সর্বশেষঃ
post

প্রশ্নোত্তর পর্ব : কেন্দ্রীয় সভাপতি

প্রশ্নোত্তর পর্ব : কেন্দ্রীয় সভাপতি

০২ জুলাই ২০২২

প্রশ্ন : রাজধানীসহ সারা দেশে সংগঠনের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হওয়ার পরও মিডিয়া প্রচার না করায় সেটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। এমতাবস্থায় মানুষের কাছে আমাদের এসব খবর পৌঁছাতে মিডিয়ার বিকল্প হিসেবে সংগঠন কী চিন্তা করছে?

-আব্দুল ওহাব বাবুল, শিক্ষার্থী, চরকৈলাশ হাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, নোয়াখালী

উত্তর : উক্ত বিষয়ে সংগঠনের চিন্তার প্রেক্ষিতে কয়েকটি টার্ম সামনে আসবে। প্রথমত মিডিয়া, পরবর্তীতে গণমানুষ, সর্বশেষ বিকল্প প্রস্তাবনা। বর্তমানের প্রতিষ্ঠিত সবকটি মিডিয়া একচ্ছত্রভাবে সরকারের তাঁবেদারিতে ব্যস্ত। বলা চলে তা ব্যতীত তাদের অন্য কোনো উপায়ও নেই। গণমানুষের কথা বলতে গেলে তাদের নিকট সংগঠনের প্রতি আবেগের জায়গাটি স্পষ্ট। মিডিয়ার সন্ত্রাস যতই অপপ্রচার চালিয়ে যাক না কেন গণমানুষের বিশ্বাসের জায়গা খুব একটা পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিকল্প প্রস্তাবনা হিসেবে কয়েকটি বিষয়ই চিন্তা করা যায়। প্রথমত, প্রতিষ্ঠিত মিডিয়াগুলোর বিপরীতে শক্তিশালী নতুন ধারার মিডিয়া গড়ে তোলা, যা খুবই কঠিন মনে হলেও অসম্ভব নয়। বিকল্প প্রস্তাবনায় কৌশলগত অবস্থান খুবই ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা যায়। এক্ষেত্রে সংগঠনের অধস্তন প্রতিটি শাখায় সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলা যেতে পারে। এসব সংগঠন দাতব্য সংস্থার মতো করে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার কাজকে ত্বরান্বিত করবে। সর্বোপরি আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।


প্রশ্ন : বাংলাদেশের নেতৃত্ব গঠনে ছাত্রশিবির কী রকম ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে?

- শফিকুল ইসলাম শফিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, নীলফামারী সরকারি কলেজ

উত্তর : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের প্রধান ছাত্রসংগঠন। এদেশের ছাত্রসমাজের মাঝেই যাদের কর্মতৎপরতা। আউটপুট ভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের সকল সেক্টরে যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিক তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো সেক্টর-ভিত্তিক লোক তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সকল সেক্টরে নেতৃত্ব দানের উপযোগী লোকবল তৈরির জন্য আরো যুগপৎ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরই প্রদান করবে। 


প্রশ্ন : বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সরকার উন্মুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দেয় না কেন? 

- জাকারিয়া আল হোসাইন, ইংরেজি বিভাগ, নীলফামারী সরকারি কলেজ

উত্তর : বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও বর্তমান সরকার কোথাও গণতন্ত্রের লেশমাত্র অবশিষ্ট রাখেনি। এখানে এখন যা রয়েছে সেটি হলো গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতন্ত্র। শুধু ইসলামী ছাত্রশিবিরই নয় বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারে না। উপরন্তু ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব চিরন্তন। সুতরাং তাগুতি শক্তি ইসলামকে সর্বত্র ফুঁ দিয়ে নিভানোর প্রচেষ্টা থেকে বিরত হবে না এটাই স্বাভাবিক। গণতন্ত্রের কথা আসলে আমরা আব্রাহাম লিংকনের সংজ্ঞার দিকে চলে যাই (of the people, by the people for the people) কিন্তু একথা চিন্তা করি না যে এরিস্টোটল প্লেটো তারা কী বলেছেন? সেদিকেও নজর দেয়া দরকার। তারা এটাকে মূর্খের শাসন, গরিবতন্ত্র ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ভোট আর রিকশাচালকের ভোট কখনো সমান হতে পারে না। যদি সমান হয় তাহলে এখানে জাস্টিস প্রতিষ্ঠিত হবে না। এটাই স্বাভাবিক। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, উন্নত দেশগুলোতে তাহলে গণতন্ত্র থাকা অবস্থাতেও কেন বিরোধী দল নিধন হয় না, আর বাংলাদেশে কেন হয়? উত্তর হলো আমরা আমেরিকার কথা চিন্তা করি, সেখানে গণতন্ত্র ফ্যাক্ট না, সেখানে মানবাধিকার সংস্থাগুলো খুব শক্তিশালী। মিডিয়া স্বাধীন। মানুষ অধিকার-সচেতন। সেখানে মানুষের দরিদ্রতা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না, ক্ষুধা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। ঐখানে মানুষ  বড় বড় চিন্তা করে। বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আসেন তারা ফিফটি পার্সেন্ট ভোটও পায় না।  তারা ক্ষমতায় গিয়ে বিরোধী দল নিধন করে। স্বভাবতই এটা তারা করতে চায়। কিন্তু এখানে তারা বাধাপ্রাপ্ত হয় না কারণ এখানে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সক্রিয় নয়, দুর্বল এবং মানুষের সচেতনতা ওইভাবে নেই। বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্র্যের  চিন্তা ফেলে   রাজনৈতিক এসব অধিকার নিয়ে চিন্তা করবে না এটাই স্বাভাবিক। রাশিয়া-চীনের চেয়ে আমি বলব যে আমেরিকার ব্যবস্থাটা ভালো এবং গণতন্ত্র, বর্তমান প্রচলিত বিশ্বে যেসব শাসনব্যবস্থা চালু আছে, ইসলামী শাসনব্যবস্থা ছাড়া, সেখানে গণতন্ত্র অপেক্ষাকৃত ভালো। আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে, যদি বৈধভাবেও ক্ষমতায় থাকতো তাহলেও তারা বিরোধী দলকে দমন করত। কেননা এতে তারা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে না রাজনৈতিক অধিকার হাসিলের প্রতি অসচেতন জনগণের দ্বারা। গণতন্ত্র তাদের এ ভিন্নমত দমনে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি করছে না।

আ হ বা ন

প্রিয় পাঠক, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ছাত্রসমাজের মুখপত্র, আপনার প্রিয় ম্যাগাজিন ছাত্রসংবাদ পাঠকদের জন্য নিয়ে এলো নিয়মিত ‘প্রশ্নোত্তর পর্ব’। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রসমস্যা, শিক্ষাঙ্গন ও সংগঠন নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন। কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে আপনার প্রশ্নটি নাম ও ঠিকানাসহ পাঠিয়ে দিন আজই। প্রশ্ন পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির