বিশ্ববিদ্যালয় প্রেক্ষাপট ও ভর্তিচ্ছুদের ভাবনা । মেহেদী হাসান সানি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রেক্ষাপট ও ভর্তিচ্ছুদের ভাবনা । মেহেদী হাসান সানিবর্তমান পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে উচ্চতর জ্ঞান চর্চার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একটি অদ্বিতীয় স্থান। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে উচ্চশিক্ষা প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণামূলক কাজকর্ম করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি সেটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। চীনাদের দাবি হচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় চীনের ‘সাংহাই হায়ার স্কুল’। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ২২৫৭ সালে। তবে অল্পকাল পরেই এটি বন্ধ হয়ে যায়। পাকিস্তানের দাবি পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ‘তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। প্রতিকূল যোগাযোগব্যবস্থা, অমসৃণ পথের দুঃসহ যন্ত্রণা আর মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে উচ্চশিক্ষার জন্য সুদূর বেবিলন, গ্রিস, সিরিয়া, পারস্য, আরব, চীন থেকে মানুষ এখানে আসত। বর্তমানে এটি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত এবং এর ধ্বংসাবশেষ এখানো সেখানে সংরক্ষিত আছে।
ভারতের দাবি পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বিহারের ‘নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি খ্রিস্টীয় ৫ম শতাব্দীতে তৎকালীন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তান্ত্রিক বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর কয়েক দফায় বন্ধ হলেও প্রায় ১২০০ শতাব্দী পর্যন্ত এর কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ ভারত সরকার ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১১ জন শিক্ষক ও ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পুনরায় এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে।
এসব মত-দ্বিমত পেছনে রেখে পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অধিক গ্রহণযোগ্য দাবিটি উঠেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ফেজ নগরীর ‘আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়’ নিয়ে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (UNESCO) এর ঘোষণা মতে, “University of Al Quaraouiyine” পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে। তখন ছিল ইসলামের সোনালি যুগ। মরক্কোর শাসক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি এ ভূমিকে আইন ও বিজ্ঞানের কেন্দ্র হিসেবে কবুল করুন।’ সে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এক ধনাঢ্য মহিলা ফাতেমা আল ফিহরি এগিয়ে এলেন। বাবার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পত্তি তিনি ও তার বোন অকাতরে দান করে গড়ে তুলেন বিশ্বসভ্যতার প্রথম উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান আল-কারাউইনকে। প্রথমে নির্মাণ করা হয় একটি সুবিশাল মসজিদ, সেখান থেকে দ্রুতই ধাপে ধাপে সাহিত্য, ভূগোল, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শনশাস্ত্রসহ চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ে চর্চা ও গবেষণা শুরু হয়। অচিরেই তার ছাত্রসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় আট হাজারে। ফিজকে তখন বলা হতো ‘পাশ্চাত্যের বাগদাদ’। ইতিহাস থেকে দেখা যায় কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন একঝাঁক জগৎখ্যাত ব্যক্তি ও গবেষক বের হয়ে আসেন যাদের দ্বারাই পরবর্তীতে ইউরোপে উচ্চশিক্ষার দুয়ার উন্মুক্ত হয়।
মধ্যযুগে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছিল অনেকটা ধর্ম ও ধর্মতত্ত্ব পড়ানোর কেন্দ্র। অবাক করা বিষয় হচ্ছে অ্যারিস্টটল, সক্রেটিস, প্লুটোর মত মহাপণ্ডিত থাকা সত্ত্বেও গ্রিক বা রোমানদের কোন স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। কালের বিবর্তনে তারা মধ্য এশিয়া ও আরবের বাগদাদ, বসরা, কায়রো থেকে জ্ঞান আহরণ করে নিজেরাই আজ শিক্ষা ও সভ্যতার ধারক-বাহক বনে গেছে। তাদের জ্ঞানচর্চা প্রথমে বিকশিত হয় ইতালির ভূমধ্যসাগরস্থ উপদ্বীপ সিসিলি এবং তৎকালীন মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র স্পেনের কর্ডোভা শহরকে কেন্দ্র করে। বর্তমান পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবই এখন পাশ্চাত্য বিশ্বের দখলে। সেগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করলেও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো আশানুরূপ র‌্যাংকিং অর্জন করতে পারেনি। এর জন্য আমাদের রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা, অব্যবস্থাপনা আর অদক্ষতাই দায়ী।
আধুনিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা এক কথায় অপরিসীম। বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব ইত্যাদিসহ অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংকিং, কৃষি ও খনিজসম্পদ উন্নয়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও স্থাপত্যশিল্পের বিস্তৃত বিষয়াদির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষেত্র বিশেষ সীমাবদ্ধতা থাকলেও রাষ্ট্রব্যবস্থার উন্নতি সাধনে সহোযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিভিন্ন বিষয়ে গবেষক ও বিশেষজ্ঞ তৈরীকরণ এবং রাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী কর্মদক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু বলেছিলেন, “একটি দেশ ভালো হয়, যদি তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো হয়।”
বাংলাদেশে সাধারণত তিন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৪৪টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ২টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রায় শতাধিক বিশেষ কলেজসমূহ প্রতিনিধিত্ব করছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মোটামুটি ৫টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষিবিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধিভুক্ত; যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি আদেশ (১৯৭৩ সালের পি.ও নং ১০) অনুযায়ী গঠিত একটি কমিশন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এর অধীনে ১৩টি অনুষদ, ৮৩টি বিভাগ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ২০টি আবাসিক হল ও শতাধিক অধিভুক্ত কলেজ ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬) আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। শাটল ট্রেন বিশিষ্ট ও পাহাড়ঘেরা সুনিবিড় এই ক্যাম্পাসের রয়েছে ১০টি অনুষদ, ৫৪টি ডিপার্টমেন্ট ও ১২টি আবাসিক হল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩) উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। এর রয়েছে ৯টি অনুষদ, ৫৯টি ডিপার্টমেন্ট, ৬টি ইনস্টিটিউট ও ১৭টি আবাসিক হল। ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০) দেশের একমাত্র আবাসিক অধিগম্য বিশ্ববিদ্যালয়। ৬টি অনুষদসহ এর রয়েছে ৩৪টি ডিপার্টমেন্ট, ২টি ইনস্টিটিউট ও ১৬টি আবাসিক হল।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল সম্পর্কিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬২ সালে ঢাকার বুকে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসে রয়েছে ৫টি অনুষদ, ১৮টি বিভাগ ও ৮টি আবাসিক হল। এর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৫,৫০০ জন। দেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬১)। ময়মনসিংহ শহরের প্রায় ১,২৫০ একর জমি বিশিষ্ট বাকৃবির মনোরম ক্যাম্পাসে রয়েছে ৬টি অনুষদ, ৪৩টি বিভাগ ও ১৩টি আবাসিক হল।
বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ক্যাম্পাসের পাশাপাশি দেশব্যাপী তাদের অনুমোদিত কলেজ/প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রায় ১৬ শতাধিক কলেজ রয়েছে যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ ৭টি কলেজের শিক্ষাকার্যক্রমকে অধিক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজ বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গের প্রথম উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সর্বস্তরের শিক্ষাকে দূরশিক্ষণপদ্ধতির মাধ্যমে সকল স্তরের জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করতে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশে স্নাতক পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রায় ৩০টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। কলেজগুলো পরিচালিত হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে এবং প্রতিটি কলেজই একটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অধিভুক্ত থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি
একজন শিক্ষার্থীর সমগ্র শিক্ষাজীবনে যে সময়টাকে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়, তা হচ্ছে এইচএসসি. পরীক্ষার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সময়টা। শৈশবের পাঠশালা বা স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগ পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী যতটুকু নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারে ততটুকু মেধাশক্তি তার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে এই ভর্তিযুদ্ধে ব্যবহার করার সুযোগ পেয়ে থাকে। আর এইচএসসি পরীক্ষার পর প্রস্তুতির বোনাস টাইম হিসেবে আরো ৩ থেকে ৪ মাস সুযোগ থাকে যার দ্বারা একজন শিক্ষার্থী তার মেধাশক্তিকে আরেকটু ধারালো ও মজবুত করতে পারে। ভর্তি পরীক্ষার সময় এইচএসসির রেজাল্ট নিয়ে নতুন করে কোনো দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। রেজাল্ট যা হওয়ার তাই হবে।

প্রথমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেম এক রকম নয়। বিভিন্ন অনুষদের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ইউনিটে পরীক্ষণপদ্ধতি। প্রথমে একজন শিক্ষার্থীকে ঠিক করতে হয় সে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক। তারপর নিজ অবস্থানের আলোকে তার ইউনিট যাছাই করে ঠিক করতে হবে। এই দু’টি বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটাই মুখ্য। কারণ আবেগ বা পরিবারের চাপে কিংবা বন্ধুদের দেখাদেখি কেউ যদি এখানে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় সেটার মাশুল শিক্ষার্থীকে বেশ দীর্ঘ সময় ধরে দিতে হবে। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই অভিভাবক বা সিনিয়র ভাইদের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রথমেই যে কয়েকটি বিষয়ে ক্লিয়ার হতে হবে-
আমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শতভাগ প্রস্তুতি নিব;
কোন অনুষদ বা ইউনিট আমার জন্য ভালো হবে;
সেই অনুষদ বা ইউনিটে আসন কতটি;
বিগত সালের প্রশ্নগুলো কেমন ছিল;
আমার প্রস্তুতি কতটুকু আছে এবং লাগবে;
এই সিলেবাসের আলোকে প্রস্তুতি নিয়ে অন্য আর কয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি কাভার দেয়া যাবে।

বিজ্ঞান বিভাগ
একজন শিক্ষার্থী নবম শ্রেণীতে গ্রুপ চয়েজের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারের ৫০% গতিপথ নির্ধারণ করে ফেলে। ইন্টারমিডিয়েট পড়া অবস্থায় তা ৬০% এ ঠেকে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা ৭০-৮০% নির্ধারিত হয়ে যায়। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্র তুলনামূলক বেশি এবং এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও হয় অনেক। বিজ্ঞানবিষয়ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে প্রথমে প্রশ্নের সিলেবাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে হবে। কোন্ কোন্ বিষয় বাধ্যতামূলক ও কোন বিষয়ের প্রশ্ন ঐচ্ছিক তা পরিষ্কার হওয়া চায়। তারপর দেখতে হবে পূর্ণমান, মানবণ্টন ও সময়। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য কতটুকু সময় পাওয়া যাবে তা আগে থেকে হিসাব করে নিতে হবে এবং সে আলোকে প্রস্তুতি নিতে হবে। মেডিক্যাল আগ্রহীদের জন্য বায়োলজি, রসায়ন এবং ইংরেজির জন্য যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আগ্রহীদের জন্য পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও ইংরেজির প্রস্তুতিটাই মুখ্য।
পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের জন্য কমপক্ষে ২ জন লেখকের বই সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
বেসিক অংশগুলো বার বার (২ বই সামনে রেখে) রিভাইস দিতে হবে।
গণিতের জন্য প্রচুর প্র্যাকটিস করতে হবে এবং কত অল্প সময়ে নির্ভুল উত্তর করা যায় সেটার চেষ্টা করতে হবে।
বায়োলজি প্রস্তুতির জন্য মূল বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আন্ডার লাইন করে করে টপিক্স/অধ্যায়গুলো পড়তে হবে (প্রয়োজনে একাধিক বার, একাধিক কালার পেন ব্যবহার করে)।

মানবিক বিভাগ
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তিযুদ্ধটি অনেকটা কৌশলগত সামরিক অভিযানের মত। যার কৌশল ও প্রস্তুতির মাঝে শতভাগ আত্মবিশ্বাস থাকবে সেই এখানে সফলতা লাভ করবে। এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এ জন্য মানসম্মত ২/১টি বই সংগ্রহে রাখতে হবে। ভোকাভোলারি ও বেসিক গ্রামারগুলো নিয়মিত ঝালাইয়ের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানে যে যত বেশি অ্যাডভান্স থাকতে পারবে সে ততটা সুবিধা আদায় করে নিতে পারবে। এ জন্য নিয়মিত দু’টি দৈনিক পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পাতাটি সাধারণ জ্ঞানের জন্য খুবই সহায়ক। এ ছাড়াও চলমান টপিক্স ও হট টপিকসগুলোতে নিয়মিত চোখ রাখতে হবে, যেমন- ক্রিকেট বিশ্বকাপ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, নতুন বাজেট, ভারতের লোকসভা নির্বাচন ইত্যাদি। বাংলা বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যাকরণ ও সাহিত্যে ভালো মানের পণ্ডিত না হলেও অন্তত ভালো মানের ছাত্র হওয়া আবশ্যক।

ব্যবসায় শিক্ষা
ব্যবসায় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিবিএ, আইবিএ পড়ার স্বপ্ন সবসময় বিরাজ থাকে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন একটু সুচিন্তিত দৃঢ় পদক্ষেপ। যথারীতি বাংলার ওপর ভালো একটি দখল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে মাধ্যমিকের বাংলা ব্যাকরণ বইটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে পাস করতে হয়। অনেকের জন্য এটি একটি মাথাব্যথার কারণ। সে জন্য ভোকাভোলারি ও প্রচুর সিনোনিম-অ্যান্টোনিম মুখস্থ রাখতে হবে। পাশাপাশি বেসিক গ্রামারগুলো নিয়মিত চর্চা রাখতে হবে। হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ সাবজেক্টে বেশি নম্বর উঠানোর চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে দুইজন লেখকের বই সংগ্রহ করে ভালো করে রিভাইস করতে হবে। আর ব্যবসা সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ওপর নজর রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

স্পেশাল/মিক্সড ইউনিট
সাবজেক্টিভ ইউনিটের বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্পেশাল/মিক্সড ইউনিট। এগুলোতে রয়েছে এলএলবি, আইআর, মেরিন, ফিশারিজ, ফরেস্ট্রি, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং কিংবা মাইক্রোবাইলোজির মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাবজেক্ট। এগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে পূর্ব থেকেই পর্যাপ্ত ধারণা নিয়ে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও সিলেবাস অনুযায়ী সাবজেক্টের ওপর ভালো প্রস্তুতি রাখা আবশ্যক। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবজেক্টিভ ইউনিটে একটি নিয়মিত বিষয় পরিবর্তন করে বিকল্প আরেকটি বিষয়ে উত্তর দেয়া যায়। সে ক্ষেত্রে পূর্বেই ঠিক করে নিতে হবে আমি কোন সাবজেক্টে পরীক্ষা দিব।

স্কোর গণনা
ভর্তি পরীক্ষার জন্য জিপিএ-৫ অত্যাবশ্যকীয় কোন বিষয় নয়। তবে উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ থাকলে কিছুটা অ্যাডভান্টেজ থাকা যায়। যেমন- ঢাবিতে পরীক্ষা হয় (৮০+১২০)=২০০ মার্কের। এখানে ৮০ হল রেজাল্ট মার্ক। এসএসসি পয়েন্টকে ৬ দিয়ে ও এইসএসসি পয়েন্টকে ১০ দিয়ে গুণ করে পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের সাথে তা যোগ করে হিসাব করা হয়। তবে কেউ জিপিএ-৫ না পেয়ে থাকলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। যেমন- শাবিপ্রবিতে পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০, সেখানে রেজাল্ট মার্ক ৩০ ও পরীক্ষার নম্বর ৭০। কেউ যদি রেজাল্ট এ ৩০ই পায় কিন্তু পরীক্ষায় পায় ৪০ তাহলে তার টোটাল মার্ক হয় ৭০। আবার যার রেজাল্ট ৩০ এ ২৫ সে যদি ভর্তি পরীক্ষায় ৭০ এ ৫০ পায় তাহলে তার টোটাল মার্ক হয়ে যায় ৭৫। সে কিন্তু তখন ৫ মার্ক এগিয়ে থাকবে। তাই এটা প্রত্যেকেরই খেয়াল রাখা উচিত।

নেগেটিভ মার্কিং-
এমসিকিউ প্রশ্নের জন্য নেগেটিভ মার্কিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট। পরীক্ষার্থীকে আগেই জেনে নিতে হবে যেখানে সে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে সেখানে নেগেটিভ মার্কিং আছে কিনা এবং থাকলে সেটা কত? যদি কোন পরীক্ষায় প্রতি প্রশ্নের মার্ক ১ থাকে আর নেগেটিভ মার্ক ০.২৫ হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ১ জন শিক্ষার্থীর উত্তরকৃত মার্ক থেকে ১.২৫ মার্ক কেটে নেয়া হবে। সুতরাং অনুমাননির্ভর কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে হবে। তবে হ্যাঁ, কোন প্রশ্নের উত্তরের ক্ষেত্রে ৫০% নিশ্চিত হলে তখন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া যেতে পারে। তাতে করে মূল মার্কের খুব বেশি ক্ষতি হবে না।

রিটেন পরীক্ষা-
সম্প্রতি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এমসিকিউ পরীক্ষার পাশাপাশি রিটেন পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোন ইউনিটের প্রশ্নের ধরন কেমন হবে সেগুলো আগে থেকেই ভালো করে জেনে নিয়ে তার আলোকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

সেকেন্ড টাইম অ্যাডমিশন-
কোন শিক্ষার্থী দুর্ভাগ্যবশত প্রথমবার কোথাও চান্স না পেলে দ্বিতীয়বার আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ আছে। তবে এই সুযোগ দিন দিন কমে আসছে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমবার কিভাবে চান্স পাওয়া যায় সেটার জন্যই প্রত্যেকের আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানো উচিত।

গুচ্ছ সিস্টেমে পরীক্ষা
বর্তমানে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদা ভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে। এটি পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ কষ্টকর ও ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়। ফলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে গুচ্ছ সিস্টেমের পরীক্ষা নেয়ার। অর্থাৎ একই ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষা এক প্রশ্নের মাধ্যমে নেয়া। এ ব্যাপারে আলোচনাও এগিয়ে চলছে বেশ। হয়তোবা দুই-এক বছরের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন শুরু হবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম, সময় ও অর্থ যথেষ্ট পরিমাণে লাঘব হবে। তবে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সরকার ও কর্তৃপক্ষকে যথেষ্ট পরিমাণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে কোন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

কোচিং
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি মৌসুমে কোচিংগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় বেশ লক্ষণীয় একটি বিষয়। কোচিং সেন্টারগুলো এ সময় শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে আকর্ষণীয় কিছু প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে থাকে। এতে করে শিক্ষর্থীদের মেধাচর্চা ও প্রতিযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোচিং সেন্টার কাউকে চান্স পাইয়ে দিতে পারে না। শুধুমাত্র পথ দেখাতে পারে, উৎসাহ দিতে পারে কিংবা শিখাতে পারে যুদ্ধের রণকৌশল। মূল কাজটুকু কিন্তু করতে হবে সৈনিককেই। এ জন্য মূল বই পড়ার এবং বাসায় বেশি বেশি প্র্যাকটিস করার বিকল্প নেই। তবে হ্যাঁ, কোচিং সেন্টারের কারিকুলাম, নিয়মিত ক্লাস টেস্ট, মডেল টেস্ট ইত্যাদিতে যারা ভালো করবে তাদের জন্য ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হবে, এটিই স্বাভাবিক। এ জন্যই বলা হয় “কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ।”

আরো কিছু পরামর্শ-
– নির্দিষ্ট রুটিন করে পড়া এবং দৈনিক কমপক্ষে ১৩-১৪ ঘণ্টা পড়ার অভ্যাস করা।
– খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা এবং খাদ্য তালিকায় মৌসুমি ফল ও ক্যালরিযুক্ত খাবার রাখা।
– যথাসম্ভব খোলা বাজার/ভেজাল পণ্য/ফুটপাথের ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ না করা।
– শরীরের প্রতি যত্ন নেয়া এবং সময়মতো ঘুমানো।
– ফেসবুক, স্মার্টফোন, কম্পিউটারের মত সময় নষ্টকারী উপকরণগুলো থেকে আপাতত দূরে থাকা।
– ধর্মীয় ইবাদত বন্দেগি পালনের দিকে সচেতন থাকা। মনে রাখতে হবে সৃষ্টিকর্তার রহমত ও করুণা ছাড়া পৃথিবীর কেউই কোন সাফল্য লাভ করতে পারেনি।

সতর্কতা
মানুষের জীবন খুব ব্যাপক একটি বিষয়। এর পরিধি অনেক। বিদ্যাচর্চার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একটি আকর্ষণীয় স্থান। কিন্তু এরও রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা। দেশে মোট যে পরিমাণ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাদের সবাইকে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ করে দিতে পারে না। এর রয়েছে সীমিত আসনসংখ্যা। বিষয়ভিত্তিক আসনও সীমিত। সুতরাং ভর্তিযুদ্ধে কেউ যদি আশানুরূপ সাফল্য লাভ করতে না পারে তখন খুব বেশি হতাশ হয়ে যাওয়া কিংবা শিক্ষাজীবনের ইতি টানা এমনটি কখনোই করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয় কিংবা নিশ্চিত চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিষ্ঠানও নয়। চাকরি বা জীবিকার জন্য অবশ্যই সবাইকে আবারো একটি চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। সে যুদ্ধে কে কোথা থেকে পড়ল সেটা বড় বিষয় নয়, সেখানে নিজের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তাকে পুনরায় সাফল্য লাভ করতে হয়।
জ্ঞান সাধনা জীবনের এক অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। জ্ঞান মানুষকে উন্নত করে, সভ্যতার পথ দেখায়। আবার সভ্যতা ধ্বংসের জন্যও জ্ঞান প্রয়োজন। আসল বিষয় হলো জ্ঞানের ব্যবহার। আগুন জ্বালতে পারাটাও এক প্রকার জ্ঞান, যা দিয়ে আমরা রান্নার চুলা বা মোমবাতি জ্বালিয়ে থাকি। কিন্তু সেই জ্ঞান দিয়ে যদি আমরা ঘরে বা বাজারে আগুন লাগাই সেটাই হবে সভ্যতা ধ্বংসের সূচনা। এ জন্য সকল শিক্ষাই ব্যর্থ হবে যদি না আমরা জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার না করি। এ জন্য প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষার যা মানুষের মূল্যবোধকে বিকশিত করে। রাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে, তা হলো উদ্যোক্তা তৈরি। বিশেষত আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ সাধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোত্তম স্থান। বিশ্বের দরবারে জাতিগতভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং মানব সভ্যতার মানদণ্ডকে কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অতুলনীয়।

লেখক: বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

SHARE

Leave a Reply