ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন উত্তর উপনিবেশ অধ্যায় আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ

(গত সংখ্যার পর)

মুসলিম জাতির পতন ও তার ফলাফল:
১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের রানী ইসাবেলা আর রাজা ফার্ডিনান্ডের যৌথ চক্রান্তে পড়ে বিলাস-বিভ্রমে রত মুসলিম শাসক আবু আবদুল্লাহ আর তার অনুসারীদের শোচনীয় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মুসলিম শাসনের এক অবিশ্বাস্য পতনযুগের সূচনা হয়। তাদের একদল মসজিদে বন্দী অবস্থায় আগুনে পুড়ে মারা গেল, একদল পালিয়ে গেল। আরেক দল নারী ও শিশু দুঃসহ সলিল সমাধি লাভ করলো। সভ্যতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটনের আকাশ সমান ঐতিহ্যের অধিকারী একটি জাতি ইউরোপের মাটি থেকে উৎখাত হয়ে গেল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইংরেজদের সাথে ১৭৫৭ সালে পলাশী প্রান্তরে নবাব সিরাজের পতন ছিলো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। এখানেও নবাবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সেনাপতি মীর জাফর আলী ও তার সহযোগী ষড়যন্ত্রকারীদের কবলে পড়ে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা খ্যাত স্বাধীন বাংলার শেষ সূর্য অস্ত যেতে বাধ্য হয়।
ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসকগণ প্রায় ৭০০ বছর শাসন করেন। ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে মোহাম্মদ ঘোরির মাধ্যমে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। সেই থেকে ১২০৬ সালে কুতুবুদ্দিন আইবেক, ১২৬৬ সালে গিয়াসউদ্দিন বলবন শাহ, ১২৯০ সালে জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজী, ১৩২০ সালে নাসির উদ্দিন খসরু শাহ (তার মাধ্যমে খিলজী বংশের শাসন শেষ হয়), ১৩২০ সালে গিয়াসউদ্দীন তুঘলক, ১৩৯৯ সালে নাসির মুহাম্মদ শাহ ক্ষমতায় আসেন। ১৪১৪ থেকে ১৪৪৫ পর্যন্ত সাঈদ বংশ ক্ষমতায় থাকে। ১৪৫১ সালে বাহলুল লোদী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত লোদী বংশ ১৫১৭ সাল পর্যন্ত, ১৫২৬ সালে জহির উদ্দিন বাবর মুঘল শাসনের সূচনা করেন, যা ১৫৩০ সালে সাময়িকভাবে শেষ হয়। ১৫৩৯ সালে শেরশাহ সূরীর মাধ্যমে সূরী বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। যা ১৫৫৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়। ১৫৫৫ সালে ক্ষমতায় আরোহণের মাধ্যমে আবার মুঘল শাসন শুরু হয়, যা ১৮৩৭ সালে বীর সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
মুসলমানদের এই দীর্ঘ শাসনকাল ছিলো ভারত উপমহাদেশের সুখ, সমৃদ্ধি উন্নয়ন ও প্রজা সাধারণের ব্যাপক আনন্দময় শাসনকাল। এ সময় রাষ্ট্রের সরকারি কাজে ব্যবহৃত ভাষা ছিল ফার্সি। জনগণ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ আদালতের ভাষা হিসেবে ফার্সি ও মুসলমানদের ধর্মীয় কার্যে ব্যবহৃত ভাষা আরবি শিখতেন।
মুসলিম শাসন আমলে প্রতিটি জনপদে মসজিদ ও স্কুল গড়ে তোলা হয়। ১৯৫৪ সালে টঘঊঝঈঙ এর পক্ষ থেকে ঝঃঁফরবং এক ঈড়সঢ়ঁষংড়ৎু বফঁপধঃরড়হ এ রিপোর্ট করে যে মুসলিম শাসনামলে বাংলায় ৮০,০০০ এর চেয়েও বেশি স্থানীয় বিদ্যালয় ছিল যার অর্থ প্রতি ৪০০ জনের জন্য একটি স্কুল ছিল। একইভাব ডরষষরধস অফধস নামক শিক্ষাবিদ ১৮৩৫-১৮৩৮ পর্যন্ত জরিপ করে দেখেন মুসলিম বাংলায় ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) বিদ্যালয় চালু ছিল।

শিক্ষাক্ষেত্রে ভারতবর্ষে মুসলিম
শাসকদের অবদান
মুসলিম শাসকগণ বিদ্যার্জনের অধিকারকে জন্মগত অধিকার মনে করতেন এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের বিরাট অংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করতেন। শিক্ষক, আলিম, ওস্তাদদের বেতন ভাতা, মক্তব, মাদরাসা, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও বিকাশে তারা দু’হাতে অর্থ বরাদ্দ দিতেন।
ফিরোজ শাহ তুঘলক (১৩৫১-৮৮) তার রাজকোষ থেকে শিক্ষা খাতে ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) টাকা ব্যয় করেছেন। সুলতান গজনভী (যাকে আক্রমণকারী হিসেবে ইতিহাসে উপস্থাপন করা হয়েছে) তার দরবারে জ্ঞানী-গুণীদের কদর ছিল। কুতুবউদ্দিন আইবেক, ইলতুৎমিশ, সম্রাট আকবর প্রমুখ শাসকের যুগ ছিল বিজ্ঞান চর্চার সময়। এ যুগে শিক্ষার যে বিষয়বস্তু ছিল তা নি¤œরূপ:
প্রাথমিক স্তর: ১. ধর্মীয় শিক্ষা ২. পঠন ৩. লিখন ৪. গণিত, উচ্চতর স্তর: ১. আরবি ২. ফারসি ৩. ব্যাকরণ ৪. অলঙ্কারশাস্ত্র ৫. দর্শন ৬. আখলাক ৭. বিজ্ঞান ৮. শিল্পকলা ৯. গণিত ১০. ধর্মতত্ত্ব ১১. ইতিহাস।

ইংরেজ শাসকের সূচনা এবং নতুন শিক্ষাব্যবস্থা:
১৭৫৭ সালে বাংলার ক্ষমতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দখল করে নিলেও সমগ্র ভারত দখলে নিতে ইংরেজদের ১৮৩৭ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যায়। কিন্তু আসল কাজে হাত দিতে তারা দেরি করেছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিক সরকার লর্ড ম্যাকলেকে দায়িত্ব দেয় ভারতের জন্য একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য।
লর্ড ম্যাকলে ১৮৩৫ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রস্তাব করেন যার ভূমিকাতে তিনি লিখেন- “We are withholding from them the learning for which they are craning, we are facing on them the much learning which they nauseate” “মুসলমানরা যে শিক্ষার জন্য উদগ্রীব, তা থেকে তাদেরকে নিবৃত্ত করছি। আর যা তাদের ঘৃণার উদ্রেক করে তা ব্যাপকভাবে শিক্ষার জন্য বাধ্য করছি। তিনি আরো বলেন, তারা হবে এমন এক শ্রেণীর, যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয় কিন্তু রুচিতে ভাবধারায়, নীতিতে ও বুদ্ধিতে ইংরেজ’’ এ সম্পর্কে আরো পরিষ্কারভাবে বলেন, “এই শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা এমন একদল মানুষ তৈরি করবো যারা হবে শাসক (আমরা) ও শাসিত ভারতীয়দের মাঝে দোভাষী। একদল করণিক তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে তারা মুসলমানদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তারা মিশনারি, হিন্দু-সংস্কৃত স্কুল, টোল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ দেয়। আর মুসলমানদের লাখেরাজ সম্পত্তি ওয়াকফ ইত্যাদি কেড়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়। মুসলমানগণ যাতে চাকরিবাকরি থেকে বঞ্চিত হয় সে জন্য দ্রুত তারা রাষ্ট্রীয় ও আদালতের ভাষা থেকে ফার্সি ও আরবি বাদ দিয়ে ইংরেজি চালু করে। অপরদিকে দেশে প্রচলিত আরবি, ফার্সি শব্দসমূহ বাদ দিয়ে সংস্কৃত শব্দের ব্যাপক সংযোজন করে। মুসলিম শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করে হিন্দু শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। এভাবে ইংরেজগণ একটি নতুন বশ্য-গোষ্ঠী তৈরি করার নীলনকশা প্রণয়ন করে।
