করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠবে কিভাবে -জালাল উদ্দিন ওমর

করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল হইচই। করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারা বিশ্বের মানুষ আতঙ্কিত এবং পুরো পৃথিবীই বিপর্যস্ত। ভয় এবং আতঙ্ক সবাইকে গ্রাস করেছে। কে কখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে, তা নিয়ে বিশ্ববাসীর উৎকণ্ঠার শেষ নেই। চিকিৎসক থেকে রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী থেকে বিজ্ঞানী সবাই এখন করোনাভাইরাস মোকাবেলার কৌশল প্রণয়নে ব্যস্ত। চীনের উহান প্রদেশে এর উৎপত্তি হলেও, পরবর্তীতে তা সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে। এর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সারা বিশ্বই এখন ব্যস্ত। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যেই চার লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং কয়েক লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাধীন আছেন। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পৃথিবীর প্রায় সব দেশই কিছুদিনের জন্য নিজেদেরকে লকডাউন ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। প্রায় প্রতিটি দেশই দুই-তিন মাস লকডাউনে ছিল। এ সময়ে বিশ্বে শত কোটি মানুষ গৃহবন্দী থেকেছেন। এ সময়ে সকল ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ ছিল। বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। শহরে জনগণের কোলাহল ছিল না। কারো সাথে কেউ প্রাণ খুলে কথা বলে নাই। মাস্ক পরে মুখ ঢেকে সবাই চলাচল করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমল বন্ধ ছিল। পর্যটন কেন্দ্র, সি-বিচ, ফাইভ স্টার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বার, নাইট ক্লাব, ফ্যাশন শো বন্ধ ছিল। বিশ্ববিখ্যাত ফুটবল লিগের খেলা বন্ধ ছিল। ফুটবল মাঠে খেলা ছিল না, ক্রিকেট খেলাও বন্ধ ছিল। হলিউড বলিউডে নায়ক-নায়িকাদের নাটক সিনেমার শুটিং বন্ধ ছিল। বিখ্যাত গায়কদের গানের কনসার্ট বন্ধ ছিল, রাজনৈতিক দলগুলোর জনসমাবেশ বন্ধ ছিল। বিভিন্ন দেশের বড় বড় পুঁজিবাজারগুলোতে ধস নেমেছে। শেয়ারবাজারে ক্রেতা নেই, বিনিয়োগকারীরা লোকসানে জর্জরিত। ব্যবসা বাণিজ্য এবং আমদানি রফতানির পরিমাণ কমে গেছে। করোনার প্রভাবে পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি আজ মহা এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আজ বিশাল এক মন্দার ঢেউ।
এই লকডাউনের কারণে সারা বিশ্বের সকল দেশের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ সময়ে অর্থনীতি ব্রেকডাউন করেছে। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য এবং যাতায়াত বন্ধের কারণে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে। ফলে সর্বত্রই অচলাবস্থা এবং অর্থনীতিতে মন্দা সৃষ্টি হয়েছে। আর পৃথিবী যেহেতু গ্লোবালি একে অপরের সাথে যুক্ত এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল তাই মন্দায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের জোয়ার ভাটা, হিমালয় আর মেরু অঞ্চলের বরফ গলায় সারা বিশ্বের পানির স্তর যেমন প্রভাবিত হয় ঠিক তেমনি করোনার প্রভাবে সৃষ্ট মন্দায় সারা বিশ্বও প্রভাবিত হয়েছে। করোনাভাইরাসে সৃষ্ট বিপর্যয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবন আজ বাধাগ্রস্ত এবং সবাই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে করোনার প্রভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে পরিবর্তন আসবে এবং তারা ব্যয় সঙ্কোচনের নীতি গ্রহণ করবে। তারা ভবিষ্যতে বিলাসী জীবনযাপন পরিত্যাগ করতে শুরু করবে এবং ন্যূনতম যা প্রয়োজন কেবল তা কিনতেই অর্থ ব্যয় করবে। ফলে বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যের চাহিদা কমতে থাকবে এবং এর ফলে ঐসব পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এভাবে সর্বত্রই মন্দা। কিভাবে মন্দার সৃষ্টি হয়, দু’একটি উদাহরণ দিলে তা আরো পরিষ্কার হবে। যেমনÑ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলোর লোকজন আগের মত বেশি করে কাপড় কিনবে না। আগে যেখানে একজন সচ্ছল লোক বছরে বারোটি জামা কিনতো সেখানে খরচ কমানোর জন্য তিনি এখন হয়তো বছরে আটটি জামা কিনবেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে কাপড়ের চাহিদা কমে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ বা অন্য যে সব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বা ইউরোপে কাপড় রফতানি হতো, সেসব রফতানিকারক দেশের রফতানির পরিমাণ কমে যাবে। ফলে পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কমে যাবে। ফলে সে বাধ্য হয়ে জনবল ছাঁটাই করবে। এসব জনবল বেকার হবে। এ দিকে কাপড়ের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ সমস্যায় পড়বে। ফলে লোকসান এড়াতে স্পিনিং এবং টেক্সটাইল মিলগুলোও লোকজন ছাঁটাই করবে। এভাবে গার্মেটস, স্পিনিং এবং টেক্সটাইলসহ ব্যাকওয়ার্ড শিল্পে জড়িত সবাই বিপর্যয়ের মুখোমুখি পড়বে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি এবং দেশ থেকে বিদেশে পণ্য রফতানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় কাস্টমস এবং বন্দরের আয়ও কমে যাবে। ফলে রাজস্ব আয়ও কমে যাবে। এদিকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাজ কমে যাবে। পরিবহন ব্যবসায় নিয়োজিতদের আয়ও কমে যাবে। একইভাবে খরচ কমাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের লোকেরা চিংড়ি মাছ খাওয়া কমিয়ে দিবে। আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহেই কয়েকবার চিংড়ি দিয়ে খাবার খেত এখন সেখানে মাসেই দু’একবার খাবে। ফলে বিদেশে চিংড়ির চাহিদা কমে যাবে এবং বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি রফতানি কমে যাবে। ফলে চিংড়ি শিল্পে জড়িতদের সবারই জীবনে মন্দা সৃষ্টি হবে। এদিকে মানুষ তার ব্যয় সঙ্কোচন করতে গিয়ে বেড়ানো কমিয়ে দিবে। ফলে পর্যটন শিল্পেও মন্দা চলবে। এর প্রভাবে হোটেল ব্যবসা, পরিবহন ব্যবসা সবই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। আবার আয় কমে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে নতুন করে বাড়ি তৈরি করা এবং অ্যাপার্টমেন্ট কেনা কমিয়ে দিবে। ফলে ইট, রড, সিমেন্ট, বালি, টাইলস, বাথরুম ফিটিংস, দরজা- জানালাসহ হাউজিং ব্যবসায় জড়িত সব ব্যবসায়ে মন্দা সৃষ্টি হবে এবং এ শিল্পে জড়িত লোকজন সমস্যায় পড়বে। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিপর্যয় সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে মন্দা সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ রেমিট্যান্স-নির্ভর দেশ। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ এদেশের আয়ের একটি বিরাট উৎস। এদেশের প্রায় আশি লক্ষ মানুষ বিদেশে কর্মরত আছেন। তাদের পাঠানো টাকায় সচ্ছল তাদের পরিবার এবং সচল এদেশের অর্থনীতির চাকা। কিন্তু করোনার প্রভাবে বিদেশ থেকে প্রচুর বাংলাদেশী কাজ হারিয়ে দেশে ফেরত এসেছেন। ফলে তারা এক প্রকার বেকার হয়ে পড়েছেন। আবার বিদেশে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় নতুন করে বিদেশে যাওয়ার পরিমাণও কমে গেছে। এই সমস্যা কিন্তু সহসাই দূর হবে না। ফলে এই সেক্টরেও একটা বির্পযয় নেমে আসবে এবং এই সেক্টরে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্র্যাভেল এজেন্সি, বিমান কর্তৃপক্ষসহ সবারই ইনকাম কমে যাবে। এর প্রভাব কিন্তু ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর আয় কমে গেছে এবং তাদের জীবন কষ্টে পড়েছে। পাশাপাশি দেশে ফরেন রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণও কমে যাবে, ফলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ সঙ্কট উত্তরণে সবাইকে কাজ করতে হবে। অতি দ্রুত এ দেশের লোকজন যেন আবারো বিদেশ যেতে পারে এবং তারা যেন বিদেশ গিয়ে কাজ করতে পারে, সে জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আরো বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। লকডাউনের কারণে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে এবং একটি বিপর্যয় নেমে এসেছে। রাস্তাঘাটে লোকজন না থাকায় রিক্সাচালক, ট্যাক্সি ড্রাইভার, হকারসহ সবার ইনকাম কমে গেছে। যারা দিনমজুর এবং যারা দিনে এনে দিনে খায়, তারা খুব সমস্যায় পড়েছে। দোকানপাট বন্ধ থাকায় দোকানের কর্মচারী এবং তাদের পরিবার কষ্টে আছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছে। লকডাউনের সময় বাস, লঞ্চ, স্টিমার বন্ধ থাকায় এ সেক্টরে জড়িত সবার ইনকামই কমে গেছে। লকডাউনের সময়ে দুধ বিক্রি করতে না পারায় ডেইরি ফার্মের মালিকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মুরগির বাচ্চা বিক্রি করতে না পারায় হ্যাচারি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এভাবে সকল পেশা এবং সকল শ্রেণীর মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে দুই-তিন মাস লকডাউন শেষে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশই এখন লকডাউন শিথিল করতে শুরু করেছে। জুনের শুরু থেকেই অর্থনীতির কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরুর মাধ্যমে জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এখন সব কিছু আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করেছে এবং এটা অব্যাহত থাকবে। মূলতপক্ষে এর কোন বিকল্প নেই। লকডাউন শেষে এখন অর্থনীতির চাকা সচল হওয়া শুরু হয়েছে এবং এখনই সমস্যাটা প্রকটভাবে দেখা দিবে। লকডাউনের কারণে বিশে^র সকল দেশের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই ক্ষতির পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়র ডলার। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট এই অর্থনৈতিক মন্দার পরিমাণ ২০০৯ সালে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার থেকেও বেশি। এখন সবাইকে বহু দিন ধরে এই ক্ষতির বোঝা বইতে হবে। তবে বেশি সঙ্কটে পড়বে গরিব রাষ্ট্রসমূহ আর বেশি কষ্ট পাবে গরিব মানুষেরা। ধনী রাষ্ট্রসমূহের পক্ষে অর্থনীতির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যতটা সহজ গরিব রাষ্ট্রসমূহের পক্ষে তা ততটাই কঠিন। তাই এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে সবাইকেই একযোগে কাজ করতে হবে। বিশ^ব্যাংক, আইএমএফ, আইএফসি, আইডিবি, এডিবি- সহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে। তাদের ঋণপ্রবাহ বাড়াতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জি-৮ সহ বিশে^র সকল ধনী রাষ্ট্রসমূহকে মানবতার স্বার্থেই গরিব রাষ্ট্রসমূহকে আর্থিক সাহায্য করতে হবে। ইউএসএইড, জাইকা সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থাসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে। বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহকে সিএসআর এর অংশ হিসাবে অর্থ ব্যয় করতে হবে। এই অর্থনীতির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে বেইল আউট প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ঋণগ্রহীতাদেরকে ঋণ পরিশোধের সময় দিতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করার জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাংক সহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ নীতিমালাকে পুনর্বিন্যাস করতে হবে এবং বিদ্যমান ঋণের পুনঃগঠন করতে হবে। তবে এই সুযোগে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয় ঋণ নিতে না পারে সে বিষয়টিকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কৃষির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে এবং কৃষি খাতে বাজেট আরো বাড়াতে হবে। সকল ব্যাংকের সকল শাখা থেকে কৃষকরা যেন সহজ শর্তে ঋণ পায় সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এনজিওসমূহকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে। ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য গ্রাহককে সময় দিতে হবে। মোট কথা অর্থনীতির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করতে যা করা দরকার তাই করতে হবে। সরকারকে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন করতে হবে। কারণ প্রয়োজন আইন মানে না। তবে কোন অবস্থায়ই শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা যাবে না এবং মানুষকে বেকার করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহকেও আজ এগিয়ে আসতে হবে। যার যত উদ্বৃত্ত আছে তাই আজ মানবতার কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। ধনী ব্যক্তিদের আজ গরিবের পাশে দাঁড়াতে হবে। সচ্ছল ব্যক্তিদেরকে অসচ্ছল ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে হবে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আজ মানবতার কল্যাণে কাজ করতে হবে। আসুন আমরা অধিকতর মানবিক হই। এখন কোনো রাজনীতির সময় নয়, এখন কোনো বিভেদের সময় নয়। এখন হচ্ছে সঙ্কট উত্তরণের সময় এবং টিকে থাকার সময়। এখন কোনো লাভ-ক্ষতি হিসাবের সময় নয়, এখন হচ্ছে মানবতাকে বাঁচানোর সময়। যার যা আছে তাই নিয়েই আজ এই বিপর্যয় কাটিতে উঠতে কাজ করতে হবে। আজ কোনো যুদ্ধ নয়, আজ কোনো অস্ত্র বানানোর প্রতিযোগিতা নয়, আজ কোন সাম্যজ্য বিস্তারের সময় নয়। আজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবতাকে বাঁচানোর জন্য এক সাথে কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আজ সবাইকে লড়াইয়ে নামতে হবে, যেই লড়াইয়ের ভিত্তি হবে মানবতার কল্যাণ আর মানবতার জয় হবে এই লড়াইয়ের শ্লোগান। মনে রাখতে হবে দুর্দিনে টিকে থাকলেই সুদিন আসে। তাই দুর্দিনে টিকে থাকতে হয়। অস্তিত্বের লড়াইয়ে আসুন সকলে মিলে শ্লোগান ধরি-
‘সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা দূর হোক, অর্থনীতি গতিশীল হোক এবং সবার জীবন সুখী ও সমৃদ্ধ হোক, এটাই কামনা।
লেখক : প্রকৌশলী ও উন্নয়ন গবেষক

SHARE

Leave a Reply