মজলুম মানবতার আত্মার আর্তনাদ- হারুন ইবনে শাহাদাত

সভ্যতা আর বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষে পৌঁছার দাবিদার কম্পিউটার যুগের মানুষেরা বর্তমানে এক অসহায় সময় পার করছে। অদেখা শত্রু করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিজ্ঞানের তীর্থভূমি খ্যাত ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার চীন ও জাপানের আলো ঝলমলে নগরীগুলো এখন মৃত্যুপুরী। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাওয়ার খবর সরকারিভাবে স্বীকার করা হচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হওয়ার পর বিশ্ববাসী তা জানতেও পারছে। কিন্তু তারপরও সেই সব দেশের নাগরিকদের ধারণা প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হচ্ছে। এমনকি তাদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করছেন, করোনার ভ্যাকসিন থাকার পরও সাধারণ মানুষের ওপর তা প্রয়োগ করা হচ্ছে না, পৃথিবীর জনসংখ্যা একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাক্সিক্ষত পর্যায়ে আনার জন্যই নাকি তারা মানুষের জীবন নিয়ে এমন জুয়াখেলায় মেতেছে।
২৫ এপ্রিল ২০২০, দৈনিক প্রথম আলো ‘করোনার ভ্যাকসিন আছে, মনে করেন এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে লিখেছে,‘করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়ে যখন বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন বলছে, এই ভ্যাকসিন তৈরি হতে ১৮ মাস সময় লাগবে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অন্য কথা বলছেন। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আটকে রাখা রয়েছে; সাধারণ মানুষের জন্য দেয়া হচ্ছে না। ইউএসএ টুডের এক জরিপে এমনটাই উঠে এসেছে। নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজের এক প্রতিবেদনে জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন নেই বলে এটি জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার কারণে শুধু আমেরিকায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ও ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হচ্ছে না, বরং সারা বিশ্বে আজ একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মার্কিন অংশ নেন। এদের মধ্যে ৩২ শতাংশ মার্কিন মনে করেন, কোভিড-১৯ থেকে আরোগ্যের ভ্যাকসিন কেউ না কেউ লুকাচ্ছেন। বাস্তবতা হচ্ছে, মানবদেহে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। তবে বেশির ভাগ চিকিৎসক মনে করছেন, ১২ থেকে ১৮ মাসের আগে করোনার ভ্যাকসিন বাজারে সহজলভ্য হবে না।
ইউএসএ টুডের জরিপে আরেকটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় ৪৪ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, কোভিড-১৯ একটি ল্যাবে তৈরি হয়েছে (তাদের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবারই বলে আসছে, কোনো প্রাণীর থেকে এই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হতে পারে)। ৩৫ শতাংশ মার্কিন এখনো মনে করে, করোনাভাইরাস নিয়ে অতিমাত্রায় ভীতি ছড়ানো হয়েছে (অথচ সর্বশেষ খবরে শুধু আমেরিকায় ৫২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে)। অবশ্য বিরাট সংখ্যক মার্কিনি আবার মনে করে, সরকার মৃত্যুর সঠিক তথ্য গোপন করছে। জরিপে অংশ নেয়া ৪৮ শতাংশ মার্কিনি বিশ্বাস করেন, সরকার করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সত্যিকারের সংখ্যা ‘গোপন’ করছে। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষের প্রতি এমন অবিশ্বাস প্রকাশ করলেও ৮১ শতাংশ আমেরিকান বলছেন, তাঁরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন।
২ থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে ইউএসএ টুডের এই জরিপ চালানো হয়। ইউএসএ টুডে জানায়, জরিপে ২.২ শতাংশ এদিক-সেদিক হতে পারে।’
মানুষের মনের এমন ধারণার নিশ্চয়ই কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, করোনাভাইরাসের মতো এমন মরণব্যাধি মহামারী আকারে গোটা দুনিয়াকে আক্রমণ করার আগের বিশ্বপরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বিষয় বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে গণতন্ত্রের লেবাস পরা স্বৈরশাসকরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা সবাই একজোট হয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হরণ করে দুর্বলের ওপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। আমেরিকা, ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই গণভোট নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতা দখলে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটছে না। এশিয়ার চীন থেকে গোটা বিশ্বে করোনার বিস্তার ঘটেছে, এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। বিতর্ক নেই এ কথা নিয়েও চীন পৃথিবীর এক নম্বর স্বৈরাচরী রাষ্ট্র। সমাজতন্ত্রের নামে এখানে যে শাসনব্যবস্থা চলছে, তাতে মানুষের জীবন, মান, ধর্ম, ভাষা-সংস্কৃতি, বিশ্বাস কোন কিছুই নিরাপদ নয়। শাসক দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্বেচ্ছাচারিতার কাছে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ আর মানবতা প্রতিনিয়ত অপমানিত হচ্ছে। মানবাধিকার রক্ষার শপথ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংস্থাগুলো পৃথিবীর স্বৈরশাসকদের ইচ্ছাপূরণের জাদুর কাঠির ভূমিকা পালন করছে। বঞ্চিত মানুষ অধিকার আদায়ের শ্লোগান নিয়ে রাস্তায় নামলে তাদেরকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে কোন মানবতাবাদী শক্তির উচ্চকণ্ঠগুলো আর শোনা যায় না। কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, উইঘুর মুসলমানদের সমস্যার সমাধান কঠিন কিছু নয়, জাতিসংঘের তত্ত¡াবধানে গণভোটের আয়োজন করে সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত মানতে স্বৈরশাসকদের বাধ্য করার দায়িত্ব যাদের তারা মানবিক হলেই হয়। কিন্তু না, তারা এগিয়ে আসছেন না, কারণ তাদের হাতও মজলুমের রক্তে রাঙা। পৃথিবীতে যখন এমন মানবিক বিপর্যয় ঘটে তখন এই পৃথিবীর মালিক বসে থাকেন না। তিনি তার সৃষ্টির কৌশলের অংশ হিসেবেই প্রাকৃতিক নিয়মে সমাধানের হাত বাড়ান। পৃথিবীর ইতিহাস এবং আল্লাহ প্রদত্ত মহান গ্রন্থ আল কোরআন, ইঞ্জিল ও তাওরাতে বর্ণিত ঐতিহাসিক কাহিনীগুলো বিশ্লেষণ করলে এমন অনেক অসংখ্য উদাহরণের দেখা মেলে।
মজলুম মানবতার আত্মার আর্তনাদ থেকে জন্ম নেয় মহামারী: করোনা পূর্ব পৃথিবীকে গভীর বিশ্লেষণ করলে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেইÑ মজলুম মানবতার আত্মার আর্তনাদ থেকেই বিভিন্ন শতাব্দীতে এসেছে এমন মহামারী। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই সেজে গোটা দুনিয়াকে আজ শাসন করছে। তারা আইনের শাসন ন্যায়-বিচার, মানবাধিকারের মিথ্যা ফানুস ওড়াচ্ছে। মুখে বলছে সুন্দর সুন্দর কথা, কিন্তু বাস্তবে করছে তার বিপরীত সব মানবতাবিরোধী কাজ।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বিশ্বনেতাদের এমন আচরণ থেকে ফিরে আসার আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি ২০১৮ সালে মারা গেছেন। তিনি তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ একটি নিবন্ধে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের করুণ অবস্থা তুল ধরে বিশ্বনেতাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের জন্যও কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু বিশ্বনেতারা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত যে তাদের আর করো কথা ভাবার সময় হয়নি।

বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র কেন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি এই নিবন্ধে উল্লেখ করেছিলেন, ‘এর একটি সাধারণ কারণ বিশ্বায়ন, অনির্বাচিত ক্ষমতাধর শক্তি। একসময় প্রশংসার সঙ্গে আশীর্বাদস্বরূপ এটির আবির্ভাব হয়েছিল; কিন্তু বর্তমানে নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে হুমকির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্বায়ন লাখ লাখ মানুষকে দরিদ্রতা থেকে মুক্তি, বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের জন্য উৎপাদিত পণ্যের মূল্য হ্রাস এবং অভূতপূর্ব গতিশীলতা আনতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এটি দেশজুড়ে অসমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেশের সীমান্ত ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। তবে বিশ্বায়ন বিশ্বকে পরস্পরের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল করে তুলছে, যেখানে রাজনৈতিক পদ্ধতি জাতির হাতিয়ার। দেশীয় ইস্যুতে প্রচারণা চালিয়েও শীর্ষ পদের প্রার্থীরা জয়ী হচ্ছেন। সীমিত ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জটিল মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন তারা, ব্যর্থ হচ্ছেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে। এ ধরনের ব্যর্থতায় সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ইউরোপের কথাই ধরা যাক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বৈশ্বিক আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নে গণতন্ত্রকে মানিয়ে নেয়ার জন্য বিশ্বের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। বহু ইউরোপীয় দেশ অভিবাসীর ধাক্কা সামাল দিচ্ছে, কেঁপে উঠেছে সন্ত্রাসী হামলায়। ফলে সীমান্ত বন্ধ করতে তৎপর হচ্ছে তারা। কিন্তু দেশকে একটি দুর্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে বহির্বিশ্বে প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা হ্রাস পাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো একটি দেশ শক্তিশালী হলে তা গোটা সংস্থার শক্তির পরিচায়ক নয়।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘গণতন্ত্র নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা অসমতল তথ্য দ্বারা মোড়ানো। স্বৈরাচারী শাসক নিজেকে অন্যের চেয়ে ভালো চোখে দেখে, কারণ সেখানে তথ্য নিয়ন্ত্রিত, সমালোচনা দমিত এবং প্রপাগান্ডার অবিচল গতিধারায় জনপ্রিয়তার একটি মিথ্যা অনুভূতি তৈরি হয়। আর গণতন্ত্রকে খারাপ নজরে দেখা হয়, কারণ গণমাধ্যম, সভ্য সমাজ ও রাজনীতিকরা তাদের সমস্যাকে অতিরঞ্জিত করতে পারে। বাস্তবতা হল, পরিবর্তনের ধারায় স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ভঙ্গুর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অধিকতর প্রাণবন্ত, যা মৌলিক বৈধতা, জবাবদিহিতার শাসনব্যবস্থা এবং বাকস্বাধীনতা দ্বারা সমর্থিত নিরাপত্তার কপাটকে সাধুবাদ জানায়। নির্বাচন সত্যিকার অর্থে তখনই গণতান্ত্রিক হয় না, যখন সেটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক না হয়। যেমনটা সম্প্রতি আমরা বুরুন্ডিতে দেখেছি। যেখানে সহিংসতার মধ্যে প্রেসিডেন্ট পিয়েরি কুরুনজিজা পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি দেশটির রাজনৈতিক সংকট সমাধানে তৎপর নন। যখন দেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও তাদের সমর্থকরা বিশ্বাস করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নয়, তখনই তারা কম শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক গতিপথ ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথ খোঁজে। ব্যালট বাক্স যদি রাস্তায় ফেলে দেয়ার পাত্র না হয়, তবে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজন রয়েছে? আমাদের উচিত বিশ্বব্যাপী বৈধ নির্বাচন পদ্ধতি ত্বরান্বিত করা। শুধু এ কারণে নয় যে, যৌক্তিকতার নিরিখে ও নীতিগতভাবে অন্যান্য সরকার ব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উত্তম, বরং এটির ফলাফল তার চেয়েও শুভ। এটি শান্তি, উন্নয়ন, মানবাধিকার ও আইনের প্রতি সম্মানের সেরা প্রতিশ্রæতিকে ধারণ করে।
তবে কেমন করে আমরা বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রকে উন্নতির শিখরে ওঠাতে সাহায্য করতে পারি? সবচেয়ে ভালো উপায় জর্জ ডবিøউ বুশ প্রশাসনের মতো গণতন্ত্রকে ‘রফতানি’ করা নয়। যেমনটা মার্কিন সৈন্যরা ইরাক ও অন্যান্য স্থানে করেছিলেন, কিন্তু জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল এটা প্রদর্শন করিয়ে যে, গণতন্ত্র নিজস্ব নিয়মেই চলছে। গণতন্ত্রের উন্নয়ন শুরু হয় ঘর থেকেই। একটি বিশ্বায়নের পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক নেতাদের অবশ্যই তাদের নির্বাচকমণ্ডলীর প্রতি সৎ থাকতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, এই পুরস্কার সবার মাঝে বণ্টনযোগ্য, যার দ্বারা সবাই উপকৃত হবে। পরিশেষে, গণতান্ত্রিক নেতাকে অধিকাংশের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে সংবেদনশীল হতে হবে।
