প্রশ্নোত্তর পর্ব : কেন্দ্রীয় সভাপতি

প্রশ্ন : ভাইয়া সালাম নেবেন, আমি সংগঠনের একজন সাথী, নবম শ্রেণিতে পড়ছি। কিভাবে সংগঠন এবং লেখাপড়া একসাথে সুন্দর করা যায় আপনার পরামর্শ জানতে চাই।
– আল-আমিন হোসেন, মেদি আশুলিয়া, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

উত্তর : পড়া এবং সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য আনয়ন করা ইসলামী ছাত্রশিবিরের জনশক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত। শিবিরের প্রত্যেক স্তরের জনশক্তিকে অবশ্যই আগে ছাত্র হতে হবে এবং ক্লাসের সেরা ছাত্রটি হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ক্লাসের সেরা ছাত্রটি ইসলামী আন্দোলনের/ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত এটিই ইসলামী আন্দোলনের/ছাত্রশিবিরের সর্বোৎকৃষ্ট দাওয়াত।
‘পড়ার সময় পড়া এবং সংগঠনের সময় সংগঠন’ এই নীতিকে সামনে রাখলেই পড়াশোনা এবং সংগঠনের কাজে ভারসাম্য আনয়ন করা সম্ভবপর হবে। সংগঠন এবং পড়াশোনা দুটিই সুন্দর হবে।
সংগঠনের নিয়মিত কর্মসূচি খুব বেশি নয়। সেভাবে এই কর্মসূচিগুলোর কথা মাথায় রেখেই বাকি সময় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে এবং মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। তাহলে নিয়মিত কর্মসূচিগুলোকে পড়াশোনার অন্তরায় মনে হবে না। এর বাইরে দৈনন্দিন দাওয়াতি কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করে কাজ করা যেতে পারে। এজন্য প্রত্যেক রাতে তার পরের দিনের কার‌্যাবলিকে ‘টু ডু লিস্ট’ আকারে সাজানো যেতে পারে। দাওয়াতি কাজ, সাংগঠনিক কাজের বাইরে নিজের আমল, মুয়ামালাতের বিষয়ে সবিশেষ নজর দিতে হবে।
নিয়মিত পড়াশোনা, আমল, মুয়ামালাত এবং পরিকল্পিত সাংগঠনিক কাজ, কাজের জন্য সার্বক্ষণিক এবং পূর্বপ্রস্তুতি আপনার সাংগঠনিক জীবন এবং পড়াশোনাকে সুন্দর করতে বাধ্য, ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন : ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বিনোদনের জন্য গান বাজনার সীমারেখা কতটুকু? ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছত্রছায়ায় এই আন্দোলনের কর্মীরা কি এ বিষয়ে শরিয়তসম্মত নির্দেশনা অনুসরণ করে?
– আলাউদ্দীন হাসান, লক্ষ্মীরহাট, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়

উত্তর : গানের ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে। অনেকের মতে, গান বাজনা একেবারেই হারাম। অনেকের মতে, দফ হালাল; অন্যান্য বাজনা হারাম। অনেকে দফ থেকে কিয়াস করে অন্যান্য বাজনাকেও হালাল বলেন। অনেকে, প্রাকৃতিক শব্দ, ঝংকার (পাখির কলতান, প্রবহমান ঝরনার শব্দ) ইত্যাদিকে হালাল বলেন। খুব অল্পসংখ্যক আলেম গান বাজনাকে হালাল মনে করেন।
ইসলামী ছাত্রশিবির শুরু থেকেই মধ্যপন্থা অবলম্বন করে আসছে। বাজনাবিহীন (প্রয়োজনে দফের ব্যবহার) খালি গলায় ইসলামী সঙ্গীতের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে আসছে। এ ব্যাপারে সঙ্গীতের কথায় শিরক না থাকা, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীত কিছু না থাকা, অশ্লীলতা না থাকার ব্যাপারগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। এবং সে আলোকেই জনশক্তিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে, শরিয়তের রুখসত, আজিমত, ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধ্যয়ন, উপলব্ধি এবং অবস্থা বিবেচনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ এবং জনশক্তিগণ ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার চেষ্টা করে থাকেন।

প্রশ্ন : দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান বাংলাদেশের জন্য যোগ্য অর্থনীতিবিদ ও গবেষক প্রয়োজন, এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কতটুকু উদ্যোগ রয়েছে?
– একরামুল হাসান, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

উত্তর : দারিদ্র্য বিমোচনে অর্থনীতিবিদ এবং গবেষকদের পাশাপাশি আরও অন্যান্য সেক্টরেও দক্ষ এবং যোগ্যতাসম্পন্ন লোকের প্রয়োজন। গবেষক এবং অর্থনীতিবিদরা তাদের জ্ঞান এবং রাষ্ট্রের রিসোর্সের কথা বিবেচনা করে পলিসি নির্ধারণ করবেন; পরামর্শ দিবেন। আর এসব পলিসি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন রাজনীতিবিদরা এবং প্রান্তিক/মাঠপর্যায়ে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন মাঠকর্মীরা। মাঠকর্মীদের মধ্যে সরকারি আমলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেক্টরের দক্ষ এবং যোগ্য ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।

ইসলামী ছাত্রশিবির এর সবগুলো ক্ষেত্রেই যোগ্য এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। তাকওয়াবান সৎ নেতৃত্ব তৈরি ছাত্রশিবিরের অন্যতম একটি মুখ্য উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি সরকারি এবং বেসরকারি সেক্টরে জনশক্তিদের দৃপ্ত পদচারণার জন্য ছাত্রশিবিরের প্রত্যেকটি শাখা তার বিদায়ী জনশক্তিদের জন্য আলাদা নার্সিংয়ের ব্যবস্থা করে থাকে; এজন্য আলাদা কোচিং, আইডিয়াল হোমের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় গবেষণা বিভাগের অধীনে রয়েছে নলেজ মুভমেন্ট। এই মুভমেন্টের তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এবং দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মেধাবীদের বিভিন্ন স্কুলের অধীনে তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। এরকম বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে রয়েছে স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস। এই স্কুলের অধীনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, এর আলোকে ইসলামী সীমারেখায় থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, বিদ্যমান অর্থনীতিকে আরো কিভাবে ইসলামীকরণ করা যায় তার গবেষণা হচ্ছে। এই বিভাগের অধীনে নবীন শিক্ষার্থীদের গবেষণা ক্ষেত্রে উৎসাহকরণ, অনিসন্ধিৎসুমনের নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা, নতুন গবেষকদের প্রস্তুতি ইত্যাদি নানা কাজের আঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, আল্লাহর রহমতে এই সকল জনশক্তি এবং আমাদের কর্মপ্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করে নিলে আমরা বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশে রূপান্তর করতে পারবো।

আহবান
প্রিয় পাঠক, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। ছাত্রসমাজের মুখপত্র, আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন ছাত্রসংবাদ পাঠকদের জন্য নিয়ে এলো নিয়মিত ‘প্রশ্নোত্তর পর্ব’। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রসমস্যা, শিক্ষাঙ্গন ও সংগঠন নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন। কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে আপনার প্রশ্নটি নাম ও ঠিকানাসহ পাঠিয়ে দিন আজই।
প্রশ্ন পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]

SHARE

Leave a Reply