একজন দায়ীর মৌলিক গুণাবলি -আব্দুল কাদের মোল্লা

প্রত্যেকটি ভাষা স্বতন্ত্র এবং তাঁর যে শব্দগুলো, এই শব্দগুলোকে সরাসরি অনুবাদ করা যায় খুব কম। দাওয়াত বলতে বাংলায়ও আমরা ‘দাওয়াত’ লেখি এই কারণে যে, দাওয়াতের বাংলা আহবান হলেও কথাটা আরবিতে যতখানি ওজনদার শব্দ মনে হয়, বাংলায় ‘আহবান’ বললে তেমন মনে হয় না। ইংরেজিতে এটাকে ‘Clarion call’ বলা হয়। মানে ‘অন্তর উজাড় করে দিয়ে উদাত্ত আহবান।’ এই রকমই একটি মিনিং ক্যারি করে ‘দাওয়াত’ শব্দটি। এখন দাওয়াত যিনি দিবেন মানুষের কাছে তার গুণ কী কী থাকতে হবে এই ব্যাপারে আমি কিছু কথা বলি-
প্রথম কথা হলো, আমি যে বিষয়ে মানুষকে আহবান করতে চাই সেই ব্যাপারে আমার স্পষ্ট জ্ঞান দরকার। এখন এই স্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করতে হলে দুনিয়ার সব বই তো পড়া সম্ভব না। এ সম্পর্কে যত বই আমাদের উলামায়ে কেরাম বা ফকিহগণ লিখেছেন তা সকলের পক্ষে পড়াও সম্ভব না। jerrome s. brunner (1915-2016)-এর একটা বই আছে, বইটার নাম হলো ‘Prosses of education’ (প্রসেস অফ এজুকেশন। তার মধ্যে একটা অধ্যায় আছে, The structure of knowledge অর্থাৎ Knowledge-এর বা জ্ঞানের একটা কাঠামো ছাত্রদেরকে অ্যাকাডেমিক ডিগ্রির মাধ্যমে দেয়া হয়- দুনিয়ার সব জ্ঞান কোনো সাবজেক্টের লোকই অর্জন করতে পারে না।
তো, এই কাঠামোটা এমন হওয়ার উচিত যাতে এই শিক্ষাটা ট্রান্সফার করে আরেক জায়গায় নিতে পারে। এখন ধরেন, আমি ফিজিকসের ছাত্র- এবং আমি ছাত্রশিবিরের কর্মী বা সদস্য- তাহলে আমি সব সময় ফিজিকসের থিওরি দিয়ে মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করা এইটার কোনো অর্থ হয় না। তাহলে আমার চেষ্টা করতে হবে বাংলার ছাত্রের কাছে যখন আমি কথা বলবো তখন সেখানে বাংলা ভাষায় সুপ-িত ব্যক্তিদের রুচিশীল সাহিত্যে যে শব্দচয়ন করেছেন, কেউ কেউ শব্দ তৈরিও করেছেন, এবং যে শব্দগুলো হৃদয়গ্রাহী ঠিক এই শব্দগুলো কোন কোন জায়গায় ব্যবহার করা যায়, এই ধরনের দক্ষতা অর্জন করা।
তেমনি মাদ্রাসার একজনের কাছে দাওয়াত দিতে গেলে, কুরআনের উচ্চারণ সহিহ যতটুকু আছে ঐভাবেই তিলাওয়াত করা উচিত। যেহেতু সে আমার চেয়ে ভালো তিলাওয়াত জানে, সে ইসলামকে একটা আন্দোলন হিসেবে বুঝে নাই। তো তার কাছে আমি যদি প্রথমে যে তিলাওয়াত করবো সেই তিলাওয়াতটাও যদি সহিহ না হয় তাইলে আমার ইমপ্যাক্ট তার উপরে হবে না। এবং যেদিকে বললে একজন মানুষ বুঝে সেভাবে কথাটা তার কাছে বলা দরকার। এবং সহজ ভাষায়। এজন্য কবি রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, সহজ কথা সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা সহজ করে যায় না বলা সহজে।
একই ভাষা সকলের কাছে সহজ নয়, যেটা ইউনিভার্সিটিতে সহজ সেটা প্রাইমারি স্কুলে সহজ নয়। যেটা গ্রামে সহজ সেটা শহরে অনেক মানুষ সহজে বুঝে না। সুতরাং ‘স্ট্রাকচার অব নলেজ’ অর্জন করতে পারলে আমরা স্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করতে পারবো এবং সেটা প্রয়োগ করতে পারবো।

দ্বিতীয় কথা হলো, কুরআনের মূল টার্গেট হলো মানুষ। সুতরাং কুরআনের ঐ আদর্শ যদি মানুষের কাছে প্রচার করতে হয় তাহলে মানবজাতির প্রতি as a whole, Towards whole humanity- আমার একটা মহব্বত থাকতে হবে। এবং কুরআনে যে রকম বলেছেন-
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوْا رَبَّكُمُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ وَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ
“হে মানবজাতি। ইবাদত করো তোমাদের রবের, যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্বে যারা অতিক্রান্ত হয়েছে তাদের সবার সৃষ্টিকর্তা, এভাবেই তোমরা নিষ্কৃতি লাভের আশা করতে পারো।” (সূরা বাকারা : ২১)
এখানে المؤمنون یٰۤاَیُّهَا বলেন নাই, বলেছেন, یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ এবং রাসূলে কারিম সা. মানব সম্পর্কে নিজের পরিচয়ে বলেছেন যে, ‘দুনিয়ার সমস্ত মানব জাহান্নামের দিকে যাইতে চাচ্ছে আর আমি তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে এই আগুন থেকে রক্ষা করার, বাঁচানোর চেষ্টা করছি।’ আমার বিরোধিতা করে, অন্য দল করে বা অন্য মতবাদ পোষণ করলে সে গোল্লায় চলে গেছে, তার পেছনে আর সময় দিয়ে লাভ নাই। এই মানসিকতা এই হীন ও সঙ্কীর্ণ মানসিকতার লোক আর যাই হোক তিনি দায়ী ইলাল্লাহর বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে পারেন না।
“আমি ঐ ব্যক্তিদের প্রতি অত্যন্ত শোকরগুজার ‘আমি যখন ছাত্র ইউনিয়ন করি আমাকে যারা আমার মত ঘাড়ত্যাড়া মানুষের জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করে দিনের পর দিন আমাকে ইসলামী আন্দোলনে শেষ পর্যন্ত এনে ছেড়েছেন।’ অতএব যদি ঐদিন আমার উপর থেকে ভরসা ছেড়ে দিতেন, তাহলে তো আমি জাহান্নামের ঐ রাস্তায়ই থাকতাম। এখন কমপক্ষে রাস্তা তো পেয়েছি। নিজে যদি আল্লাহকে খুশি করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারি তাহলে আমার কপাল ভালো, আর যদি না পারি তবে আমার কপাল মন্দ। কিন্তু যারা আমাকে এনেছেন, তাদের সাওয়াব ঠিকই হয়েছে তাদের কোনো অসুবিধা নাই।”

দায়ী ইলাল্লাহর আরেকটি গুণ হলো, সকল মানুষকেই আমি যেন দাওয়াত দিয়ে আমার আদর্শের দিকে আনতে পারি। আমি যে মুক্তির স্বাদ পেলাম, আমি যে জান্নাতের রাস্তা পেলাম। এই এত সুন্দর মানুষ, আশরাফুল মাখলুকাত এত চমৎকার বিদ্যা বুদ্ধি, এই লোকটা জাহান্নামে যাবে শুধুমাত্র দ্বীন-এর সাথে পরিচয় না করার কারণে, দ্বীন-এর উপর আমল না করার কারণে। এর জন্য সবসময় একটা কষ্টবোধ মনের মধ্যে থাকা উচিত। এরপরে এই বিষয়ে দ্বিতীয় কথা হলো, এইটা হুবহু সরাসরি প্রত্যকের কাছে বলার আগে পয়লা টার্গেট থাকা উচিত বুদ্ধিমান লোক যারা এবং যারা মোটামুটি কিছুটা হলেও নৈতিকভাবে চরিত্রবান এই লোকদের কাছে। সামাজিকভাবে ইউনিভার্সারি সার্বজনীনভাবে যে সমস্ত জিনিস ভালো বলে এক্সেপ্টেড এবং যে সমস্ত জিনিস ভালো বলে এক্সেপ্টেড নয়- এগুলো নিয়ে আলোচনা করা। আমর বিল মারুফ নাহি আনিল মুনকার- এই শব্দটার সরাসরি তরজমা কিন্তু সৎ কাজও নয়, অসৎ কাজও নয়। মারুফ মানে হলো- পরিচিতি। বিবেকের কাছে যে কথাটি ভালো বলে পরিচিত- উরফ মানে পরিচয়- মারুফ মানে পরিচিত- আর ইলমে মারেফাত মানে- পরিচিতি, কোনো বাতেন কথাবার্তা নয়। এইরকম কথা নিয়ে প্রথমে আলোচনা করা উচিত। এবং যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, যারা শিক্ষকতা করেন, যারা এই রকম বিদ্যাবুদ্ধির চর্চা করেন তাদের কাছে সচরাচর যা ‘রুহ’ ভালো বলে এক্সেপ্ট করে, এই ব্যাপারে কথা তোলা উচিত। “তারপরে আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমার জায়গায় নিয়ে আসা দরকার।” কয়েকদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর বাসায় গেলাম (২০০৫ সালে) উনার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। বললেন যে, ঈদের পরে তো ‘ঈদ মোবারক’ বলা হলো না। তিনিই বললেন, আসবেন নাকি আমি আসবো? আমি বললাম, আমিই আসছি। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন রিটায়ার্ড লোক আসলেন। তারা ওয়েস্টার্ন সভ্যতা নিয়ে আলোচনা করতে থাকলেন আর আমি মোটামুটি চুপ থাকলাম। আমি শুধু সুযোগ খুঁজতে থাকি যে, তাদেরকে আমার রাস্তায় আনার সুযোগ কখন পাবো। এক পর্যায়ে একটা বিষয় যখন তাদের বিবেকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ও নিন্দনীয় কাজ বলে মনে হলো এবং একজন লাফ দিয়ে উঠলেন। একটা বিষয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে এক ব্যক্তি বলছিলেন, আমি আপনাদের একজন বড় মুরব্বির কথা বলবো যিনি কাফেরদেরকে অভিসম্পাত দিলেন। আমার কাছে এইটা পছন্দ হয় নাই। বরং এভাবেই যদি দোয়া করতেন যে, সব মানুষকে যদি আল্লাহ হেদায়েত দেন তাইলে তো আমাদের দল ভারি হয়। এর মধ্যে একজন রিটায়ার্ড এয়ার ফোর্সের অফিসার লাফ দিয়ে বললেন, আপনার এই কথা ঠিক নাই। আল্লাহর নবী নিজে অভিশাপ দিছেন, কুরআনে আল্লাহ অভিশাপ দিছেন, অতএব কোনো কোনো জায়গায় অভিশাপও প্রযোজ্য। তখন বুঝলাম উনার মধ্যে ঈমান আছে এবং বেশ মজবুত আছে। ব্যাস! আমি এখান থেকে ধরা শুরু করলাম। এরপরে কখন যে রাতে সাড়ে বারোটা বেজে গেছে টেরও পাই নাই। এর জন্য কমনলি এক্সেপ্টেড জায়গাগুলি ধরতে হবে প্রথমেই।
এর আরেকটি দিক হলো, নিজের পরিচয় দিতে হেজিটেইট করা উচিত না যে, আমি ইসলামের কথা বললে কি বলবে লোকেরা। এই হীনম্মন্যতায় যে ভোগে সে কোনোদিনই দাওয়াতি কাজ করতে পারবে না। আমার হাতে যে অস্ত্র আছে কুরআন; রাসূলে কারীম সা.-এর সুন্নাহ এবং তাঁর অনুপম চরিত্র। এইরকম অন্য কোনো জিনিস তুলনা করার যোগ্যতাও রাখে না তারা। সেটা আমীরে জামায়াত, তাঁর বক্তব্য উদ্বোধন করার সময় বলেছিলেন,
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
“আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা হামিম সাজদাহ : ৩৩) এই যে মুসলমান বলে ঘোষণা দিতে যদি নিজের এই কথাটা বলতেই এমন বলতে হয় যে, সে নিজেকে মুসলমান প্রকাশ করলো নাকি বুঝা যায় না- এতটা ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স থাকা উচিত নয়। একদমই না।
এর তৃতীয় দিক হলো, আমার ওপর যে গুরুদায়িত্ব আছে। এটা অনুভব করা এর মর্যাদা অনুভব করা। সূরা হাক্কা-তে আছে, ‘যদি এ নবী নিজে কোনো কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতো, তাহলে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِیْنَ٘ۖ এবং ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম।” সুতরাং রাসূলে কারিম সা.-এর দায়িত্ব ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে যে আহবান, এটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
এরপরে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সমাজ ও সমকালীন অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা এবং সংশোধনের দায়িত্ব পালন করার জন্য কাজ করা। এই কাজটা নবী কারিম সা. নবুওয়াত পাওয়ার পরে করেছেন। এমনকি নবুওয়াত পাওয়ার আগেও ‘হিলফুল ফুজুল’ গঠনের মাধ্যমে তিনি এ কাজ করেছেন।

দাওয়াত দিতে হবে হিকমাহ-র সাথে এবং উত্তম পন্থায়। রাসূলে কারিম সা. ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং তার ব্যবহার ভালো। সূরা আলে ইমরানে আল্লাহ বলেছেন, “(হে নবী!) এটা আল্লাহর বড়ই অনুগ্রহ যে, তোমার ব্যবহার তাদের প্রতি বড়ই কোমল। নয়তো যদি তুমি রুক্ষ স্বভাবের বা কঠোর চিত্ত হতে, তাহলে তারা সবাই তোমার চার পাশ থেকে সরে যেতো। তাদের ত্রুটি ক্ষমা করে দাও।” এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাসূলে কারিম সা.-এর রুচিশীলতা, পরিচ্ছন্নতা ছিল সাংঘাতিক ধরনের। রুচিশীল মানুষ অন্য মানুষকে গালি দেয়ার সময়ও ভদ্র ভাষা ব্যবহার করতে পারে না। এবং আন্দাজ ও পজিশন অনুযায়ী কথা বলতে হবে। এমন যেন না হয় যে, আমি ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র- আমি বিরোধী দলের একজন নেতা বা নেত্রীর বিরুদ্ধে তার নাম ধরে এমনভাবে, এমন ভঙ্গিমায় কথা বললাম যে আমি তার চাইতে হয় উপরে-না হয় সমান। আসলে তো অবস্থাগত ব্যাপারটা তা হয় না। কথা বলার সময় মান সম্মান রেখেই কথা বলা উচিত।
এরপরে সত্য পথে থাকার জন্য ঠা-া মাথায় এবং উত্তম পন্থায় কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ আমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সূরা বনি ইসরাইলের ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আর হে মুহাম্মাদ! আমার বান্দাদেরকে বলে দাও, তারা যেন মুখে এমন কথা বলে যা সর্বোত্তম। আসলে শয়তান মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করে। প্রকৃতপক্ষে শয়তান হচ্ছে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’ ঠিক পরেই ৫৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের রব তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে বেশি জানেন। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং চাইলে তোমাদের শাস্তি দেন। আর হে নবী! আমি তোমাকে লোকদের ওপর হাবিলদার করে পাঠাইনি।’
এরপরের কথা হলো, নিজে কি অনুসরণ করবো আর কি বলবো, তা স্পষ্টভাবে বুঝে নিতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, “দেখো, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অন্তর্দৃষ্টির আলো এসে গেছে। এখন যে ব্যক্তি নিজের দৃষ্টিশক্তিকে কাজে লাগাবে, সে নিজেরই কল্যাণ সাধন করবে। আর যে অন্ধ সাজবে, সে নিজেই নিজের ক্ষতি করবে।” (সূরা আনয়াম : ১০৪)।
সহজপন্থায় কথা বলার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা ডিরেক্টলি বলেছেন, وَ نُیَسِّرُكَ لِلْیُسْرٰىۚۖ –আর আমি তোমাকে সহজ পথের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি।
এরপরের কথা হলো, যারা কথা শুনতে চায় না তাদের পিছনে সময় নষ্ট করা ও বিতর্ক করে সময় নষ্ট করা মোটেই ঠিক নয়। এ ব্যাপারে সূরা হা-মীম সিজদার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন-
اِمَّا یَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّیْطٰنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ١ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ
“যদি তোমরা শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা আঁচ করতে পারো তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো তিনি সব কিছু শোনেন এবং জানেন।”
এ আয়াতের ব্যাপারে মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন যে, ‘এমন কোনো সময়ে প্রতিশোধ নেয়া যাবে না (যদিও আদলের দৃষ্টিতে নেয়া যায়) তখনও নেয়া উচিত হবে না যখন মানুষ মনে করে ‘এরাও মারে ওরাও’ পার্থক্য শুধু এই যে এরা নামাজি আর ওরা বে-নামাজি, কিন্তু মারামারির ব্যাপারে তো দুই গ্রুপে ঠিকই এক রকমই। এই রকম পরিবেশে কোনো প্রতিশোধ নেয়া উচিত হবে না। নবী করিম সা. তাঁর নবুওয়াতের দ্বারা রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের পরে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুদক্ষ মুজাহিদ বাহিনীর মাধ্যমে কাফেরদের মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছেন, তার আগে করেন নাই। ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের আগে লোকদেরকে নিয়ে কাফেরদের মোকাবেলা করার চেয়ে চরিত্র গঠনের দাওয়াতটাই আগে দেওয়া প্রয়োজন। সমাজের দিশেহারা তরুণদের অনেকেই মুক্তির কাফেলায় যোগদান করেন নাই বলে ঢালাওভাবে তাদের ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করা ঠিক নয়। দাওয়াতের হক আদায় করে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ কাফেলার বাইরেও অনেক তরুণ শেষ রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে। তারাও আল্লাহর কাছে হিদায়াতের ফরিয়াদ জানায়। এজন্য সুব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে কাছে টানার চেষ্টা করতে হবে। হিদায়াতের মালিক আল্লাহ তিনি যাকে খুশি তাকেই হিদায়াত দান করেন।
যে কথাগুলো বলা হলো, আল্লাহ যেন এই কথাগুলোকে কবুল করেন। আমাদেরকে দ্বীনের দায়িত্ব পালন করার তৌফিক দেন। এবং আমাদেরকে যেন দ্বীনের দায়ী হিসেবে কবুল করেন। আমিন।
(লেখাটি শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা রাহিমাহুল্লাহর আলোচনা এই লিংক থেকে সংগৃহিত ও সম্পাদিত একটি রচনা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁকে ফাঁসির মাধ্যমে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করেছেন- মহান আল্লাহ যেন তাঁকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন আমিন)

শ্রুতিলিখন : সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ তোফায়েল

SHARE

Leave a Reply