বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয় -মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক

[বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের একটি আলোচিত ঘটনা। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় কক্সবাজারস্থ টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া রাশেদ ‘লেটস গো’ নামের একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র বানানোর জন্য প্রায় এক মাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। ওই কাজে তার সঙ্গে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ। সম্প্রতি সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ এবং বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে আরো ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই বাহিনীটি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির নির্মম ষড়যন্ত্র পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন মেধাবী সেনাকর্মকর্তা হারায়, ২৪ আগস্ট ২০১৬ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আমান আল-আযমী গুম হয় এবং মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দেশের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এই বাহিনীটির নিজেদের নিরাপত্তাহীনতা জনমনে নানাবিধ প্রশ্নের সৃষ্টি করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘মাফিয়া গ্যাং’-এর তথ্য প্রচারণা দেশবাসীকে করেছে হতবাক। ইত্যাকার নানা বিষয়াদি নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে ছাত্রসংবাদকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ কল্যাণপার্টির চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ ইবরাহিম বীরপ্রতীক]

ছাত্রসংবাদ : আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ- স্যার, কেমন আছেন আপনি?
বীরপ্রতীক ইবরাহিম : ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়ারহমাতুল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

ছাত্রসংবাদ : সম্প্রতি মেজর সিনহা হত্যা মামলার রায় এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই…?
বীরপ্রতীক ইবরাহিম : মেজর সিনহা একজন ব্যক্তি, ইতিহাসের আইকন। সেনাবাহিনীর একজন চৌকস সদস্য ছিলেন তিনি। অবসর জীবনকে কাজে লাগাতে সৃজনশীল কাজ করতেন। বানাতেন বিভিন্ন ডকুমেন্টারি, ফিল্ম ইত্যাদি। এই সুবাদে তিনি বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল সফর করছিলেন। উনাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। না চেনাটাই স্বাভাবিক। উনার বয়স ৪০ পার হয়নি, আমার বয়স ৭০ পার হয়ে গেছে, এখন ৭৩ চলছে। এরকম একটা প্রেক্ষাপটে যখন এই ঘটনা ঘটে গেলো তখন আমরা সবকিছু জানতে চেষ্টা করলাম। আমার জানার দুটো কারণ আছে। প্রথমত, আমি রাজনৈতিক কর্মী- আমার জানতেই হবে দেশে কী চলছে। দ্বিতীয়ত, আমি একজন সাবেক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ অফিসার এবং মেজর সিনহাও সেনাবাহিনীর একজন কনিষ্ঠ অফিসার ছিলেন। অতএব আমাদের মধ্যে একটা দূরবর্তী আত্মার সম্পর্ক থাকবেই। সিনহা হত্যা প্রসঙ্গে সাম্প্রতিককালে মাননীয় আদালত রায় দিয়েছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ রায়ে সন্তুষ্ট। অন্ততপক্ষে প্রধান দুই আসামি মৃত্যুদণ্ড পেয়েছে। যদিও দীর্ঘ রায়টি আমি পুরোটা এখনো পড়ার সুযোগ পাইনি, আমি পড়ার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। পড়তে পারলে আমি আরও কিছু নতুন তথ্য জানতে পারবো।

মেজর সিনহাকে আমি মরণোত্তর একটি সম্মানজনক পুরস্কার দেওয়ার সুপারিশ করছি। মেজর সিনহা বিরাট একটি খেদমত করেছে জাতির। তা হলো, তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ক্রসফায়ার নামক বিভীষিকাটি বন্ধ হয়েছে। আমার জানামতে, মেজর সিনহা হত্যার পর আর ক্রসফায়ার হয়নি। মেজর সিনহা হত্যা ও তার মামলার রায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির যৎকিঞ্চিৎ সম্পর্ক অবশ্যই আছে।

এখন আমি প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের উত্তর দেই। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অর্থনৈতিকভাবে যদি বলি, ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, গরিবরা আরও গরিব হচ্ছে। অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার নতুন নতুন কিছু শিল্প কারখানাও হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্র্তৃক ঘোষিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে বেশ কিছু সচল রয়েছে। সেসব অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নতুন নতুন কারখানা স্থাপিত হচ্ছে। তাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে। আইটি জগতে বাংলাদেশ অগ্রগতি করছে। যদিও পৃথিবী ফাইভ-জিতে এগোচ্ছে। আমরা নামেমাত্র ফোর-জিতে এখনো আছি। আমাদের ইন্টারনেট সেবা এখনও দুর্বল। বিভিন্ন জায়গায় গ্রামীণ ফোন, রবি ইত্যাদি কোম্পানির নেটওয়ার্কের দুর্বলতার শিকার হচ্ছি।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গেলে রাজনীতিকে টানতেই হবে। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত নাজুক ও সঙ্কটময় সময় পার করছে। কারণ বর্তমান সরকার ১৪টি বছর ক্ষমতায় আছে। তর্কের খাতিরে হলেও মেনে নিচ্ছি ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের ২৯ তারিখ নির্বাচন সুন্দরভাবে হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। বাকি আমি ইচ্ছা থাকলেও এর প্রেক্ষাপট বা শানেনুজুল বয়ান করবো না। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনটিতে ১৫৩ অথবা ১৫৪ জন ব্যক্তি বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। যখন একটা পার্লামেন্টে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০ জনই বিনাভোটে নির্বাচিত হয়। তাহলে বলতে হবে Majority Of the parliament is elected without vote এটা বাস্তবতা। সে সময় অনেক আন্দোলন হয়েছে, সহিংসতা হয়েছে। বিরোধীপক্ষ আন্দোলন করতে গেছে, সরকার দমন করতে গেছে এবং উভয়পক্ষের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় রাজপথে অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। ২০১৫ সালে অবরোধ ছিলো। সেই অবরোধ সফল হয়নি। ৩ মাস চেষ্টা হয়েছে। অবরোধের কারণে অনেক মামলা হয়েছে। মামলা হতেই পারে। কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সেই মামলাগুলো যত না ব্যক্তির নাম লেখা থাকে তার থেকে অনেক গুণ বেশি ব্যক্তির নাম লেখা থাকে না। বলা হয়, ভবিষ্যতে তাদেরকে দেখলে চেনা যাবে। এই নিয়মে আজকে বিএনপির ৩৫ লক্ষ কর্মীর নামে মামলা আছে।

জামায়াতে ইসলামীর কয়েক লক্ষ কর্মীর নামে মামলা আছে। ২০ দলের অন্যান্য কর্মীদের নামে মামলা আছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন একটি অচল অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। আমরা বিরোধী শিবিরে যারা আছি, আমরা মনে করি একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে বাংলাদেশে নির্বাচন অসম্ভব। কারণ বর্তমান সরকার আবার যেকোনো নিয়মেই ক্ষমতায় থাকবে। আর এ সরকারের বক্তব্য হলো- নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে নাই। আমরা দিবো না। এই সরকারকে কে বুঝাবে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো সংবিধানে আগেও ছিলো না। রক্তপাত সংবলিত আন্দোলনের মাধ্যমে সংবিধানে আনতে বাধ্য করেছেন আপনারাই। আবার এখন বলছেন নাই। আমাদের যদি আবার আন্দোলন করতে হয়, তাহলে রাজপথে রক্তপাত হবে। সেটাতো হবে আরও দুর্ভাগ্যজনক। আমি রক্তপাতের পক্ষে না। আমি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে। দেখা যাক কী হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজকে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ আমি ইন্টারভিউ দিচ্ছি। এই ১৫ তারিখের পরে আর দু’পাঁচ দিনের মধ্যেই সার্চ কমিটি নির্বাচন নিয়ে ঘোষণা করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। গেজেট অনুমোদন দিবেন।

গেজেট হবে। তখন বোঝা যাবে কোন ধরনের ব্যক্তিরা আসলেন? কি আশা করা যায়? আমরা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে মতবিনিময়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সার্চ কমিটিতে নাম দেইনি। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তথা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে বলতে পারি যে, আমরা দেশের স্বার্থ, দলের স্বার্থ ও জোটের স্বার্থ- এই তিনটি আঙ্গিককে মাথায় রেখে কাজ করি। দেশের স্বার্থ সর্বাবস্থায় আপসের ঊর্ধ্বে, No compromise! কিন্তু জোট এবং দলের স্বার্থে কোনো সময় এটা প্রাধান্য পায়, কোনো সময় ওটা প্রাধান্য পায়। এই নিয়মেই আমরা বঙ্গভবনে গেলেও এখন নাম দেইনি। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমি সংক্ষেপে আরেকটু বলে দিতে চাই যে, বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতিবিমুখ হয়ে গিয়েছে। এবং এটার জন্য বর্তমান সরকার ও তাদের কর্মকাণ্ড দায়ী। এই ছোট্ট ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে আমি বলতে চাই আমরা রাজনীতিবিমুখ যেন না হই। রাজনীতিবিদ খারাপ হতে পারে। কিন্তু রাজনীতি নামক প্রক্রিয়া যদি সমাজে না থাকে তাহলে সমাজ অচল হয়ে যাবে। ইংরেজিতে অনেক শব্দ আছে- Otocracy, Protocracy, Meritocracy Ges Democracy, Democracy-র সাথে তো রাজনীতির সম্পর্ক। এর থেকে ভালো কোনো পন্থা যদি পাওয়া যায় তো ভালো, সেটা আসতে পারে। কিন্তু যতদিন ভালো কোনো পন্থা পাওয়া না যায় তাহলে Democracy-ই এই পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো পন্থা। এর জন্যে রাজনীতিতে আমাদের সক্রিয় থাকতেই হবে।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কেমন আছে এটা বলে আমি প্রশ্নের উত্তর শেষ করি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্ততপক্ষে তিনমুখী টানাপড়েনে আছে। একটি হলো AID and Trade চায়নার সঙ্গে; একটা হলো বাণিজ্য এবং বিশ্ব আঞ্চলিক রাজনীতি ভারতের সঙ্গে; আরেকটি হলো বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং বিশ^রাজনীতি প্রসঙ্গে আমেরিকা ও পাশ্চাত্যের সঙ্গে। আমি ৪ নম্বরটিও বলে রাখি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উদীয়মান নেতৃত্বে আছে মুসলিম বিশ্বে মালয়েশিয়া, তুরস্ক এবং ইরান। পুরনো নেতৃত্ব আছে সৌদি আরব। এর মধ্যে সমন্বয় করে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সাজাতে হবে। আমেরিকা স্যাংশন দিয়েছে ৭ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে (নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে) এর বিশাল তাৎপর্য রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হয় নাই। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শুরু, সাড়ে ৪ বছর ধরে আমরা সমাধান থেকে বহু দূরে অতএব কোনো মতে সুখকর পরিস্থিতিতে আমরা নাই। বাংলাদেশে একটি ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট, এন্টি আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্ট বিদ্যমান বিবিধ কারণে। আমি কোনো মতেই বলছি না ভারত একটি খারাপ দেশ। তবে অতি সম্প্রতি ৪-৫ দিনের মধ্যে একটি ভাইরাল ভিডিও দেখেছি ‘মুসকান’ নামক ভদ্র মহিলার এবং অন্যান্য জায়গায় তারা যেসব বক্তব্য রাখছেন দেখেছি। আমার আবেদন থাকবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি- ধৈর্য, সংযম, সম্প্রীতি এই তিনটি জিনিসকে মেহেরবানি করে মূল্যায়ন করুন। তা নাহলে এর উষ্ণতা (গরম) চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়বে। এখন বাংলাদেশে বসন্ত শুরু হয়েছে। আজকে কথা বলছি বসন্তের ২য় দিনে। কিছুদিনের মধ্যে চৈত্রের তাপদাহ শুরু হবে। সেখানে যেন রাজনৈতিক তাপদাহ না আসে এই আবেদন থাকবে।

ছাত্রসংবাদ : গণতান্ত্রিক অচলাবস্থা নিরসনে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে সেনাবাহিনীর কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে বলে মনে হয় কিনা…?
বীরপ্রতীক ইবরাহিম : আমি একজন সাবেক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসাবে যতটুকু জানি এবং বুঝি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাক গলায় নাই। ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে একবার গলিয়েছিলেন। ২০০৬ সালের শেষাংশে মাথা গরম করেছিলেন কিছু সংখ্যক জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। এবং ২০০৭-এর জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখে ওয়ান-ইলিভেন তারিখে নাক গলিয়েছিলেন। এরপর অনেক কিছু ঘটে গেলেও তারা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেন নাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ওনারা করবেন না। করলেও জনগণের মতামতকে আগে যাচাই করবেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বের মতামত যাচাই করবেন, সবাইকে নিয়ে কিছু করবেন। তাদের নিজেদের মতো করে তারা কিছু করবেন না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বয়স এখন ৫০ বছর। আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্মলগ্নের একজন তরুণ ব্যক্তি ছিলাম। তখন আমার বয়স ২১। সেনাবাহিনীর বয়স জিরো ডে (শূন্য দিন)। সেদিন থেকেই সেনাবাহিনীতে ছিলাম। ২৮ বছর পর অবসরে গিয়েছি। অবসর জীবনে ২৫ বছর। সেনাবাহিনী যেন উন্নত থেকে উন্নততর হয় তাদের প্রশিক্ষণের মান যেন আরও উঁচু থেকে উঁচুতে যায়, তাদের সুনাম যেন পৃথিবীতে আরও বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় শান্তি রক্ষায় তারা যেন অবদান রাখতে পারে। তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য দোয়া করি।

বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যায় শান্তি আনয়নে তাদের ভূমিকা অনবদ্য। সরকার কর্তৃক দেওয়া অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব তারা সুন্দরভাবে পালন করেছে। কিন্তু এতো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে জড়িত হওয়াটা আবার অনেক সময় নেগেটিভ ফলাফল আনে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গত জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখের সংবাদপত্র মোতাবেক একটা বিরাট কাজ করেছে। প্রথমবারের মতো লজিস্টিকস উপাত্তগুলোকে নিয়ে তারা বহিরাঙ্গনে অনুশীলন করেছে। শীতকালীন প্রশিক্ষণের সময় তারা অপারেশনের আঙ্গিকে অতিরিক্ত লজিস্টিকস আঙ্গিককে প্রাধ্যান্য দিয়েছে। সেজন্য আমি তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা মেধাবী তাদের প্রতি আমার আহবান- আপনারা সামরিক বাহিনীতে যোগদানের চিন্তা সুন্দর মন নিয়ে করতে পারেন। অতি সুন্দর ক্যারিয়ার আপনারা পাবেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস তার অধীনস্থ এমআইএসটি, ৮/৯টি মেডিক্যাল কলেজ/ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ডিফেন্স কমান্ডার স্টাফ কলেজ, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ইত্যাদি আছে। আপনার লেখাপড়া ও জ্ঞান অর্জনের জন্য দ্বার উন্মুক্ত থাকবে।

ছাত্রসংবাদ : পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে দুর্বল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে কতটা সক্ষম হয়েছে বাহিনীটি?
বীরপ্রতীক ইবরাহিম : একটা পরিবারে ৫টা ভাই থাকলে আর ২টা ভাই রাস্তায় দুর্ঘটনায় যদি ইন্তেকাল করে তাহলে পরিবারের ক্ষতি তো হবেই। কিন্তু তাই বলে পরিবারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় না, তারা শোককে শক্তিতে পরিণত করে। বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনী উভয় মিলে সেই পিলখানায় শহীদ হওয়া পরিবারদের দেখাশোনা করেছেন। তারা মেধাবী অফিসার ছিলেন দেশপ্রেমিক অফিসার ছিলেন। তাই তাদেরকে যে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একখানে করে একটি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে ফেলা হয়েছিলো। সাময়িক দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছিলো, সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য গত ১২-১৩ বছর চেষ্টা করে অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। বাস্তবতা হলো পুরাতন ঘাস চৈত্র মাসে সূর্যের তাপে জ¦লে-পুড়ে মরে যায় আবার বৈশাখ মাসে যখন প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা নামে তখন নতুন ঘাস জন্মায়। এটাই আমাদের মেনে নিতে হবে। আমি সেইমতে মনে করি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চৌকস, স্মার্ট, দক্ষ ৫৭ জন অফিসার বিভিন্ন বয়সের ও র‌্যাংকিংয়ের তাদেরকে আমরা হারিয়েছি। তাদের বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের নতুন নতুন অফিসার দিয়েছেন। আজকের এ দিনে তারা এটা পুষিয়ে নিচ্ছেন। এটা এমন একটা বিষয় যেটা স্কেল দিয়ে মাপা যায় না। তাই এটার এমন কোনো উত্তর দেওয়া যাবে না যে, ৩ কেজি ক্ষতি হয়েছিল আর ৪ কেজি পেয়ে গেছি।

ছাত্রসংবাদ : ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আমান আল-আযমীর গুম হওয়ার বিষয়টি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন…?
বীরপ্রতীক ইবরাহিম : আমি ঐ একই দৃষ্ঠিকোণ থেকে দেখছি যেটা আরও শত শত গুম হওয়া ব্যক্তির জন্য দেখি। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছি। গুম হওয়া ব্যক্তিদের সাথে কথা বলতে গিয়ে, সেটা রাজনৈতিকভাবে ২০ দলীয় জোট বা বিএনপির পক্ষ থেকে করা হয়েছে, সামাজিক সংস্থাগুলোতে করা হয়েছে। তো ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আল-আযমীর একটা বৈশিষ্ট্য ছিলো যে, তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক একজন চৌকস কর্মকর্তা ছিলেন। আবার স্পর্শকাতর তথ্য হলো যে উনার পিতা একজন বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা ছিলেন এবং যেই দলের নেতা ছিলেন সে দলটি বাংলাদেশে এখন নিবন্ধনবিহীন। এবং ওই তুলনায় অনেককেই যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গুরুতর দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তো আমি জানি না ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহিল আযমী কি এখনো গুম হওয়া অবস্থায় আছেন? নাকি তিনি পৃথিবীতে আর নাই। এটা আমি জানি না। যেমন কিনা এমন অনেক গুম হওয়া ব্যক্তি প্রসঙ্গেও আমরা জানি না। সকল গুম হওয়া ব্যক্তিরা যেন ফেরত আসে এই কামনাটা আমরা করছি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যে কোনো না কোনো জায়গায় তওবা-তিল্লা করে আসতাগফিরুল্লাহ বলে মাফ চেয়ে আগাতে হবে। ভুল যা করেছে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটাতে কোনো না কোনো একটা জায়গায় ফুলস্টপ (.) দিয়ে আমরা নতুন জীবন শুরু করতে পারি কিনা- এই বিবেচনা বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাজের নিকট আমি রাখছি।

ছাত্রসংবাদ : ছাত্রসমাজের জন্য আপনার মূল্যবান কিছু উপদেশ আশা করি..।
বীরপ্রতীক ইবরাহিম : আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। আপনাদের তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে আমার নিজের জীবন বৃত্তান্তটাই নিজে বলে রাখি। যাতে আপনারা বুঝতে পারেন কি নিয়মে বড় হলাম? আমি একান্তই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার উত্তর গুড়িরচর গ্রামে হালদা নদীর পাড়ের সন্তান। আমার একটা ফেসবুকে হালদা নদী নিয়েও নাম আছে। আমি সাধারণ ছাত্র ছিলাম। বেশি দুর্বলও না বেশি সবলও না। মেধার প্রতিযোগিতায় আমি টিকে গেছিলাম বলে ১৯৬২ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে যাই। তখন একটাই মাত্র ক্যাডেট কলেজ পূর্ব পাকিস্তানে ছিলো। ৪৫০ জন প্রার্থীর মধ্যে আমরা ৪৭ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেটা আমার জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেখানে ৬ বছর লেখাপড়া করি, ক্যাডেট কলেজে সবাই মিলেমিশে পড়েছি, শিখেছি, জেনেছি। ১৯৬৮ সালে আমি এইচএসসি পরীক্ষা দেই মানবিক বিভাগে কুমিল্লা বোর্ড থেকে। এবং ১ম স্থান অধিকার করি ফলাফলে। এটা একটা মাইলফলক। দেড় বছর অর্থনীতি বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স করি অতঃপর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া অসমাপ্ত রেখে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চলে যাই পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমী কাকুলে। কাকুল হচ্ছে একটি শহর, নিকটেই বড় শহর আছে- এবোটাবাদ। এটা উত্তর পশ্চিম সীমান্তে যার বর্তমান নাম খাইবার পাখতুন খাওয়া, সেখানে অবস্থিত। সেখান থেকে যখন আমি ১৯৭০-এ সেপ্টেম্বরে কমিশন পাই আমি প্রথম স্থান অধিকার করি পুনরায়। মহান আল্লাহর দয়া একাডেমিক ও সামরিক দুই জায়গাতেই আমি ভালো করি। অতঃপর আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করি। ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ করি, বীরপ্রতীক খেতাব পাই। স্বাধীন বাংলাদেশে ২৬ বছরে চাকরিতে প্রতিটি মিনিট দেশের খাতিরে চাকরি করেছি। আমি ভালো চাকরি করেছি। ভালো পদে, ভালো র‌্যাংকিংয়ে, ভালো দায়িত্বে। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। ১৯৯৬ তে একটা দুর্ঘটনার মাধ্যমে আমার চাকরি হারাই। শোকর আলহামদুলিল্লাহ বলে অবসর জীবন শুরু করি। ১১ বছর আমি সুশীলসমাজে চলাচল করি। একটা রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে ৪ বছর ৪ মাস নির্বাহী ছিলাম। একটা রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। অতঃপর মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে, চাহিদায়, বন্ধু-বান্ধবের কথায় আমি রাজনীতিতে আসি। ৫৮ বছর বয়সে রাজনীতিতে আসাটা একটা বিদঘুটে ব্যাপার। অবসর জীবনের ১২ বছরের মাথায় জীবনের ৫৮ বছর পার করে আমি রাজনীতিতে আসলাম একটা লক্ষ্য নিয়ে। পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি। আমি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চাই। আমাদের দলে ২০২২ সালে একটা প্রশ্ন উঠেছে ২১-২২-এ কারা আসতে পারে কারা আসতে পারে না? আমি বলেছি বাংলাদেশী প্রজন্ম প্রথম শর্ত। দ্বিতীয় শর্ত মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। তৃতীয় শর্ত স্বচ্ছ চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। চতুর্থ এবং শেষ শর্ত কোনো ক্রিমিনাল মামলা থাকতে পারবে না- তাহলে তিনি যে ধর্মেরই হোক, যে ভাষারই হোক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি করতে পারবে।

আমি তরুণ বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আজকের তরুণরা যদি রাজনীতি না করে আমি কি ৫৮ বছরের ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনীতি করবো? ৭৩ বছরের প্রবীণদের নিয়ে করবো? সম্ভব না। তাহলে আমরা প্রতীকী অর্থে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি। তরুণদেরকেই নেতৃত্ব নিতে হবে কর্মী হিসাবে। আজকের কর্মী কালকের নেতা। ‘শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সকল শিশুর অন্তরে’ এই কথাটা মনে রাখতে হবে। আরেকটা কথা বাংলাদেশের নৈতিকতা এখন চরম হুমকির সম্মুখীন। এটা শুধু বাংলাদেশ বলে নয়, পৃথিবীব্যাপী। এখন পৃথিবীতে Morality শব্দটাই Dictionary থেকে চলে যাওয়ার উপক্রম। Morality আবার কি জিনিস? কিন্তু আমরা বাংলাদেশের ৯০ ভাগ কিংবা ৮৮ ভাগ মানুষ মুসলমান দ্বীন ইসলামীতে বিশ্বাস করি, পবিত্র কুরআনে বিশ্বাস করি, হাদিসে বিশ্বাস করি, আল্লাহর হুকুম মেনে চলাটা প্রয়োজন মনে করি। তো পবিত্র কুরআনে যে পবিত্রতা সম্বন্ধে কথাগুলো বলা আছে এটা আমাদেরকে মেনে চলতে হবে। এটা মানতে হলে শিক্ষাব্যবস্থায় সেই নৈতিকতার প্রসঙ্গ রাখতে হবে। দ্বীনিয়াত-কে তুলে দিবেন, ঐচ্ছিক বিষয় করবেন, আর ফলাফল গুনবেন না, দ্বীনিয়াত শিক্ষক স্কুলে রাখবেন না, তাহলে তো নৈতিকতা হলো না। পাশ্চাত্যের জীবন যাপন পড়ালেই গড্ডালিকার মতো যদি আমরা গা ভাসিয়ে দেই আমাদের ধ্বংস হতে বেশিদিন সময় লাগবে না। আমি এ কথাটা আপনাদের ছাত্রদের উদ্দেশে বললাম। আরেকটা কথা হলো- আমি রাজনীতি করি সেনাবাহিনীর জেনারেল ছিলাম, অল্পকথায় একটু আগে যা বলেছি আর কি। মনে করবেন না যে, আমি এখনো এইচএসসি পাস রয়েছি। আমি ৭৪ সালে বিএ পাস করি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে এবং ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে আমাদের সামরিক বাহিনীর কমান্ডার স্টাফ কলেজের মাধ্যমে মাস্টার্স অ্যান্ড বিজনেস ডিগ্রি নেই প্রথম শ্রেণীতে। খেয়াল করুন, আজকের এই ইন্টারভিউ যারা পড়ছেন- আমি ৫৪ বছরে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছি। আবার ২০০৭-এ আমি পিএইচডিতে নাম লিখিয়েছিলাম আবার ২০০৭-এ কল্যাণ পার্টি খুলেছিলাম। পার্টি করতে গিয়ে আমার পিএইচডি সম্পন্ন হয় নাই। আমার সুপারভাইজার ছিলেন বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর এমাজউদ্দীন স্যারের সুযোগ্য স্বমানধন্য বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কন্যা দিলরওশন নাজনীন। উনার পুরো নাম প্রফেসর দিলরওশন জিন্নাত আরা নাজনীন। তিনি আমার সুপারভাইজার ছিলেন। অসম্পূর্ণ পিএইচডি। এখনো পত্রিকায় লিখি, টেলিভিশনে বলি, আপনাদেরকে যেমন ইন্টারভিউ দিচ্ছি এইভাবে বলি। আমি তরুণ সম্প্রদায়কে বলবো- লেখাপড়াকে ধরে রাখতে হবে জোঁকের মতো। রাজনীতি করুন, ব্যবসা করুন, যাই করুন- লেখাপড়াকে ধরে রাখতে হবে তবে জোঁকের মতো। লেখাপড়াই আপনাকে এগিয়ে দিবে। নৈতিকতাই আপনাকে এগিয়ে দিবে। আমাদের বাংলাদেশের জীবন প্রণালীকে আমরা পৃথিবী থেকে একদম বিচ্যুত রাখতে পারবো না, পৃথিবীর প্রভাবমুক্ত হতে পারবো না। কিন্তু আমরা যেনো প্রভাবটা সীমিত রাখি। এই আবেদন আপনাদেরকে আমি করবো। আপনারা দোয়া করবেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির জন্য, ছাত্রসমাজ এবং তরুণসমাজ যে যেই দলই করুন না কেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কল্যাণরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১৮ কোটি নাগরিকের জন্যে। সুতরাং সকলেই সেইটার সহযোগিতা করবেন বলে আমি আশা করি।

SHARE

Leave a Reply