তাকওয়া-তন্ময় -নিজামী চৌধুরী মুঈনুদ্দীন

শহীদ মতিউর রহমান নিজামীর সাথে প্রথম সাক্ষাতের মুহূর্তটা মনের মুকুরে চিরদিন মুদ্রিত হয়ে থাকবে। ১৯৬৫ সাল। ঢাকায় আসার ডাক এলো ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান অফিস থেকে। তখন পূর্ব পাকিস্তান সভাপতি ছিলেন এ কে এম নাজির আহমদ সাহেব। সাধারণ সম্পাদক হাবিব ভাই আর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন দফতর সম্পাদক। জয়কালী মন্দির রোডে ছিল পূর্ব পাকিস্তান দফতর। আর ঢাকা শহর শাখার অফিস ছিল ৮০ নম্বর হোসনী দালান রোডে।
কর্মীসংখ্যার স্বল্পতার কারণে তখন একজনকে পালন করতে হতো একাধিক দায়িত্ব। তাই নিজামী ভাইকে পূর্ব পাকিস্তান অফিসের সাথে সাথে ঢাকা সিটির দফতর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করতে হতো। তিনি থাকতেন হোসনী দালান রোডের নিকট মাদরাসা আলিয়া হোস্টেলে। আমাকে ডাকা হয়েছিল ছাত্রসংঘের কিছু জরুরি কাজে। তখনো আমার ছাত্রসংঘের জীবন খুব দীর্ঘ নয়। যদিও ইতোমধ্যেই আমি ফেনী ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম। একমাত্র নাজির ভাই ছাড়া (যিনি ফেনী সফর করেছিলেন) প্রাদেশিক দায়িত্বশীলদের আর কারো সাথে তখনো সামনাসামনি দেখা হয়নি। তাই নিজামী ভাইকেও এর আগে দেখিনি। ঠিক হলো আমি ফুলবাড়িয়া স্টেশনে নেমে রিকশা করে হোসনী দালান রোডে চলে আসব, সেখানে নিজামী ভাই আমার জন্য অপেক্ষা করবেন। এমনিতেই রাত বারোটার দিকে ট্রেনটি ঢাকা পৌঁছার কথা। কিন্তু পথে বারবার দেরি হওয়ায় ফুলবাড়িয়া পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত আড়াইটা বেজে গেল।
ভয় হলো এত রাত পর্যন্ত নিজামী ভাই হোসনী দালান অফিসে আমার জন্য হয়ত অপেক্ষা করে থাকবেন না। তবুও একটা রিকশা নিয়ে রওনা হলাম। কাছে এলে রিকশাওয়ালা সাদা ছোট্ট একটা একতলা দালানের সামনে নামিয়ে দিয়ে বলল, এটাই ৮০ নম্বর। তাকিয়ে দেখি একটা খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে বাতির আলো দেখা যাচ্ছে। কাছে এলে জানালা দিয়ে ভেসে এলো কোরআন তেলাওয়াতের সুমধুর আওয়াজ। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা একজন যুবক গভীর মনোনিবেশ সহকারে তাহাজ্জুদ নামাজে দাঁড়িয়ে। শান্ত-সমাহিত সেই তেলাওয়াতে ছিল এক তাকওয়ায় ভরা আকুতি। আয়াতগুলোও অত্যন্ত অর্থবহ। সূরা আলে ইমরানের ১৯০ থেকে ১৯৫ আয়াত। পরবর্তী সময়ে তাহাজ্জুদ-গুজার নিজামী ভাইয়ের রুমমেট হিসেবে তাকে তার এই প্রিয় আয়াতগুলো তেলাওয়াত করতে আরও অনেকবার শুনেছি। কিন্তু সেদিনের মত গভীর মূর্ছনা আর কখনো দেখিনি। সেই আয়াতগুলোর প্রত্যক্ষ প্রতিফলন ছিল মতিউর রহমান নিজামীর পুরো জীবন।
আমার চোখে শহীদ মতিউর রহমান নিজামীর ব্যক্তিত্বের দু’টি রূপ অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান পাবে। এ দু’টি হলো এবাদতে মশগুল নিজামী আর কর্মী নিজামী। মসজিদে গিয়ে নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়ার জন্য তার ছিল এক প্রচন্ড আগ্রহ। নবী (সা)-এর ভাষায় কেয়ামতের প্রচন্ড রোদদীপ্ত দিনে যে সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহর আরশে আজিমের ছায়ায় স্থান পাবে তাদের একদল হলো:  “রাজুলুন কুলুবুহুম মোয়াল্লাকুন ফিল মাসাজিদ”- ‘যেসব লোকের অন্তর ঝুলানো থাকে মসজিদে; একবার বের হয়ে এলে তারা আকুল থাকে কখন আবার ফিরে যাবে।’ জামাতে শামিল হওয়ার প্রতি এই ঐকান্তিক আগ্রহ ছাড়াও নফল নামাজ, তেলাওয়াত ও এবাদতে তার নিষ্ঠা একটি মুত্তাকি-উপাসনা-উন্মুখ মনের পরিচয় বহন করতো।
কর্মী নিজামীর পরিচয়ও ছিল ঠিক তেমনি স্পষ্ট-নির্ভুল। স্বল্পবাক এই মানুষটিকে দেখেছি নিতান্ত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে- কারো আদেশ-অনুরোধের তোয়াক্কা না করে ছাত্রসংঘের অফিস থেকে অফিসে, হল থেকে হলে ছুটে বেড়াতে। প্রয়োজনীয় কাজ সমাধা করতে। কর্মমুখর সেইদিনগুলোতে নিজের দিকে নজর দেয়ার খুব একটা অবসর তার ছিল না। সেই সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি আর স্পঞ্জের একজোড়া স্যান্ডেল পরেই তিনি চষে বেড়িয়েছেন সারা ঢাকা শহর, ধুলোর ওপর বৃষ্টির পানি পড়ে শহরের পাকা রাস্তাগুলোতেও লেগে থাকত একটা কাদার প্রলেপ, সেই পথ দিয়ে চলার সময় স্পঞ্জের স্যান্ডেলের তলার আঘাত পাজামা-পাঞ্জাবির পেছনে এঁকে দিতো কাদার ছিটার এক এবস্ট্রাক্ট আর্ট। আর তা নিয়েই ছুটে বেড়াতেন নিজামী ভাই। একইভাবে খাওয়া-দাওয়ার প্রতিও খুব একটা নজর দেয়ার সময় হতো না তার। সেকালে বখশী বাজারে আলিয়া মাদরাসা ও মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলের মাঝখানে ‘ডিলাইট’ ও ‘পপুলার’ নামে দুটো চমৎকার সস্তা হোটেল (রেস্তোরাঁ) ছিল। আট আনা থেকে বারো আনায় মোটামুটি খাবার হয়ে যেতো। এক টাকা খরচ করলে তো রীতিমত ভূরিভোজ। নিজামী ভাইকে প্রায়ই সেখানে খেতে দেখেছি। কাজের চাপে প্রায়ই হোস্টেলে খাবার নির্ধারিত সময় ধরা সম্ভব হতো না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বাইরে খেতে হতো। সেদিনগুলোতে যারা নিজামী ভাইকে দেখেছেন তারা একমত হবেন ‘কর্মী নিজামীর’ পরিচয় ‘নেতা নিজামীর’ চেয়েও ছিল অনেক বড়। নেতৃত্ব তিনি কখনো দাবি করে নেননি। বরং কর্মী হিসেবে তিনি যে ত্যাগ ও কোরবানি দিয়েছিলেন সম্ভবত তারই পুরস্কার হিসেবে অত্যন্তঅপ্রত্যাশিতভাবে নেতৃত্ব বারবার আরোপিত হয়েছে তার ওপর।
এই নেতৃত্ব আরোপ হওয়ার অনেক ঘটনাই আমি অত্যন্ত নিকটে থেকে দেখেছি। নাজির ভাইয়ের পর গোলাম সরওয়ার ভাই ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান সভাপতি নির্বাচিত হন। সাইয়েদ একরামুল হক ভাইকে সাধারণ সম্পাদক, নিজামী ভাইকে আগের মতই দফতর সম্পাদক, আমাকে প্রকাশনা সম্পাদক ও শেখ নুরুদ্দীন ভাইকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করা হলো। একরাম ভাই ও নুরুদ্দীন ভাইয়ের ছাত্রজীবন তখন শেষ। তবুও সংগঠনের স্বার্থে তাদের ধরে রাখা হলো। বক্তৃতা-বিতর্কে নিপুণ দক্ষতা দেখিয়ে সারওয়ার ভাই নেতা হিসাবে সহজেই স্বীকৃতি লাভ করলেন। কিন্তু মেধার সাথে সাথে তিনি ভুগতেন এক চঞ্চল অস্থিরতায়- এক মুহূর্ত পরে তিনি কি করে বসবেন এটা আঁচ করা সহজ ছিল না। বছরের মাঝখানে তিনি হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইয়েদ মুনাওয়ার হাসান সাহেবের কাছে এক চিঠি দিয়ে ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে গিয়ে চাকরি নিয়ে নিলেন। সাধারণ সম্পাদক একরাম ভাইয়ের ওপরই অন্তর্বর্তী দায়িত্ব বর্তানোটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তিনি কোন মতেই এ দায়িত্ব কবুল করতে রাজি হলেন না। ফলে এ দায়িত্ব এসে পড়ল দফতর সম্পাদক নিজামী ভাইয়ের ওপর।
আন্দোলনের সাথীদের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতারও তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কার কোথায় অসুখ-বিসুখ, বিপদ বা অসুবিধা হলো তার খোঁজ রাখতেন তিনি। কত দিন দেখেছি তাঁকে হলে, মেসে বা বাসায় অসুস্থ কর্মী ভাইদের দেখতে ছুটে যেতে। ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান অফিস যখন ৩৭ নম্বর আগামসিহ লেনে ছিল, তখন প্রাদেশিক দায়িত্বশীলদের মেসও ছিল সেখানে। মেসে আমি ও নিজামী ভাই একই কামরায় থাকতাম। তখন দেখেছি তিনি নিজে অসুবিধা ভোগ করলেও আমার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তার দিকে কিভাবে খেয়াল রাখতেন। শুধু ফজরের জামাতে যাওয়ার জন্য জাগাতে অনুচ্চ স্বরে ডাকতেন। তার সেই ‘চৌধুরী’ ডাকটা এখনো আমার কানে বাজে। পরে পূর্ব পাক অফিস ১৫ নম্বর পুরানা পল্টনে স্থানান্তরিত হলে সেই মেসেও নিজামী ভাই আমার রুমমেট ছিলেন। সেখানেও তিনি ‘ইছারের’ (অপরকে অগ্রাধিকার দেয়ার) নমুনা একইভাবে পেশ করেছেন। মনে আছে আইউববিরোধী আন্দোলনে জুমার নামাজ শেষে মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমি পুলিশি হামলার শিকার হই। গ্রেফতার করে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো রমনা থানার হাজতে। রমজান মাস এবং গ্রীষ্মকাল, অগুনতি কয়েদির মধ্যে ক্ষুধায়, গরমে কাতরাচ্ছি আহত আমি। হঠাৎ দেখি নিজামী ভাই, আবদুল মালেক (শহীদ)সহ বেশ ক’জন খাবার দাবার নিয়ে আমাকে দেখতে এসেছেন। খুশিতে ক্ষুধার যন্ত্রণা ভুলে গেলাম। পরদিন বিকালে ম্যাজিস্ট্রট কোর্টে যখন হাজির করা হলো আমাকে তখন সেখানেও তিনি হাজির হলেন সদল বলে।
আইউববিরোধী আন্দোলনে কলা ভবনের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হলো আসাদ। তার লাশ নিয়ে জঙ্গি মিছিলসহ আমরা গেলাম পল্টন ময়দানে। ঠিক হলো সেখানেই জানাজা হবে। জানাজার অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমেদ। জানাজার আগে ছাত্রনেতাদের বক্তৃতা হচ্ছিল। তোফায়েল ভাইকে অনুরোধ করলাম ছাত্রসংঘের নেতা হিসেবে নিজামী ভাইকে বক্তৃতা করতে দিতে। তোফায়েল তার স্বভাবসুলভ কূটনৈতিক চাল ব্যবহার করে অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। খুব রাগ হলো কিন্তু করার কিছু ছিল না। কিছুক্ষণ পর তোফায়েল এসে ধরলেন- জানাজা পড়াবার জন্য একজন মাওলানা দেন, আপনাদেরতো অনেক মাওলানা আছে। বললাম কোন অসুবিধা নেই নিজামী ভাই পড়াবেন। নিজামী ভাইকে ডাকতে গেলাম, বললাম নামাজের আগে আপনি আপনার পুরো বক্তব্য দিয়ে দিবেন। তা-ই হলো। শত ভ্রুকুটি করেও তোফায়েল কিছু করতে পারলেন না।
কঠিন বিপদের মুহূর্তেও সারা সংগঠন আর এর জনশক্তিকে সযতেœ আগলে রাখার প্রকৃষ্ট উদাহরণ নিজামী ভাই স্থাপন করেছিলেন ইসলামী ছাত্রসংঘের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র আবদুল মালেকের করুণ- মর্মান্তিক শাহাদাতের মুহূর্তে। ছাত্ররাজনীতিতে পাশবিক গুন্ডামি আমদানির এই প্রথম মাইলফলকে ইসলামী ছাত্রসংঘের অস্তিত্বই আশঙ্কার সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল। সেই কঠিন দিনগুলোতেও দেখেছি কিভাবে কোরআন ও সিরাতের আলো দিয়ে তিনি ভীতি ও হতাশার অন্ধকার দূর করেছিলেন কর্মীদের মন থেকে।
মন্ত্রী হিসেবে ২০০৬ সালে লন্ডন সফরে গেলে ব্রিটেনের প্রথিতযশা থিংকট্যাংক চ্যাথাম হাউজে বক্তৃতা করার জন্য তিনি আমন্ত্রিত হন। এই আমন্ত্রণ ছিল এক অতি দুর্লভ সম্মান। সাধারণত নেহরু, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বিশ্বমানের রাষ্ট্রনায়কদেরকেই এই সম্মান দেয়া হয়। নিজামী ছিলেন সর্বপ্রথম বাংলাদেশী মন্ত্রী যিনি এই সম্মান লাভ করেন। হলভর্তি সিনিয়র সিভিল সার্ভেন্ট, রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিকদের সামনে মতিউর রহমান নিজামী মুসলিম দুনিয়ার- বিশেষ করে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ইসলামী ধারার ভবিষ্যতের এক আশাবাদী চিত্র উপস্থাপন করেন। পরে প্রশ্নোত্তরের ধরন ও দৈর্ঘ্য  দেখে মনে হলো তার বক্তব্যের নতুনত্বে শ্রোতারা আকৃষ্ট হয়েছেন সহজেই।
দুর্ভাগ্য আমাদের দেশের- যেখানে এই নিজামী আর তার এক সারি মহান চরিত্রের সঙ্গীদের মিথ্যা ও হাস্যকর অভিযোগে, প্রহসনের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। কি তাঁদের অপরাধ? শুধু এটা ছাড়া যে তারা ইসলামী সাম্যের অমর বিধানে এক সুখী-সুন্দর শান্তির সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন কবির ভাষায়:
“আউশ ধানের দেশে মদিনার রক্ত-গোলাপ
নতুন আশার পূর্ণতা নিয়ে মেলবে কলাপ।”
-ফররুখ
এই মিথ্যা ভাঁওতাবাজির দন্ডতো সাময়িক, তাঁদের চেষ্টা-সাধনার মহা পুরস্কার তো তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে এমন এক স্থানে যা হবে অনন্ত-চিরন্তন। আমার মনে পড়ে প্রথম যখন হোসনী দালান রোডে তাহাজ্জুদ-তন্ময় নিজামী ভাইয়ের মুখে শুনছিলাম সূরা আলে ইমরানের তেলাওয়াত। সেই তেলাওয়াতের শেষ আয়াতে (১৯৫) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন: “অতঃপর তাদের রব এই বলে তাদের দোয়ার জবাব দিলেন, নারী বা পুরুষ তোমাদের মধ্যে যারাই সৎকাজ করবে তার কোনটাই নষ্ট হতে দেয়া হবে না। তোমরা একে অপরের মতো। যারা নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছো, যাদের নিজের জন্মভূমি থেকে বের করা হয়েছে- আমারই পথে যারা নির্যাতিত হয়েছে, আমার জন্য সংগ্রাম করে যারা জীবন দিয়েছে, অবশ্যই আমি তাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবো, অবশ্যই আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশে বইবে ঝর্নাধারা- এ হচ্ছে আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার আর সুন্দরতম পুরস্কারতো শুধু আল্লাহতা’লার কাছেই রয়েছে।”

SHARE

Leave a Reply