বিভাজন নয় ঐক্যের পথই মুক্তির পথ -মঞ্জুরুল ইসলাম

সাধারণ দৃষ্টিতে পৃথিবীতে যত ধর্ম রয়েছে তাদের নিজস্ব মূলনীতি রয়েছে। সব ধর্মের অনুসারীগণ সেই মূলনীতির মাধ্যমে নিজ ধর্মের ব্যাখ্যা দেয়, অনুসরণ করে, এক কথায় বললে ধর্ম পালন করে থাকে। ধর্মীয় প-িতগণ মূলনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেন। পৃথিবীতে ধর্মীয় বিষয়ে স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপক দখল ছিলো ইয়াহুদি আলেমদের। যারা মনমতো ধর্মের ব্যাখ্যা প্রদান করতো। প্রয়োজনে সত্য গোপন করে স্বেচ্ছাচারিতার চরম পর্যায়ে উপনীত হয়ে যেকোনো বিধানের ছাড়পত্র প্রদান করতো। ইয়াহুদিদের সেই সত্য গোপনের জন্য আল্লাহ তায়ালা শাস্তির কথা বর্ণনা করেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَىٰ مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ ۙ أُولَٰئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ
“নিশ্চয় যারা গোপন করে আমার যেসব সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়াত যা নাজিল করেছি সমগ্র মানবতাকে পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য, নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো আল্লাহ তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করেন এবং সকল অভিশাপ বর্ষণকারীও তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে।” (সূরা বাকারা : ১৫৯)
এমনকি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার অভিপ্রায় থেকে ধর্ম চর্চায় আলেম শ্রেণীর খামখেয়ালিপনার সৃষ্টি হয়েছিল। মনমতো চলতে চলতে ¯্রষ্টার সাথে সৃষ্টির অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করতো, আর তা তারা বুঝেই করতো। কুরআনের বর্ণনা মতে,
وَقَالَتِ ٱلْيَهُودُ عُزَيْرٌ ٱبْنُ ٱللَّهِ وَقَالَتِ ٱلنَّصَٰرَى ٱلْمَسِيحُ ٱبْنُ ٱللَّهِۖ ذَٰلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَٰهِهِمْۖ يُضَٰهِـُٔونَ قَوْلَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن قَبْلُۚ قَٰتَلَهُمُ ٱللَّهُۚ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
“আর ইয়াহুদিরা বলে, উজাইর আল্লাহ্র পুত্র এবং নাসারারা বলে, মসীহ্ আল্লাহর পুত্র এটা তাদের মুখের কথা যারা আগে কুফরি করেছিল, তারা তাদের মত কথা বলে। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। তারা কোথা থেকে ধোঁকা খাচ্ছে।” (সূরা তাওবাহ : ৩০)
ইয়াহুদিরা যেমন তাদের ধর্মীয় মূলনীতি থেকে দূরে চলে গিয়েছিল এবং আল্লাহর সাথে শিরক করতো ঠিক তেমনি খ্রিষ্টানরাও আল্লাহর সাথে একাধিক অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করতো। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তারা আল্লাহকে তিনজনের একজন বলে মনে করতো-
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ ۘ وَمَا مِنْ إِلَٰهٍ إِلَّا إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۚ وَإِنْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“নিঃসন্দেহে তারা কুফরি করেছে যারা বলছে, আল্লাহ তিনজনের মধ্যে একজন অথচ এক ইলাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।” (সূরা মায়েদা : ৭৩)
ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানগণ শিরক করলেও তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাবপ্রাপ্ত তাই পবিত্র কুরআনে তাদের আহলুল কিতাব বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে-
لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنْفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ
“আহলি কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফের ছিলো তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ না আসা পর্যন্ত তারা নিজেদের কুফরি থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত ছিলো না।” (সূরা বাইয়্যিনাহ : ১)
এখানে আহলে কিতাব সাব্যস্ত করলেও মুশরিক বলা হয়নি যদিও তারা মহান রবের সাথে বিভিন্নভাবেই শিরক বা অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করেছে। পবিত্র কুরআনে তাদেরকে ইয়াহুদি বা নাসারা শব্দের মাধ্যমে পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আর যারা আহলে কিতাব নয় তাদেরকে মুশরিক বলে অভিহিত করা হয়েছে।
নবী সা. এর নিকট ইসলাম আসার পর সমস্ত ধর্ম ও বিশ^াসকে রহিত করা হয়েছে। অন্য দিকে ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।” (সূরা মায়েদা : ৩)
কাজেই ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন কিছু অনুসরণ করা ও করার নির্দেশ দেয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ
“এখন কি এরা আল্লাহর আনুগত্যের পথ (দ্বীন) ত্যাগ করে অন্য কোন পথের সন্ধান করছে অথচ আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহর হুকুমের অনুগত এবং তারই দিকে সবাইকে ফিরে যেতে হবে।” (সূরা আলে ইমরান : ৮৩)

ইসলাম হলো মানবতার জন্য কল্যাণকর জীবনব্যবস্থা যার সকল দিক কল্যাণকর ও বিজ্ঞান সম্মত। ইসলাম অনুসরণ করলে পার্থিব জীবনেও সে সফলতা অর্জন করতে পারবে। ইসলামে পার্থিব সফলতার চেয়ে পারলৌকিক কল্যাণ বা সফলতায় মূল। ইসলামের সুমহান আদর্শ পৃথিবীবাসীকে দিতে পারে সঠিক নির্দেশনা ও যথাযথ পথের সন্ধান। এই জন্য মানবতা যেন সঠিক পথ খুঁজে পায়। ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় ও কল্পনাপ্রসূত খুঁজে পাওয়া পথ ধরে ধ্বংসের দিকে না যায় তার জন্য ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সাবধান করে দিয়েছে-
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে চায়, তার সে পদ্ধতি কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ব্যর্থ, আশাহত ও বঞ্চিত।” (সূরা আলে ইমরান : ৮৫)
মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির সামনে দুটো পথ রেখে, সেই সকল পথের মধ্যে কোনটা সঠিক কোনটা মুক্তির, কোনটা কল্যাণের সেটা বুঝার জন্য সঠিক উপলব্ধি দান করেছেন। সহজে যেন পথ খুঁজে পায় তার ব্যবস্থাও করেছেন,
وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ
“আমি কি তাকে দু’টি সুস্পষ্ট পথ দেখাইনি?” (সূরা বালাদ : ১০)
দুটি পথের মধ্যে একটি হলো ইসলাম। আর ইসলামই হলো সহজ ও কল্যাণকর। পবিত্র কুরআনে ইসলামকে-
سواء السبسل অর্থাৎ সরল সোজা পথ বলা হয়েছে। অন্য দিকে ইসলাম ব্যতীত অন্যপথ অনুসরণকে ‘ضل سواء السبسل’ বা পথ হারা বলে অভিহিত করা হয়েছে। ইসলাম ব্যতীত আর অন্য সকল পথই ভ্রান্ত ও ধ্বংসের, সেই ধ্বংসের পথ আবার একাধিক। পবিত্র কুরআনে খুবই সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে;
وَأَنَّ هَٰذَا صِرَٰطِى مُسْتَقِيمًا فَٱتَّبِعُوهُۖ وَلَا تَتَّبِعُوا۟ ٱلسُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِۦۚ ذَٰلِكُمْ وَصَّىٰكُم بِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“এটিই আমার সোজা পথ। তোমরা এ পথেই চলো এবং অন্য পথে চলো না, কারণ অন্য পথে চলা তোমাদেরকে মহান রবের পথ থেকে সরিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেবে। এ হেদায়াত তোমাদের রব তোমাদেরকে দিয়েছেন সম্ভবত তোমরা বাঁকা পথ অবলম্বন থেকে বাঁচতে পারবে।” (সূরা আনয়াম : ১৫৩)
