বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভর্তি তথ্য শাহরিয়ার ফয়সাল

[১ম কিস্তি]

শিক্ষার ক্ষেত্রটি সবসময়ই সম্প্রসারণশীল। শিক্ষার ক্ষেত্রে কখনোই নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং যুগে যুগে দেশ ও জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি মৌলিক ক্ষেত্র সীমানা ছাড়িয়েছে। বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবেশের আলোকে গবেষণামূলক শিক্ষার চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি যদি প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচিত্র দক্ষতায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চান তবে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পড়তে যেতে প্র্র্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও পূর্বপ্রস্তুতি। দরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। ভবিষ্যতে কোথায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রূপে দেখতে চাই, কোন ক্ষেত্রে নিজের পেশাজীবন গড়তে চাই এবং কিভাবে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই সেগুলো নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি ঠিক করতে হবে পছন্দের দেশ, পছন্দের বিষয় ও শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠান। এর জন্য প্রয়োজন বাড়তি মনোযোগ ও সতর্কতা। নি¤েœ উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-

বিদেশে উচ্চশিক্ষা কী ও কেন
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনেসকোর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমন করেন। উচ্চমাধ্যমিক লেবেল শেষ করার পরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে হয়। শিক্ষার্থীরা সাধারণত গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করার পর মাস্টার্স এবং এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিদেশ পাড়ি জমান। যদিও কিছু শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক লেবেল শেষ করেই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে চায়। আজকের নিবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর বিদেশী বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে কিভাবে মাস্টার্স এবং উচ্চতর গবেষণা তথা এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করা যায়। যারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে গ্র্যাজুয়েশন করে ফেলেছেন, তাদের সাবজেক্ট মোটামুটি ঠিক করা থাকে। অনেকেই নিজের বিষয়ের বাইরে গিয়ে অর্থনীতি- এমবিএ, ফাইন্যান্স কিংবা অন্যান্য বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করেন। এই সব ক্ষেত্রে নিজের ক্যারিয়ার অনুযায়ী কোন বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করলে ক্যারিয়ার আরও উজ্জ্বল হবে, সে বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। যারা বিদেশে পড়তে যেতে চান, তাদের উচিত হবে গ্র্যাজুয়েশন চতুর্থ বর্ষ থেকেই এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া।
কেন বিদেশি বিশ^বিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করবো? সার্টিফিকেটের মান, শিক্ষার পরিবেশ, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, চাকরির নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদা। সর্বোপরি বিদেশে অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো সম্পর্কে জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ ও বিশ্ব সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জিত হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধুমাত্র শিক্ষা এবং ব্যক্তিত্বকেই সমৃদ্ধ করবে না বরং আপনার পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বিশেষত ব্যবসা, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং চাকরির ক্ষেত্রে আপনার পেশাগত দক্ষতা খুবই মূল্যবান ভূমিকা রাখবে। সর্বোপরি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডিগ্রি অর্জন।

স্টুডেন্ট ভিসা কী
উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী প্রার্থীর প্রথমে স্টুডেন্ট ভিসা সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন। কোন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে যোগ্যতা যাচাইপূর্বক উচ্চশিক্ষার অনুমতি পেলে ছাত্র-ছাত্রীরা Students Visa পাওয়ার অনুমতি লাভ করে। এই ভিসাকে আমেরিকায় ১-২০, কানাডায় Students Authorization ও অন্যান্য দেশে Students Visa বলে। স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্র্রয়োজনীয় তথ্যাবলি:
– ভিসার আগেই সরাসরি কিংবা এজেন্টের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে ভর্তি ফরম পূরণ ও ভর্তির অনুমোদন সংগ্রহ করতে হয়।
– অনুমোদনপত্র ও বৃত্তি সংক্রান্ত তথ্যাবলিসহ নিকটস্থ দূতাবাস বা হাইকমিশনে যোগাযোগ করতে হয়।
– সন্তোষজনকভাবে সাক্ষাৎকার পর্ব শেষে ভিসা অনুমোদিত হয়।
– কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেডিক্যাল টেস্ট ও পুলিশ রিপোর্ট প্র্রয়োজন হতে পারে।

স্কলারশিপ
স্কলারশিপ আসলে দুই ধরনের : ১. সরকারি স্কলারশিপ
২. ব্যক্তিগত/প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক স্কলারশিপ
বর্তমানে যারা দেশের বাইরে শিক্ষা গ্রহণ করছেন তারা কেউ সেই দেশের সরকার/ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক স্কলারশিপের অর্থ নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। কমনওয়েলথ, ডাড, বিকে-২১, মনবসুসহ বেশ কিছু সরকারি স্কলারশিপ জনপ্রিয় হলেও সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকদের নিজস্ব ফান্ড কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া অর্থ অনেক সময় সরকারি স্কলারশিপের চেয়ে বেশি হয়।
যারা স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাবেন তাদেরকে যে বিষয়গুলো ভাবতে হবে-
– স্কলারশিপের মেয়াদ কত এবং নবায়ন করা যাবে কিনা, যদি যায় তবে কী ধরনের যোগ্যতার ভিত্তিতে?
– স্কলারশিপের অর্থে কী কী খরচ করা যাবে?
– সেখানকার জীবনযাত্রা কেমন ব্যয়বহুল এবং আপনার পক্ষে স্কলারশিপের অর্থে তা নির্বাহ করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না?

দেশ ও বিষয় নির্বাচন
বিদেশে পড়াশোনার জন্য দেশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই গভীরভাবে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ প্রতিটি দেশে পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা এক রকম নয়। যেমন- কোন দেশে টিউশন ফি বেশি, কোন দেশে কম, আবার টিউশন ফি আদৌ লাগে না আবার কোনো দেশের শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠানে একই মানের কোর্সের মেয়াদ কম, কোন দেশে আবার বেশি। কোথাও পার্টটাইম জব করা যায়, কোথও পার্র্টটাইম জব হয়তো পাওয়া যায় না, আবার কোথাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোন দেশে সহজেই স্কলারশিপ পাওয়া যায়, আবার কোনো কোনো দেশে স্কলারশিপ পাওয়া বেশ কঠিন। আবার এমনও দেশ আছে যেখানে পড়াশোনাকালীন সময়েই নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং সবকিছুুুুুুুু সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবেচনা করেই দেশ নির্বাচন করতে হবে।
দেশ নির্বাচনের পর শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি প্র্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। অধিক পরিমাণ শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠানের শর্তগুলো জানা থাকলে আপনার জন্য উপর্যুক্ত প্র্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে সহজ হবে। আর ২-১টি প্র্রতিষ্ঠান নির্বাচন করলে হয়তো দেখা যাবে তাদের শর্তগুলো পালন করে সেখানে ভর্তি হওয়া বা পড়াশোনা করা আপনার জন্য অপেক্ষাকৃত কঠিন অথবা অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভবও হতে পারে। তাই কমপক্ষে ৮-১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ করে তাদের বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করা এবং এক্ষেত্রে যেসব বিষয়কে গুরুত্ব¡ দিতে হবে সেগুলো হলো-
– আপনার পছন্দকৃত বিষয় আছে কি না।
– পড়াশোনার মান কেমন।
– শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন।
– শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান কোথায়।
– লেখাপড়ার ও অন্যান্য খরচ কত এবং পরিশোধের পদ্ধতি কেমন।
– স্কলারশিপ সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা আছে কি না।
– আবাসন ব্যবস্থা।
– ভর্তি যোগ্যতা ইত্যাদি।

যারা নিজ খরচে পড়াশোনা করতে যাবেন তাদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ভাবতে হবে-
– আপনার পছন্দের কোর্সটিতে সর্বমোট খরচ কত এবং কিভাবে পরিশোধ করতে হবে।
– আর্থিক সহায়তা, ঋণ বা স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না। যদি থাকে তবে কী যোগ্যতার ভিত্তিতে।
– খরচগুলো কমানোর কোন বিকল্প উপায় আছে কি না।
– আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টারের টিউশন ফি একসাথে দিলে কিছুটা কমিশন বা ছাড় পাওয়া যায়।
– দেশটির জীবনযাত্রা কেমন ব্যয়বহুল এবং আপনার পক্ষে তা নির্বাহ করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষাপ্র্রতিষ্ঠানে ই-মেইল করলে তারা মোট খরচের একটি খসড়া হিসাব ও পরিশোধের পদ্ধতি জানিয়ে দেবে। এতে যে বিষয়গুলো সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকবে সেগুলো হলো- টিউশন ফি, আবাসন খরচ, খাবার খরচ, বইপত্র বাবদ খরচ ও ইন্স্যুরেন্সসহ ইত্যাদি।

সুপারভাইজার অনুসন্ধান
গবেষণা প্রার্থীর প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে সুপারভাইজার বা গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন, যার তত্ত্বাবধানে থেকে গবেষণাপ্রার্থী তার গবেষণার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। সুপারভাইজার গবেষণাপ্রার্থীর গবেষণার বিষয় ঠিক করে দিবেন, গবেষণার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। তাই প্রার্থীকে সুপারভাইজার নির্বাচন করতে হবে নিজ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনার বিষয় হচ্ছে তত্ত্বাবধায়কের গবেষণার ক্ষেত্র, গবেষণার ব্যাপারে তার ইচ্ছা, আগ্রহ সর্বোপরি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা।
বিদেশে একজন পূর্ণাঙ্গ অধ্যাপকের ক্ষমতাই সবকিছু। তিনি যা করেন সেটি আইনে পরিণত হয়। তাই স্কলারশিপ পেতে হলে সুপারভাইজার বা অধ্যাপকের অনুসন্ধান ছাড়া কোন বিকল্প পথ নেই। একজন সুপারভাইজার যখন পেয়ে যাবেন তখন মনে রাখবেন আপনার সুযোগ ৯৫ শতাংশ হয়ে গেছে। আর এই কঠিন জিনিসটি পাওয়ার জন্য বেশ কিছু নিয়মাবলি উপস্থাপন করছি। যদিও বিষয়টি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ কার্যকরী।
অধ্যাপকদের ই-মেইল আইডি হলো অধ্যাপকদের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। তাই ই-মেইল আইডিটি আপনি কিভাবে পাবেন। সাধারণত দুইটি কৌশল অনুসন্ধান করলে অধ্যাপকের তথা যাকে সুপারভাইজার হিসেবে পেতে চান তার ই-মেইল পেয়ে যাবেন।
– অধ্যাপকদের ই-মেইল আইডি সাধারণত জার্নাল পেপারগুলোতে থাকে।
– ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন হচ্ছে তথ্যভাণ্ডার লিংক (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/ pubmed/)। এই ওয়েবসাইটে গিয়ে পেয়ে যাবেন অধ্যাপকদের ঠিকানা ও ই-মেইল আইডি। এরপর ই-মেইল সংগ্রহ করে প্রফেসরদের মেইল করা শুরু করুন।

মোটিভেশন লেটার/বায়োডাটা
ই-মেইল আইডি পাওয়ার পর যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো একটি মোটিভেশন লেটার। একজন প্রফেসরকে ম্যানেজ করার জাদুমন্ত্রটি হলো একটি সুন্দর মোটিভেশন লেটার। এই পত্রটির ভাষায় বলে দিবে আপনি কেমন, আপনার মেধা-মনন সব কিছু ফুটে উঠবে।
সেখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করতে হয়। আপনার বর্তমান পড়াশোনার অবস্থা, গবেষণার অবস্থা, ভবিষ্যৎ ইচ্ছা, আপনি কেন সেই প্রফেসরকে পছন্দ করেন। এই জন্য গুগলে গিয়ে ডেমো দেখে নিতে পারেন। আর বায়োডাটা অবশ্যই বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে। চাকরির বায়োডাটা আর স্কলারশিপে বিদেশে পড়াশোনার বায়োডাটা কখনো এক হতে পারে না।
এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত ছাড়াও আপনার কোন সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করা থাকলে সেই সেমিনারগুলোর টাইটেলও যোগ করতে পারেন। তবে অভিজ্ঞতার অপশনে অবশ্যই আপনি যেসব ব্যবহারিক পড়াশোনার অংশ বিশেষও তুলে ধরতে পারেন। মোট কথা বায়োডাটায় অবশ্যই গবেষণা করার নমুনা তুলে ধরা যেতে পারে।
যেসব প্রফেসর আপনার ই-মেইলের উত্তর দেয় না। হয়তো মেইলের পর মেইল করতে হবে তবুও আপনাকে হতাশ হওয়া যাবে না। আপনি ই-মেইল করতে থাকুন দেখবেন ঠিকই আপনার কাক্সিক্ষত স্বপ্নটি এসে হাতের মুঠোয় ধরা দিচ্ছে। প্রফেসররা অনেক সময় কিছু অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেন। অনেক সময় আপনার ই-মেইলে পজেটিভ উত্তর দেয়ার পর আপনাকে অপশন দিতে পারে, তুমি আমার এই আর্টিকেলের সারমর্ম করে পাঠাও এরপর আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো। আর এভাবেই একসময় কাক্সিক্ষত স্বপ্নটি আকাশে উঁকি দিবে। সুতরাং এগিয়ে যেতে থাকুন, দেখবেন আপনার স্বপ্ন আপনার হাতের মুঠোয়।

ক্রেডিট ট্রান্সফার
আপনি দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্সে কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন বা করছেন, কিন্তু এখন আপনি ওই কোর্সেই বিদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী, সেক্ষেত্রে দেশে সম্পন্নকৃত কোর্সটির ক্রেডিটসমূহ গ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট এক্সামিনেশন দাবি করতে পারেন।
আপনার কৃত কোর্সটির জন্য কতটুকু ক্রেডিট পাবেন তা নির্ধারণ করবে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আপনাকে কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার কৃত কোর্স স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা এবং এই বিষয়সমূহ বিদেশের ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত বিষয়েরই অনুরূপ। ক্রেডিট ট্রান্সফারের জন্য যে সনদ ও কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনার কাছে চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
– অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রত্যায়নপত্র
– কোর্সের আউটলাইন এবং পাঠ্যতালিকা
– কোর্স লেভেল সম্পর্কিত তথ্যাদি
– কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদ কর্তৃক সুপারিশনামা
– কোর্স অ্যাসেসমেন্টের পদ্ধতি (পরীক্ষা, রচনা, প্রজেক্ট ওয়ার্ক ইত্যাদি)
– গ্রেডিং সিস্টেম সংক্রান্ত তথ্য
– কোর্সের মেয়াদ, লেকচার-ঘণ্টা, ল্যাবরেটরিতে কাজের ঘণ্টা, ফিল্ডওয়ার্ক ইত্যাদি।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বিদেশে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর প্রথমে যে কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করতে হয় তা হলো নিজের অ্যাকাডেমিক সকল কাগজপত্র রেডি করা। যে সব কাগজপত্র ইংরেজিতে করা নেই সে সব অনুবাদ করিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে দু’ভাবে অনুবাদ করা যায়। বোর্ডের একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিয়ে শিক্ষা বোর্ড থেকে সনদপত্র ও নাম্বারপত্রের অনুবাদ কপি তোলা যায়। তবে পূর্বের মূলকপি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। এটাই হচ্ছে সনদপত্র ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের উত্তম পদ্ধতি। তবে একটু সময় বেশি লাগে বলে আপনি ইচ্ছে করলে নোটারি পাবলিক থেকেও অনুবাদ করাতে পারেন। এক্ষেত্রে পূর্বের মূলকপি এবং অনুবাদকৃত কপি একসাথে রাখতে হয়। ছবি এবং প্রয়োজনীয় সকল সার্টিফিকেটের ফটোকপি অবশ্যই সত্যায়িত করে নিতে হবে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ শাখা থেকে সকল কাগজপত্রের মূলকপি দেখানো সাপেক্ষে বিনামূল্যে সত্যায়িত করা যায়। এছাড়া নোটারি পাবলিক থেকেও সত্যায়িত করা যায়।

আবেদনের পদ্ধতি
নির্দিষ্ট দেশের বাছাইকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য প্রথমে ভর্তি তথ্য, প্রসপেক্টাস ও ভর্তি ফরম চেয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র কুরিয়ার, ফ্যাক্স বা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো যায়। তবে ই-মেইলে পাঠানো ভালো। আবেদনপত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাওয়ার পর তারা আপনার ঠিকানায় ভর্তির আবেদন ফরম ও প্রসপেক্টাস পাঠিয়ে দিবে। আবার কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম দিয়ে থেকে। এক্ষেত্রে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে হবে। এরপর আবেদন ফরমটি প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে নির্ভুলভাবে পূরণ করে প্রসপেক্টাসের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ও আবেদন ফি/ব্যাংক ড্রাফট কোন আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নির্দেশিত ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আবার আবেদনপত্র ই-মেইলেও প্রেরণ করা যায়। উল্লেখ্য যে, আবেদন ফি অফেরতযোগ্য। আর হ্যাঁ, মনে রাখা প্রয়োজন যে, কোনো প্রকার অসত্য তথ্য দিলে ভর্তি অনিশ্চিত বা পরবর্তীতে বাতিলের সম্ভাবনা থাকে এবং ভিসা পেতে সমস্যা হতে পারে। আবেদনপত্রের সাথে সাধারণত যেসব কাগজপত্র পাঠাতে হয়-
– সকল অ্যাকাডেমিক কাগজপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব সকল সনদপত্র ও নম্বরপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি এবং সাবেক বা বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশপত্র।
– ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণপত্র নির্বাচিত দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তানুযায়ী যে ভাষার দক্ষতা থাকতে হবে সে ভাষায় দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ ভাষা শিক্ষা কোর্সের সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
– ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষার ক্ষেত্রে যদি সে দেশে গিয়ে চান তবে তার পূর্বতন ভাষা হিসেবে ইংরেজিতে দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ IELTS/TOFEL এর সনদপত্রের সত্যায়িত কপি পাঠাতে হবে। তবে কোনো কোনো দেশের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার সনদপত্র লাগে না।
– (নিজ খরচে পড়তে হলে) আর্থিক সামর্থ্যরে প্রমাণপত্র, যিনি আপনার বিদেশে পড়াশোনাকালীন যাবতীয় খরচ বহন করবেন তার অঙ্গীকারপত্র, আর্থিক সামর্থ্যরে প্রমাণস্বরূপ ব্যাংক গ্যারান্টিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। উল্লেখ্য যে, নিজ খরচে পড়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যরে প্রমাণস্বরূপ, স্পন্সরের নামে দেশভেদে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থের ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট এবং অনেক ক্ষেত্রে এ সলভেন্সি সার্টিফিকেট এর বৈধতার পক্ষে বিগত ছয় মাসের ব্যাংক লেনদেন রিপোর্টের সত্যায়িত কপি পাঠাতে হয়। (চলবে)
লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply