তারুণ্য -মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান

সমাজ সভ্যতার বিনির্মাণে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। জাতির ভবিষ্যৎ বুনিয়াদকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তারুণ্য একটি অনস্বীকার্য শক্তি। তাদের আদর্শ, চরিত্র, আচরণ, শিক্ষা এবং সেই শিক্ষার ভিত্তিতে দক্ষতাগুলো সমাজগঠনে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তারুণ্যের মূল শক্তি, উদ্দাম সাহস, বাধা ডিঙিয়ে সামনে চলার অমিত তেজ, পুরাতনের দেয়াল ভেঙে নতুনের কেতন ওড়াবার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস এবং নতুন কিছু করার উদ্ভাবনী শক্তি। তারুণ্যের এ শক্তি সঠিক পথে ব্যয় হবে নাকি ক্ষয়িষ্ণু ধারায় চলতে গিয়ে শেষ হবে, তা নির্ভর করে তাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজব্যবস্থা এবং সমাজ কাঠামোর ওপর। পৃথিবীর প্রতিটি জাতি তাদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে তরুণদেরকে নিয়ে। বর্তমানে আমাদের দেশের তরুণদের একটি বিরাট অংশ আশাহীন, আলোহীন অন্ধকার গলিপথের দিকহারা পথিক। তাদের সামনে কোনো আলোর দিশা নেই। আশা জাগানিয়া কোনো আদর্শ তাদের পথ চলার জন্য আলোকের ব্যবস্থা করেনি। দিকদর্শনহীন অন্ধকার গলিতে তারা জীবনের সুখ স্বপ্ন খুঁজে বেড়ায়। তাদের কাছে জীবন মানে উচ্ছৃঙ্খলতা, বন্ধনহীন উদ্দাম, লাগামহীন আনন্দ ফুর্তির মাঝে ডুবে থাকা। তাদের বোধ ও বুদ্ধির দুয়ারে খিল আটকে দেয়া। চেতনার জানালায় তালাবদ্ধ কপাট। তাদের অনুভবে-অনুভূতিতে বোধহীন, আদর্শহীন বিশ্বাস বাসা বেঁধেছে। উচ্ছন্যে যাওয়া এ তরুণ প্রজন্ম মাদকের নেশায় বিভোর। মদ, গাঁজা, হেরোইন, আফিম প্যাথেড্রিন, ফেনসিডিল কিংবা ইয়াবা কোকেন তাদের কাছে পুরাতন হয়ে গেছে। মাদকের নিত্যনতুন ভ্যারিয়েন্ট তাদের হাতে এসে পৌঁছছে। তাদের কাছে নিত্যনতুন মাদকের উপাদান মানে নিত্যনতুন আবিষ্কার। এ আবিষ্কারের পেছনে ছুটতে গিয়ে তারা গোটা জাতিসত্তার ভিত্তিমূলকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। মাদকের এ নতুন ভ্যারিয়েন্টের নাম এলএসডি। এ মাদক সেবনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে আসক্ত ব্যক্তি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এমন অনেকগুলো ঘটনা পুলিশ নথিবদ্ধ করেছে।

অতি সম্প্রতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধারের পর টনক নড়ে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মহলের। লাশের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে সকলে একবাক্যে ধরে নিয়েছিলো কেউ তাকে হত্যা করেছে। সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী এ তরুণকে কে হত্যা করতে পারে? এ প্রশ্ন যখন সকলের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তখন পিলে চমকানো তথ্য নিয়ে হাজির হলো পুলিশ। আলোচিত তরুণ এলএসডি নামক মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলো এবং সে নিজেই নিজের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে পাঠকদের সুবিধার্থে একটি জাতীয় দৈনিকের খবরের কিয়দংশ তুলে ধরছি : “১৫ মে রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বহির্বিভাগের সামনে ভ্রাম্যমাণ ডাবের দোকান থেকে দা নিয়ে নিজের গলায় কোপ দিচ্ছিলেন ২৩-২৪ বছরের এক যুবক। তার গলা থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিল। কোপানোর সময় তিনি বারবার বলছিলেন, ‘আমাকে মাফ করে দাও, আমাকে মাফ করে দাও।’ সেখানে থাকা পথচারীরা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে সেখানে দায়িত্বরত শাহবাগ থানার দারোগা আল আমিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রিকশায় উঠিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তিনি রিকশা থেকে লাফ দিয়ে নেমে পড়েন এবং বলতে থাকেন, ‘আমি চিকিৎসা করব না, আমাকে মাফ করে দাও।’ পরে অন্য লোকজনের সহযোগিতায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়।”

আমরা সংবাদমাধ্যমে যতটুকু জানতে পেরেছি, তা হচ্ছে : ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা এ মাদকে আক্রান্ত হচ্ছে। অর্থ, আভিজাত্য, ভোগ আর সুখের মাঝে কাটে জীবন যাদের তারাই এ মাদকে আক্রান্ত হচ্ছে। সবকিছু পাওয়ার পর না-পাওয়ার বেদনা যাদের জীবনকে স্পর্শ করতে পারে না এমন তরুণদের সংখ্যাই বেশি। আভিজাত্যের মখমল গালিচা বিছিয়ে যাদেরকে সবকিছু ভোগের জন্য আহ্বান করে রঙিন দুনিয়া। আধুনিকতা নামক লাগামহীন পঙ্খিরাজের সওয়ারি হয়ে তারা এক সময় মনের অজান্তে হারিয়ে যায় অজানা সব অন্ধ গলিতে। গুলশান, বারিধারা, বনানী, উত্তরা আর ধানমন্ডির অসংখ্য অভিজাত ভবনে এ সকল তরুণেরা সুখের পায়রা খুঁজে বেড়ায়। জীবনে সব কিছু ভোগ করার পর আলোচিত মাদকে আসক্ত হওয়ার পর মৃত্যুই তাদের কাছে সমাধান মনে হয়। এ জন্য তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তারা কেন এমন করছে? জীবনের কি আর কেনো লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেই? কেন তারা ধ্বংসের পথকে আনন্দ উপভোগের উপাদান হিসেবে বেছে নিচ্ছে? কেন তারা ভয়ঙ্কর এ খেলায় নিজেদের সঁপে দিচ্ছে?

আলোচিত ঘটনায় মুখ্য দুটি বিষয় আমাদের সামনে চলে আসে- এক. অর্থবিত্ত এবং আভিজাত্য, দুই. বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া তরুণ। ধনিক পরিবারের সন্তান কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া তরুণরা চোখের সামনে বখে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সার্টিফিকেট এবং যোগ্যতাসম্পন্ন কিছু আমলা এবং কামলা তৈরি করতে পারলেও আদর্শ মানুষ তৈরি করতে পারছে না। কারণ শিক্ষাব্যবস্থায় আদর্শ মানুষ তৈরির কার্যকর উপাদান, পরিকল্পনা এবং পাঠ্যক্রম নেই। এর বাইরে আরো যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচনায় আসে বাংলাদেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে পড়া মানে নিজেকে অভিজাত ভাবতে শেখা। পড়ালেখার মানের চেয়ে খরচের মান এগুলোতে বেশি। স্বাভাবিক কারণেই অর্থগৃধনু পরিবারের সন্তানরা। তাদের জীবনাচার, সংস্কৃতি, সভ্যতা সবকিছুতে কেমন যেন এক ধরনের পশ্চিমা ভাবধারা প্রকাশ পায়। যার সাথে আমাদের দেশের সংস্কৃতির কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। কর্পোরেট পুঁজির দৌরাত্ম্য আমাদেরকে অনেক কিছু দিলেও আমাদের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। কর্পোরেট পুঁজির উদর হতে অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়েছে। তারা সার্টিফিকেট এবং পুথিঁগত বিদ্যার একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করতে পারলেও পুঁজিবাদ এবং ভোগবাদের ভয়াবহ উল্লম্ফনকে প্রতিহত করার কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। দুনিয়ার অনেক সুখ ভোগ করার পর আরো বেশি সুখের নেশায় এ সকল তরুণরা আরো বেশি সুখ খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অজানা গন্তব্যে। ভোগবাদ এবং পুঁজিবাদের উপহার আজকের সভ্যতা। যে সভ্যতায় শক্তিমানের শক্তির কাছে দুর্বলেরা অসহায়। নীতি-নৈতিকতার বাণী তাদের কাছে অসহনীয় প্রলাপবাক্য। খাও দাও ফুর্তি করো-দুনিয়াটা মস্ত বড়ো। এ সেøাগানে একদল আদর্শহীন দিগভ্রান্ত তরুণ তৈরি হচ্ছে। যারা আগামী দিনে জাতির জন্য সম্পদ না হয়ে বোঝা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

কেন এমন হচ্ছে? এ প্রশ্নের সহজ জবাব হচ্ছে এ সকল তরুণের সামনে মূলত প্রায়োগিক জীবনের কোনো আদর্শ নেই। জীবনের দর্শন এবং মৌলিক বিশ্বাসের প্রশ্নে তারা অন্ধকার জগতে বাস করছে। প্রাতিষ্ঠানিক এবং পারিবারিক শিক্ষায় আদর্শের জায়গাটুকু তাদের কাছে অন্তহীন সন্দেহের দোলাচল ব্যতীত কিছুই নয়। সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং ¯্রষ্টার পরিচয় সম্পর্কে তাদের শিক্ষার ভিত অত্যন্ত দুর্বল। এ পৃথিবীতে তার পরিচয়, মর্যাদা এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে তারা অনেকাংশে বেখবর। সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা, আদর্শহীন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, নীতি-নৈতিকতার প্রভাবমুক্ত সামাজিক ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় আবেশহীন পারিবারিক ব্যবস্থা একদল উচ্ছন্নে যাওয়া তরুণের জন্ম দিচ্ছে। মাদক এবং মাদকের প্রভাবমুক্ত সমাজ গড়তে অবশ্যই কঠোর আইন এবং আইনের প্রয়োগ আবশ্যকীয়। শুধু আইন দিয়ে এ বিষক্রিয়া হতে জাতিকে মুক্ত করা যাবে না। আইনের সাথে আদর্শিক এবং নৈতিক শক্তির উন্মেষ ঘটাতে হবে।

জীবন সম্পর্কে আমাদের সমাজে, শিক্ষাব্যবস্থায়, প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসে, দার্শনিক তত্ত্বে নানান মিথ চালু আছে। জীবন সম্পর্কে এবং মানুষের দুনিয়াবি জীবন সম্পর্কে যত মত ও পথ মানুষের পক্ষ হতে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত মানব সমস্যার সকল প্রশ্নের উত্তর যেমন দিতে পারেনি। একইভাবে এ সকল মত ও মতবাদের চূড়ান্ত পরিণতি ইতিবাচক হিসেবে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। যারা বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী তাদের মতে দুনিয়াটা ভোগের জায়গা, যতো পারো ভোগ করে নাও, এরপর আর কোনো জীবন নেই। এ বিশ্বাসের যারা ধারক, তারা মানুষকে শুধু সম্পদের পর সম্পদ আহরণ করার জন্য বলে। তারা মনে করে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা এবং সম্পদই মানুষের জীবনে সুখ এনে দিবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পশ্চিমা দুনিয়ার দিকে যদি আমরা তাকাই আমাদের কাছে সুস্পষ্টভাবেই যে বিষয়টি প্রতিভাত হয় তা হচ্ছে, সম্পদ, অর্থ এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতা মানুষের জীবনে শান্তি আনতে পারেনি। সেখানকার পরিবারব্যবস্থা ভেঙে গেছে। মা-বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক থাকছে না। বৃদ্ধ মানুষদের জন্য ওল্ড হোম হচ্ছে শেষ ঠিকানা। পারস্পরিক মমত্ববোধ একটি সময় পর আর কাজ করছে না। তারা গবেষণাকার্যক্রম আর প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য যত অর্থ ব্যয় করে সামাজিক-পারিবারিক মেলবন্ধনকে টিকিয়ে রাখার জন্য তার সিকিভাগ অর্থও ব্যয় করে না। তাদের জীবনের দর্শনের গোটা অংশজুড়ে রয়েছে ভোগবাদ। এর উৎকট প্রতিচ্ছবি তাই আমরা দেখতে পাই।

আমাদের তরুণদের সামনে যে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে তা হচ্ছে, এ পৃথিবী বল্গাহীন জীবন যাপনের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। মানুষকেও কোনো বল্গাহীন প্রাণী হিসেবে সৃষ্টি করা হয়নি। মানুষের সামনে তার প্রকৃতি, পরিচয় এবং মর্যাদা ও দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য তুলে ধরতে হবে। সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং ¯্রষ্টা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে সে মানুষ উদভ্রান্ত জীবন যাপন করবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষের প্রকৃত মর্যাদা এবং পরিচয় সম্পর্কে আলোচনার শুরুতে প্রথমেই যে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে-খিলাফত বা প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। এখানে সে ¯্রষ্টার ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটাবে। আল্লাহর রবুবিয়াতকে প্রতিষ্ঠা করবে। মানুষ যদি এখানে নিজের ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটায় তবে সে প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা রক্ষা করলো না। আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার কারণে তার মর্যাদা অনেক উন্নত। তাকে সৃষ্টি জগতে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেয়া হয়েছে অন্য সকল কিছুর ওপর কর্তৃত্ব করার মতো শক্তি, ক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তা দেয়া হয়েছে। এই শক্তিক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তাকে সে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী কাজে লাগাবে। ¯্রষ্টার ইচ্ছার বিপরীতে এখানে নিজের ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা এবং বাসনার সংমিশ্রণ ঘটালে সে খিলাফতের মর্যাদায় অভিষিক্ত থাকতে পারবে না।

তরুণদের সামনে আরো যে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে তা হচ্ছে, এ দুনিয়া শুধু ভোগ ব্যবহারের জায়গা নয়। তাকে তার দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। তার সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরতে হবে এ জীবনই শেষ নয়, এরপর আরো একটি জীবন আছে। সেখানে তাকে সকল কাজের জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে : ‘‘হে মানুষ! নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদের কিছুতেই প্রতারিত না করে; আর প্রতারক (শয়তান) যেন কিছুতেই আল্লাহ সম্পর্কে তোমাদেরকে প্রবঞ্চিত না করে।’’ (সূরা ফাতির : ৫) শুধু ভোগ করো আর দুদিন পরে মরে যাও এটির নাম দুনিয়ার জীবন নয়। ¯্রষ্টার পক্ষ হতে মানুষের জন্য মেসেজ হচ্ছে : ‘‘তোমরা জেনে রাখ দুনিয়ার জীবন শুধু খেল-তামাশা, চাকচিক্য, পারস্পরিক অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা (ছাড়া আর কিছু নয়); (তার) উদাহরণ বৃষ্টি, যা দ্বারা উৎপন্ন শস্য-সম্ভার কৃষকদেরকে মুগ্ধ করে, অতঃপর তা শুকিয়া যায় ফলে তুমি তা হলুদ বর্ণ দেখতে পাও অবশেষে তা খড়-কুটোয় পরিণত হয়; আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি; আর দুনিয়ার জীবন প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়।’’(সূরা হাদিদ : ২০)। জীবন এবং প্রতিটি ক্ষণের জন্য তাকে ¯্রষ্টার সামনে জবাবদিহি করতে হবে। ‘সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে যাতে তাদেরকে (বিচারের সাক্ষী-প্রমাণ হিসেবে) তাদের কৃতকর্ম দেখানো যায়। কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে সে তা দেখতে পাবে।’ (সূরা যিলযাল : ৬-৮)

তরুণদের হৃদয়ে এ অনুভূতিগুলো জাগ্রত করতে হবে। জীবনের মূল্যবোধ সম্পর্কে তাদেরকে সজাগ এবং সচেতন করতে হবে। এ জন্য দরকার আদর্শিক এবং নৈতিক শিক্ষা। আগামী প্রজন্ম আদর্শিক এবং নৈতিক শিক্ষায় গড়ে উঠুক। মাদক, অনৈতিকতা, চরিত্রহীনতা এবং বল্গাহীন জীবনের ছোবল থেকে তারা বেঁচে ফিরুক সোনালি আলোর সুন্দর ভুবনে; মহান রবের কাছে কায়মনোবাক্যে এ প্রার্থনা করছি।
লেখক : প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply