলামীকরণ আগে হয়েছে নিচ থেকে উপরে (bottom up), আর সরকারযন্ত্র ওপর থেকে নিচে এই কাজের হালটা শক্ত করে ধরে রেখেছিল। একদিকে সামরিক বাহিনী ও সেক্যুলার এলিটের তৈরি ‘দেরিন দৌলাত’ বা ডিপ স্টেইট প্রতি দশকে ক্যু করে রাজনৈতিকভাবে ইসলামপন্থী আন্দোলনকে বনসাই করে রাখতে চেয়েছে। অন্যদিকে ইসলামপন্থী গ্রুপগুলো সমাজের ইসলামীকরণ প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দিয়েছে। সব ডিম এক ঝুড়িতে না রেখে পোর্টফলিও ডাইভার্সিফাই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। সময় মত সবকিছু একই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের দিকে ‘ক্লিক’ করেছে। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে অসম্ভব মেধাবী ও বাস্তববুদ্ধিজীবী সম্পন্ন একদল অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বের হাতে। স্মরণ করা যেতে পারে, এই লোকগুলো কিভাবে নিয়মিত ইউরোপিয়ান, ইসরাইলি বা আমেরিকান ডিপ্লোম্যাটদের নাকানিচুবানি খাওয়ান।’
তুর্কির ইউরোপমুখী অভিগমন একদিকে যেমন বহু খারাপ বিষয়ের আমদানি করেছে, অন্য দিকে কিছু ভালো ইনস্টিটিউশন (প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি অর্থে) বয়ে এনেছে। এর একটা হচ্ছে একটা উদারনৈতিক স্পেস তৈরি করা। এই স্পেস একটা স্বাস্থ্যবান বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ হাজির করেছে। এই পরিবেশ এক রকমের বুদ্ধিবৃত্তিক সহনশীলতা জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে তুর্কি স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের ডাটা বলছে, সাক্ষরতার হার ৯৮.৭৮%। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এটা ৫৮% এর কাছাকাছি। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে আদর্শবাদী কোনো উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত করা যত সহজ অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সেটা ততটা সহজ নয়। বিশেষত তা আরো কঠিন যদি পেটে ক্ষুধা থাকে। একবেলার ভালো খাবার আর ভোট এইসব দেশে তাৎপর্যের দিক থেকে খুব কমই পার্থক্য বহন করে।
আরেকটা ব্যাপার সম্ভবত তুর্কিদের ক্ষেত্রে খুব সহায়ক ছিল। ইসলামপন্থীরা শুধু উসমানি  খেলাফতের ৬২৩ বছরের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের দিকে আঙুল নির্দেশ করে সেদিকে ফিরে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করাই জনসমর্থন মোবিলাইজ করার জন্য অনেক বড় শক্তি ছিল। মুস্তাফা কামাল বই-পুস্তক উলটে-পালটে দিয়েছেন, কিন্তু অলি-গলিতে গগনচুম্বী সুউচ্চ মিনারগুলো এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে উসমানি খেলাফতের গৌরবস্মৃতি।’
একটাই খোলা ছিল জনগণের পাল্টা অভ্যুত্থান
সিএনএন-এর সাথে এরদোগান সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কেউ যদি বলে, তুরস্কে এখনো সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, তবে যা বলব তা হলো : তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়েছে। অনেকে অভ্যুত্থানকারীদের সাথে ছিল। আবার অভ্যুত্থান চেষ্টার বিরুদ্ধেও অনেক মিডিয়া অবস্থান নিয়েছিল। তাই আমার প্রশ্ন হলো, অভ্যুত্থান সমর্থনকারী মিডিয়ার বিরুদ্ধে কি তুর্কি বিচারব্যবস্থা কোনো পদক্ষেপ নেবে না? অবশ্যই নেবে। কেন? কারণ অভ্যুত্থান চেষ্টাকে দমন করতে চাইলে যারা এর সাথে রয়েছে, তাদেরও তাদের উপযুক্ত জায়গায় রাখতে হবে, তা-ই না? তাদের সাথে উপযুক্ত আচরণ করতে হবে, তা না হলে নাগরিকরা, জনগণ ভুল তথ্যে প্রতারিত হবে। অন্য দিকে, আমরা এমন এক পরিস্থিতির কথা বলছি, যেখানে ২৮০ জন তাদের জীবন হারিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। ১,৫০০ লোক আহত হয়েছে। ১৫০ জনের অবস্থা গুরুতর। জনগণই আমাকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে। আমি যদি কিছু না করি, তারা সময় এলে আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। সেটা ঠিকই হবে। আর মারমারিসেও আমার বিরুদ্ধে অভিযান চলেছে। আমার দুই ঘনিষ্ঠ দেহরক্ষী শহীদ হয়েছে, তাদের হত্যা করা হয়েছে। আমি সেখানে আর ১০ থেকে ১৫ মিনিট থাকলে আমি নিহত হতাম বা আমাকে আটক করা হতো। অবশ্য নিজেদের মধ্যে, আমাদের বন্ধুদের সাথে আমরা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছি। তারপর আমরা স্থান পরিবর্তনের আয়োজন করি। এতেই আমাদের আটক করার ব্যাপারে তাদের পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে যায়। এখন আমাদের সব শহীদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং যারা আহত, তাদের আরোগ্য লাভের জন্য কিছু করতে হবে।’
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

SHARE