ইসলামের বিধানকে করা হয়েছে সকলের উপযোগী, সহজ ও অনুসরণীয়। যে কেউ চাইলে তা অনুসরণ করতে পারে। তবে মূলনীতির ক্ষেত্রে ইসলাম সুদৃঢ়, চাইলেই তা রদবদল করা যায় না। নতুন করে বিধান রচনা করে যুক্ত করা যায় না। তবে ব্যাখ্যা ও গবেষণা করা যায়। ব্যাখ্যা বা গবেষণার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করে, ইসলামের সুমহান বিধানের বিপরীত বিধান রচনা করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
ইসলামের বিধানের ক্ষেত্রে যেটা আবশ্যকীয় বিধান অর্থাৎ ফরজ বা ওয়াজিব সেটা নিয়ে তেমন কোন মতপার্থক্য নেই। তবে বিধান পালনের পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিদের ইজতেহাদ ও বুঝগত কারণে পার্থক্য সৃষ্টি হলেও মূলনীতি এক ও অভিন্ন। তাই বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা শুধু ক্ষতিরই কারণ, অন্য কিছু বয়ে আনতে পারে না। পবিত্র কুরআনুল কারীমে কোন বিষয়ে মতপার্থক্য সৃষ্টি হলে করণীয় বলে দেওয়া হয়েছে;
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয় তাহলে সে বিষয়টি (মীমাংসার জন্য) আল্লাহ ও তার রাসূলের নিকট ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান এনে থাক। এ পন্থায় উত্তম এবং এর পরিণামও প্রকৃষ্টতর। (সূরা নিসা : ৫৯)
যে কোন মতভেদের সঠিক ও সহজ সমাধান হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূল সা.-এর সুন্নাহর নিকট ফিরে আসা। কিন্তু বিকল্প পথ ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হলো পরকালীন জীবনের শাস্তিকে প্রস্তুত করার শামিল। তাইতো বলা হয়েছে,
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ ۚ وَأُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
“তোমরা যেন তাদের মতো হয়ে যেয়ো না যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য হিদায়াত পাওয়ার পরও মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে। যারা এই নীতি অবলম্বন করেছে তারা সেদিন কঠিন শাস্তি পাবে।” (সূরা আলে-ইমরান : ১০৫)
ইসলামের বিধান খুবই স্পষ্ট, সহজেই আদেশ ও নিষেধ বুঝা যায়। আমলের ক্ষেত্রেও রয়েছে সীমাহীন ফলপ্রসূ উপকার। ব্যক্তি যদি ইসলামের সুমহান আদর্শকে যথাযথভাবে পালন করে তাহলে দুনিয়ার এই কালপরিক্রমায় সে উপকার পাবে। যদিও দুনিয়ায় লাভবান হওয়া মুখ্য বিষয় নয় বরং পরকালীন মুক্তির জন্য দুনিয়াকে যথাযথভাবে কাজে পরিণত করাই আসল বিষয়।
ভাবনার বিষয় হলো ব্যক্তির বুঝগত জায়গা নিয়ে। যে যেমন বুঝেন বা কোন ব্যক্তির অনুসরণ করার মাধ্যমে যা বুঝেছেন সেটাকে যত বেশি গুরুত্ব দেন ততবেশি ইসলামের মূলনীতির সহজ ও সাবলীলতাকে গুরুত্ব দেন না, যে কারণে সৃষ্টি হয় মতপার্থক্য এবং সেই মতপার্থক্য রূপ নেয় বিভেদে।
বর্তমান বিশে^ এসেও আলেম শ্রেণির বিভেদ। অথচ এখন খুব সহজে ইসলামকে জানা যায় এবং ইসলামের বিধানের কোন বিষয়ে বুঝার জন্য শত শত মাইল পথ অতিক্রম বা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। ইসলামের বিধানসমূহের স্পষ্ট ব্যাখ্যা মুসলিম উম্মাহর নিকট দিনের আলোর ন্যায় পরিষ্কার এবং জ্ঞানী শ্রেণির নিকট সমাদৃত। শুধু সঠিক উপলব্ধির মাধ্যমে মন ও মগজে ধারণ করা ও গুরুত্ব দিয়ে পালন করা। কিন্তু উপলব্ধিগত জায়গা বিশ^ব্যাপী বিভেদ সৃষ্টি করছে। মতপার্থক্য আছে এবং থাকবে কিন্তু এর কারণে বিভেদ হতে পারে না বরং সম্মান ও মর্যাদার মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করা মুসলিম উম্মাহর আবশ্যকীয় করণীয় কাজ।
দৃশ্যপট ভিন্ন, কেউ শুধু কুরআনকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে, হাদিস অনেকটাই বাদ দেয়ার মত। তবে কুরআনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, এর মানে এমন নয় যে হাদিস বাদ দিতে হবে। সহিহ হাদিস কোন সময় কুরআনের বিরোধী হতে পারে না। প্রকৃত সমস্যা হলো উপলব্ধিগত দিকে সাহাবীদেরকে গুরুত্ব না দেয়া।
ইসলামে অনেক বিদয়াতের প্রচলন করা হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে সেই বিদয়াতের দ্বারা শিরক সাব্যস্ত হয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে ঈমানের পরিপন্থী বা ঈমান ভঙ্গের কারণ হয়ে যায়। সে সকল বিদয়াত রাসূল সা.-এর জন্ম, মৃত্যু, মিলাদ, কিয়াম বা রাসূল সা. এর মর্যাদা বর্ণনায় অতি বাড়াবাড়ির মাধ্যমে হয়ে থাকে। বিদয়াতের পরিণতি হলো জাহান্নাম। রাসূল সা. পরিষ্কার ভাষায় বর্ণনা দিয়ে পৃথিবীবাসীদের সাবধান করে দিয়েছেন;
إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكُلُّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ. رواه مسلم والنسائى واللفظ للنسائى
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেকটি বিষয় বিদয়াত। এবং প্রত্যেক বিদয়াত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। (সহিহ মুসলিম-১৫৩৫, সুনানে নাসায়ী-১৫৬০)
ব্যক্তি অনেক সময় বিদায়াতকে প্রশ্রয় না দিলেও নিজের মত প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতার সাথে বা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রাসূল সা.-এর রাষ্ট্রব্যবস্থা, জিহাদ ও বিচারিক কার্যক্রমকে সরাসরিভাবে তথ্য গোপন না করে, ভিন্ন কায়দায় মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশকে গোপন করার ঘোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইকামাতে দ্বীনের ব্যাপারে জোরেশোরে বিরোধিতা করে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে অস্বীকার করা হচ্ছে কুরআনের আয়াতকে। ইকামাতে দ্বীন নিয়ে কোন বিরোধ থাকা উচিত নয়। বিভেদ বা বিচ্ছিন্নতাবাদ হলো সংঘবদ্ধ জীবনের বিপরীত। ইসলামে বিচ্ছিন্ন থাকাকে অনুমোদন দেয়া হয়নি। যা সূরা আশ-শুরার ১২ ও ১৩ নম্বর আয়াত পড়লে পরিষ্কার হয়। তারপরও ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ থাকতে পারে না বা সত্যকে গোপন করে বিভেদ সৃষ্টি করা সমুচিত হতে পারে না। বিভেদ বা বিচ্ছিন্নতা হলো জামায়াতহীন জীবন। সত্য উপলব্ধি না করে, ইসলামের মূলনীতি বা বিধান আড়াল করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন নষ্ট করে ইসলামকে ধ্বংসের ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চালানো ছাড়া কিছু না। এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সমাধান কিতাবুল্লাহ ও রাসূল সা. এর সুন্নাহ এবং সেই সাথে সাহাবীদের দ্বীন উপলব্ধিগত শিক্ষা। এই তিনটি বিষয়, বিভেদ দূর করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন নষ্ট ও সত্য গোপনের মত মহা অপরাধ থেকে মুক্ত করে মুক্তির পথকে সুগম করবে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, ছাত্রসংবাদ

SHARE

Leave a Reply