কাশ্মিরের সাংবিধানিক অধিকার ও জায়োনিস্টদের জনমিতিক যুদ্ধ । আশিক রাব্বি নুরী

কাশ্মিরের সাংবিধানিক অধিকার ও জায়োনিস্টদের জনমিতিক যুদ্ধ । আশিক রাব্বি নুরীউদারপন্থী ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিকতার দাবিদার ভারত। অথচ গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকগণ সে দেশের নাগরিকত্ব স্বেচ্ছায় বরণ করে নেয়; আইন মেনে চলে। কিন্তু কাশ্মিরের মাথার ওপর এত সৈন্য কেন? আর কোন গণতান্ত্রিক দেশে কী এই চিত্র দেখা যায়? ব্রিটিশরা যখন সমগ্র ভারত শাসন করেছিল তখনও এত ইংরেজ সৈন্য ছিল না; যা এখন ভারতীয় সৈন্যের লেবাসে রয়েছে কাশ্মিরে। ভারত আরো দাবি করে, কাশ্মিরি জনগণ ভারতের সাথে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছে এবং তারা ভারতীয় নাগরিক রূপেই থাকতে চায়। যদি তাই হয় তবে কেন এই সংবিধানের ৩৭০ নং ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত? কেন এই হঠকারিতা?
ভারতীয় দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় গত ৬ আগস্ট ২০১৯ ইং তারিখে ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জম্মু-কাশ্মিরে পাঠানো হয়েছিলো ২ হাজার স্যাটেলাইট ফোন, ড্রোন ও ৩৫ হাজার বাড়তি সেনা সদস্য। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো সাধারণ মোবাইল ফোন সংযোগ ও ইন্টারনেট সেবা। কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা সরিয়ে নেয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হবে বলে আগেই ধারণা ছিল মোদি সরকারের। কিন্তু এমন ঘোষণায় সেখানকার মানুষ কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তা জানতে দেয়া হয়নি। সেখানকার স্থানীয় নেতাদের এরই মধ্যে আটক করে ফেলেছে ভারতীয় প্রসাশন।
ভারত শাসিত কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের বিবিসি সংবাদদাতা আমির পীরজাদা সম্প্রতি দিল্লির প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের অন্যান্য অংশে কী হচ্ছে তা কেউ জানে না- আমরা কারো সাথে কথাও বলতে পারছি না। মানুষ ভীষণ চিন্তিত তারাও জানে না আসলে এখন কী হচ্ছে এবং কী হতে যাচ্ছে।” ভারতের অন্যান্য স্থানে থাকা কাশ্মিরিরা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না এবং সে বিষয়ে তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
দিল্লিতে থাকা এক ছাত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে জানিয়েছে যে, সে স্থানীয় পুলিশের সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। কাশ্মিরের অধিবাসীদের মতে, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ কাশ্মিরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে সেটিই ছিল রাজ্যটির ভারতের অংশ থাকার পেছনে প্রধান যুক্তি। আর ঐ অনুচ্ছেদ বিলোপের মাধ্যমে দিল্লির সাথে কাশ্মির অঞ্চলের সম্পর্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপরিবর্তনীয়। অনুচ্ছেদ ৩৭০ কাশ্মির রাজ্যকে বিশেষ ধরনের স্বায়ত্তশাসন ভোগ করার সুযোগ দিত যার ফলে তারা নিজস্ব সংবিধান, আলাদা পতাকা এবং আইন প্রণয়নের অধিকার রাখতো।
ভারত হয়তো মনে করে এ বিশ্বে তারাই সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। এ জন্য তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িকতা, উসকানি মনোভাব ও দখলবাজিতে ব্যস্ত। প্রতিটি কাশ্মিরি পরিবারের সদস্য সংখ্যার চেয়ে ভারত সেখানে কয়েকগুণ বেশি সৈন্য মোতায়েন করেছে। কািশ্মরে মোতায়েনকৃত ভারতীয় সেনা কমান্ডার ইসরাইলে প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলে জানা যায় এবং কাশ্মিরিদের প্রতিহত করার যুদ্ধাস্ত্রগুলোও ইসরাইল থেকে কেনা। তারা ইসরাইলের তৈরি নকশা দিয়েই পা বাড়াচ্ছে। কাশ্মিরিদের আন্দোলন দমন করতে তারা ট্যাংক, হেলিকপ্টার গানশিপ ও সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। কোন দেশে জনগণের ঘরের সামনে মেশিন-গানধারী সৈন্য পাঠানো; ঘর ও রাস্তা পাহারার জন্য কামান, সাঁজোয়া গাড়ি বা ট্যাংক পাঠানো স্বৈরাচারী মনোবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। স্বাধীন দেশের জনগণ তো নিজঘর ও রাস্তা নিজেরাই পাহারা দেয়। রণ প্রস্তুতি নিয়ে ঘরের সামনে যখন সৈন্যের আগমন ঘটে তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, সেইসব সৈন্যের আগমন ঘটেছে স্বাধীনতা হরণে, প্রতিরক্ষার জন্য নয়। কাশ্মিরকে এখন একটি জেলখানা বললে ভুল হবে। জেলখানার কয়েদি থেকে তার কাঙ্ক্ষিত দেশের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয় না। কিন্তু ভারত সেটি কাশ্মিরিদের থেকে কেড়ে নিয়েছে। কাশ্মিরি জনগণ বহু আগেই প্রমাণ করেছে, তারা ভারতের নাগরিক হতে চায় না। এটি তাদের উপর জোর করে চাপানো হয়েছে। ১৯৪৭ সালে হিন্দুরাজা জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ মুসলিম নাগরিকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভারতে যোগ দিয়েছে। তারা চায় পাকিস্তানে যোগ দিতে।
কাশ্মিরের সাংবিধানিক অধিকার ও জায়োনিস্টদের জনমিতিক যুদ্ধ । আশিক রাব্বি নুরীকাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর বিশাল অবস্থান আজ থেকে নয়, ১৯৪৭ সাল থেকেই। তবে সে সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে ১৯৮৯ সালে। কারণ তখন থেকেই কাশ্মিরে ভারতপন্থী শেখ আবদুল্লাহ পরিবারের প্রভাব ব্যাপকভাবে লোপ পায় এবং তীব্রতর হয় স্বাধীনতার দাবি।
১৯২৫ সালে হরি সিং নামক এক হিন্দু কাশ্মিরের সিংহাসনে বসে। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের সময়েও মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মির সেই হিন্দু রাজার শাসনে ছিলো। সে সময় কাশ্মিরের প্রায় ৮০% মানুষ ছিল মুসলমান। দেশ বিভাগের সময় সেও কাশ্মিরের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। কিন্তু হঠাৎই ১৯৪৭ সালের ২০ অক্টোবর কিছু পার্বত্য দস্যুর আক্রমণের শিকার হয় দুর্ভাগা কাশ্মিরের অধিবাসীরা। সে সময় দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে ও ভারতীয় সেনাদের সাহায্য লাভের আশায় ভারতের সঙ্গে যোগ দেয় হরি সিং, অথচ কাশ্মিরের প্রায় ৮০% মুসলমান পাকিস্তানের সাথেই যোগ দেয়ার পক্ষে ছিল। হরি সিং এর সেই ভারতের সাথে হাত মিলানোর অঘটন আজো কাশ্মিরিদের গলার কাঁটা হয়ে আছে। যে কাঁটা দূর করতে ব্যর্থ ভারতের মতো বিশ্বের বৃহৎ ও উদার গণতন্ত্র। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর মহারাজা হরি সিং ‘Instrument of Accession’ এ স্বাক্ষর করে যা পরের দিন ভারতের সাধারণ রাজ্যপ্রশাসক কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল। এই স্বাক্ষরের পরই হামলাকারীদের উচ্ছেদ করার জন্য ভারতীয় সৈন্যরা কাশ্মিরে প্রবেশ করে। কিন্তু তীব্র শীত থাকায় তারা সবাইকে বিতাড়িত করতে পারেনি। এমতাবস্থায়, ভারত বিষয়টিকে জাতিসংঘের নিকট উপস্থাপন করে। জাতিসংঘ তখন পাকিস্তান ও ভারত উভয়কেই তাদের দখলকৃত ভূমি খালি করে দিয়ে গণভোটের আয়োজন করতে বলে। কিন্তু ১৯৫২ সালে ভারত এ গণভোটকে নাকচ করে দেয়, কারণ তারা জানতো যে গণভোটে জনগণের রায় ভারতের বিপক্ষেই যেত। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু থেকেই ছিল। সেই দ্বন্দ্ব ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধে রূপ নেয়। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে। ১৯৬২ সালে ইন্ডিয়ার অধীনে জম্মু ও কাশ্মিরের ৬০% অঞ্চল (জম্মু, কাশ্মির ভ্যালি ও লাদাখ) ছিল, পাকিস্তানের অধীনে ৩০% (গিলগিত-বালতিস্তান ও আজাদ কাশ্মির) এবং চীনের অধীনে ১০% অঞ্চল (আকসাই চিন) ছিল।
জম্মু ও কাশ্মিরকে ভারত এখনও তার সর্ব উত্তরের প্রদেশ হিসেবে বলবৎ রেখেছে। এর অধিকাংশই হিমালয় পাহাড়ে অবস্থিত। কাশ্মিরের কিছু অংশ ভারত নিয়ন্ত্রিত ও কিছু অংশ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত। যা এই উপমহাদেশের বুকে ভাগ্যবিড়ম্বিত এক জনপদ হিসেবে পরিচিত। এখানকার মানুষ দীর্ঘ ৭২ বছর ধরে আযাদির জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিতে হাজারো মুসলিম মা-বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হচ্ছে, মজলুম মুসলমানদের উপর অকথ্য নির্যাতন, স্বাধীনতাকামী তরুণ-যুবকদের বুকের তাজা খুন সয়ে যেতে হচ্ছে। তবুও অদ্যাবধি এখানে স্বাধীনতার স্লোগান বন্ধ হয়নি; বন্ধ হয়নি সংগ্রাম। অথচ বিশ্ববিবেক যেন কাশ্মিরের ব্যাপারে এখনও নীরব। পাশ্চাত্য ইহুদিবাদী এবং ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী মিডিয়া কাশ্মিরি জনগণের এই আযাদি-আন্দোলনকে সন্ত্রাস, বিচ্ছিন্নতাবাদ আখ্যা দিয়ে দিয়ে চলছে এখনো। কাশ্মিরের জমিনে হাজারো শহীদের খুন চাপা পড়ে যাচ্ছে যেন, সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের কোরবানি, আযাদির জন্য হাহাকার, তাঁদের সংগ্রাম, আশা-আকাক্সক্ষা সঠিকভাবে তুলে ধরে না কেউ। পত্র-পত্রিকায় শুধু সেখানকার সংঘাতের, হতাহতের খবরই চোখে পড়ে আমাদের।
কাশ্মিরের সাংবিধানিক অধিকার ও জায়োনিস্টদের জনমিতিক যুদ্ধ । আশিক রাব্বি নুরীআজ বিশ্বজুড়েই মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের-মুশরিকদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হচ্ছে জনমিতি পাল্টে দেয়া। যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সেখানে তাদের সংখ্যালঘু ও দুর্বল করাই হলো এই যুদ্ধের নীতি। সন্দেহ নেই এটি ইসরাইলি জায়োনিস্টদের প্রকল্প। মূলত কোনো জমিনের আদিবাসী মুসলমানদের গণহত্যা ও নিপীড়ন চালিয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। সেখান থেকে মুসলমানরা উৎখাত হয়ে যাওয়ার পর ফাঁকা জায়গায় অন্য জায়গা থেকে অমুসলিমদের এনে বসতি স্থাপন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এমনভাবে জনমিতি পুনর্গঠন করা হয় যে, ওই অঞ্চলে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও প্রভাব স্থায়ীভাবে মুছে যায়। ক্রুসেডার ব্রিটিশদের সহায়তায় জায়োনিস্টরা ফিলিস্তিনে এই প্রকল্প করে সফল হয়েছে। সেখান থেকে গণহত্যা ও নিপীড়ন চালিয়ে মুসলমানদের উৎখাত করা হয়েছে। তারা শরণার্থী হয়ে জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, মিসরসহ নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ফাঁকা জায়গায় সারা বিশ্ব থেকে ইহুদিদের এনে জড়ো করা হয়েছে। আজ মূল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে শুধু ইহুদি কর্তৃত্ব বিরাজ করছে। আমরা ফিলিস্তিন বলে যে দুটি ভূমি তথা গাজা ও পশ্চিম তীরের কথা শুনি তা মূলত দুটি শরণার্থী শিবির। জনমিতিক এই যুদ্ধ ফিলিস্তিনে বাস্তবায়ন করেই জায়োনিস্টরা বসে থাকেনি। তারা ক্রুসেডার, হিন্দুত্ববাদী ও বৌদ্ধ মৌলবাদীদের দিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনপদে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ শতাব্দীর সব যুদ্ধ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় কিভাবে মুসলমানদের জনমিতিকে বদলে দেয়া হচ্ছে। যার প্রতিটিতে রয়েছে ইহুদিবাদী কানেকশন। যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে মিথ্যা ‘ওয়্যার অন টেরর’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে মুসলমানকে হত্যা করা হচ্ছে। এই ‘ওয়্যার অন টেরর’কে সামনে রেখেই মুসলিম দেশ আরাকানের জনমিতি স্থায়ীভাবে বদলে দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে তাদের মাতৃভূমি ছাড়া করা হয়েছে। কাশ্মিরকে ৭২ বছর ধরে শাসন করেও জনগণকে বশ্যতা মানাতে পারেনি ভারত। এর কারণ হলো জনমিতি। কাশ্মিরের মুসলমানরা সংখ্যাগুরু। স্বাধীনতাকামী কাশ্মিরি মুসলমানের এই জনমিতিক সুবিধা সংবিধানের বিশেষ ধারার কারণে বাতিলও করতে পারছিল না ভারত। কারণ সংবিধান অনুযায়ী কাশ্মিরের বাইরের লোকেরা জমি কিনতে পারে না, ভোটার হতে পারে না। ফলে ভারত নানা জায়গা থেকে হিন্দুদের জড়ো করে মুসলমানদের জমি দখল করতে পারছিল না, জনমিতি পাল্টাতে পারছিল না। তাই গুজরাটের কসাই মোদি ২০১৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে জায়োনিস্ট ইসরাইলের গোপন আঁতাত প্রকাশ্যে চলে আসে। মূলত জায়োনিস্টরা অর্থ ও বুদ্ধি দিয়ে আরএসএসসহ ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংস্থাগুলোকে বিপুল প্রভাবশালী করেছে। ভারতীয় রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ ইসরাইল সমর্থিত হিন্দুত্ববাদীদের প্রভাব। এরা সবাই মিলে নরেন্দ্র মোদিকে আবারও কিভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বানানো যায় সেই নকশা আঁকতে থাকে। এরপর ইভিএম মেশিন দিয়ে ভোট জালিয়াতি করে মোদি আবারও ক্ষমতাসীন হয়। এরপর ভারতবর্ষ জুড়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে জনমিতিক যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এই যে গরুর গোশত খাওয়ায় মুসলমান হত্যা, এটি মূলত ১৯৪৮ সালের আগে ফিলিস্তিনে জায়োনিস্ট গুণ্ডাবাহিনী হাগানাহ’-এর নিপীড়নেরই নয়া সংস্করণ মাত্র।
এই ৩৭০ ধারার সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করার কারণ হচ্ছে মোদি সরকার কািশ্মরের জমি-জিরাত লুটে নিতে পারবে। কাশ্মিরিদের উপর একদিকে চলবে নিপীড়ন, আরেকদিকে করবে লুটপাট। এভাবে এক সময় কাশ্মিরিরা ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গাদের মতো জনমিতিকভাবে উধাও হয়ে যাবে।
সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মিরে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়ে দেশে দেশে বিভিন্ন ইসলামী-অনৈসলামী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। কাশ্মিরের বিপ্লবী শিক্ষার্থীরা ‘লও লও সালাম’, ‘দিল্লির আগ্রাসন নিপাত যাক নিপাত যাক’, ‘ভারতের আগ্রাসন রুখে দাও জনগণ’, ‘কাশ্মির চায় আজাদি আজাদি’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব’, ‘জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এই ইস্যুটির জন্য বিভিন্ন মিডিয়া বিশেষ করে সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় হয়। ভারতীয় এ ঘৃণ্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ কাশ্মিরিদের পক্ষে লড়াই করার আশ্বাস প্রদান করে। এমনকি কাশ্মিরের জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেও।
লেখক : কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply