পড়িলে বই আলোকিত হই -এস. এম রুহুল আমীন

মানবেতিহাসে বইয়ের ইতিহাস খুব দীর্ঘ দিনের না হলেও একদম কম নয়। কত আর হবে? আজ থেকে ৫০০-৬০০ বছর (১৪০০-১৪৫০) আগের হবে, জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ নামক এক ভদ্রলোক উদ্ভাবন করলেন স্থানান্তরযোগ্য টাইপ বা অক্ষর আর তখন থেকেই শুরু হলো বইয়ের অস্তিত্ব। বিশ্বসভ্যতা উপহার হিসেবে পেলো জ্ঞানের উৎস আর আলোর মশাল বই। নতুন সভ্যতার যাত্রা হলো শুরু।

যদি ঠাণ্ডা মাথায় প্রশ্ন করা হয়। আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু কে? আপনার প্রকৃত বা আসল বন্ধু কে? আপনার হতাশার মধ্যে আশার আলোর প্রদীপ জ্বালে কে? আপনাকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে কে? আমাদের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে কে? বিশ্ববরেণ্যদের সাথে আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয় কে? এই পৃথিবীতে আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধু কে? আপনার সাথে কোন দিন ঝগড়া হয় না আপনার এমন পরিচিত বন্ধু কে? দুঃখ দুর্দশা ও নিঃসঙ্গতায় কে সবচেয়ে বেশি আপনাকে সঙ্গ দেয়? আমরা কার কাছে চিরঋণী? আমাদের মনের পিপাসা মিটায় কে? কে সবচেয়ে বেশি আমাদের আনন্দ দেয়? কে নিঃস্বার্থভাবে আমাদের পথ দেখায়? আমাদের বড় হওয়ার মাধ্যম কোনটি? ধনী হওয়ার সূত্র কোনটি? যারা মানুষ তারা কি পড়ে? সভ্যতার উৎস কোনটি? অনন্ত যৌবনা কে? কে শুধু দিতে জানে কিন্তু নিতে জানে না? দুঃখময় জীবনে আমাদের প্রশান্তি দেয় কে? আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে কে? এতো সব জটিল প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো ‘বই’।

এই জগতে যে যত বেশি আলোকিত হয়েছে। বড় হয়েছে জ্ঞানে কিংবা গুণে। আলোকিত করেছেন বিশ্বকে। নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্বসহ জ্ঞানের জগতে। হয়েছেন অগণন মানুষের আইডল। পথ দেখিয়েছেন অসংখ্য মানুষকে। সবাই কিন্তু বই পড়েছেন। বই পড়তে উৎসাহিত করেছেন। বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন অত্যন্ত চমৎকারভাবে।
সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাষায়, ‘বই পড়াকে যে যথার্থ হিসেবে নিতে পারে, সংসারের দুঃখ কষ্টের বোঝা তার অনেকখানি কমে যায়।’ বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে, ‘সংসারের জ্বালা যন্ত্রণা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে মনের মধ্যে আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেয়া এবং বিপদকালে তার মধ্যে ডুব দেয়া। যে যত বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, ভবযন্ত্রণা এড়াবার ক্ষমতা তার ততই বেশি।’ বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের ভাষায়, ‘মানুষ বই দিয়ে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সাঁকো বেঁধে দিয়েছে।’ পারস্যের কবি ওমর খৈয়াম জান্নাতের উপকরণের মধ্যে বইকেও স্থান দিয়েছেন। কবির ভাষায় ‘রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলা হয়ে আসবে; কিন্তু একখানা বই অনন্তযৌবনা যদি তেমন বই হয়।’ বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কি বলেছেন, ‘আমার মধ্যে উত্তম যদি কিছু থাকে তার জন্য আমি বইয়ের কাছে ঋণী।’ পুলিৎজার বিজয়ী মার্কিন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক নরমান মিলার (১৯২৩-২০০৭) এর হৃদয়ের আর্তি হলো, ‘আমি চাই বই পাঠরত অবস্থায় যেনো আমার মৃত্যু হয়।’ ব্রিটিশ দার্শনিক ও আধুনিক প্রয়োগবাদের জনক ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১-১৬২৬) বলেছেন, ‘কতগুলো বইকে শুধু চাকতে হবে, কতগুলোকে গিলতে হবে এবং কিছু সংখ্যক বইকে চিবুতে ও হজম করতে হবে।’ বিখ্যাত ডাচ দার্শনিক স্পিনাজো (১৬৩২-১৬৭৭) বলেছেন, ‘ভালো খাদ্য বস্তুতে পেট ভরে, কিন্তু ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে।’ তাহলে আমরা উল্টো করে বলতে পারি ‘খারাপ খাবার বদহজম, আমাশয়, ডায়েরিয়া, কলেরা আর খারাপ বইয়ে মন বা আত্মার পচন হয়।’ সুতরাং সময় থাকতেই সাধু সাবধান!

ভিনসেন্ট স্টারেট (১৫৮১-১৬৬০) বলেছেন, When we buy a book, we buy pleasure, বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ও বিশ্বসাহিত্যের গ্র্যান্ডমাস্টার লিও টলস্টয় (১৮২৮-১৯১০) বলেছেন, Three things are essential for life & these books books and books. এ মনীষী তার বর্ণাঢ্য জীবনে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য লিখেছেন ৩২৭টি বই যা এখনো আপন মহিমায় আলোকিত করছেন বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে। মনীষী কার্লাইল (১৭৯৫-১৮৮১) তাঁর ‘On the choice of books’ প্রবন্ধের এক জায়গায় বলেছেন, The true University of our day’s is the Co-ordination of book. মাত্র ৫০ বছরেই বিশ্বকাঁপানো বীর যোদ্ধা নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (১৭৬৯-১৮২১) যুদ্ধক্ষেত্রেও তিনি রীতিমতো লাইব্রেরিসহ যেতেন। তার শয়নকক্ষের পাশেই থাকতো প্রায় ১৩০০০ বই সংবলিত লাইব্রেরি। মজার বিষয় হলো এ মহান বীরযোদ্ধা বলেছেন, ‘অন্তত ষাট হাজার বই সাথে না থাকলে জীবনটাই অচল।’ মারকুস টুলিয়াস (১৮৬৪-১৯২১) বলেছেন, ‘A room without books is like a body without soul. জেমস রাসেল বলেছেন, ‘বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকদের জন্য নিয়ে আসে।’ ফ্রন্স কাফকা (১৮৮৩-১৯২৪) বলেছেন, ‘আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাঁধা সমুদ্র, সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই।’ গ্যাটে (১৭৪৯-১৮৩২) বলেছেন, ‘কতগুলো বই সৃষ্টি হয় আমাদের শিক্ষা দেয়ার জন্য; বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের এই কথা জানানো যে, বইগুলোর ¯্রষ্টারা কিছু জানতেন।’ ভলতেয়ার (১৬৯৪-১৭৭৮) বলেছেন একটি মজার কথা, ‘সে দেশ কখনো নিজেকে সভ্য বলে দাবি করতে পারবে না যতদিন না সে দেশের বেশির ভাগ অর্থ চুইংগামের পরিবর্তে বই কেনার জন্য ব্যয় হবে।’ লিমনি সানকেট বলেছেন, ‘Never trust anyone who has not brought a book with them. জোসেফ ব্রডস্কি (Joseph Brodsky) বলেছেন, ‘There are worse Crimes than burring books, One of them is not reading them. অর্থাৎ বই পোড়ানোর চেয়েও গুরুতর অপরাধ অনেক আছে, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো বই না পড়া। মার্ক টোয়েইন (Mark Twain) বলেছেন, The Man who does not read has no advantage over the man who cannot read.

সিডনি স্মিথ বলেছেন, ‘ঘরের কোনো আসবাবপত্র বইয়ের মতো সুন্দর নয়।’ প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, ‘বই কিনে কেউ কোনো দিন দেউলিয়া হয় না।’ টুপার বলেছেন, ‘একটি ভালো বই হলো বর্তমান ও চিরকালের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বন্ধু।’ সাহিত্য জগতের নক্ষত্র সুইফট বলেছেন, ‘বই হচ্ছে মস্তিষ্কের সন্তান।’ এনড্রিউ ল্যাভ বলেছেন, ‘আইনের মৃত্যু আছে, কিন্তু বইয়ের মৃত্যু নেই।’ দেকার্তে বলেছেন, ‘ভালো বই পড়া যেনো গত শতকের মহৎলোকের সাথে আলাপ করার মতো।’ অস্কার ওয়াইল্ড বলেছেন, ‘একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশেই বুঝা যায়।’ ভাষাতত্ত্ববিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, ‘জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন, বই, বই এবং বই।’

ভিক্টর হুগো বলেছেন, ‘বই বিশ্বাসের অঙ্গ, বই মানব সমাজকে টিকাইয়া রাখিবার জন্য জ্ঞান দান করে। অতএব বই হইতেছে সভ্যতার রক্ষাকবচ।’ প্রতিভা বসু বলেছেন, ‘বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ আত্মীয়, যার সঙ্গে কোনোদিন ঝগড়া হয় না, হয় না কোনোদিন মনোমালিন্যও।’ পিয়ারসন স্মিথ বলেছেন, ‘যে বই পড়ে না, তার মধ্যে মর্যাদাবোধ জন্মে না।’ আল্লামা শেখ সাদী বলেন, ‘জ্ঞানের জন্য তুমি মোমের মতো গলে যাও, কারণ জ্ঞান ছাড়া তুমি আল্লাহকে চিনতে পারবে না।’ জন মেকলের মতে, ‘প্রচুর বই নিয়ে গরিব হয়ে চিলেকোঠায় বসবাস করবো, তবুও এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালোবাসে না।’

বিশ^মানবতার মুক্তিদূত ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হযরত মুহাম্মাদ সা. বলেছেন, ‘জ্ঞান হচ্ছে তোমাদের হারানো সম্পদ, সুতরাং যেখানে পাও কুড়িয়ে নাও।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘বনি আদম কিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত এক কদমও নড়তে পারবে না, তার মধ্যে একটি হলো, তুমি কতটুকু জেনেছো বা জ্ঞানার্জন করেছো আর সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছো বা মেনেছো।’ এ ছাড়াও তিনি বিদায়হজের ভাষণে বলেছেন, তোমাদের জন্য দু’টি কিতাব রেখে যাচ্ছি একটি হলো কিতাবুল্লাহ বা আল্লাহর কিতাব কুরআন আর অপরটি হলো আমার সুন্নাহ বা আমার আদর্শ বা হাদিস। এ দিয়ে আমাদের আর বুঝতে বাকি থাকে না যে, জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর জ্ঞানার্জনের মাধ্যম বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা এবং অপরিহার্যতা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট।

আমরা এও জানি যে, মহানবীর প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত প্রথম ওহি ‘ইকরা’ মানে পড়ো। কুরআনুল কারিমের অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘বলুন হে নবী! যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান? (সূরা যুমার : ৯)। মহান আল্লাহ তায়ালা খলিফাতুল্লাহ ও আশরাফুল মাখলুকাতের মর্যাদা দিয়ে হযরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করেছেন, তার কারণও হচ্ছে তাকে সৃষ্টির পরপরই সমস্ত বস্তুর নাম শিখিয়েছেন অর্থাৎ জ্ঞানই হচ্ছে শ্রেষ্ঠতার অন্যতম কারণ।

আসুন জেনে নিই, কে কিভাবে পড়েছেন?
বইপাঠকদের জীবনে কে কেমন করে কি বই পড়েছেন? আর বই পড়তে গিয়ে কে কী সমস্যায় পড়েছেন অথবা বিচিত্র সব ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। তার সামান্য কয়েকটি ঘটনা আলোকপাত করা হলো এখানে। আমরা জানি, মুসলিম বিশে^র অহঙ্কার পারস্যের কবি ওমর খৈয়াম (১০৪৪-১১২৩)। বই পড়া ছিলো তার নেশা। বইয়ের সাথে তিনি লেগেই থাকতেন সবসময়। কোনো বই হাতে পেলেই কামসারা! তা পড়ে শেষ করে ফেলতেন এক মুহূর্তেই। জ্যোতির্বিজ্ঞান, বীজগণিত ও জ্যামিতি ছিলো তার প্রিয় বিষয়। তিনি বলেছেন, ‘সূর্যের আলোতে যেরূপ পৃথিবীর সকল কিছুই ভাস্বর হয়ে ওঠে, তেমনি জ্ঞানের আলোতে জীবনের সব অন্ধকার আলোকোদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।’

বিশ^বিখ্যাত ‘মা’ গ্রন্থের রচয়িতা ম্যাক্সিম গোর্কি (১৮৬৮-১৯৩৬)। অল্প বয়সে মা হারিয়ে ইয়াতিম হয়ে পড়ে যান মহাবিপদে। চাকরি জোটে হরেক রকম, কখনো জুতার দোকানের বয়। আবার কখনো বা কয়েদি বহনকারী জাহাজের থালা বাসন ধোয়ার কাজে। নানা ঘাত আর প্রতিঘাত ও রঙবেরঙের পেশার মধ্যে বড় হতে থাকেন তিনি। জীবনযুদ্ধের সর্বাবস্থাতেই তার বই পড়া ছিলো নেশা। দরিদ্রতা তার জীবনের নিত্যসঙ্গী হলেও বই পড়া থামাতে পারেনি তাকে কখনো স্বল্প সময়ের জন্যও। যে বই পেয়েছেন যখন, কাজের ফাঁকে ফাঁকে সেই বই পড়েছেন তখন। ফলাফল যা হবার তাই হলো, তিনি হলেন বিশ^বিখ্যাত লেখকদের একজন।

বই পড়ে চমকপ্রদ শাস্তি পেয়েছেন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস (৪৬৯-৩৯৯ খ্রি:পূর্ব)। তার প্রথম স্ত্রী জ্যানাথিপি ছিলো ভীষণ রাগী স্বভাবের মহিলা। সংসার উদাসীন সক্রেটিস একদিন গভীর মনোযোগের সাথে একখানা বই পড়েছিলেন। প্রচণ্ড বিরক্তিতে স্ত্রী গালিগালাজ শুরু করলো সক্রেটিসকে। সক্রেটিস ধৈর্য ধরতে না পেরে ঘরের বাহিরে গিয়ে বই পড়া শুরু করলেন আপনমনে। স্ত্রীরও ভীষণ অসহ্য হলো বিষয়টি। সহসাই ধৈর্যহারা হয়ে এক বালতি পানি এনে ঢেলে দিলো সক্রেটিসের মাথার উপর। সক্রেটিস একটু মৃদু হেসে বললেন, ‘আমি আগেই জানতাম। যখন এতো মেঘ গর্জন হচ্ছে, তখন শেষ পর্যন্ত এক পশলা বৃষ্টি হবেই।’

বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে সেরা বিনিয়োগকারী। আমেরিকান ব্যবসায়ী ওয়ারেন বাফেট (১৯৩০–)কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিলো, সফলতার চাবিকাঠি কি? তিনি বলেছিলেন, ‘গাদা গাদা বই।’ ‘প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ পৃষ্ঠার ওপর নজর বুলাও তুমিও সফল হবে।’ এই ওয়ারেন বাফেট কয়েকবার বিশে^র এক নম্বর আর অধিকাংশ সময় দ্বিতীয় সম্পদশালী ব্যক্তি থেকেছেন নিয়মিতভাবে। প্রায় ৯০ (২০২০) বছর বয়সী এইস ওয়ারেন বাফেট এখনও প্রতিদিন ৬০০ থেকে ১০০০ পৃষ্ঠা বই পড়েন। তিনি মাত্র সাত বছর বয়সে প্রথম যে বইটি পড়েন তার নাম ছিলো, One thousand ways to make $1000’ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ মডেলের তিনিই ছিলেন উদ্ভাবক। তিনি এখনও দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পড়াশুনা করেন নিয়মিতভাবে।

বর্তমান বিশে^র এক নম্বর ধনী বিলগেটস বছরে কমপক্ষে ৫০টি বই পড়েন। তিনি সবসময় ও সদাসর্বদা বই সঙ্গী করে সাথে রাখেন। যেখানেই যান, যার সাথেই কথা বলেন। বই তার সাথে আছেই আছে। পড়াই যেনো তার প্রধান কাজ। পড়াশুনা করে তিনি নতুন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পুরনো জ্ঞান ঝালাই করেন। টিভি দেখে নয়, ঘুমের আগে বিলগেটস অবশ্যই অন্তত ১ ঘণ্টা বই পড়েন। যা তা ঘুমেরও বেশ সহায়ক। তাদের সফলতার মূল সুর ছিলো অধ্যয়ন।

মাদামকুরি (১৮৬৭-১৯৩৪) মাত্র ৬৭ বছর বেঁচেছিলেন এই দুনিয়ায়। পোল্যান্ডের ওয়ারশতে জন্ম নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও পরবর্তী জীবন কাটান ফ্রান্সে। ফ্রান্সের প্যারিস বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা অধ্যাপক ছিলেন তিনি। প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করা মহিলার গৌরবও তাঁর। বিশে^র প্রথম নোবেল বিজয়ী মহিলা এই মাদামকুরি এবং তিনিই প্রথম একমাত্র মহিলা যিনি আলাদা দু’টি বিষয়ে পদার্থ ও রসায়নে নোবেল পান। তার পরিবারের ছয় সদস্যদের মধ্যে পাঁচজনই ৬টি নোবেল পান। শুধু পায়নি তাঁর দ্বিতীয় মেয়ে, সেও অবশ্য দু’টি পদার্থের আবিষ্কর্তা। ফ্রান্সের মন্ত্রিসভা তাদের সংবর্ধনা দিতে চাইলে তারা বিনয়ের সাথে লিখলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের ধন্যবাদ’। আমরা সম্মান চাই না। মানবতার কল্যাণে গবেষণায় আমাদের দরকার শুধু একটি ভালো ল্যাবরেটরি।’

আমেরিকার ২৬তম এবং সর্বপ্রথম নোবেল পাওয়া প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজবেল্ট (১৮৫৮-১৯১৯)। মাত্র ৬১ বছর জীবিত ছিলেন। তিনি ব্রেকফাস্টের আগেই একটি বই পড়া শেষ করতেন। সারা দিনের রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ২-৩টি বই পড়তেন। মাত্র ৪২ বছর বয়সে আমেরিকার সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি ছিলেন নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার। তার নিজের ধারণা, সমগ্র জীবনে তিনি প্রায় ১০ হাজার বই পড়েছেন। তিনি জীবনে লিখেছেন ৪০টি বই, ১০০টি আর্টিকেল ও ১৫০০০০টি চিঠি। তিনি প্রত্যেক দিন কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা পড়তেন, ট্রেন বা বাস স্টেশনে এমনকি মিটিংয়ের মাঝেও তিনি বই পড়তেন। ইংরেজ কবি শেকসপিয়রও লিখেছেন ২৯৩টি বই। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বই পড়ার প্রতি এতো মনোযোগী ছিলেন যে, লাইব্রেরির কক্ষে কর্মচারীরা তার উপস্থিতি পর্যন্ত টের পেতেন না। তাই তিনি অনেক দিন লাইব্রেরির কক্ষে তালাবন্দি হয়ে থাকতেন।

ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী রা. (৫৯৮-৬৬১) এর ব্যক্তিগত হাদিস সঙ্কলন ‘সহিফা’, সংরক্ষিত রাখতেন তাঁর যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত তলোয়ারের খাপের ভেতর। ক্যাডম্যান (১৮৮১-১৯৪৬) বারো বছর বয়স থেকে আহারের সময়ও পড়া চালিয়ে যেতেন নিয়মিতভাবে। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর (১৮৯২-১৯৬৩) কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ থাকায় টয়লেটে খুব বেশি সময় লাগতো। তাই কমোডে বসেই প্রতিদিনের পত্রিকাগুলো পড়ে শেষ করতেন তিনি।
বিশিষ্ট লেখক সরদার জয়েন উদ্দীন এক অভিনব পদ্ধতিতে বই পড়ার প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। আর তা হলো তিনি একদিন, ‘একটি গরুর গায়ে কাগজ সেঁটে তাতে লিখে রেখেছিলেন, ‘আমি বই পড়ি না।’ অর্থাৎ যারা গরু বা গরু জাতীয় প্রাণী তারা কখনো বই পড়ে না। যারা মানুষ তারা অবশ্যই বই পড়ে এবং পড়বে। তিনি গরুর গায়ে এমন নীরব প্রতিবাদস্বরূপ কথা লিখে বোধ হয় এমনটিই বুঝাতে চেয়েছিলেন। আমরা যারা পড়বো না তারা আসলে গরুর মতোই পশু। পবিত্র কুরআনুল কারিমেও একথার সমর্থন পাওয়া যায়।
কেন বই পড়বেন?

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মানতে। অজানাকে জানতে। জীবনে বড় হতে। ভালো মানুষ হতে। জ্ঞানের প্রদীপ জ¦ালাতে। জাতিকে শিক্ষিত ও সুশীল বানাতে। জাতির বীরপুরুষদের জানতে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবা করতে। আদর্শের বিপ্লব ঘটাতে। ভালো ছাত্র হতে। ভালো শিক্ষক হতে। ভালো লেখক হতে। জীবনটাকে ভালোভাবে নিজ ও সমাজকে সুশীল করে গড়তে। পেশায় সফলতা অর্জন করতে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে। জ্ঞানী হতে। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে। আদর্শ মানুষ হতে। ইতিহাসের পাতায় নাম লিখাতে। কারণ যে বই পড়ে না সে বন্য। আর যে জাতি বই পড়ে না তারা অশিক্ষিত বা মূর্খ। মহান আল্লাহর নির্দেশ জানা ও মানার মাধ্যমে তাঁর সন্তোষ অর্জনের জন্য।

একজন রাজ পড়ুয়ার গল্প
ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম একজন শ্রেষ্ঠ আলিম। দেওবন্দ মাদ্রাসার এক সময়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা আনওয়ারশাহ কাশ্মিরি (রহ.)। তিনি একদা মিসরের আল আযহার বিশ^বিদ্যালয়ে গেলেন। উদ্দেশ্য একটি নতুন বইয়ের নাম শুনেছেন সেটি কপি করে আনবেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন অনেক নতুন নতুন বই। পড়া শুরু করলেন আপন মনে। পড়তে পড়তে সফরের মেয়াদ শেষ। ফিরে এলেন নিজ দেশে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা তো উন্মুখ বইটি দেখতে। কিন্তু মাওলানা তো একবারেই নীরব। কৌতূহলী শিক্ষকরা অবশেষে জিজ্ঞেস করলেন। হুজুর! সেই গ্রন্থটি কই? যেটি আপনি কপি করতে গিয়েছিলেন? তিনি বললেন, দেখো! সেখানে অনেক নতুন নতুন বইয়ের সাথে এটিও আমি পড়ে এসেছি। সময় শেষ হয়ে গেলো আর কপি করা হয়নি। তবে কাগজ কলম দাও। আমি লিখে দিচ্ছি। অতঃপর তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে গ্রন্থটি লিখে দিলেন। মাদ্রাসা থেকে একটি কপি আল আযহারে পাঠিয়ে দেয়া হলো। কপিটা যথাযথ হয়েছে কি না তা মিলিয়ে দেখার জন্য। কিছুদিন পর সেখান থেকে জবাব এলো, অত্যন্ত নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে অক্ষরে অক্ষরে যথাযথভাবে কপি করা হয়েছে। সুবহান আল্লাহ! কোনো রকমের হেরফের ছাড়া। আপনারা দেখলেন তো, এই হলো আমাদের অতীত মনীষীদের বই পড়ার অবস্থা। তারা কোনো নতুন বই পেলে তা পড়ে শেষ করার আগে দুনিয়ার সবকিছু ভুলে যেতেন। ভুলে যেতেন নিজের আহার নিদ্্রার কথাও। আবার পড়াও এমনভাবে পড়তেন যে, অক্ষরে অক্ষরে গ্রন্থটিকে হজম করে নিতেন, সুস্বাদু ও আদর্শ খাদ্যের মতো। তাই এদেরকেই মূলত বলা হয় রাজ পড়–য়া।

পড়তে হবে সেরা পড়–য়ার ‘মাস্টার কি’
বই পড়ার ক্ষেত্রে মাওলানা মওদূদী রহ.-এর জুড়ি নেই। একালের শ্রেষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবিদ তিনি। অসাধারণ মেধা আর বই পড়ার অকল্পনীয় নেশা তাকে বানিয়েছে মহামানব। তিনি বই পড়ে সমুদ্রসম জ্ঞানার্জন করেছেন। লিখেছেনও অসংখ্য বই। আর বইগুলোতে ইসলামী জীবনব্যবস্থার সকল দিক ও বিভাগের শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন অত্যন্ত চমকপ্রদ ও চমৎকারভাবে সুনিপুণ শিল্পীর মতো করে। তার রচিত তাফসিরগ্রন্থ তাফহীমুল কুরআন বিশ^াবখ্যাত তাফসীর গ্রন্থের অন্যতম। আর তিনি আবিষ্কার করেছেন এক মহাসত্য। আসলে কি সেই মহাসত্য? তাঁর নিজের ভাষাতেই শুনুন সেই মহাসত্য। ‘সত্যে উপনীত হবার আগে কতো না বই আমি পড়েছি। প্রাচীন ও আধুনিক দর্শন, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে আলমারিকে আলমারি উজাড় করেছি। কিন্তু যখন চোখ খুলে কুরআন পড়লাম, আল্লাহর কসম, তখন মনে হলো, আগের সমস্ত পড়াই ছিলো নিষ্ফল ও ব্যর্থ প্রয়াস। জ্ঞানের মূলসূত্র এখন আমার হাতের মুঠোয়। ক্যান্ট, হেগেল, নেটসে, মার্কসসহ বিশে^র সমস্ত বড় বড় চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের এখন আমার কাছে শিশু মনে হয়। বেচারাদের জন্য বড়ই আফসোস, সারা জীবন তারা যেসব সমস্যা সমাধানের জন্য অকল্পনীয় সাধনা গবেষণা করে বড় বড় গ্রন্থাবলি রচনা করে সেগুলোর সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, এই মহাগ্রন্থ একেকটি, দু’ দু’টি বাক্যে সেগুলোর সহজ সমাধান পেশ করে রেখে দিয়েছেন। এই আল কুরআনই আমার প্রকৃত সহায় শুভার্থী মহাগ্রন্থ। এ গ্রন্থ আমাকে একবারে বদলে ফেলেছে। পশু থেকে মানুষ বানিয়ে দিয়েছে। অন্ধকার থেকে বের করে উজ্জ্বল আলোতে এনে দিয়েছে। এ গ্রন্থ এমন এক প্রদীপ আমার হাতে তুলে দিয়েছে, এখন আমি জীবনের যে বিষয়ের দিকেই তাকাই তার বাস্তবরূপ নিরাবরণ হয়ে ভেসে ওঠে। যে চাবি দিয়ে প্রতিটি তালা খোলা যায়, ইংরেজিতে তাকে বলা হয় ‘Master key’ আল কুরআন আমার ‘মাস্টার কি’। জীবন সমস্যার যে তালাতেই তা লাগাই, চট করে খুলে যায়। যে দয়াময় আল্লাহ দান করেছেন এ কিতাব, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা আমার নাই।’
এবার দেখলেন তো কি বই পড়তে হয়? কিভাবে পড়তে হয়? বইয়ের রাজ্যে তিনি ডুবে গিয়েছিলেন। মধু মাছির মতো প্রতিটি ফুলে ফুলে তিনি বসেছেন। মধু খুঁজেছেন। অবশেষে খুঁজে পেয়েছেন রাজ ফুলের সন্ধান, যে ফুলের মধু মৃত্যুঞ্জয়ী ‘শারাবান তহুরা’। আল কুরআনই সেই মৃত্যুঞ্জয়ী সুধা। বিশ্বজাহানের মালিক মহান আল্লাহর বাণী এ মহাগ্রন্থ। আসুন এটিকেই আমরা প্রধান পাঠ্য বানাই। তার পর অন্যগুলো।

কী কী বই পড়বেন?

তারপরও কথা থেকে যায় আমরা এতো বইয়ের ভিড়ের ভেতরে কী কী বই পড়তে পারি। তাহলে আসুন আমরা এক নজরে দেখি কী কী বই পড়তে পারি কিংবা মৌলিকভাবে কী কী বই পড়া যায়।
আল কুরআন পড়–ন : আল কুরআন কেনো পড়বেন। সে সম্পর্কে আল কুরআনের কথা শুনুন। ‘এ কুরআন এমন পথ দেখায় যা সবচেয়ে সরল সঠিক, সুষম ও স্থায়ী। যেসব মুমিন এর ভিত্তিতে আমলে সালেহ বা সঠিক কাজ করে, এ কুরআন তাদেরকে বিরাট প্রতিদানের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৯) ‘এ কুরআন আল্লাহ ছাড়া কারো পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয় বরং এটি এর পূর্বে যেসব কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর সত্যায়নকারী এবং বিধানসমূহের বিশদ বিবরণ। এটি সন্দেহাতীত, সমগ্র বিশে^র অধিকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (সূরা ইউনুস : ৩৭) ‘আলিফ-লাম-মিম। এটা একমাত্র সেই কিতাব যা সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সন্দেহাতীত, আল্লাহভীরু বা মুত্তাকি লোকদের জন্য জীবনযাপন পদ্ধতি বা হিদায়াত গ্রন্থ বা পথনির্দেশনা। (সূরা বাকারাহ : ১-২) ‘রমজান মাস। এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে আল কুরআন। মানুষদের জন্য জীবনযাপনের ব্যবস্থা হিসেবে হিদায়াতগ্রন্থ বা পথনির্দেশনা এবং সত্য মিথ্যা ন্যায় অন্যায় ভালো মন্দ, সঠিক-বেঠিক ও সত্যাসত্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী। (সূরা বাকারাহ : ৮৫)

এ কুরআনকে ভালোভাবে জানতে, বুঝতে ও মানতে হলে পড়তে হবে। বিভিন্ন লেখকের বাংলা এবং ইংরেজি অনুবাদ বিশেষ করে তাফহীমুল কুরআন, ফি জিলালিল কুরআন, মারেফুল কুরআন, তাফসীরে সাঈদী, তাদাব্বুরে কুরআন, “The Holy Qur’an, The message of the Qur’an, The Noble Qur’an, The Qur’an. ইত্যাদি।
আল হাদিস পড়ুন : আল হাদিস হচ্ছে ইসলামী জ্ঞানের দ্বিতীয় উৎস এবং হাদিস থেকে জ্ঞানার্জন না হলে কোনো রকমই পরিপূর্ণ জ্ঞানার্জন সম্ভব নয়। নি¤েœাক্ত হাদিস থেকে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়। ‘তোমাদের মাঝে সে ব্যক্তি উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অপরকে শিখায়।’ বুখারি শরিফ। ‘তোমরা কুরআন পড়ো, কুরআনের সাথী হও, কিয়ামতের দিন কুরআন তার সাথীদের পক্ষে সুপারিশকারী হয়ে আসবে। মুসলিম শরীফ। ‘সকল বাণীর ওপর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক সে রকম, যেমন সকল সৃষ্টির ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব।’ তিরমিজি শরিফ। ‘কুরআন আল্লাহর মজবুত রশি, বিজ্ঞানসম্মত উপদেশ এবং সরল সঠিক পথ।’ তিরমিজি শরিফ। হাদিস পড়তে হবে সিহাহ সিত্তার গ্রন্থসমূহ বিশেষ করে বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফ, রিয়াদুস সালেহীন, আল আদাবুল মুফরাদ প্রভৃতি।
মাসয়ালা মাসায়েলের জন্য পড়–ন: আসান ফিকাহ, রাসায়েল মাসায়েল, ইসলামে হালাল হারামের বিধান, আদাবে জিন্দেগি, ফিকহুস সুন্নাহ, মহিলা ফিকাহ।
সিরাতগ্রন্থ পড়–ন: সিরাতে সরওয়ারে আলম, মানবতার বন্ধু মুহাম্মাদ সা., আসহাবে রাসূলের জীবনকথা, আর রাহিকুল মাখতুম, সিরাত ইবনে হিসাম, রাসূলুল্লাহর মক্কার জীবন, রাসূলুল্লাহর মদিনার জীবন, সিরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালিন, তারিখুল ইসলাম ইত্যাদি।

কবিতার বই পড়–ন : কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সমগ্র, কবি ফররুখ আহমাদের কবিতা সমগ্র, রবীন্দ্রনাথের কবিতা সমগ্র, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কবিতা সমগ্র, কবি গোলাম মোস্তফার কবিতা সমগ্র, কবি আল মাহমুদের কবিতা সমগ্র, কবি মোশাররফ হোসেন খান ও কবি মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতা সমগ্র।
উপন্যাস ও গল্প পড়–ন: নসীম হিজাযী, শফীউদ্দীন সরদার, আল মাহমুদ, মোশাররফ হোসেন খানের উপন্যাসসমূহ।
জীবনী পড়–ন : মাওলানা মওদূদীকে যেমন দেখেছি। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, জীবনে যা দেখলাম এ ছাড়াও আপনি যা হতে চান সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী। যেমন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের জীবনী।
সিরিয়াল পড়–ন : আবুল আসাদের সাইমুম সিরিজ।

ছোটদের পত্রিকা পড়–ন : নতুন কিশোরকণ্ঠ, কিশোর পাতা। এছাড়াও পড়–ন : ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা, ইসলাম পরিচিতি, রাসূলুল্লাহর নামাজ, কিশোর মনে ভাবনা জাগে, মজবুত ঈমান, মনটাকে কাজ দিন, আল্লাহর দরবারে ধরনা, কবিরা গুনাহ, খেলাফত ও রাজতন্ত্র, সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং, ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পর্দা ও ইসলাম, রাসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা, শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতি, বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস, সাফল্যের চাবিকাঠি, ডেল কার্নেগির অমনিবাস, চাই প্রিয় ব্যক্তিত্ব চাই প্রিয় নেতৃত্ব, কারাগারে রাতদিন, মৃত্যুর দুয়ারে মানবতা, ইসলামী বিশ^কোষ। ক্যারিয়ার গঠন ও দক্ষতা উন্নয়ন, আদর্শ মুসলিম নারী, ইসলামী শিক্ষা সিরিজ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইসমূহ, আল কুরআনের শৈল্পিক সৌন্দর্য, এহইয়াউ উলুমিদ্দীন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পত্রিকা অগ্রপথিক, ছাত্র সংবাদ, প্রেরণা, ঢাকা সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রকাশিত বার্ষিকী ‘সাহিত্য সংস্কৃতি’ সাহিত্য ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘প্রেক্ষণ’ ইত্যাদি। The Hundred, বাংলা একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আধুনিক প্রকাশনী, বুক কো-অপারেটিভ সোসাইটি, শতাব্দী প্রকাশনী, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থ্যট। বিন্দু প্রকাশ, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন, শিশুকানন ও শিশুতোষ প্রকাশনীর ছোটদের বই।

ভাষা আন্দোলন, বাংলা একাডেমি আর একুশে বইমেলা ও বই পড়া একই সূত্রে গাঁথা। একুশের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ফসল হলো আমাদের বাংলা একাডেমি। একুশে বইমেলা বিকশিত হয়েছে এ বাংলা একাডেমিকে কেন্দ্র করেই। বাংলাদেশে প্রথম বইমেলা শুরু হয় ১৯৭২ সালে ৮ই ফেব্রুয়ারি। বইয়ের মাস, ভাষার মাস, মেলার মাস হিসেবেই পরিচিত ফেব্রুয়ারি মাস। ইউরোপের ফ্রান্স, গ্রিস, বগ্না, লিও, প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্টের বইমেলাও তাই খুবই প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপে বইকে দেখা হয়েছে একই সাথে অর্থনৈতিক পণ্য ও সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে। সে কারণেই এর প্রচার; প্রসার ও বাজার সৃষ্টির জন্য এই দেশগুলোতে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসে বই বিক্রেতারা নানা জায়গায়। বই বিকি-কিনির এই আয়োজনকেই এখন চিহ্নিত করা হয় বইমেলা হিসেবে। বইমেলা গোটা বিশে^র এক জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক এবং জ্ঞান অনুশীলনের কেন্দ্র হিসেবে। আমাদেরকে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করে বই কিনতে ও পড়তে।
সুতরাং, সম্পদ আর জ্ঞান, নেতৃত্ব কিংবা কর্তৃত্ব সব কিছুর সাথেই জড়িয়ে আছে বই আর পড়াশুনা। কথায় বলা হয়, Today a reader, Tomorrow a Leader. আর আজকের লেখা শেষ করছি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ধনী Warren Buffett এর কথা দিয়ে। আর তা হলো,
The best Invest you can make,
Is an Investment in yourself…
The more you LEARN,
The more you EARN.

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply