প্রাচীন বাংলার বুনিয়াদ তাওহিদবাদীদেরই হাতে -আহমেদ আফগানী

প্রাকৃতিক কারণে পাকবাংলায় চিরস্থায়ী প্রাসাদ-দুর্গ-অট্টালিকা নির্মাণের উপযোগী মাল-মশলা যেমন দুষ্প্রাপ্য, নির্মিত দালানকোঠা ইমারত রক্ষা করাও তেমনি কঠিন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এরা নিশ্চিত শিকার। ময়নামতি, মহাস্থানগড়ের ভগ্নাবশেষ দেখিয়া পাকবাংলার সভ্যতার প্রাচীনত্ব ও স্থপতির চমৎকারিত্ব আন্দাজ করা যায় মাত্র, বিচার করা যায় না

বাঙালি বহু জাতির মিশ্রণে তৈরি একটি সঙ্কর জাতি। অনেক আগে থেকেই প্রাচীন বাংলার অধিবাসীদের দেহে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রক্তের সংমিশ্রণ ঘটেছিল বলেই কালক্রমে বাঙালি একটি সঙ্কর জাতিতে পরিণত হয়েছে। বাঙালি তার গঠনে ও চেহারায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যচিহ্ন বহন করে চলেছে বলেই বাঙালিদের মধ্যে আর্য-সুলভ ফর্সাবর্ণ যেমন দেখতে পাওয়া যায়, তেমনি নিগ্রোদের মতো মোটা কোঁকড়া চুল ও পুরু ঠোঁটও দেখা যায়।
অনেকে বলে থাকেন, অস্ট্রিকভাষী আদি-অস্ট্রেলীয়রাই বাংলার প্রাচীনতম জাতি। তবে তাদের ভাষা, গড়ন, চলন ও সংস্কৃতির কোনো কিছুর সাথেই মিল খুঁজে পাওয়া যায় না এ অঞ্চলের মানুষদের সাথে। তাই অনেকে দাবি করলেও অস্ট্রিকভাষীরা বাংলার আদি বাসিন্দা এটা ধারণাই মাত্র। এ দাবির পেছনে ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। দ্রাবিড়ভাষী জনগোষ্ঠী প্রাচীন বাংলায় এসেছিল। বাংলার ভাষা ও সভ্যতায় এ দ্রাবিড়ভাষী জনগোষ্ঠীর গভীর অবদান রয়েছে। এরাই প্রথম সভ্য জনগোষ্ঠী এই অঞ্চলের।
দ্রাবিড় বলতে ঐতিহাসিকগণ দক্ষিণ, মধ্য এবং পশ্চিম ভারতে অবস্থিত একটি বিশাল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সেই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষকে বুঝিয়ে থাকেন। আর্যরা ভারতবর্ষে আসার আগেই ভারতীয় উপমহাদেশ দ্রাবিড়-অধ্যুষিত ছিল। আর্যরা ইরান থেকে প্রাচীন ভারতে এসেছিল ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বে। এখানে উল্লেখ্য যে, বহিরাগত আর্যদের তুলনায় দ্রাবিড় সভ্যতা ছিল উন্নত। ঐতিহাসিক শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার লিখেছেন, ‘প্রাচীন দ্রাবিড়গণ বৈদিক আর্যদের অপেক্ষা সভ্যতায় কোনও অংশে পশ্চাৎপদ ছিল না। বরং ক্ষেত্রবিশেষে আর্যগণ অপেক্ষা তাহারা অধিকতর উন্নত ছিল। বিজ্ঞানে, শিল্পে, যুদ্ধবিদ্যা ও বুদ্ধি কৌশলে তাহারা আর্যদের সম্যক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।’
এখন প্রশ্ন হলো- দ্রাবিড়রা কি ভারতবর্ষে সব সময়ই ছিল? নাকি তারাও কোনও এক সময়ে আর্যদের মতোই বাইরে থেকে ভারতবর্ষে এসেছিল? এ প্রশ্নে পণ্ডিতেরা দু’ ভাগে বিভক্ত।
(ক) একদল পণ্ডিত মনে করেন যে দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী ভারতবর্ষের বাইরে থেকে এসেছে। এদের আদি বাসভূমি ছিল ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল।
(খ) আরেক দল পণ্ডিত মনে করেন- দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী ভারতবর্ষের আদি অধিবাসী।
তবে প্রথম মতটিই অধিকতরো গ্রহণযোগ্য। অবশ্য এর যথার্থ কারণও আছে। দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর বর্তমান বাসস্থান দক্ষিণ ভারত। সেখানকার সমাধিক্ষেত্রে যে কঙ্কাল পাওয়া গেছে তার সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় নরগোষ্ঠীর (ডিএনএ ইত্যাদির) মিল রয়েছে। তা ছাড়া মিসরীয়দের সঙ্গেও দ্রাবিড়দের নৃতাত্ত্বিক মিল রয়েছে। এসব কারণে দ্রাবিড়ভাষী জনগোষ্ঠীকে ভূমধ্যসাগরীয় নরগোষ্ঠীর মানুষ বলে মনে করা হয়।১
দ্রাবিড়ভাষী জনগোষ্ঠীই প্রাচীন ভারতবর্ষে নগরসভ্যতার সূত্রপাত করেছিল। দ্রাবিড়ভাষী জনগোষ্ঠী ছিল সভ্য এবং তাদের সাংগঠনিক শক্তিও ছিল বেশি। যে কারণে নগরকে কেন্দ্র করে দ্রাবিড় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। আসলে মিশর থেকে ভূমধ্যসাগর অবধি দ্রাবিড়ভাষী জনগোষ্ঠীর সভ্যতায় নরগকেন্দ্রিক উপাদানই বেশি। বিশিষ্ট বাঙালি ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, ‘নব্য প্রস্তরযুগের এই দ্রাবিড় ভাষাভাষী লোকেরাই ভারতবর্ষের নগর সভ্যতার সৃষ্টিকর্তা।’২
ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুসারে সেমিটিক দ্রাবিড়রা তৌহিদবাদী ধর্মমতের উত্তর-পুরুষ। এই দ্রাবিড়রা কারা এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক গোলাম হোসেন সলিম তার বিখ্যাত রিয়াজুস সালাতিন গ্রন্থে বলেন দ্রাবিড়রা মূলত নূহ (আ)-এর বংশধর। মহাপ্লাবণের পর নুহ (আ) তিন ছেলে ছিলেন, হাম, সাম ও ইয়াফিস। নুহ (আ) বড় ছেলে হামের ছিলো ছয় ছেলে। তারা হলো, হিন্দ, সিন্দ, হাবাস, জানাস, বার্বার ও নিউবাহ।
এদের মধ্যে হিন্দের মাধ্যমে ভারতবর্ষ আবাদ হয়েছিলো। হিন্দের সন্তানরা এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলো বলেই এ ভূখণ্ড ‘হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত। আল্লাহর নবী নূহ (আ) ছেলে ও নাতিদের সকলেই ছিলেন ঈমানদার ও ধর্মপ্রচারক। তাঁরা ছিলেন তাওহিদবাদের পূর্ণ বিশ্বাসী। হামের বড় ছেলে হিন্দের ছিলো চার ছেলে। তারা হলেন পূরব, বঙ্গ, দাখিন ও নাহরাওয়াল।
বড় ছেলে পূরবের মোট বিয়াল্লিশজন ছেলে ছিলো। তারা ভারতবর্ষ ও এর আশপাশে বসতি স্থাপন করে এবং অল্পকালের মধ্যেই তাদের বংশবিস্তার হয়। তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দের উল্লিখিত দ্বিতীয় ছেলে বঙ্গ ভারত উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর বংশধরের আবাসস্থলই তাঁর নামে অর্থাৎ ‘বঙ্গ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।৩
বহিরাগত আর্যরা ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বে সিন্ধুসভ্যতার যে সব উন্নত নগরসমূহ ধ্বংস করেছিল সেসব নগরের নির্মাতা ছিল দ্রাবিড়গণ। তবে নগর জীবনের পাশাপাশি দ্রাবিড়রা বাংলায় কৃষি কাজও করত। প্রাচীন বাংলায় দ্রাবিড়রা ধান চাষ করত। ধান ছাড়াও দ্রাবিড়রা গম ও যব এর আবাদও করত। দ্রাবিড়রা অন্যান্য প্রাচীন জনগোষ্ঠীদের মতো মাছ শিকার করে খেত। মাছ ধরা ছাড়াও তারা নদীতে কিংবা সমুদ্রের ধারে মুক্তা ও প্রবাল আহরণ করত। সংস্কৃত ভাষায় মুক্তা, নীর (পানি), মীন (মাছ) এসব শব্দের মূলে রয়েছে দ্রাবিড় শব্দ।
এ উপমহাদেশে দ্রাবিড়দের আগমন ঘটেছে প্রাগৈতিহাসিক যুগে। তারা এসেছে সেমিটিকদের আদি বাসভূমি পশ্চিম এশিয়া থেকে। ব্যাবিলন বা মেসোপটেমিয়া দ্রাবিড়দের উৎপত্তিস্থল। এই সেমিটিকরাই পৃথিবীতে প্রথম সভ্যতার আলো ছড়িয়েছে। তারাই ইয়েমেন ও ব্যাবিলনকে সভ্যতার আদি বিকাশভূমিরূপে নির্মাণ করেছে। পৃথিবীতে প্রথম লিপি বা বর্ণমালা উদ্ভাবন দ্রাবিড় জাতিরই অবদান। সুপ্রাচীন এক গর্বিত সভ্যতার অধিকারী এই দ্রাবিড় জাতির লোকেরা ভারতবর্ষে আর্য আগমনের হাজার হাজার বছর আগে মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা সভ্যতা নির্মাণ করেছিল। অনুরূপ সভ্যতার পত্তন হয়তো তারা বাংলাদেশেও করেছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে সেগুলোর চিহ্ন এখন নেই।৪
এ প্রসঙ্গে আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন, তারা মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পার মতো সুন্দর নগরী পাক-বাংলায় নিশ্চয়ই নির্মাণ করিয়াছিলেন। অবশ্য স্থানীয় নির্মাণ উপকরণের পার্থক্যহেতু স্থপতিতেও নিশ্চয় পার্থক্য ছিল। কিন্তু আজ সে সবের কোনো চিহ্ন নেই। প্রাকৃতিক কারণে পাকবাংলায় চিরস্থায়ী প্রাসাদ-দুর্গ-অট্টালিকা নির্মাণের উপযোগী মাল-মশলা যেমন দুষ্প্রাপ্য, নির্মিত দালানকোঠা ইমারত রক্ষা করাও তেমনি কঠিন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এরা নিশ্চিত শিকার। ময়নামতি, মহাস্থানগড়ের ভগ্নাবশেষ দেখিয়া পাকবাংলার সভ্যতার প্রাচীনত্ব ও স্থপতির চমৎকারিত্ব আন্দায করা যায় মাত্র, বিচার করা যায় না।’৫
উন্নততর সংস্কৃতির ধারক দ্রাবিড়রা আর্যদের শিরক ও ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্ম, তাদের ধর্মগ্রন্থ, তাদের ব্রাহ্মণদের পবিত্র ও নরশ্রেষ্ঠ হওয়ার ধারণাকে কখনো মেনে নেয়নি। রাজশক্তির প্রচণ্ড দাপট, নজিরবিহীন জুলুম-সন্ত্রাস চালিয়েও এ এলাকার সাধারণ মানুষকে বৈদিক আর্য-সংস্কৃতির বশীভূত করা যায়নি। অথচ বিশ্বাস, শিক্ষা, সৎকর্মশীলতা ও অহিংসার বাণীবাহী জৈন ধর্ম এ এলাকায় প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথেই এখানকার মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। গৌতম বুদ্ধের অহিংসার বাণীও তারা গ্রহণ করেছে। জৈন ও বৌদ্ধ প্রচারকদের আহ্বানে এখানকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে। সবার শেষে ইসলামেই এই জাতিগোষ্ঠী তাদের সর্বশেষ গন্তব্য বলে নির্ধারণ করেছে।
তবে দ্রাবিড়দের সবচে বড় অবদান হল বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে। বাংলা ব্যাকরণ অনেক নিয়ম দ্রাবিড় ভাষাতত্ত্বের ওপর গড়ে উঠেছে। তা ছাড়া দ্রাবিড় ভাষার প্রচুর শব্দ বাংলা শব্দ ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। একটা সময় ছিল যখন- ভারতীয় উপমহাদেশে দ্রাবিড়ভাষাই ছিল সর্বসাধারণের ভাষা। এ কারণেই প্রাচীন বাংলার অধিবাসীদের ভাষায় দ্রাবিড় ভাষার প্রভাব পড়াই ছিল স্বাভাবিক। দ্রাবিড় ভাষা থেকে এসেছে বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ হলো: অণু, অরণি, অগুরু, অনল, কাল (সময়), কলা, পুষ্প, মুকুল, মল্লিকা, পূজা, গণ, কোণ, নীল, পণ্ডিত, শব, অর্ক, অলস, ফল, বীজ, উলু, রাত্রি, অটবী, আড়ম্বর, তন্ডুল, খড়গ, কুণ্ড, চন্দন, দণ্ড, খাল, বিল, ময়ূর, কাক, কাজল, কোদাল, কেয়া, বালা, পল্লী, বেল, তাল, চিকণ, চুম্বন, কুটির, খাট, ঘুণ, কুটুম্ব… ইত্যাদি। ভাষাই তো একটি জাতির আসল পরিচয়। সেই অনুসারে বলা যায় দ্রাবিড়রাই বাঙালি জাতির পূর্বসূরি।
আর্যরা এসে বঙ্গ বা বাংলাকে দমিয়ে রেখেছে। বঙ্গের শৌর্য ও সভ্যতা আর্য তথা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হাতে ধ্বংস হওয়ার পর বহুদিন বাংলা অবনত ছিলো। এরপর এই অঞ্চলে নতুন দাওয়াত নিয়ে আসেন গৌতম বুদ্ধ। দ্রাবিড়রা বেশির ভাগ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হয়ে যান। এই অঞ্চলে বৌদ্ধ শাসন শুরু হয়। বঙ্গের নাম দিন দিন আরো মলিন হতে থাকে।
এরপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের মানুষ মুশরিক হতে শুরু করে। নানান দেব-দেবীর পূজা শুরু করে দেয়। ব্রাহ্মণ্যবাদী ও বৌদ্ধদের আচার আচরণের মিশেলে হিন্দু ধর্মের উদ্ভব হয়। এরা আর্যদের ধর্মীয় সাহিত্য ‘বেদ’-কেই ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে সম্মান করে। যদিও তারা বেদ পড়তে পারতো না বা অনুমতি ছিলো না। এ অঞ্চলের মানুষ মুশরিক হয়ে যাওয়ার কারণ এটাও যে আর্যরা আবার বৌদ্ধদের পরাজিত করে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে।
এরপর আবার মুসলিমরা এদেশে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসে। দ্রাবিড়দের উত্তরসূরি শূদ্ররা দলে দলে মানবতার ধর্ম ইসলামে দাখিল হতে থাকে। এরপর বখতিয়ার খিলজির মাধ্যমে হিন্দু/আর্য রাজবংশের পতন হয়।
বঙ্গের বেশির ভাগ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। এই অঞ্চলে মুসলিমদের সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলার স্বাধীন মুসলিম সুলতান হাজী শামসউদ্দীন ইলিয়াস শাহ (শাসন ১৩৩৯-৫৮ সালে) আবার দ্রাবিড়দের সেই বঙ্গকে তুলে নিয়ে আসেন।
প্রথমবারের মতো গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের নিম্ন অববাহিকার ব্যাপকতর এলাকাকে বাঙ্গালাহ নাম অভিহিত করেন। লখনৌতি ও বাঙ্গালাহকে তিনিই স্বাধীন সুলতানি শাসনের অধীনে ঐক্যবদ্ধ করেন। সমগ্র বাংলাভাষী অঞ্চল তার আমলেই প্রথম বাঙ্গালাহ নামে পরিচিত হয় এবং তিনি প্রথমবারের মতো শাহ-ই-বাঙ্গালাহ নাম ধারণ করে নিজেকে বৃহৎ বাংলার জাতীয় শাসকরূপে ঘোষণা করেন। এর ফলে এখানে রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত ঐক্যের সূচনা হয়। বাংলা আবার পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।
ডক্টর নীহাররঞ্জন রায় ও প্রসঙ্গে লিখেছেন, “যে বঙ্গ ছিল আর্য সভ্যতার ও সংস্কৃতির দিক থেকে ঘৃণিত ও অবজ্ঞাত, যা ছিল পাল ও সেনদের আমলে কম গৌরবের ও (কম) আদরের- সেই বঙ্গ নামেই শেষ পর্যন্ত তথাকথিত পাঠান আমলে বাংলার সমস্ত জনপদ ঐক্যবদ্ধ হলো।”৬

তথ্যসূত্র :
১. প্রাচীন বাংলার জনপদ ও জনজাতিগোষ্ঠী / কাবেদুল ইসলাম / মাওলা প্রকাশন / পৃ. ২৫
২. বাঙালির ইতিহাস / আদিপর্ব / নীহাররঞ্জন রায় / পৃ. ৭৫
৩. Riyazu-s-salatin; a history of Bengal / Ghulam Husain Salim / Translated by Maulavi Abdus Salam / P. 19
৪. আমাদের জাতিসত্তার বিকাশধারা / মোহাম্মদ আবদুল মান্নান / পৃ. ২৩
৫. আমাদের কৃষ্টিক পটভূমি / আবুল মনসুর আহমদ / পূর্বদেশ / ঈদ সংখ্যা-১৯৬৯
৬. বাঙালির ইতিহাস / আদিপর্ব / নীহাররঞ্জন রায় / পৃ. ২২

লেখক : কলামিস্ট ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply