পদ্ধতিগত উত্তমতার সাথে কৌশলী ভূমিকা রেখে দ্বীনের সম্প্রসারণ করতে হবে মো. রাশেদুল ইসলাম

পৃথিবীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের ওপর তাঁর দ্বীন প্রচারের যে মহান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে- তা আঞ্জাম দেয়ার মূল প্রেরণা হচ্ছে তাদের চেতনা ও অনুভূতি। সত্য ও সুন্দরের মানসিকতা লালনের ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিকতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে খিলাফত ব্যবস্থা যাতে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সে দিকে তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হবে। যার মধ্য দিয়ে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে সহজেই আল্লাহর দ্বীনের দিকে পথ দেখানো যেতে পারে এবং পৃথিবীবাসীর সামনে চূড়ান্ত প্রমাণ পেশ করা যেতে পারে। পৃথিবীতে এই ব্যবস্থা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন মুসলমানের সর্বপ্রধান, সবচেয়ে বড় এবং সর্বোৎকৃষ্ট উদ্দেশ্য হবে এই ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কিছু না কিছু করা। শয়নে-জাগরণে প্রত্যেক মুসলমানের এটাই হবে একমাত্র চিন্তা। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর রাজত্ব প্রতিষ্ঠাই তাদের জীবনের উদ্দেশ্য। যদি তারা এ উদ্দেশ্য বিস্মৃত হয়ে যায়, তাহলে তারা পৃথিবীর বুকে কীট-পতঙ্গ ও খড়কুটার চেয়ে অধিক গুরুত্ব পাওয়ার দাবি করতে পারে না। এবং তারা কখনো মধ্যমপন্থী উম্মত অথবা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়ার মর্যাদাও পেতে পারে না বা আল্লাহর তরফ থেকে কোনরূপ সাহায্য সহযোগিতা লাভের আশাও করতে পারে না।
মানুষের মন-মনন অনুধাবন করে একজন একনিষ্ঠ দায়ী নিজের বোধ এবং বিশ্বাসের প্রতিফলন যেমনিভাবে ব্যক্তিগত জীবনের সাথে মিলিয়ে নিয়ে পথ চলে থাকেন, ঠিক একইভাবে অনুরূপ আমলের ব্যাপারে বিশ্ববাসীর কাছে রিসালাতের বাণী পৌঁছান নিজেকে উপযুক্ত পন্থায়। আমাদের আজকের আলোচনা মূলত বর্তমান পরিস্থিতিতে দাওয়াত দানের কৌশল সম্পর্কে। কৌশল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার অন্যতম প্রক্রিয়া হচ্ছে সমসাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া। পরিবেশ ও প্রতিবেশের আলোকে নিজেকে দাওয়াতের ময়দানে খাপ খাইয়ে নেয়া।
বর্তমানে গোটা বিশ্বব্যাপী মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আপতিত হওয়া পরীক্ষা হিসেবে মহামারী করোনাভাইরাস মানবজীবনকে স্থবির করে ফেলেছ বলা চলে। আর পূর্ব থেকে চলে আসা দ্বীন বিজয়ের প্রত্যয়ী মানুষের উপর অব্যাহত জুলুম নির্যাতন তো নিত্যসঙ্গী হিসেবে রয়েছেই। বিশেষ করে আমরা যারা ছাত্রসমাজকে আমাদের দাওয়াতের টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছি, তাদের সামনে আজ ৩টি বিষয় মোটা দাগে দেখা দিয়েছে:
১. চলমান লকডাউনে অনির্ধারিত সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা।
সাধারণভাবে মানুষের চলাফেরা ব্যাপক হারে বাড়লেও সরকারি ঘোষণা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মানা।
২. করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পরস্পর মোয়ামেলাত কঠিনভাবে বন্ধ থাকা।
৩. চরম জাহেলিয়াতের প্রবল গ্রাসে মানুষের মনকে আচ্ছাদিত করে রাখা।
তবে এই তীব্র সমস্যার মধ্যেও খেয়াল করার মতো পজিটিভ কিছু পরিবেশও আমরা দেখতে পাচ্ছি। তা হলো:
ক) প্রযুক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন কৌশলে দাওয়াতের পরিবেশ সৃষ্টি।
অধিকাংশ ছাত্রের হাতে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ-কম্পিউটার বা এ ধরনের তথ্যপ্রযুক্তিগত উপকরণ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ বেড়েছে। গ্রুপ কল, মিটিং-এর মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিলো, এমন অনেক আয়োজন সহজ হয়ে গেছে। এখন ক্লাস-পরীক্ষাও অনলাইনে নেয়া হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। ছাত্রদের সাথে কানেক্টিভিটির সুযোগ বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে।
খ) করোনা মহামারীর প্রভাবে মানুষের মৃত্যু চিন্তা বৃদ্ধি পাওয়া।
আল্লাহর রাসূল সা. এর ঘোষণা মতে মানুষ যতো বেশি মৃত্যুর চিন্তা করবে, ততো বেশি আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য তার মন ব্যাকুল হবে। কোন মোটিভেশন ছাড়াই বর্তমান সময়ের মানুষ মৃত্যুর কথা বেশি বেশি ভাবছে। এই সময়ে মানুষের মনে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য নির্দেশনা গেঁথে দেয়া সহজ হবে।
গ) লকডাউনে বাসা-বাড়িতে বেশি সময় থাকা এবং বাইরে সময় ব্যয় না করার কারণে হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকা।
পর্যাপ্ত সময়ের অভাব বোধ করা মানুষের একটি স্বাভাবিক অক্ষেপ। ব্যক্তিগতভাবে আমরা যারা দায়ীর ভূমিকায় এবং আমাদের টার্গেটেড ছাত্র যারা, তারা এখন পর্যাপ্ত অবসর সময় পার করছেন। সশরীরে ক্যাম্পাসে হাজির হয়ে ক্লাস-পরীক্ষা না থাকায় হাতে অফুরান সময়।
শুরুর আলোচনা এবং বাস্তবিকতার নিরিখে প্রতিবন্ধকতা এবং সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে উদ্যোগ নিতে হবে ব্যাপক দাওয়াত সম্প্রসারণের। এক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ঘোষণা এবং রাসূলের সা. জিন্দেগি আমাদের নির্দেশ করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থিরপূর্বক পদ্ধতিগত উত্তমতার সাথে কৌশলী ভূমিকা রেখে দ্বীনের সম্প্রসারণ করতে হবে। দাওয়াতি কাজের ব্যাপারে সূরা আলে ইমরানের ১০৪ ও ১১০, সূরা ফুসসিলাতের ৩৩ এবং সূরা নাহলের ১২৫ নং আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট। এই ৪টি আয়াত থেকে আমরা দাওয়াতের গুরুত্বের বিষয়ে নি¤েœর টার্মিনোলজি পেয়ে থাকি:
১. দাওয়াতের কাজ যারা করবেন, তাদের মর্যাদা অন্য সাধারণ মানুষের চেয়ে উন্নততর।
২. মর্যাদা বৃদ্ধির সাথে সাথে দায়িত্বের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়।
৩. দাওয়াতের কাজের বিষয়টি সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ।
৪. এই কাজটি অন্য অনেক ভালো কাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কাজ।
৫. দাওয়াতের ময়দানে অবশ্যই গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে সুন্দর, সুকৌশলী এবং যৌক্তিক উপস্থাপন জরুরি।
উপরের আয়াতের বিশ্লেষণ করে আমরা রাসূলের সা. জিন্দেগি থেকে নি¤েœর ৬টি দাওয়াতি কাজের পদ্ধতি দেখতে পাই:
১. টার্গেট নির্ধারণ : কোন গোত্রের কোন ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ, বিচক্ষণতার দিক থেকে কে এগিয়ে, দ্বীনের জন্য যার প্রয়োজনীয়তা বেশি, রাসূল সা. তাদের বাছাই করে টার্গেটভিত্তিক কাজ করেছেন। যেমন- উমর, বেলাল, খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. প্রভৃতি। (দ্রষ্টব্য: মক্কী দাওয়াতের খতিয়ান, ইসলামী নেতৃত্বের গুণাবলী; খুররম জাহ মুরাদ)।
২. সম্পর্ক তৈরি : টার্গেটেড ব্যক্তির সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা রাসূলের সা. দাওয়াতের অন্যতম পদ্ধতি ছিলো। মক্কায় কুরাইশদের মধ্য থেকে যারা দ্বীনের দাওয়াত কবুল করেছেন, তাদের অধিকাংশের সাথে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্ক রক্ষা করতেন।
৩. নিজের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা : রাসূলুল্লাহ সা. নিজ আমলের ব্যাপারে সবসময় সিরিয়াস ছিলেন। সূরা আহযাবের ৪৬ নং আয়াতের ঘোষণা তার প্রমাণ। তিনি নিজেকে পবিত্রতা এবং পরিচ্ছন্নতার এমন এক বাস্তবতা নিশ্চিত করেছিলেন যে, মক্কাবাসীদের মধ্যে কেউ তাঁর কাছে গেলেই চরিত্র দেখে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করবেন, কাফিররা এমন আশঙ্কা করতো।
৪. সুন্দর, গোছানো ও পরিপাটি কথা-কাজ : কোন কাজের পর কোন কাজ, কোন কথার পর কোন কথা, কোন কৌশলের পর কোন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন; তার ব্যাপারে রাসূল সা. এবং খোলাফায়ে রাশেদার যুগ আমাদের প্রেরণা জোগায়। বিভিন্ন সমাবেশে বক্তৃতা-বিবৃতি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো চিঠির ভাষা তার উৎকৃষ্ট নমুনা।
৫. হিকমত/কৌশল : আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক নতুন নতুন কৌশলে রাসূল সা. কাজ করেছেন। বিনয়, বুদ্ধিমত্তা, মন্দের মোকাবেলায় ভালো কথা বলা তাঁর অন্যতম ৩টি বিশেষ কৌশল ছিলো।
৬. ধৈর্য : ময়দানে টিকে থাকা রাসূলের সা. অন্যতম দাওয়াতের পদ্ধতি ছিলো। তায়েফের ময়দানে শত জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করেও তিনি ধৈর্য ধারণ করে দাওয়াতি কাজ করেছেন। শিয়াবে আবু তালিবের বন্দিত্ব ধৈর্য দিয়ে মোকাবেলা করেছেন।

এ পর্যায়ে আমরা দাওয়াতি কাজের কিছু কৌশল উপস্থাপন করবো:
১. কাজের পরিধি নির্ধারণ:
ষ পরিসংখ্যান আয়নার মতো ঝকঝকে হওয়া প্রয়োজন।
ষ প্রত্যেক প্রশাসনিক স্তরের পরিসংখ্যান।
ষ প্রতিষ্ঠনের প্রত্যেক ক্লাস/ইয়ারভিত্তিক পরিসংখ্যান।
ষ বছরের শুরুতেই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা।
ষ মুরুব্বি সংগঠনের কাজের পরিধি সম্পর্কে ধারণা রাখা।
ষ বছরের শুরুতেই সংগঠন সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেয়া।
ষ কাজের পরিধি সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়মিত অবলোকন এবং পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।

২. কাজ বণ্টন:
ষ সকল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে ময়দানে নামা।
ষ জনশক্তির ইন্টারেস্ট এবং দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ ভাগ করা।
ষ সাংগঠনিক প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ নির্ধারণ (প্রতিষ্ঠানের বিভাগ, ক্লাস, গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রভৃতি)।
ষ মূল দায়িত্বশীলদের (শাখা ও থানা) মাঝে কাজ ভাগ করে দেওয়া।
ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/বিভাগ/ক্লাস ভাগ করে দেয়া।
ষ পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড-ইউনিয়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক এলাকা।
ষ কাজ নেই এমন এলাকা, স্পেশালি বণ্টন করা।

দাওয়াতের ময়দানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চাঙ্গা রাখতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যার বিকল্প নেই:
১. সাহসিকতা।
ষ হিম্মত হারিয়ে না ফেলা।
ষ জনশক্তিদের সাহস জোগানো।
ষ সবসময় সক্রিয় ও সজাগ থাকা এবং সকল জনশক্তিদের সক্রিয় ও সজাগ রাখা।
২. শাহাদতের তামান্না।
ষ শাহাদতের গুরুত্ব তুলে ধরে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত প্রোগ্রামাদি নিশ্চিত করা
ষ শাহাদতের নজরানা সম্পর্কে জনশক্তিকে ওয়াকিবহাল রাখা।
৩. ইসলামবিরোধী শক্তির তৎপরতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা।
ষ ১ংঃ গড়াবৎ হওয়া। বিরোধী শক্তির তৎপরতা শুরুর আগেই ছাত্রদের কাছে দ্বীনের মেসেজ পৌঁছে দেয়া।
ষ বিরোধী শক্তির তৎপরতা যাই হোক না কেন, তাতে দুর্বল মনোভাব না দেখানো।

দাওয়াতি টার্গেটের ক্ষেত্রে রাসূল সা. বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কাছের লোকদের ব্যাপারে। এ পর্যায়ে আমরা পরিচিতজন, নিজ ক্লাসমেট, বন্ধুদের মাঝে দাওয়াতি কাজের কৌশল সম্পর্কে বলবো।
১. দাওয়াতের ময়দানে নিজস্ব প্রভাব বলয় নিশ্চিত করা।
ষ আদর্শিক জ্ঞানের প্রভাব।
ষ একাডেমিক জ্ঞানের প্রভাব।
ষ নৈতিক প্রভাব (ব্যক্তিত্ব, ভারত্ব)।
২. টার্গেটের কাছাকাছি অবস্থান।
ষ নিয়মিত যোগাযোগের স্বার্থে ক্লাস, মসজিদ, জমায়েতস্থলে উপস্থিত হওয়া।
ষ টার্গেটকৃত ছাত্রের বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি বন্ধুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান এবং তাদের সাথে নিয়মিত মিলিত হওয়া।
ষ বিভিন্ন কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসে অংশ নেয়া।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু দাওয়াতি আয়োজন খুব আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যাকে একবাক্যে “ঞৎধহফরহম আয়োজন” বলা যায়। ছাত্র সমাজের অনলাইন এবং সরাসরি যে সকল কাজের ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী, তা হলো:
১. অনলাইন কার্যক্রম।
ষ ভাষাশিক্ষা কোর্স।
ষ একাডেমিক ক্লাস।
ষ ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম।
২. ছাত্রকল্যাণ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি।
ষ বৃত্তি/স্টাইপেন্ড প্রদান।
ষ ফ্রি প্রাইভেট পড়ানো।
ষ ব্লাড ডোনেশন, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প।
ষ বন্যাসহ বিভিন্ন ক্রাইসিস মোকাবেলা।

একজন দায়ী খুব আন্তরিকতা নিয়ে দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত থাকলেও এমন কিছু কাজ রয়েছে, যার কারণে দাওয়াতের আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। সে রকম ৩টি সতর্কতামূলক কাজ রয়েছে, যার ব্যাপারে সচেতন থাকা জরুরি:
১. দায়ীর আমলের ঘাটতি না থাকা। সূরা হা-মিম আস সাজদাহর ৩৩ নং আয়াতের ঘোষণা অনুযায়ী দাওয়াত দানকারীকে অবশ্যই আমলে সালেহকারী হতে হয়।
২. হৃদয় নাড়া দেয়ার মতো করে কথা বলা এবং গতানুগতিক না কাজ করা।
৩. পরিকল্পনা এবং কর্মপদ্ধতির অনুসরণ।
সর্বোপরি পরিবেশ বুঝে দাওয়াতি টার্গেটের মন ও মনন অনুধাবন করে সুন্দর ও আকর্ষণীয় উপায়ে দাওয়াত উপস্থাপন করা দায়ীর বিচক্ষণতার পরিচায়ক। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের প্রকৃত মাহাত্ম্য অনুধাবন করার তাওফিক দান করুন।
লেখক : কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply