একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনারের সদিচ্ছা কতটুকু? -সামছুল আরেফীন

এ বছরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কেমন হবে সেই নির্বাচন, তা নিয়ে ইতোমধ্যে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতিমূলক কাজও। কিন্তু এ নির্বাচন কী অংশগ্রহণমূলক হবে, নাকি ৫ জানুয়ারির মতোই আরেকটি একদলীয় নির্বাচন হবে? বর্তমান সরকারের পক্ষে কি আরেকটি একতরফা নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব? আন্তর্জাতিক বিশ্বই বা তা কিভাবে গ্রহণ করবে? সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়ার জন্য সংলাপ বা সমঝোতার সম্ভাবনাই বা কতটুকু। একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, প্রয়োজন নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ঐকমত্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে না হলে, দেশের বর্তমান সঙ্কট আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। এক্ষেত্রে সংলাপ বা সমঝোতার কোন বিকল্প নেই।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত থাকে নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকার গঠিত হয়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীলসমাজ ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সাথে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন। নেয়া হয়েছে তাদের নানা সুপারিশ। জাতীয় নির্বাচনের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও হয়েছে। এরপর রোডম্যাপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ ও অন্যান্য কাজে হাত দেবে নির্বাচন কমিশন।
‘কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে হবে আগামী নির্বাচন’Ñ এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের বাইরেও ঘুরপাক খাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি বারবার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে সরকারের তরফ থেকে বিএনপির আলোচনায় বসার আহ্বান নাকচ করে দেয়া হচ্ছে। সরকারের চতুর্থ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। অর্থাৎ বর্তমান সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। আর ওই সরকারের প্রধান থাকবেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আগামী দিনে কী করবে, তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে।
একটি বিষয় স্পষ্ট ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেশে বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্য হয়নি। এ নির্বাচনকে ‘ফ্লড’ (ত্রুটিযুক্ত) নির্বাচন বলেছে অনেকেই। একটি গবেষণাপত্রে দেখা যায়, ২০১৪ সালে হয়েছিল এমন পাঁচটি দেশের নির্বাচনের মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচনকে বলা হয়েছে ফেইল্ড ইলেকশন। ‘ফ্লড’ ইলেকশন হচ্ছে, যেখানে জোচ্চুর, জাল ভোট, মারামারি এসব সমস্যা থাকে। ‘ফেইল্ড’ ইলেকশন হচ্ছে, যে ইলেকশন গণতান্ত্রিক সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। কেন ফেইল্ড ইলেকশন তার কারণও ওই গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অদ্ভূত এই নির্বাচনে প্রার্থীদের কেউ বলেছেন, ‘আমি প্রার্থিতা উইথড্র করেছি’, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কেউ বলেছেন, উইথড্র করেননি, তার পরও উইথড্র হয়ে গেছে। এ বাস্তবতা পরের ইলেকশনগুলোতে প্রভাব ফেলেছে। উপজেলা নির্বাচনে ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রাতে কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা, দিনে ওপেন সিল মারা, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়া সব কিছুই হয়েছে।

প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের আগামী নির্বাচনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতকৃত ম্যানুয়াল প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসি সচিবালয় থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আইনকানুন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মাঠ কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে গত বছরের ১৬ জুলাই কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্য নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করে। এ দিকে নির্বাচনের বাজেটও নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাজেটের আকার বাড়ছে। প্রতি পাঁচ বছরে এই বৃদ্ধির হার একশ কোটি টাকা করে। গত নির্বাচনে পাঁচশ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ছয়শ কোটি টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয়ের খাত ধরা হয়েছে ২৯টি।
নির্বাচন নিয়ে সরব বিদেশিরা : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাসহ বিদেশী বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আগামী নির্বাচন কেমন দেখতে চান সে বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সেসব মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে দাতা সংস্থাগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের সামর্থ্য আছে কি না, তা জানতে চায়। এসময় নির্বাচন অনুষ্ঠানে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর কাছে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয় কমিশনের পক্ষ থেকে।
বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে দাতা সংস্থা ও দেশগুলোর প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় পূর্বের অভিজ্ঞতার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়টিতে জোর দিচ্ছেন ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ অতীতের সব বিতর্ক এড়িয়ে একটি সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাও আগামী নির্বাচনকে কলঙ্কমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেশ কয়েকজন কূটনীতিক নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রত্যশার কথা জানান।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে কমিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইউএনডিপির রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর রবার্ট ডি ওয়াটকিসনের নেতৃত্বে প্রায় ১৮টি দেশের প্রতিনিধিরা। ওই বৈঠকে তারা বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থা কোনো সহায়তা দেয়নি এ বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়া হয়।

প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশের সুশীলসমাজ। তারা একই সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়ার ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এবং নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়া সম্পর্কে একটি ঐকমত্যে না পৌঁছলে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে তার নিশ্চয়তা কোনোভাবেই দেয়া যায় না। তিনি বলেন, রংপুরে সাত মণ ঘি জুটেছে, তাই রাধাও নেচেছে। অন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি করা গেলেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে। অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না, যদিও এর জন্য কমিশনের ভূমিকাই সর্বাধিক। বস্তুত, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য হলেও তা যথেষ্ট নয়।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সুজন নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এই নির্বাচন কমিশন রংপুরের নির্বাচনের আগে কুমিল্লায় একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে তা ভুলে গেলে চলবে না। রংপুরের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্য কাজ করেছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমরা সর্বজনীন ভোটাধিকার ব্যবস্থাকে মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলি, তা আমাদের পুনরুদ্ধার করতে হবে। এক্ষেত্রে সুজনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলসহ সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, রংপুরের নির্বাচন নিয়ে আমরা খুব একটা আশাবাদী হতে পারি না। কেননা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ করতে পারেনি। নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক হয় তাহলে সরকারের যত খারাপ দুরভিসন্ধি থাকুক না কেন, তাতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা সহজ হয় না।

তবুও শঙ্কা
একটি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ ধরনের বাস্তবতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের উন্নয়ন সহযোগীরা আগামী বছরটিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আগে ভাগেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান লক্ষ্য করে ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আরেকটি সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও আগামী বছরটিতে বাংলাদেশে সহিংসতা ও রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা করছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ককাস বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করতে গিয়ে ২০১৮ সালকে বাংলাদেশে ২০১৪ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করেছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ না থাকায় তারা এই আশঙ্কা করছে।

জ্বালাতে হবে আশার আলো
সরকারি দলের নেতারা একতরফা নির্বাচন করা কঠিন হবে জানলেও এখনও আগের সুরে কথা বলছেন। মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের প্রমুখ নেতা এখনও বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কী করবে না, এটা তাদের ব্যাপার। বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন সহায়ক সরকারের নিয়ম নেই। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম হবে না। কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না সেটা তাদের ব্যাপার। তবে সরকারি দলের নেতারা যত সমালোচনাই করুন না কেন, তারা এখন বুঝতে পেরেছেন একতরফাভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচন করা সহজ হবে না। কাজেই শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে এখন থেকেই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে সংলাপ শুরু করে সরকার রাজনীতিতে সুবাতাস আনতে পারত। কিন্তু সরকারের তেমন ইচ্ছা আছে বলে মনে হচ্ছে না। নির্বাচন আরও কাছে এলে হয়তো তারা সেদিকে যাবেন। আর সে পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চলমান বাগযুদ্ধ ও বিবৃতি-পাল্টাবিবৃতি রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে রাখবে। নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি যে সংলাপ বা আলোচনার দাবি তুলছে, সে বিষয়টিই নাগরিকদের কাছে সময়োচিত মনে হচ্ছে। কোনো রকম সংলাপ-আলোচনা ছাড়া সরকার যদি একগুঁয়েমি করে একতরফা নির্বাচন দেয়, তাহলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। দেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে সরকারকে যে কোনো উপায়ে আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। এটি সম্ভব না হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

SHARE

Leave a Reply