বেদনাবিধুর আটাশে অক্টোবর

masumআল্লাহপাকের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। যাদেরকে উপাধি দেয়া হয়েছে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব। তারা আল্লাহ পাকের সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি। তাই তারা যেন শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে না যায় সে জন্য গাইড লাইন হিসেবে আল কুরআনকে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, যারাই আমার কুরআন অনুসরণ করবে না তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) তাঁর বিদায় হজের বাণীতে বলেছেন, ‘‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংস হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর কুরআন ও আমি রাসূলের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে থাকবে।”

আমরা যদি নিজেকে মুসলিম দাবি করি এবং মুসলিম হিসেবে মরতে চাই তাহলে আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের সুন্নাতকে অনুসরণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এমন একটি সংগঠন যারা দেশের ছাত্রসমাজকে কল্যাণের পথে আহবান জানায়, ছাত্রসমাজকে সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে। লেখাপড়ার পাশাপাশি কুরআন হাদিসের চর্চা করে এবং আমল করে। এমন একটা সুন্দর দলের তুলনা অন্য কোন দলের সাথে মিলে না। এরা মানুষকে নামাজি ও ভদ্র বানায়। এই বাংলাদেশের বুকে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অপকর্মের প্রমাণ দেখাতে পারবে না। আল্লাহর রহমতে এই সংগঠন একজন ছাত্রকে পিতামাতার চক্ষুশীতলকারী সন্তান হিসেবে সমাজে উপহার দেয়।
এই সংগঠনই করতো শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মাদ মাসুম, শহীদ গোলাম কিবরিয়া শিপন, শহীদ মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম ও শহীদ রফিক, শহীদ ফয়সল। তারা তাদের এলাকার শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে সুপরিচিত ছিল। তাদের কথা মনে হলে এখনো তাদের এলাকার লোকেরা চোখের পানি ফেলেন।

সেদিন যারা পল্টনে শহীদ হয়েছেন তাদের চরিত্র হুবহু একই রকম ছিল। মাসুম শিশুকাল থেকে (৬-৭ বছর বয়স) নামাজ পড়তো জামাতের সাথে। ছোটবেলায় খেলা করছে বললাম, আজান হয়েছে মসজিদে যাও। সাথে সাথে খেলা ছেড়ে মসজিদে চলে যেত। কোন প্রকার অবহেলা করতো না। রোজার বেলায়ও তাই করতো। ৫-৬ বছব বয়স থেকে রোজার প্রতি আকর্ষণ তীব্র। পাল্লা দিয়ে রোজা রাখতো চাচাতো ভাইবোনদের সাথে। সাইফুল্লাহ কোন দিন কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করতো না। সে খুবই ধৈর্যশীল ছিল। একটা ছোট ঘটনা মনে পড়ে আমাদের বাসার সামনে ফুলের গাছ লাগিয়েছিল সখ করে। গাছে ফুল ধরেছে। বাড়ির ভাড়াটিয়ার ছোট একটি মেয়ে ফুল ছিঁড়ে ফেলেছে। মাসুম সাথে সাথেই দেখে ফেলেছে এবং মেয়েটির হাত ধরে তাকে জিজ্ঞেস করছে, পেছনে মেয়েটির মা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে ঘটনাটি কী দাঁড়ায়। এদিকে মেয়েটির সাথে মাসুম শখের ফুল ছেঁড়ার কারণে কোন প্রকার দুর্ব্যবহার তো করেইনি বরং তাকে আদর করে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় দিয়েছে। মাসুম শহীদ হওয়ার পর সবার কাছে সেই মহিলা কেঁদে কেঁদে বলেছে, এমন সুন্দর তার আচরণ ছিল। আমার মেয়েকে ভেবেছিলাম মারবে বা বকাঝকা করবে। কিন্তু মাসুমের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।

অভাবীদের অভাব দূর করার ব্যাপারে সে ছিল তৎপর। এক গরিব ছাত্রের ভর্তির টাকার ব্যবস্থা করে নিজের প্রিয় পছন্দের জামাটি পরিয়ে দিয়ে তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছিল শহীদ মাসুম।

ছাত্রদেরকে পয়সা ছাড়া পড়াতো। প্রতি বছর নতুন বই কিনে দিতাম। বছর শেষে সেই বইগুলো বিনা পয়সায় গরিব ছাত্রদেরকে দিয়ে দিত। শুধু বইয়ের বেলায় নয়, সব ব্যাপারেই যেমন শখের খেলনা আমেরিকা থেকে তার মামা তার জন্য এনেছিল সেই খেলনা ইসলামের পথে ছেলেদেরকে আনার জন্য এবং ভাব জমানোর জন্য দেখা গেল সে দিয়ে দিয়েছে। পয়সা খরচ করে ছোট ছাত্রভাইদেরকে খাওয়াতো। বাড়িতে ডাবগাছ, আমগাছ ও বরইগাছ আছে। সেখান থেকে ফল পেড়ে তাদেরকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করতো। এলাকার প্রত্যেকটি ছেলের জন্য অন্য রকম একটা টান ছিল তার।

সংগঠনে সময় দিত বেশি। মাঝে মাঝে আমি বকা দিতাম পড়াশোনার জন্য। কিন্তু নিয়মিত পড়াশোনা করতো। তার একটা সুন্দর রুটিন ছিল। লেখাপড়ায় ও মেধাবী ছিল। মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে প্রথম বিভাগ ৩টি লেটারসহ ও বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ইংলিশে অনার্সে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু খুব তার পেরেশানি ছিল ইংল্যান্ডে গিয়ে পড়াশোনা করার। কারণ সেখানে তার প্রিয় খালা তো তার জন্য সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল। কিন্তু সেই আশা আওয়ামী হায়েনারা পূরণ হতে দিল না।
শহীদ মাসুমের ভেতরে কখনো অলসতা স্থান পেতে পারেনি। সংগঠনের কাজের বেলায় ছিল সে সদা তৎপর। রাত জেগে পোস্টারিং ও দেয়াল লিখনের কাজ সে করেছে নির্ভয়ে। সাথীদের নিয়ে নিজের হাতে চুলায় গাম তৈরি করে সারা রাত না ঘুমিয়ে এসব কাজ করতো। শত কাজের মাঝেও যখনই দায়িত্বশীল ডাকতেন সব কাজ ফেলে দিয়ে তাতে সাড়া দিত।

মোট কথা সংগঠনের জন্য সে ছিল নিবেদিতপ্রাণ। পাড়ার দুষ্টু ও চঞ্চল ছেলেদেরকে খেলাধুলার মাধ্যমে সংগঠনে ভেড়ানোর চেষ্টা করতো। সেই জন্য নিয়মিত খেলাধুলায় তাদের সাথে সময় দিত। কিছু ছেলে ফজরের নামাজ পড়ার বেলায় অবহেলা করতো বলে ফুটবল খেলার প্রলোভন দেখিয়ে তাদেরকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ফজর নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করতো শহীদ মাসুম।

সুন্দর কবিতা লিখতে পারতো। সিগারেট নিয়ে, জন্মভূমি বাংলাদেশকে নিয়ে সাড়া জাগানোর মতো কবিতা লিখেছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই কবিতাগুলো বন্যার সময় হারিয়ে গিয়েছে বিধায় উল্লেখ করতে পারলাম না। শহীদ মাসুম অনেক সুন্দর গান করতে পারতো। এলাকার বিভিন্ন প্রোগ্রামে স্টেজে সুন্দর সুন্দর গান গেয়ে শুনাতো সবাইকে। শহীদ মাসুম সুন্দর সুরে কুরআন তেলাওয়াত করতো। এক কর্মী বোন সকালবেলা আমার সাথে দেখা করার জন্য আমাদের বাসায় এসেছিলেন। মাসুম সামনের রুমে বসে কুরআন তেলাওয়াত করছিল। সেই সময় বাইরে থেকে তার কুরআন তেলাওয়াতের সুর শুনে কর্মী বোনটি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। ও শহীদ হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবের এক পর্যায়ে এ কথাটি উল্লেখ করেছিলেন বোনটি। ও বেঁচে থাকতে এত কিছু খেয়াল করতাম না। ও চলে যাওয়ার পর এখন ওর সবগুণ চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এখন ওর প্রতিটি আচরণ স্মৃতি হয়ে মনে নাড়া দেয়। আর ওর হারানো ব্যথা সহ্য করতে কষ্ট হয়।

ও ছিল সমাজসেবী বালক। কারো কোন অসুখের খবর কানে এলে সোজা হাসপাতালে গিয়ে হাজির হতো। রক্ত দেয়া থেকে শুরু করে রাত জেগে সেবা করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে সে ছিল তৎপর।

এমন চক্ষুশীতলকারী সন্তান ছিল মাসুম। সে শুধু মায়েরই চক্ষুশীতলকারী সন্তান ছিল না। সারা এলাকার মুরুব্বিদের নজরকাড়া একজন সন্তান ছিল। তাকে আওয়ামী সন্ত্রাসী মেরে ফেলল এ কথাটি এখনো এলাকাবাসী সহ্য করতে পারছে না। যার বিরুদ্ধে জীবনে একটি নালিশ ছিল না কারো। সেই ২রা নভেম্বরে তার শাহাদাতের খবরে দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকার বাইরের জেলা থেকে মাদারটেক বাগান বাড়িতে ১৩০/১৬তে সবাই এসে ভিড় করেছিল শেষবারের মত একনজর দেখার জন্য। লক্ষণীয় হলো, সে ঢাকার বাইরে যেখানে বেড়াতে গিয়েছিল সেখানকার লোকদের সাথে এমন সুন্দর আচরণ করতো যে তারা তাকে ভুলতে পারতো না। শহীদ খেলায় সুন্দর সুন্দর প্রাইজ নিয়ে ঘরে ফিরতো মেডেল, কাপ, কাচের প্লেট। এখনো সব কাচের প্লেট স্মৃতি হিসেবে যত্ন করে রেখে দিয়েছি, শিবির দায়িত্বশীলরা এলে সেগুলো তখন ব্যবহার করে মনে তৃপ্তি পাই। ও আল্লাহর কাছে চলে যাওয়ার পর এখন বুঝি কী সম্পদ হারিয়েছি। ওকে আমি একটি মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারি না। এই পৃথিবীতে সব সুখ আছে। এই সুখের ভেতরেও প্রতিটি মুহূর্তে হৃদয়ের ক্ষতস্থানে ব্যথা অনুভূত হয়। সেই মাসুমকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারতাম না। মাসুম ছাড়া আমার কোন কিছু ভাল লাগতো না। সেই মাসুমকে ছাড়া আমি চোখের পানিকে সাথী করে বেঁচে আছি। সব আছে মাসুম নেই।

দেখতে দেখতে ৩টি বছর পূর্ণ হলো। রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবরের ৩টি বছর পার হয়ে গেল মাসুম শিপন, মুজাহিদ ফয়সলদের হত্যার কোন বিচার হলো না।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২৮শে অক্টোবরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হলো। শেখ হাসিনার ছাত্রলীগের অপকর্মের অসংখ্য ঘটনা আছে তবে একটা ঘটনা উল্লেখ না করে পারছি না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নামাজি ছেলেকে শিবিরকর্মী মনে করে ধরে এনে সারারাত অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে তার ওপর। তার পিঠের চামড়া উঠিয়ে ফেলা হয়েছে, নামাজি ছেলের লজ্জাস্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নির্যাতিত অবস্থায় সেই নামাজি ছেলে পানি খেতে চেয়েছিল বলে তার মুখের মধ্যে প্যান্টের চেইন খুলে পেশাব খাইয়ে দিয়েছিল শেখ হাসিনার ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা। ছেলটির অপরাধ হলো সে নামাজ পড়ে। তার সোনার ছেলে ১০০ মেয়েকে ধর্ষণ করে সেঞ্চুরি পালন করে মিষ্টি বিতরণ করেছিল এ কথা দেশবাসীর জানা আছে।

শেখ হাসিনার হুকুমে আমাদের সন্তানরা নিহত হয়েছে তার সোনার ছেলেদের লগি-বৈঠার আঘাতে। শেখ হাসিনা কোনভাবে অস্বীকার করতে পারবে না সে এতগুলো খুনের আসামি। তাঁর বক্তৃতাগুলো ক্যাসেটে রেকর্ড হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন ‘লগি বৈঠা ছল নিয়ে আস”। যার ফলশ্র“তিতে আমরা মায়েরা আমাদের সন্তানগুলো হারিয়েছি।

এ কারণে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলার বিচার বিগত সরকার করেনি। বিদেশী প্রভুদের সহায়তায় ক্ষমতায় বসে সরকারি শক্তিতে হত্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিল।  তার দ্বারা কখনো ভাল কাজ হবে বলে আশা করা যায় না। ক্ষমতায় এসে তার ফলশ্র“তি হিসেবে ৫৭ জন সেনা অফিসারকে হত্যা করা হলো। সেনা অফিসাররা বারবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাঁচার জন্য সাহায্য চাওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী কোন ব্যবস্থা নিলেন না। তার মানে তিনিও এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। শেখ হাসিনা আইনের কথা বলেন বড় গলায়। বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা বিবৃতি দেন কিন্তু সরকারি ক্ষমতাবলে ২৮শে অক্টোবর খুনের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়ে প্রমাণ করলেন তিনি আইনের ঊর্ধ্বে। আমরা দেশবাসী আইনকে শ্রদ্ধার চোখে দেখি। আইন হলো সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ যেতে পারে না। আইনের কাছে কে প্রধানমন্ত্রী, কে রাষ্ট্রপতি বিচার বিবেচ্য নয়। আইনের চোখে যে দোষী হবেন তাকে আইনের শাসন মেনে নিতে হবে। এটা হলো স্বাভাবিকতা। কিন্তু শেখ হাসিনা আইনের শাসনের অবমাননা করে একটা বড় ধরনের অপরাধ করেছেন। এই অপরাধের শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা বাদিরা দুর্বল, এখন আমাদের জন্য কোন মানবাধিকারবাদী এগিয়ে আসছে না। যখন সন্ত্রাসীদেরকে ধরতে গিয়ে ক্রসফায়ারে সন্ত্রাসীরা মারা যায় তখন মানবাধিকারবাদীরা চেঁচামেচি করতে থাকে। কিন্তু যেভাবে নামাজি, ভদ্র, চরিত্রবান ছেলেদের পিটিযে মারা হলো এ ব্যাপারে মানবাধিকার কর্মীদের কোনো আওয়াজ এ পর্যন্ত বের হলো না। দিন দুপুরে সচেতন মানুষের সামনে শেখ হাসিনা যেই ঘটনাটি ঘটালেন তা বিশ্ববাসী ভুলবে না। কাল হাশরে এই বিশ্ববাসী তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াবে। আল্লাহপাক অবশ্যই তার বিচার করবেন। আল্লাহর কাছে যে মামলা দিয়ে রেখেছি পুত্রহারা, স্বামীহারা, পিতৃহারা মানুষর প্রতিদিনের প্রতি মুহূর্তের চোখের পানি আল্লাহর দরবারে জমা হচ্ছে। কেউ চিরদিন দুনিয়ায় থাকবে না।

এই জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই আমরা শহীদের মা হতে পেরেছি। কারণ একজন শহীদ কাল হাশরে ৭০ জনকে শাফায়াত করতে পারবে, যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত ছিল। এই ঘটনার কারণে আমাদের ছেলেরা কত বড় মর্যাদা লাভ করেছেন এর শুকরিয়া আদায়ের শেষ নেই।
ইসলামের দুশমনরা মাসুম, শিপন, মুজাহিদদের হত্যা করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাজকে বন্ধ করে রাখতে পারেনি। ওরা নেই দুনিয়ায় ওদের হারানো শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে শত শত মাসুম শিপন মুজাহিদ এগিয়ে আসছে ওদের শূন্যস্থান দখল করার জন্য। এই ইসলামী কাফেলার স্রোতকে দুনিয়ার কোনো শক্তি রোধ করেত পারবে না। আল্লাহর পথে বাধা দিতে গিয়ে তারাই ধ্বংসের অতল গহবরে পৌঁছে যাবে ফেরাউন ও নমরুদের মত।

এই আটাশে অক্টোবরে নতুন করে শহীদদের আত্মদানের কথা স্মরণ করে আমাদের দীন কায়েমের পথ চলা হোক আরো বেগবান। আর চোখের পানি নয় আওয়ামী হায়েনাদের বিষাক্ত ছোবল থেকে দেশের ঈমানদার জনগণকে রক্ষা করার দায়িত্ব আজ আমাদের অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ওপর। আল্লাহপাক দায়িত্ব পালনের তৌফিক দান করুন আমিন।

লেখিকা শামসুন্নাহার রুবি : শহীদ মাসুমের মা

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here