নাগরিকরাই কেবল গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে। জনগণের বৃহৎ অংশ ভোট না দিলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ জন্য টুইট বার্তার প্রয়োজন পড়ে না। ২৫ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে এটা অনুধাবন করা অপরিহার্য যে, গণতন্ত্র জয়ী হবেÑ সমাজতন্ত্রের ওপর বাজার গণতন্ত্র বিজয়ী ছিল। বৈষম্য, সন্ত্রাসবাদ ও রাজনীতির ওপর অর্থের অনুপাতহীন প্রভাব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্ব কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বুরকিনোফাসো, হংকং ও ভেনিজুয়েলায় নাগরিকদের বেপরোয়া আন্দোলনের পরিস্থিতিতে এটা নিশ্চিত যে, বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার অত্যাবশ্যকতা রয়েছে।
আমি মাঝে মাঝে শুনি, গণতন্ত্র তার উদ্দেশ্যের অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছে। তবে এমনটা নয়। গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য হল এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে নাগরিকরাই তাদের পছন্দমতো জীবনের পরিপূরক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দিতে পারবেন। মানুষের শুধু জীবিকা ও নিরাপত্তা নয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারেরও প্রয়োজন রয়েছে। গণতন্ত্রের ত্রæটি যেমনটাই হোক না কেন, এটি এমন একটি রাজনৈতিক পদ্ধতি যা এসব প্রয়োজন পূরণে সক্ষম।’
কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীর দেশে দেশে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা গণতন্ত্রের নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। তারা নিজেদেরকে ক্ষমতায় রাখতে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু গণতান্ত্রিক। ক্ষমতা হারানোর সামান্যতম আশঙ্কা থাকলে তারা হয়ে ওঠেন সেরা স্বৈরাচার। স্বাধিকার স্বাধীনতা আন্দোলন এমনকি জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনকেও নানান রঙ লাগিয়ে দমন করতে তারা কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। এমন বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন কিভাবে এমন পৃথিবীজুড়ে যখন এমন বিতর্কের ঝড় শুরু হয়েছে, ঠিক সময় করোনার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসের আক্রমণ গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে তুলেছে। করোনা পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন আসতে পারে, তার তালিকা তৈরি করতে ব্যস্ত সমাজতাত্তি¡করা। কিন্তু শাসকশ্রেণির মধ্যে পরিবর্তনের হওয়া লেগেছে, তারা আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর বিশ্ব উপহার দিবে তেমন কোন লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তারা আগের তালেই চলছেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন তাদের এমন আচরণ শুধু হতাশাজনকই নয়, রীতিমত ভীতিকরও।

এ প্রসঙ্গে ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন তাদের বিশ্লেষণে যে কয়টি বিষয় তুলে ধরেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

বিশ্ব হবে কম মুক্ত ও কম উন্নত : করোনাসঙ্কট রাষ্ট্রকে আরো শক্তিশালী করবে এবং জাতীয়তাবাদ নতুন মাত্রায় বিকশিত হবে। সব ধরনের সরকার সঙ্কট মোকাবিলায় নানা ধরনের কাজ করতে বাধ্য হবে এবং এর মধ্য দিয়ে তারা শক্তিশালী হবে। অনেকেই সঙ্কট পরবর্তী সময়ে তাদের এই ক্ষমতা ছাড়তে চাইবে না, বলেন হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক স্টিফেন এম ওয়াল্ট। তার মতে, করোনা বৈশ্বিক শক্তি পশ্চিম থেকে পূর্বে স্থানান্তর করবে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুর সবচাইতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পেরেছে। চীন প্রথম দিকে ভুল করলেও পরবর্তীতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তুলনামূলকভাবে ইউরোপ-আমেরিকার মহামারী মোকাবিলার কম সাফল্যের কারণে এমনটি ঘটবে। কিন্তু বিশ্বরাজনীতির যে সাংঘর্ষিক চরিত্র তার পরিবর্তন হবে না। পূর্বের মহামারীগুলোও এই চরিত্র পরিবর্তন করতে পারেনি, করোনাও পারবে না। একটি হাইপার গেøাবালাইজেশন পরিস্থিতি তৈরি হবে। করোনা পরবর্তী দুনিয়া হবে কম উন্মুক্ত, স্বল্পোন্নত এবং অল্প স্বাধীন।

গণতন্ত্র ছদ্মবেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসবে : এই সঙ্কটের ফলে পশ্চিমা গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজির বিরোধী শিবিরগুলো খুব শক্তিশালী হয়ে উঠবে। জাতিবাদী, বিশ্বায়নবিরোধী, চায়না শিবির, এমনকি লিবারেল আন্তর্জাতিকতাবাদীরাও তাদের মতাদর্শের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে নতুন করে প্রমাণ করবে। এমনটাই মনে করেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক জন ইকেন বেরি। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ধসের আড়ালে জাতীয়তাবাদ, পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার দ্ব›দ্ব এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে বিচ্ছিন্নতাকে গ্রহণ করে নেয়া হবে। তবে ১৯৩০ এবং ৪০-এর দশকে যুদ্ধের আগে ও যুদ্ধকালীন ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট এবং ইউরোপের অন্যান্য নেতারা যেমন শক্ত আন্তর্জাতিকতাবাদের জন্ম দিয়েছিলেন, বিপরীত দিক থেকে তেমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০-এর দশকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পতন দেখিয়েছিল যে, আধুনিক দুনিয়া কিভাবে পরস্পর নির্ভরশীল এবং সংক্রামক রোগের কাছে কিভাবে সকলেই অসহায়। ফলে ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট যুদ্ধোত্তর এমন একটি উন্মুক্ত ব্যবস্থা দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন যেখানে নিরাপত্তা এবং পরস্পর নির্ভরশীলতা নিশ্চিত হবে। আমেরিকা তার বর্ডারের মধ্যেই আবদ্ধ থাকতে পারে না, তাই তাদের যুদ্ধোত্তর সময়ে বহুমাত্রিক সহযোগিতার বৈশ্বিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয়েছে। তাই আবারও চাপের মুখে আমেরিকা এবং পশ্চিমা বিশ্বকে একই পরিণতির দিকে ধাবিত হতে পারে। শুরুতে তাদের কার্যক্রম একটু বেশি জাতীয়তাবাদী হবে, তবে পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক দেশগুলো তাদের খোলসের বাইরে আসবে এবং বাস্তববাদী ও প্রতিরক্ষামূলক আন্তর্জাতিকতাবাদের আশ্রয় নেবে।
সঙ্কট মোকাবিলায় আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে: মনমোহন সিং-এর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন বলেন, যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, তবে নিশ্চিতভাবে তিনটি ঘটনা ঘটবে। প্রথমত রাষ্ট্রসমূহের ভেতরের এবং বাইরের রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে। সমাজকে এবং মুক্ত চিন্তার অধিকারীদেরকেও সরকারের ক্ষমতার কাছে যেতে হবে। সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের সাফল্য এবং তার অর্থনৈতিক প্রভাবে নিরাপত্তা ইস্যু এবং সরকারের সাম্প্রতিক মেরুকরণ লোপ পাবে কিংবা শেষ হয়ে যাবে। অভিজ্ঞতা বলছে, কর্তৃত্ববাদী কিংবা জনপ্রিয় সরকার এই মহামারী মোকাবিলা করতে পারছে না। তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো যেসব দেশ শুরুতে এবং সফলভাবে লড়াই করেছে, তাদেরও কর্তৃত্ববাদী কিংবা পপুলিস্ট নয়, বরং গণতান্ত্রিক সরকার।
দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক সম্পর্কের যে বিশ্ব এখনই তার শেষ নয়। বরং মহামারী পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকেই প্রমাণ করে। তবে সব রাষ্ট্রের মধ্যেই নিজের দিকে ফেরার, অটোনমি এবং নিজেই নিজের ভাগ্য গড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আমরা একটি গরিব ও সঙ্কীর্ণ দুনিয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছি।
শেষতক আশা জাগানোর মতো কিছুু ভালো দিকও রয়েছে। মহামারীর ফলে যদি আমরা বুঝতে পারি যে, বৈশ্বিক ইস্যুগুলো মোকাবিলায় রাষ্ট্রসমূহ পরস্পর সহযোগিতার প্রয়োজন, তবে তা এক মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করবে।

অবাধ উৎপাদন ও পরিবহন কমবে : কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন-এর গ্লোবাল হেলথ বিষয়ক ফেলো এবং পুলিৎজারজয়ী বিজ্ঞান লেখক লরাঁ গ্যারেট মনে করেন, বৈশ্বিক পুঁজিবাদ এক নতুন নাটকীয়তার সূচনা হবে। বৈশ্বিক বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য মৌলিক ধাক্কা হলো, গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস যে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনবে তা নয়, বরং কিছু মৌলিক পরিবর্তন ঘটাবে। বিশ্বায়নের ফলে কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী পণ্য উৎপাদন করতে পারছে এবং সেগুলোর সংরক্ষণ ব্যয় ছাড়াই জাস্ট-ইন-টাইম ভিত্তিতে বাজারে সরবরাহ করতে পারছে। করোনা বুঝিয়ে দিয়েছে রোগজীবাণু শুধু মানুষকেই আক্রান্ত করে না, পুরো জাস্ট-ইন-টাইম ব্যবস্থাকেও গুঁড়িয়ে দেয়।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ব বাজারে যে ধস নেমেছে, তার মাত্রা হিসাবে নিয়ে কোম্পানিগুলো এই মহামারীর প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য জাস্ট-ইন-টাইম ব্যবস্থা এবং বিশ্বব্যাপী অবাধ উৎপাদন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বসবে। ফলাফল হতে পারে পুঁজিবাদের নয়া স্টেজ-এ প্রবেশ, যেখানে ভবিষ্যৎ বিপদের কথা মাথায় রেখে সাপ্লাই চেইন নিজ দেশের কাছাকাছি থাকবে এবং অবাধ উৎপাদন কমিয়ে আনা হবে। এতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা কম হলেও স্থায়িত্ব বাড়বে।

ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসবে : হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের অধ্যাপক এবং আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স-এর সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি নিকোলাস বার্নস বলেন, করোনা এই শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। দুনিয়ার ৭.৮ বিলিয়ন মানুষ ঝুঁকিতে আছে। এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব ২০০৭-০৮ এর চাইতেও বেশি হতে পারে। প্রত্যেক সঙ্কটই এমন ধাক্কা দিতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য স্থায়ীভাবে পরিবর্তন হতে পারে। আন্তর্জাতিক ঐক্য এখনো শোচনীয় পর্যায়ে আছে। যদি বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন তাদের কথার যুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে সঙ্কট মোকাবিলার পথে না হাঁটে তবে দুই দেশের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি ঠিকঠাক তার ৫০০ মিলিয়ন জনগণকে সাহায্য করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে দেশগুলোর সরকার ব্রাসেলস-এর চাইতে বেশি ক্ষমতাধর হয়ে উঠবে।
দেশে দেশে আমরা মানুষের মধ্যে বিপুল প্রাণশক্তি লক্ষ্য করছি। ডাক্তার, নার্স, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ সকলে মিলে একসাথে কাজ করছে সঙ্কট মোকাবিলায়। ফলে নারী-পুরষ সকলে মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে আশার সঞ্চার হয়।

বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র চলে যাবে চীনে : এনইউএস-এর ফেলো এবং ‘হ্যাজ চায়না ওন’ বইয়ের লেখক কিশোর মাহবুবানি মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথের মৌলিক পরিবর্তন আসবে না। শুধু বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র আমেরিকা থেকে সরে চীনে স্থানান্তরিত হবে, যা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। কারণ আমেরিকার জনগণ গেøাবালাইজেশনের উপর যখন আস্থা হারাচ্ছে তখন চীন তাদের জনগণকে গ্লোবালাইজাইশনে নতুন নতুন মাত্রার দিশা দিচ্ছে। এই শিক্ষা তারা পেয়েছে তাদের নিজেদের ইতিহাস থেকে। ১৮৪২-১৯৪৯ সাল পর্যন্ত চায়নার মন্দভাগ্য ছিলো দুনিয়া থেকে তাদের বিচ্ছিন্নতার ফল। এছাড়া চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে সেখানকার জনগণ বিশ্বাস করে তারা যে কোনো জায়গায় প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
আমেরিকার সামনে এখন দুটি রাস্তা খোলা। যদি তারা বিশ্ব মোড়লের আসন ধরে রাখতে চায়, তবে তাদের আপসহীনভাবে চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে হবে। অন্য দিকে আমেরিকা যদি তার জনগণের কল্যাণ চায়, তবে চীনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।’
পলিসির উল্লিখিত পয়েন্টগুলোর তাদের নিজস্ব পর্যালোচনা, এর বিপরীত পরিস্থিতির পথে যে বিশ্বব্যবস্থা যে চলে যাবে না, এমন গ্যারান্টি নেই। বরং চীনের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা যারা করছেন, তাদের সেই আশা পূরণ হবে বলেই আমরা মনে করি। কারণ স্বৈরশাসনের অবসান ছাড়া উন্নয়নের স্বর্ণদুয়ার উন্মুক্ত হয় না। চীনের বর্তমান শাসকরা তাদের জনগণের মতামত ও বিশ্বাসকে উপেক্ষা করে, কারণ তাদের বস্তুবাদী দর্শন মানুষকে উন্নয়নের হাতিয়ার গণ্য করলেও বস্তু চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে পারে না। মানবিকতার মূল্য তাদের কাছে নেই। এমন বস্তুবাদী চিন্তা দর্শনের শেষ পরিণতি কোন দিনই সুফল বয়ে আনবে না।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সিনিয়র সাংবাদিক

SHARE

Leave a Reply