গ্রিক মিথলজি প্যান্ডোরার বাক্স এবং মহামারীর মহাত্রাস -হুসনে মোবারক

রূপে-গুণে সুন্দরী। দেবতার অশেষ যত্নে গড়া। যত্নটা একটু বেশিই ছিলো। কারণ এ তো আর সাধারণ কোনো অপ্সরা নন। নিপুণ হাতে গড়েছেন তাকে। একেক দেবতা দিয়েছেন একেক বৈশিষ্ট্য। বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি তাকে। আর এ কারণে যত্নটা একটু বেশিই ছিলো। কী উদ্দেশ্য ছিলো সেই সৃষ্টির? সেটাই আসল রহস্য। তবে মহৎ কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না, মানবজাতির ধ্বংস এবং এই সুন্দর পৃথিবীর বিনাশ করা! এটাই ছিলো তার উদ্দেশ্য।
বলছিলাম গ্রিক দেবতা যিউসের কথা। গ্রিক সভ্যতার আরেক সৌন্দর্য মিথলজি। গ্রিক মিথলজি অনুযায়ী গ্রিক দেবতারা মানুষকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। কারণ হয়তো মানুষ বেশি বুদ্ধিমান, তারা কারও বশ্যতা স্বীকার করতে চায় না। প্রমিথিউস এবং তার ভাই এপিমিথিউস ছিল টাইটানের অধিবাসী কিন্তু তারা জিউস ও অলিম্পিয়ানদের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন। কারণ প্রমিথিউস জন্মেছিল ভবিষ্যদ্বাণীর বিশেষ শক্তি নিয়ে এবং তিনি জানতেন যে দেবতা যিউস টাইটানদের পরাজিত করবে। আর এপিমিথিউস প্রাণীর গঠন তৈরি করেন এবং প্রত্যেক ধরনের প্রাণীতে আলাদা আলাদা একটি বিশেষ দক্ষতা দেন যাতে তা তাদের আত্মরক্ষার কাজে লাগে। প্রমিথিউস দায়িত্ব নিয়েছিল মানুষ তৈরি করার। শুধু সৃষ্টি করলেই হবে না, প্রমিথিউস জানতো মানুষের সুরক্ষা দরকার এবং অনেক চিন্তা করে দেখলেন আগুন মানুষের জন্য সবচেয়ে উপকারী উপাদান হবে। এই ব্যাপারে তিনি দেবতা যিউসের মতামত চাইলেন। কিন্তু যিউস তা প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ আগুন ছিল শুধুমাত্র দেবতাদের ব্যবহারের জন্য।
কিন্তু প্রমিথিউস, মানবজাতির প্রতি যার ভালোবাসা একটু বেশিই ছিলো। তাই মানবপ্রেমী প্রমিথিউস যিউসকে উপেক্ষা করে আগুন চুরি করে মানুষকে ব্যবহারের জন্য দিলেন। তিনি মানুষকে শিখিয়ে দিলেন আগুনের ব্যবহার এবং এর দ্বারা কিভাবে উপকার লাভ করা যায়। এ কারণে দেবতা যিউস ক্ষিপ্ত হলেন প্রমিথিউসের উপর। শাস্তিস্বরূপ যিউস প্রমিথিউসকে কাকাসাস পর্বতমালায় শিলা দিয়ে বেঁধে রাখলো। প্রতিদিন যিউস প্রমিথিউসের কাছে একটি করে ঈগল পাঠাতো যা তার লিভার খেয়ে আসতো। প্রমিথিউসকে প্রতিদিন এই নির্যাতন সহ্য করতে হতো যতক্ষণ না হেরাকেলস তাকে খুঁজে বের করে ঈগলটিকে হত্যা করে এবং উদ্ধার করে। প্রমিথিউসকে শাস্তি দিয়েও যিউস সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি চাইলেন সমস্ত মানবজাতিকে শাস্তি দিতে। কারণ যিউস চাইতেন মানুষকে কতভাবে মুখাপেক্ষী করে তার নিজের অধীনে রাখা যায়। আর তাই এবার তিনি অন্য ফন্দি আঁটলেন।
দেব কারিগর হেফাস্টাসকে দিয়ে এমন এক অপরূপা নারী সৃষ্টি করালেন, যে রূপে-গুণে অনন্যা। অন্য দেবতারাও সেই নারীকে দিয়েছেন নানা প্রকারের বরদান। সবচেয়ে সেরা এবং সুন্দর পোশাক আর প্রসাধনী দিয়ে শোভিত করা হয়েছে তাকে। গ্রিক শব্দ প্যান মানে সকল, প্যান্ডোরা সব ধরনের বরদান পেয়েছেন বলে তার নাম হয়েছে প্যান্ডোরা। তবে মজার বিষয়, প্যান্ডোরা নিজে কিন্তু জানে না কেন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে সরলা, সাধারণ ও অনভিজ্ঞা। তাকে নিয়ে দেবদূত হার্মিস এলেন প্রমিথিউসের কাছে। বললেন এই নারীকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন স্বয়ং দেবরাজ যিউস। প্রমিথিউস বুদ্ধিমান। তিনি দেবতা যিউসের ছলনা বুঝতে পারলেন। উপহার গ্রহণ করলেন না। এমনকি তার ভাই এপিমিথিউসকে সাবধান করে দিলেন যেন যিউসের কাছ থেকে কোন উপহার গ্রহণ না করেন। কিন্তু গণ্ডগোল বাধালো এপিমিথিউস। প্যান্ডোরার রূপ-গুণ দেখে ভুলে গেলেন সেই সাবধানবাণী। তিনি মহাসমাদরে গ্রহণ করলেন তাকে। পৃথিবীতে আসার সময় দেবতারা তাকে দিয়েছিলেন একটি জার বা পাত্র। গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী যাকে বলা হয় পিথস। সেই জারের মুখ ছিল বন্ধ। প্যান্ডোরা জানতেন না কী আছে এর ভিতরে। এপিমিথিউসের কাছে আসার পর দু’জনে কৌতূহলী হন সেই পাত্রটি সম্পর্কে। এক সময় প্যান্ডোরা খোলেন সেই পাত্রের মুখ। অমনি সেই জার থেকে বেরিয়ে আসে মহামারী, দুঃখ, বিপদ ও বিভিন্ন রকম রোগ যন্ত্রণা আর পৃথিবীর শান্তি বিনষ্টকারী দুষ্টু সব দানব। হতবুদ্ধি প্যান্ডোরা দ্রুত পাত্রের মুখটি বন্ধ করে দেন। প্যান্ডোরার অবশ্য কোন দোষ ছিল না। পাত্রের মুখ বন্ধ করায় ভিতরে রয়ে যায় আশা ও নীতিবোধ। পরবর্তীকালে প্যান্ডোরার এই পাত্রটির নাম দেয়া হয় প্যান্ডোরার বাক্স।
গ্রিক মিথলজি অনুযায়ী সেই বাক্স থেকেই নাকি বেরিয়ে এসেছিল মহামারী সৃষ্টিকারী জীবাণু বা দুষ্টু দানব। এই দানবের নাম নসল। এর রোমান নাম হলো মরবুস, লুয়েস, পেসটিস, থাবেস এবং মারসিস। গ্রেকো রোমান পুরাণ অনুযায়ী সূর্যদেব অ্যাপোলো ও বনদেবী আর্টেমিস বর্শা নিক্ষেপ করে প্রধানত মহামারীর সূচনা করেন।
ট্রয় যুদ্ধের শুরুতেই সূর্যদেবতা অ্যাপোলো গ্রিক শিবিরে পাঠিয়েছিলেন মহামারী। কারণ অ্যাপোলের মন্দিরের পূজারিনি ক্রাইসেসকে জোর করে আটকে রাখেন গ্রিক বাহিনীর সেনাপতি আগামেমনন। ক্রাইসেসকে চরম লাঞ্ছনাও করেন তিনি। এরই প্রতিশোধ স্বরূপ অ্যাপোলো পাঠিয়েছিলেন মহামারী। পরে ব্রিসেইসকে তার বাবার কাছে ফেরত পাঠিয়ে এই মহামারী থেকে রক্ষা পায় গ্রিক বাহিনী।
তবে বাইবেলেও এই মহামারীর বিবরণ আছে। বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টের বিভিন্ন অধ্যায় থেকে জানা যায়- এই মহামারীর বিশদ বিবরণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো প্রফেট মোজেস ও ফারাওয়ের কাহিনী। মিশরের ফারাও (ফেরাউন) ছিলেন অত্যাচারী। তিনি ইসরাইলি বংশীয়দের সবাইকে দাস বানিয়ে রেখেছিলেন। এদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হতো। তাদের দিয়ে সব রকম কঠোর পরিশ্রম করানো হতো। ইসরাইলি বংশীয়রা মিশরে এসেছিল ফারাওয়ের অতিথি হয়ে প্রফেট জোসেফের সময়। কিন্তু পরবর্তীকালে অন্য ফারাওয়ের আমলে তাদের দাস বানিয়ে আটকে রাখা হয়। মোটামুটি তিন শ’ বছর ধরে তারা মানবেতর জীবন যাপন করে। ইসরাইলি বংশোদ্ভূত প্রফেট মোজেস (যিনি মিশরীয় রাজকুমার হিসেবে রাজপ্রাসাদে প্রতিপালিত হয়েছিলেন) তাদের মুক্তির জন্য ফারাও-এর কাছে আবেদন জানান। আবেদনে কোন ফল হয় না। নিষ্ঠুর ফারাও তার দাসদের মুক্তি দিতে নারাজ।
ইসলাম ধর্মেও মহামারী সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। সহিহ বুখারি শরিফে (ভলিউম ৭, বই ৭, নম্বর ৬২৪) রয়েছে মহামারী বিষয়ে মহানবী মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যদি তোমরা শোনো কোনো স্থানে মহামারী দেখা দিয়েছে তবে সেই অঞ্চলে প্রবেশ করো না। আর যদি তুমি ওই স্থানে বাস করা অবস্থায় সেখানে মহামারী দেখা দেয় তাহলে সেই অঞ্চল থেকে পালাতে যেও না।
পৃথিবীর ইতিহাসে মহামারী এসেছে নানা সময়ে নানাভাবে। প্লেগ রোগ থেকে শুরু করে গুটিবসন্ত, কলেরা, বিভিন্ন প্রকারের জ্বর বিভিন্ন সময়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীময়। মৃত্যু হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ২০টি মহামারী নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করবো-
১.Prehistoric epidemic (প্রাগৈতিহাসিক মহামারী) খ্রি. পূর্ব ৩০০০ অব্দ: খ্রি. পূর্ব ৩০০০ অব্দে আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগের কথা। ভয়াবহ একটি মহামারী চীনের একটি প্রাগৈতিহাসিক গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক এবং নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় পাওয়া গেছে কিশোর, যুবক এবং মধ্যবয়স্ক মানুষের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল একটি বাড়ির ভেতর। ধারণা করা হয় লাশগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিলো। প্রত্নতাত্ত্বিক এই স্থানটি উত্তর-পূর্ব চীনের একটি প্রাগৈতিহাসিক সাইট। যার নাম ‘হামিন মঙ্গা’ (Hamin Mangha)। হামিন মঙ্গা সাইটটি উত্তর-পূর্ব চীনে আজ অবধি পাওয়া বৃহত্তম এবং সেরা সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক সাইট হিসেবে বিবেচিত।
এর আগে উত্তর-পূর্ব চীনের মিয়াওজিগৌ (Miaozigou) নামে একটি সাইটে পাওয়া গিয়েছিল প্রায় একই সময়কালের আরেকটি প্রাগৈতিহাসিক গণসমাধি। একসাথে এই আবিষ্কারগুলি প্রমাণ করে যে হাজার বছর আগে কোন এক সময়ে ভয়াবহ একটি মহামারী পুরো অঞ্চলকে ধ্বংস করে দিয়েছিলো।
২. Plague of Athens (অ্যাথেন্সের প্লেগ) খ্রি. পূর্ব ৪৩০ অব্দ: খ্রি. পূর্ব ৪৩০ অব্দে এথেন্স- স্পার্টার যুদ্ধ শুরুর খুব কাছাকাছি সময়ে একটি ভয়াবহ মহামারী এথেন্সের মানুষকে কঠিন এক সময়ের মুখোমুখি করেছিলো। এটি ছিল এক ধরনের টাইফয়েড জ্বরের মতো। অ্যাথেন্সের যুদ্ধফেরত সৈনিকদের মাধ্যমে এটি ছড়িয়েছিলো। সেই মহামারী পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিলো। এবং সেই মহামারীতে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলো। গবেষকদের মতে যা পুরো দেশের জনগোষ্ঠীর চার ভাগের এক ভাগ।
গ্রিক ঐতিহাসিক থুসিডাইডস (Thucydides) (খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০-৪০০) লিখেছেন যে সুস্থ লোকেরা হঠাৎ করেই মাথায় ভয়াবহ উত্তাপ, চোখের মধ্যে লালভাব, গলা বা জিহ্বার ভেতরের অংশ রক্তাক্ত হয়ে যেতো এবং দম বন্ধ হয়ে আসতো। (translation by Richard Crawley from the book “The History of the Peloponnesian War,” London Dent, 1914) অ্যাথেন্স মহামারীতে মৃতদের গণকবরে প্রাপ্ত দাঁত থেকে বিজ্ঞানীরা এই মহামারীর জন্য দায়ী এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াটিকে শনাক্ত করেছেন।
৩. Antonine Plague (অ্যান্টোনিন প্লেগ) ১৬৫-১৮০ খ্রিস্টাব্দ: ১৬৫ থেকে ১৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইতালীয় উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছিল এই মহামারী। আন্তোনিন প্লেগ নামে পরিচিত এই মহামারীতে পাঁচ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়। সম্ভবত এটি ছিল গুটিবসন্ত। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে পার্থিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরে সৈন্যরা দেশে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে মহামারীটি প্রথম রোমান সামাজ্যে আক্রমণ হানে। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোমান ইতিহাসের সিনিয়র গবেষক এপ্রিল পুডসে লিখেছিলেন, অ্যান্টোনাইন প্লেগ, সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করেছিল এবং রোমান সামাজ্যের ৫০ লক্ষের বেশি লোককে হত্যা করেছিল।
এই মহামারীর পর রোমান সা¤্রাজ্যের সামরিক শক্তি কমে যায়, কৃষি ও নগর অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, এবং রাজ্যের অর্থভাণ্ডার প্রায় শূন্য হয়ে পড়ে। অ্যান্টোনাইন প্লেগ সম্ভবত রোম সা¤্রাজ্যের পতনের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। তবে প্লেগ সংঘটিত হওয়ার পরে খ্রিস্টধর্ম ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
৪.Plague of Cyprian (সাইপ্রিয়ান মহামারী) ২৫০-২৭১ খ্রিস্টাব্দ: সাইপ্রিয়ান মহামারী (তিউনিসিয়ার একটি শহর) নামে একটি মহামারী যা ২৪৯ থেকে ২৬২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রোমান সা¤্রাজ্যকে তছনছ করে দিয়েছিলো। কোন কোন গবেষক অবশ্য সময়কালটি নির্ণয় করেছেন ২৫০ থেকে ২৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। এই মহামারীর কারণে রোমানদের খাদ্য উৎপাদন ও রোমান সেনাবাহিনীর ব্যাপক জনবলের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। গবেষকরা এটাকে ইবোলা ভাইরাস এবং হেমোরজিক জ্বর (ফিলোভাইরাস) এর সাথে তুলনা করে থাকেন।
সাইপ্রিয়ান মহামারীটিতে অনুমান করা হয় যে কেবল রোমে একদিনে পাঁচ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। ২০১৪ সালে লাক্সরের (খীঁড়ৎ- লাক্সর দক্ষিণ মিশরের নীল নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত একটি শহর) প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি সমাধি খুঁজে পেয়েছেন যেখানে মরদেহগুলি চুনের একটি ঘনস্তর দিয়ে ঢাকা ছিলো বলে মনে করা হয়। ধারণা করা হয় এটি একটি জীবাণুনাশক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিলো। যাতে প্লেগ আক্রান্তদের দেহাবশেষ কোথাও কোথাও আগুনে পুড়ে গেছে বলে দেখা যায়।
৫. Plague of Justinian (জাস্টিনিয়ার প্লেগ) ৫৪১-৫৪২ খ্রিস্টাব্দ: ধারণা করা হয় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য এই মহামারী দ্বারা এমনভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল যে, এর প্রভাবে তখনকার বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ পর্যন্ত মারা গিয়েছিলো। প্লেগটির নাম বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান (৫২৭-৫৬৫ খ্রি.) এর নামানুসারে করা হয়েছে। তার শাসনামলে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সীমানা মধ্য প্রাচ্য থেকে পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতো। সম্রাট জাস্টিনিয়ান রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে (আধুনিক ইস্তাম্বুল) হাজিয়া সোফিয়া (Hagia Sophia) নামে ৫৩৭ খ্রি. একটি বিশাল ক্যাথেড্রাল নির্মাণ করেছিলেন। হাজিয়া সোফিয়া হলো প্রাক্তন গ্রিক অর্থোডক্স খ্রিস্টান পিতৃতান্ত্রিক ক্যাথেড্রাল, পরে ওসমানীয় সা¤্রাজ্যে এটি মসজিদ হিসেবে বিনির্মিত হয়। বর্তমানে এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি সংগ্রহশালা। এটি তার বিশাল গম্বুজের জন্য বিখ্যাত। এটি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম বিল্ডিং এবং তার সময়ের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং আশ্চর্য। জাস্টিনিয়ানও প্লেগের সাথে অসুস্থ হয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন; তবে, মহামারীটি আঘাত হানার পরে ধীরে ধীরে তার সা¤্রাজ্য হারাতে থাকে।
৬. The Black Death (কালো মৃত্যু) ১৩৪৬-১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দ: দ্য ব্ল্যাক ডেথ এশিয়া থেকে সংক্রমণ শুরু এরপর ইউরোপে যাত্রা শুরু করেছিল। এবং এর প্রভাবে ইউরোপের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা নিশ্চিহ্ন হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। মহামারীটি ইউরোপের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিলো। ধারণা করা হয় ব্ল্যাক ডেথ মানব ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে মারাত্মক মহামারী, এর ফলে ইউরেশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার প্রায় ২০০ মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিল।
৭. Cocoliztli epidemic: ১৫৪৫-১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দ: এটা এক ধরনের ভাইরাল হেমোরজিক জ্বর যা মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার ১৫ মিলিয়ন বাসিন্দাকে হত্যা করেছিল। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ভুক্তভোগীদের কঙ্কাল থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তারা এস প্যারাটিফি সি নামে একটি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিল, যা এন্ট্রিক জ্বর, টাইফয়েড এর মত এক ধরনের জ্বরের কারণ হয়। এন্ট্রিক জ্বর একটি উচ্চমাত্রার জ্বর, ডিহাইড্রেশন এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি আজও একটি স্বাস্থ্য হুমকির বড় কারণ।
৮. American Plagues (আমেরিকান প্লেগস) ১৬শ তম শতাব্দী: আমেরিকান প্লেগসের আগে এই ধরনের মহামারী সম্পর্কে আমেরিকাবাসীদের কোনও ধারণা ছিল না। ইউরোপীয় নাবিকদের আগমনে তাদের সংস্পর্শে এসে, তারা সেই রোগের শিকার হয় ও দলে দলে মত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ১৫১৫ সালে হার্নান কর্টেসের নেতৃত্বে একটি স্পেনীয় বাহিনী তেনোচিটলিনের অ্যাজটেক রাজধানী এবং ১৫৩২ সালে ফ্রান্সিসকো পিজারোর নেতৃত্বে আরেক স্প্যানিশ বাহিনী ইনকাগুলিকে জয় করে। স্প্যানিশরা উভয় সা¤্রাজ্যের অঞ্চল দখল করেছিল। উভয় ক্ষেত্রেই, অ্যাজটেক এবং ইনকান সেনাবাহিনী রোগ দ্বারা বিধ্বস্ত হয়েছিল এবং স্প্যানিশ বাহিনীকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে অ্যাজটেক ও ইনকা সভ্যতার পতন হয়েছিলো। ধারণা করা হয় আমেরিকান প্লেগস-এ পশ্চিম গোলার্ধের আদিবাসীদের নব্বই ভাগ লোক মারা গিয়েছিল।
৯. Great Plague of London (লন্ডনের ভয়াবহ প্লেগ) ১৬৬৫-১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ: গ্রেট ব্রিটেনে ব্ল্যাক ডেথের সর্বশেষ বড় আকারের প্রাদুর্ভাব দ্বিতীয় রাজা চার্লসের সময়ে লন্ডনে একটি গণপরিবর্তন ঘটায়। মহামারীটি ১৬৬৫ খ্রি. এর এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছিল এবং প্রচণ্ড গ্রীষ্মের মাসগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গ্রেট প্লেগ, ১৬৬৫ থেকে ১৬৬৬ অবধি স্থায়ী ছিল। ইংল্যান্ডে বুবোনিক প্লেগের সর্বশেষ বড় মহামারী এটি। এতে ১৮ মাসে লন্ডনের জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যাসহ প্রায় এক লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল। প্লেগটি ইয়ার্সিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটিরিয়াম দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল, যা সাধারণত একটি সংক্রমিত ইঁদুরের কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়।
মহামারীটি পূর্বের ব্ল্যাক ডেথ মহামারীর চেয়ে অনেক ছোট আকারে ছিল। এটি ছিলো চারশত বছরের দ্বিতীয় মহামারী এবং ইংল্যান্ডের বুবোনিক প্লেগের সর্বশেষ বিস্তৃতি।
১০. Great Plague of Marseille ১৭২০-১৭২৩ খ্রিস্টাব্দ: মার্সেই দক্ষিণ ফ্রান্সের একটি বন্দরঘেঁষা শহর। পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে গ্র্যান্ড-সেন্ট-এন্টোইন নামে পণ্যবাহী একটি জাহাজ থেকে মার্সেইর এই মহামারীর সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। মহামারীটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহরে এবং পরবর্তী তিন বছরে মার্সেই এবং আশপাশের অঞ্চলে প্রায় এক লক্ষ মানুষ মারা যায়। ধারণা করা হয় যে মার্সেইয়ের জনসংখ্যার প্রায় ত্রিশ ভাগ পর্যন্ত মারা গিয়েছিলো এই মহামারীতে। পরের দুই বছরে শহরে প্রায় ৫০,০০০ এবং আশপাশের প্রদেশ এবং উত্তরের শহরগুলিতে আরও ৫০,০০০ লোক মারা গিয়েছিল। মার্সেইর গ্রেট প্লেগটি ছিল পশ্চিম ইউরোপের বুবোনিক প্লেগের সর্বশেষ বড় প্রাদুর্ভাব।
১১. Russian plague (রাশিয়ান প্লেগ) ১৭৭০-১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ: রুশ প্লেগের মহামারী, যা ১৭৭১ সালের প্লেগ নামেও পরিচিত। এই মহামারীতে রাশিয়ার ১ লক্ষ লোকের মৃত্যু হয়েছিলো। এই মহামারীর কারণে রাশিয়ার দ্বিতীয় সম্রাজ্ঞী, দ্বিতীয় ক্যাথরিন (যাকে ক্যাথরিন দ্য গ্রেটও বলা হয়) রোগাক্রান্ত, সহিংস আর দুর্ভিক্ষগ্রস্ত জনসাধারণের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এতটাই মরিয়া হয়েছিলেন যে তিনি একটি তড়িঘড়ি ডিক্রির (অধ্যাদেশ) জারি করেছিলেন যাতে সমস্ত কারখানা মস্কো থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। মহামারীটিতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। প্লেগ শেষ হওয়ার পরেও ক্যাথরিন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে লড়াই করেছিলেন। ১৭৭৩ সালে, ইয়েমেলিয়ান পুগাচেভ, যিনি ক্যাথরিনের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী ছিলেন, তিনি স্বীকার করেন, তখন তিনি এমন একটি বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন, যেখানে এই বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে আরও হাজার হাজার লোক মারা গিয়েছিল।
১২.Philadelphia yellow fever epidemic (ফিলাডেলফিয়া হলুদ জ্বর মহামারী) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ: হলুদ জ্বর। এই রোগটি মশার দ্বারা ছড়ায়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ফিলাডেলফিয়া আক্রান্ত হয়েছিল। ফিলাডেলফিয়ার হলুদ জ্বরের মহামারী চলাকালীন সময় ১৭৯৩ সালের ১ আগস্ট থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে সরকারি তালিকায় ৫০০০ (হাজার) লোকের তালিকাভুক্ত হয়েছিল যাদের বেশির ভাগ মানুষ হলুদ জ্বরে মারা গিয়েছিল। সেপ্টেম্বরের শেষে বিশ হাজার মানুষ শহর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
১৩. Flu pandemic:: ১৮৮৯-১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ: ফ্লু মহামারী। এটি এশিয়াটিক ফ্লু বা রাশিয়ান ফ্লু নামে বেশি পরিচিত। ১৮৮৯-১৮৯০ সালের মধ্যে সংঘটিত এই মহামারীতে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক মিলিয়ন মানুষকে মারা গিয়েছিলো। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে, এই রোগটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো। মহামারীটি সর্বোচ্চ মৃত্যুহারে পৌঁছাতে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ সময় লেগেছিলো। তখন বিমান ভ্রমণ এখনকার মত ছিলো না কিন্তু তারপরও এই ভাইরাসটি দ্রুত ইউরোপ এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিলো।
১৪. American polio epidemic- (আমেরিকান পোলিও মহামারী) ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ: নিউ ইয়র্ক সিটিতে শুরু হওয়া একটি পোলিও মহামারীর কারণে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ হাজার লোকের মধ্যে এটি সংক্রমণ হয়েছিলো এবং ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো। এই রোগটি মূলত বাচ্চাদের বেশি ক্ষতি করতো। ১৯৫৪ সালে এই রোগের ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছিলো এবং সর্বশেষ পোলিওর ঘটনাটি ১৯৭৯ সালের। বিশ্বব্যাপী টিকা দেয়ার প্রচেষ্টায় এই রোগটি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যদিও এটি এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
১৫. Spanish Flu- ১৯১৮-১৯২০ খ্রিস্টাব্দ: দক্ষিণ সমুদ্র থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত আনুমানিক পাঁচশ মিলিয়ন মানুষ স্প্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিল। এদের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশ লোক মারা গিয়েছিল, শেষ লোকটি পর্যন্ত মারা যাওয়ায় কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় ছিলো বিলুপ্তির পথে।
১৯১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ১৯২০ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ মাস স্থায়ী এই মহামারী ৫০০ মিলিয়ন মানুষকে সংক্রমিত করেছিল- যা সেই সময়ের বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। মৃত্যুর সংখ্যা ১৭ মিলিয়ন থেকে থেকে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি এবং এটি ১০০ কোটিরও বেশি ছিল বলে মনে করা হয়। যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক একটি মহামারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
১৬. Asian Flu (এশিয়ান ফ্লু- ১৯৫৭-১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ) : এশিয়ান ফ্লু মহামারীটি ছিল বিশ্বের জন্য আরেকটি ইনফ্লুয়েঞ্জা। চীন থেকে এর উৎপত্তি। এই রোগে এক মিলিয়নেরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছিলো।
১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিঙ্গাপুরে, এপ্রিলে হংকং এবং আমেরিকার উপকূলীয় শহরগুলিতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১.১ মিলিয়নেরও বেশি ছিল। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এক লক্ষ ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।
১৭. অওউঝ ঢ়ধহফবসরপ ধহফ বঢ়রফবসরপ (১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ- বর্তমান): গবেষকদের মতে এইচআইভি বা এইডস এমন একটি ভাইরাস যা শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন মানুষ বিশ্বব্যাপী এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছে এবং প্রায় সাত লক্ষ ৭০ হাজার লোক মারা গিয়েছে। কয়েক দশক ধরে সংক্রমিত এই রোগটির এখনও কোনও চিকিৎসা নেই, তবে নব্বইয়ের দশকে বিকশিত ঔষুধের ফলে এখন এই রোগে আক্রান্ত লোকেরা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে একটি সাধারণ জীবনকাল উপভোগ করতে পারছেন। কিছুটা আশার খবর হলো ২০২০ সালের প্রথম দিকে দু’জন এইচআইভি পজিটিভ চিকিৎসায় নিরাময় হয়েছে।
১৮. H1N1 Swine Flu pandemic (২০০৯-২০১০ খ্রিস্টাব্দ): ২০০৯-এর সোয়াইন ফ্লু মহামারীটি একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী হিসেবে জানুয়ারি ২০০৯ থেকে আগস্ট ২০১০ পর্যন্ত প্রায় ২০ মাস অবধি ছিল। প্রথম সংক্রমণ দেখা যায় উত্তর আমেরিকায়। সংক্রমিত লোকের সংখ্যা ষোল লাখ ৩২ হাজার ৭১০ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৬ জন।
১৯. West African Ebola epidemic (ইবোলা) ২০১৪-২০১৬ খ্রিস্টাব্দ: পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪-২০১৬ সাল পর্যন্ত ইবোলা মহামারীর সংক্রমিত লোকের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬ শত এবং মারা গেছে ১১ হাজার ৩২৫ জন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গিনিয়ায় প্রথম শনাক্ত হওয়ার পরে রোগটি দ্রুত লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল নাইজেরিয়া, মালি ও সেনেগালে।
২০. Zika Virus epidemic (জিকা ভাইরাস) ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ-বর্তমান : ২০১৫ সালের গোড়ার দিকে, ব্রাজিলে ভাইরাসজনিত জিকা জ্বর দক্ষিণ এবং উত্তর আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও জিকা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক বা শিশুদের পক্ষে ক্ষতিকারক নয় তবে এটি গর্ভে থাকা শিশুদের আক্রমণ করতে পারে এবং জন্মগত ক্ষতি ঘটায়। জিকা বহনকারী মশা উষ্ণ, আর্দ্র জলবায়ুতে সবচেয়ে ভালো বিকাশ লাভ করে। জিকাতে আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের যৌন সঙ্গীদের কাছে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে।
এখন ২০০০ সাল। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গোটা বিশ্বকে এক বিন্দুতে থমকে দিয়েছে এই ভাইরাস। মার্কিন লেখক ডিন কোন্টজ (Dean Koontz) ১৯৮১ সালে প্রকাশিত The Eyes of Darkness (অন্ধকারের চোখ) নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন, যেখানে তিনি একটি হত্যাকারী ভাইরাসের বর্ণনা দিয়েছেন, কেউ কেউ দাবি করেছেন যে বর্তমান করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রতিধ্বনি রয়েছে সেই উপন্যাসে। বইটিতে ভাইরাসকে বলা হয়েছে একটি মানবসৃষ্ট অস্ত্র। যার নাম বলা হয়েছে Wuhan-400.
পৃথিবীর ইতিহাসে মহামারী অনেক জাতি ও সভ্যতাকে ধ্বংস করেছে। ইতিহাসবিদের মতে মহেঞ্জোদাড়ো হরপ্পা সভ্যতারও পতন মহামারীর জন্য হয়েছিল। প্যান্ডোরার বাক্সটিতে মানবজাতির জন্য দুটি উপহার কিন্তু শেষ পর্যন্ত রয়ে যায়। আশা ও সুনীতি মানুষের সম্পদ। শত বিপর্যয়ের মুখেও মানুষ আশাকে বর্জন করে না। সুনীতি বা মানবতাও শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে। বর্তমান করোনার ভয়াবহ মহামারী থেকে আশা এবং প্রত্যাশার সুউচ্চ মিনারই হয়তো এই বিশ্ববাসীকে একসময় রক্ষা করবে এই বিশ্বাস নিয়েই হয়তো লড়াই করছে বর্তমান বিশ্ব।
লেখক : নাট্যকার ও সমাজবিশ্লেষক

SHARE

Leave a Reply