এ অবস্থায় মুসলিম নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে আলেমসমাজ মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় নতুন নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তারা জনগণকে ইংরেজি না শিখতে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। ফলে যা হওয়ার তাই-ই হলো। হিন্দুরা ইংরেজদের একান্ত আপনজন হয়ে ওঠে। ক্ষমতাচ্যুত মুসলিম জাতিকে তাদের অধীনস্থ দেখতে প্রলুব্ধ হলো। মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চলে যাবার পর সামাজিক আধিপত্য ও সাংস্কৃতিক প্রাধান্যও চলে যেতে বাধ্য হয়। দেওবন্দ, সাহরানপুর, নদওয়াসহ মুসলিম মাদরাসাসমূহ গড়ে ওঠে। মূলত এসব প্রতিষ্ঠান ইংরেজবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখে। তবে তাদের সিলেবাস ও কারিকুলাম থেকে রাজনীতি, সংস্কৃতি, সমাজনীতি বিদায় হয়ে তা ক্রমশ কেবল ধর্মীয় মাসয়ালা মাসায়েলে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
অপর দিকে, কতিপয় উচ্চ শিক্ষিত মুসলমান বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্যার সৈয়দ আহমদ, আমীর আলী এদের মাঝে অন্যতম। তারা গঠন করেন অ্যাঙ্গলো মোহামেডান ক্লাব এবং অ্যাঙ্গলো-মোহামেডান এডুকেশন সোসাইটি। তাদের উদ্যোগে আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৮৭৫ সালে গড়ে ওঠে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়।
William Wilson Hunter এর বই “The Indian Muslmans’ এর মাধ্যমে ব্রিটিশদের কাছে যে সুপারিশ যায় তার ভিত্তিতে ইংরেজগণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে আরবি, ফার্সি কোর্স চালু করে, মৌলভী সাহেব নিয়োগ দেয়। কওমি ও খারেজি মাদরাসাসমূহের আদলে নিউ স্কিম হাই মাদরাসা অর্থাৎ কলকাতা আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে। এর প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন একজন ইংরেজ সাহেব।
অন্যকথা বাদ দিলেও একটি নির্জলা সত্য সবারই জানা যে পর্যায়ক্রমে মুসলিমগণ তাদের বাচ্চাদের মিশনারি স্কুলে পাঠাতে থাকেন। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী, বিশেষ করে মেধাবীগণ সেক্যুলার ও বামপন্থী ভাবাদর্শে গড়ে উঠতে থাকেন যা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঔপনিবেশিক ভারতে মুক্তির আন্দোলন
ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের পর জাতিসমূহের আর্থসামাজিক ও সামরিক উত্থান হতে থাকে। নতুন এই উত্থান যুগে ব্রিটিশ ফ্রান্স, ওলন্দাজ, পর্তুগিজগণ বিভিন্ন দেশ দখল করে উপনিবেশ তৈরি করতে থাকে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ভারত উপমহাদেশসহ এশিয়ান দেশসমূহে উপনিবেশ তৈরি করে ব্রিটিশ। প্রথমে তারা বণিকের ছদ্মবেশে আসে এবং ক্রমে রাজ্য দখল করতে থাকে।
ইংরেজগণ ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত ১৯০ বছরের অধিক সময় ভারত শাসন করে। তারা এই দীর্ঘ শাসনকালে ভারতের মানুষের মৌলিক অধিকারসমূহ হরণ করে নেয়। স্বাধীনতাকামী ভারতীয় নাগরিকগণ ধীরে ধীরে স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন শুরু করে।
১৭৫৭ এর পর উল্লেখযোগ্য আন্দোলন হলো ১৮৫৭ এর সিপাহি বিদ্রোহ। এটিকে কেবল সিপাহি বিদ্রোহ বললে জনগণের ব্যাপক সমর্থনপুষ্ট একটি আন্দোলন ছোট করে দেখা হবে। ১৮৩১ সালে বালাকোট প্রান্তরে সৈয়দ আহমদ ব্রেলভী তার দলবল নিয়ে জীবনবাজি রাখেন। তারই ধারাবাহিকতায় সারা ভারতবর্ষে গড়ে ওঠে আন্দোলন ও সংগ্রাম যার অন্যতম হচ্ছে ফকির বিদ্রোহ, শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার লড়াই।
ইতোমধ্যে রাজনৈতিক আন্দোলনও দানা বাঁধতে থাকে। জন্ম নেয় ভারতীয় সেক্যুলার সংগঠন কংগ্রেস। কিন্তু, সময়ের ব্যবধানে আস্তে আস্তে খোলাসা হতে থাকে কংগ্রেসের গোপন অভিসন্ধি। তারা চেয়েছিল হিন্দুদের প্রাধান্য সম্পন্ন একটি অখণ্ড স্বাধীন ভারত গড়তে সেখানে মুসলমানগণ অধীনস্থ হয়ে থাকবে। ১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব আহসান উল্লাহ খানের উদ্যোগে জন্ম হয় মুসলমানদের রাজনৈতিক সংগঠন, মুসলিম লীগ। কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসে ছিলেন। যখন বুঝতে পারেন মুসলমানদের অধিকার সুরক্ষার জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন তখন তিনি কংগ্রেস ছেড়ে মুসলিম লীগে যোগ দেন। একদিকে মহাত্মা গান্ধী, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে কংগ্রেস অপরদিকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কৌশলী নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ভারতবর্ষব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষকে সংঘবদ্ধ করতে থাকেন। বিষয়টিকে আর প্রলম্বিত না করে আমরা এখানেই ইতি টানবো। টানা দীর্ঘদিনের আন্দোলন, সংগ্রাম, আত্মদান আর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের ফলে ইংরেজগণ বুঝতে পারে এবার তাদের ভারত ছাড়তে হবে। ইংরেজ তাড়ানোর সেই বিদ্রোহ সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের সবারই জানা। এবং অতঃপর ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট জন্ম নিলো মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বাধীন ভূখণ্ড পাকিস্তান আর ১৫ আগস্ট জন্ম নিলো অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর দেশ ভারত। আমরা আপাতত মুক্তিলাভ করলাম উপনিবেশের হাত থেকে।
ভারত, পাকিস্তান স্বাধীন হলো আজ ৭৩ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে দুই দেশেই অনেক ঘটনা, দুর্ঘটনা ঘটে। ইতিহাসের চাকা ঘুরছে, ঘুরছে মানুষের জীবনবোধ। ভারত যতই সেক্যুলারিজম ও বৃহত্তম গণতন্ত্রের দাবিদার হোক না কেন তাদের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে ছড়ানো ছিটানো আছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ধর্মান্ধতা, দুঃসহ নির্যাতন, ইতিহাস বিকৃতি এবং অসহিষ্ণুতা।
অপর দিকে মুসলমানদের স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে জন্ম নেয়া পাকিস্তান ব্রিটিশের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভ করলেও মাত্র ২৫ বছরের মাথায় নিজেদের পৌনঃপুনিক ভুল পদক্ষেপের কারণে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিভক্ত হয়ে যায়। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত হয়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ড। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৯ বছর। প্রায় অর্ধশত বছরের এ সুদীর্ঘপথ চলায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত একটি স্থিতিশীল, স্বয়ম্ভর, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রসরমানতা অর্জন করতে পারে নাই। আর এর মূলে রয়েছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার চরম দৈন্য। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে ২৫ বছর এবং দ্বিতীয় দফায় স্বাধীন দেশ হিসেবে দীর্ঘ ৪৯ বছর অতিক্রম করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা স্বাধীন দেশের জনশক্তি (গধহঢ়ড়বিৎ) ও নেতৃত্ব তৈরির উপযোগী একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। (চলবে)
লেখক : শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply